গতমাসে মাইক্রোসফট অনেক ঢাক-ঢোল পিটে সার্ফেস নামের নতুন এই গ্যাজেট লঞ্চ করেছে। সার্ফেস লঞ্চ অনুষ্ঠানগুলিতে মাইক্রোসফটের বড় বড় কর্মকর্তাদের গুলিস্তানের হকার বনে যাওয়া দেখে ভাবলাম এই যাদুর বাক্স চালিয়ে না দেখলেই না! উঠে পড়ে লেগে গেলাম কিভাবে এই জিনিস আমেরিকা থেকে আমদানী করা যায়। গত সপ্তাহে এক বড়ভাই’র আত্মীয়র মাধ্যমে আমেরিকা থেকে একটি সার্ফেস আনিয়ে নিয়েছিলাম। জিনিসটা হাতে পেয়ে অসম্ভব ভালো লাগছিলো। অসাধারণ ডিজাইন, এমনকি প্যাকেজিংটাই অসম্ভব সুন্দর। বলতেই হয় অ্যাপলের কাছ থেকে কিছু হলেও উৎসাহ পেয়েছে মাইক্রোসফট।

আমি একদম কম খরচেরটা কিনেছিলাম। কম খরচ বলতে কী-বোর্ডের ধরণ/রঙে এবং স্টোরেজের পরিমাপের উপর ভিত্তি করে সার্ফেসের দামের অনেক তারতম্য আছে। যেমন:

  • কী-বোর্ড বাদে ৩২ গিবা সার্ফেস আরটি – $৪৯৯
  • কালো টাচ্ কী-বোর্ড ৩২ গিবা সার্ফেস আরটি – $৫৯৯
  • কালো টাচ্ কী-বোর্ড ৬৪ গিবা সার্ফেস আরটি – $৬৯৯
  • অন্য রঙের টাচ্ কভার (সাদা, লাল, ফিরোজা, গোলাপী) – $১১৯
  • সার্ফেস কালো টাইপ কভার – $১২৯

আমি $৫৯৯ দিয়ে কালো টাচ্ কী-বোর্ড সহ ৩২ গিবা সার্ফেস আরটি কিনেছিলাম। আর মাইক্রোসফট জার্মানীর এক বন্ধুর দেয়া কুপন ব্যবহার করে $৯৯ ডিসকাউন্ট নিতে পেরেছিলাম মাইক্রোসফট স্টোর থেকে।

সারাদিন চার্জ করার পরে সেদিন সন্ধ্যায় অনেক উত্তেজনা নিয়ে সার্ফেসটা চালু করলে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে স্ক্রিণে “অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন আমরা আপনার জন্য সার্ফেস প্রস্তুত করছি, ধৌর্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ” টাইপের একটা ম্যাসেজ ঝুলে ছিলো। অগত্যা আবার চার্জে লাগিয়ে বসে থাকলাম। আমি কিন্তু ওয়াই-ফাইতেও সংযুক্ত করিনি তখনো। চালু হবার পরে ইন্টারনেটে কানেক্ট করলাম, মাইক্রোসফট একাউন্টে লগ-ইন করলাম, কিন্তু স্টোরে গেলে আমাকে বার বার বলছে যে আমি ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত নই, অথচ আমি অনায়াসে নেট ব্রাউজ করতে পারছিলাম।

পরে বুঝতে পারলাম এখানে দেশ ভিত্তিক ঝামেলা থাকতে পারে। আমি এর আগেও মাইক্রোসফটের সংকীর্ণমনতা দেখেছি এসব ক্ষেত্রে, তাই Outlook-এ গিয়ে আমেরিকার ঠিকানা দিয়ে একটা ইমেইল খুললাম, সার্ফেস ফ্যাক্ট্রি রিসেট দিয়ে আবার ঐ ইমেইল দিয়ে চালু করয় দেখি স্টোরের ঝামেলা ঠিক হয়েছে।

আমার একটা দ্বিতীয় প্রজন্মের আইপ্যাড টু আছে। সার্ফেসটা সেটা থেকে একটু বড় হলেও স্ক্রীনে অতটা উজ্বল না। দিনের আলোতে ব্যালকনিতে ব্যবহার করা যায়না ঠিকমত। তারমানে কেউ যদি গাড়িতে বসে কাজ করতে চায়, সেটা মনেহয়না সম্ভব হবে। থিউটিটিক্যালি এটা ওজন আইপ্যাড থেকে কম বলা হলেও আমার কাছে সেরকম কিছু মনে হয়নি, বরং আকারটা একটু বাল্কি মনে হয়েছে।

উইন্ডোজ আরটি-এর মধ্যে ডেস্কটপ মোড আছে, কিন্তু সেটা কেনো আছে তা আমার কাছে পরিস্কার না। কন্ট্রল প্যানেলে কিছু করতে গেলে কখনো মডার্ণ মোডে কখনো ডেস্কটপ মোডে যায়! আমার মনেহয় ব্যহারকারীরা এতে চরম বিরক্ত হবে।

স্টোরে কাজে লাগার মতন অ্যাপের বড়ই অভাব। আর যেগুলি আছে সেই অ্যপ্লিকেশনগুলি অসম্ভব ধীর গতির! একটায় ট্যাপ করে বসে থাকতে হয়। আবহাওয়ার অ্যাপ্লিকেশনের মিনিট খানেক লাগে ডেটা নিয়ে আসতে (আমেরিকায় আরও ভালো কাজ করতে পারে উচ্চ গতির ইন্টারনেটে)।

যেই অ্যাংরি বার্ডস্ অ্যান্ড্রোয়েডে বিনামূল্যে পাওয়া যায়, বা HD ভার্সনটা আইওএসে দুই ডলার দিয়ে পাওয়া যায়, সেটা (HD কি না সেটা বলা নাই) উইন্ডোজ স্টোরে আইওএসের চাইতে আরও দেড় ডলার দাম বেশী। আমি কারণ বুঝতে পারিনি।

স্কাইপির মতন অ্যাপ্লিকেশন কত খেলনা আর স্লো হতে পারে, সেটা জানতে উইন্ডোজ আরটি ব্যবহার করা দরকার। সামনে-পেছনে ক্যামেরা থাকলেও ক্যামেরার পারফরমেন্স আমার কাছে সেরকম সুবিধার মনে হয়নি! সামনের ক্যামেরার ছবি অনেকটা ব্লার হয়ে যায় থেকে থেকে।

আমার ধারণা এর প্রসেসরে একটা ঘাপলা আছে। সবকিছুই অত্যন্ত ধীর গতির। আর পিসির সাথে ভিডিও, গান, ছবি লেনদেনের বিষয়টা অত্যন্ত বিরক্তিকর এই যুন প্লেয়ারের কারণে।

কেনার আগেই কিছু জিনিস বিবেচনায় আনা উচিৎ ছিলো, যেমন অ্যাপলের একটা পণ্য রিলিজ হলে মানুষ লাইন ধরে সেটা কেনার জন্য অপেক্ষা করে, কিন্তু উইন্ডোজ এইট বা সার্ফেসের ক্ষেত্র কিন্তু সেরকম কিছু হয়নি। জেডিনেটের লেখক বেন উড  একটা সুন্দর কথা লিখেছিলেন “Would I buy a Surface RT right now? Probably not. If it was my cash, I’d be inclined to wait for the Surface Pro, but then that’s because I use tablets like a laptop replacement (where it’s not appropriate or convenient to use a full-size device) rather than as a companion device or for gaming.” এখন সিদ্ধান্তটা ব্যবহারকারীদের। 🙂

তবে সার্ফেসের যে কোনো ব্যবহার নাই তা না, মাউক্রোসফটে উইন্ডোজ গ্রুপের প্রধান স্টিভেন সিনোফস্কি সার্ফেস দিয়ে রোলার স্ক্যাট বানিয়ে দেখিয়েছেন-

আমাদের মা-বোনেরা হয়তো পাটা (যাতে মশলা পেশা হয়) হিসেবেও সার্ফেস ব্যবহার করতে পারবেন। 🙂