Tags

, , , ,

@ Star Cineplexমাল্টিপ্লেক্সের যাত্রা বাংলাদেশে অনেক দেরীতে শুরু হলেও মাল্টিপ্লেক্সে গিয়ে সিনেমা দেখাটা অনেকটা আভিযাত্যের বিষয় ছিলো।

আমার যতদুর মনে পড়ে ২০০৪ সালের শেষে বা ২০০৫ সালের শুরুতে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম স্টার সিনেপ্লেক্সে। তখন শুধু মধুমিতা সিনেমা হলে ভালো কোয়ালিটির হলিউড সিনেমা দেখার সুযোগ ছিলো, কিন্তু দূরত্ব অনেক বেশী হওয়ায় কখনো যাওয়া হয়নি! আমার বন্ধুরা জেনে থাকবে, শুরুর দিক থেকেই আমি স্টার সিনেপ্লেক্স পেক্ষাগৃহের দর্শক, কিন্তু কখনো তাদের মান বা সেবা নিয়ে কিছু লেখা হয়নি। সেদিন সিনেমা দেখতে গেলে সিনেপ্লেক্সের এক ছেলে একটা ফিডব্যাক ফর্ম নিয়ে সামনে আসলো। আমার একটাই লাইন মাথায় এসেছিলো, “It’s been 9 long years, take a break and fix things!” তবে আরও কিছু বলা যেতো মনেহয়। আজকে ব্লগে সেগুলি লিখি।

টিকেটের দাম: এই বিষয়টি নিয়ে লেখার প্রয়োজন বোধ করছি। আরম্ভ হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত স্টার সিনেপ্লেক্সে টিকেটের দামে কোনো প্রভাব পড়েনি। মধ্যবিত্তদের কথা চিন্তা করেই হয়তো কর্তৃপক্ষ টিকেটের দামে কোনো তারতম্য করেনি। এমনকি সদ্য তারা থ্রিডি সিনেমা প্রদর্শন শুরু করলেও টিকেটের দামে সেরকম পার্থক্য নেই। দামগুলি সহনীয়। তবে আমি মনে করি, টিকেটের দাম ঠিক রাখতে গিয়ে অন্যান্য সেবায় কিছুটা প্রফেশনালিজমের অভাব হচ্ছে, সেগুলিতে এক এক করে আসি।

প্রোজেকশন: হল ১, ২ এবং ৪ একেবারেই ডিজিটাল প্রজেকশন, কিন্তু হল ৩ এখনো ফিল্মেই সিনেমা প্রোজেক্ট করে। তাই স্ক্রিনে ছবির মধ্যে দাগ টাগ চলে আসে এবং এক ফিল্ম থেকে আরেক ফিল্মে সুইচ হওয়ার সময় যেটা অনেক বেশী বাজে লাগে দেখতে। এই যুগে এটা বিরক্তিকর। আমি জানিনা ফিল্ম প্রজেকশন বাদ দিয়ে ডিজিটালে গেলে কত খরচ বাড়বে। তবে আমি নেপালে গ্রামের হলগুলিতেও দেখেছি, তারা ফিল্ম প্রজেকশন বাদ দিয়ে দিয়েছে! তবে সিনেপ্লেক্সকে ধন্যবাদ অন্তত তিনটা হল ডিজিটালে উন্নিত করার জন্য!

হলের অবস্থা: আমার মনে পড়ে না, শুরু হওয়ার পরে থেকে প্রতি ঈদের পরের সপ্তাহ এবং বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লাগার দুর্ঘটনা ছাড়া আর কোনো সময় তারা বিরতি নিয়েছে। আর যেহেতু বিরতি নেয়নি, সেহেতু রক্ষণাবেক্ষণের কাজও ঠিক মতো করা হয়না। হল ১, ২ এবং ৩-এর কোনো সিটে আর সিট নম্বর লেখা নেই। যদিও আমার মনেহয় নম্বরের স্টিকার লাগাতে ১ ঘন্টার বেশী সময়ের প্রয়োজন নেই। প্রবেশের সিঁড়ির ধাপগুলিতে একসময় আলো থাকলেও এখন অনেকগুলি ধাপের বাতি নষ্ট। নষ্ট হলের ভেতরের অন্যান্য বাতিগুলি, আর তাই সিনেমা শেষ হলে একটি স্ট্যান্ডে ফ্লাড লাইট জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

আলোর সমস্যার সাথে সিটের সমস্যাও আছে। আমি কিন্তু এখনে হল ১, ২ এবং ৩ নিয়েই কথা বলছি। ৪ নং হল যেহেতু একেবারেই নতুন, সেটায় এখনো বয়সের ছাপ পড়েনি। যাই হোক, সিট নিয়ে যেটা বলছিলাম, অনেকদিন থেকে ব্যবহার হতে থাকায় সিটগুলি বেশ ময়লা এবং কিছু সিটের কভার ছেঁড়া!

পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা: ব্যবহার হতে হতে পুরাতন হয়ে যাবার জন্য সম্ভবত এখন ১, ২ এবং ৩ নম্বর হলের ভেতরটা অনেকটাই অপরিস্কার মনে হয়। একটি সিনেমা শেষ হওয়ার পরে আরেকটি শুরু হওয়ার সময় কম হওয়ায় সম্ভবত পরিস্কার করার সময় পাওয়া যায়না ঠিকমতো। আর যেহেতু সাপ্তাহিক বিরতি নেই, তাই ঠিকমতো পরিস্কার করাও হয়না বলে আমার মনে হয়। আমি অনেকবার এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করতে দেখেছি, কিন্তু এমন যেনো একটা আঁশটে গন্ধ থেকেই যায়!

সিনেমার সাথে মশা ফ্রি: বসুন্ধরা মলের অন্য কোথাও মশা কামড় না দিলেও হলের ভেতরে মাঝে মধ্যে মশার কামড় খেতে হয়। মশা নিয়ন্ত্রণ করা বাংলাদেশের মতো জায়গায় কঠিন কাজ, তবে হলের ভেতরে নিয়ন্ত্রণ করাটা আমার কাছে কঠিন মনে হয়না। তও কেনো তারা নিয়ন্ত্রণ করেনা, সেটা আমার জানা নেই।

প্লাটিনাম মেম্বার: সে এক সোনার হরিণ! আমি গত দুই বছরের বেশী সময় ধরে মাঝে মাঝেই তাদের ওখানে সালমা খাতুন নামে একজনের সাথে যোগাযোগ করি সদস্য হওয়ার জন্য। সরকারী অফিসের মতো উনিও আমার সামনে ভাঙ্গা রেকোর্ড বাজিয়ে দেন, “আমাদের সফটওয়্যারে নতুন সদস্য করার আর জায়গা নেই (!), পুরনো কেউ সদস্যপদ ছেড়ে দিলে আপনাকে কল দেয়া হবে। আপনি আপনার নম্বর রেখে যান।” তবে যিনি নম্বর রাখেন, দেখেই বোঝা যায় তার গরজ কতটুকু। হয়তো মন্ত্রী মিনিস্টারের রেফারেন্সে বা দেশের ভিভিআইপি হলে সেই সদস্যপদ পাওয়া যেতে পারে!!

ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইট: স্টার সিনেপ্লেক্সের ফেসবুক পেজের অ্যাক্টিভিটি বেশ ভালো। এক তরফা পোস্ট না দিয়ে সদস্যদের সাথেও ইন্টারেকশন করে দেখা যায় এডমিনদের। ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায় নতুন অফার এবং আগামী সিনেমার নাম ও সময়। একই সাথে ওয়েবসাইট থেকেও আগামী সিনেমার খোঁজ খবর মিললেও সাইটটি এতটাই আনপ্রফেশনাল যে মনে হয় ৯০ দশকের একটা সাইট ভিজিট করছি। অথচ স্টার সিনেপ্লেক্স কিন্তু দেশের সুপ্রতিষ্ঠিত সফটওয়্যার ফার্ম বেইজ লিমিটেডের কনসার্ন!

সিনেমার মান: শুরুর দিকে ভালো সিনেমা আসতে অনেক দেরী হলেও এখন সম্ভবত তারা ভারতীয় পরিবেশকদের কাছ থেকে সিনেমা নিয়ে আসে, আর সেজন্য একটা ভালো সিনেমা মুক্তির সাথে সাথেই আমরা দেখার সুযোগ পাচ্ছি স্টার সিনেপ্লেক্সে। আয়রন ম্যান বা ম্যান অফ স্টিল মুক্তি পাওয়ার সপ্তাহেই বা তার পরের সপ্তাহেই আমরা দেখার সুযোগ পেয়েছি। সেজন্য অকপটে বলতে পারি স্টার সিনেপ্লেক্সের সিনেমার মান ভালো।

শেষ কথা: হয়তো খুঁটি নাটি অনেক কিছু লিখলে লেখা যেতো। কিন্তু ওখানে আমাদের অনেক আনন্দ মিশে আছে, তাই আমি চাইবো কর্তৃপক্ষ একতরফা হল না চালিয়ে একটু রক্ষনাবেক্ষনের কাজ করলে আমাদের আনন্দটা আরও সুন্দর হবে। একটা উচ্চ মানের মাল্টিপ্লেক্সের কাছে নিশ্চয়ই আমরা ময়লা, দুর্গন্ধ, মশা আশা করিনা।