স্টার সিনেপ্লেক্স – যাত্রার প্রায় ১০ বছর!

Tags

, , , ,

@ Star Cineplexমাল্টিপ্লেক্সের যাত্রা বাংলাদেশে অনেক দেরীতে শুরু হলেও মাল্টিপ্লেক্সে গিয়ে সিনেমা দেখাটা অনেকটা আভিযাত্যের বিষয় ছিলো।

আমার যতদুর মনে পড়ে ২০০৪ সালের শেষে বা ২০০৫ সালের শুরুতে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম স্টার সিনেপ্লেক্সে। তখন শুধু মধুমিতা সিনেমা হলে ভালো কোয়ালিটির হলিউড সিনেমা দেখার সুযোগ ছিলো, কিন্তু দূরত্ব অনেক বেশী হওয়ায় কখনো যাওয়া হয়নি! আমার বন্ধুরা জেনে থাকবে, শুরুর দিক থেকেই আমি স্টার সিনেপ্লেক্স পেক্ষাগৃহের দর্শক, কিন্তু কখনো তাদের মান বা সেবা নিয়ে কিছু লেখা হয়নি। সেদিন সিনেমা দেখতে গেলে সিনেপ্লেক্সের এক ছেলে একটা ফিডব্যাক ফর্ম নিয়ে সামনে আসলো। আমার একটাই লাইন মাথায় এসেছিলো, “It’s been 9 long years, take a break and fix things!” তবে আরও কিছু বলা যেতো মনেহয়। আজকে ব্লগে সেগুলি লিখি।

টিকেটের দাম: এই বিষয়টি নিয়ে লেখার প্রয়োজন বোধ করছি। আরম্ভ হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত স্টার সিনেপ্লেক্সে টিকেটের দামে কোনো প্রভাব পড়েনি। মধ্যবিত্তদের কথা চিন্তা করেই হয়তো কর্তৃপক্ষ টিকেটের দামে কোনো তারতম্য করেনি। এমনকি সদ্য তারা থ্রিডি সিনেমা প্রদর্শন শুরু করলেও টিকেটের দামে সেরকম পার্থক্য নেই। দামগুলি সহনীয়। তবে আমি মনে করি, টিকেটের দাম ঠিক রাখতে গিয়ে অন্যান্য সেবায় কিছুটা প্রফেশনালিজমের অভাব হচ্ছে, সেগুলিতে এক এক করে আসি।

প্রোজেকশন: হল ১, ২ এবং ৪ একেবারেই ডিজিটাল প্রজেকশন, কিন্তু হল ৩ এখনো ফিল্মেই সিনেমা প্রোজেক্ট করে। তাই স্ক্রিনে ছবির মধ্যে দাগ টাগ চলে আসে এবং এক ফিল্ম থেকে আরেক ফিল্মে সুইচ হওয়ার সময় যেটা অনেক বেশী বাজে লাগে দেখতে। এই যুগে এটা বিরক্তিকর। আমি জানিনা ফিল্ম প্রজেকশন বাদ দিয়ে ডিজিটালে গেলে কত খরচ বাড়বে। তবে আমি নেপালে গ্রামের হলগুলিতেও দেখেছি, তারা ফিল্ম প্রজেকশন বাদ দিয়ে দিয়েছে! তবে সিনেপ্লেক্সকে ধন্যবাদ অন্তত তিনটা হল ডিজিটালে উন্নিত করার জন্য!

হলের অবস্থা: আমার মনে পড়ে না, শুরু হওয়ার পরে থেকে প্রতি ঈদের পরের সপ্তাহ এবং বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লাগার দুর্ঘটনা ছাড়া আর কোনো সময় তারা বিরতি নিয়েছে। আর যেহেতু বিরতি নেয়নি, সেহেতু রক্ষণাবেক্ষণের কাজও ঠিক মতো করা হয়না। হল ১, ২ এবং ৩-এর কোনো সিটে আর সিট নম্বর লেখা নেই। যদিও আমার মনেহয় নম্বরের স্টিকার লাগাতে ১ ঘন্টার বেশী সময়ের প্রয়োজন নেই। প্রবেশের সিঁড়ির ধাপগুলিতে একসময় আলো থাকলেও এখন অনেকগুলি ধাপের বাতি নষ্ট। নষ্ট হলের ভেতরের অন্যান্য বাতিগুলি, আর তাই সিনেমা শেষ হলে একটি স্ট্যান্ডে ফ্লাড লাইট জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

আলোর সমস্যার সাথে সিটের সমস্যাও আছে। আমি কিন্তু এখনে হল ১, ২ এবং ৩ নিয়েই কথা বলছি। ৪ নং হল যেহেতু একেবারেই নতুন, সেটায় এখনো বয়সের ছাপ পড়েনি। যাই হোক, সিট নিয়ে যেটা বলছিলাম, অনেকদিন থেকে ব্যবহার হতে থাকায় সিটগুলি বেশ ময়লা এবং কিছু সিটের কভার ছেঁড়া!

পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা: ব্যবহার হতে হতে পুরাতন হয়ে যাবার জন্য সম্ভবত এখন ১, ২ এবং ৩ নম্বর হলের ভেতরটা অনেকটাই অপরিস্কার মনে হয়। একটি সিনেমা শেষ হওয়ার পরে আরেকটি শুরু হওয়ার সময় কম হওয়ায় সম্ভবত পরিস্কার করার সময় পাওয়া যায়না ঠিকমতো। আর যেহেতু সাপ্তাহিক বিরতি নেই, তাই ঠিকমতো পরিস্কার করাও হয়না বলে আমার মনে হয়। আমি অনেকবার এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করতে দেখেছি, কিন্তু এমন যেনো একটা আঁশটে গন্ধ থেকেই যায়!

সিনেমার সাথে মশা ফ্রি: বসুন্ধরা মলের অন্য কোথাও মশা কামড় না দিলেও হলের ভেতরে মাঝে মধ্যে মশার কামড় খেতে হয়। মশা নিয়ন্ত্রণ করা বাংলাদেশের মতো জায়গায় কঠিন কাজ, তবে হলের ভেতরে নিয়ন্ত্রণ করাটা আমার কাছে কঠিন মনে হয়না। তও কেনো তারা নিয়ন্ত্রণ করেনা, সেটা আমার জানা নেই।

প্লাটিনাম মেম্বার: সে এক সোনার হরিণ! আমি গত দুই বছরের বেশী সময় ধরে মাঝে মাঝেই তাদের ওখানে সালমা খাতুন নামে একজনের সাথে যোগাযোগ করি সদস্য হওয়ার জন্য। সরকারী অফিসের মতো উনিও আমার সামনে ভাঙ্গা রেকোর্ড বাজিয়ে দেন, “আমাদের সফটওয়্যারে নতুন সদস্য করার আর জায়গা নেই (!), পুরনো কেউ সদস্যপদ ছেড়ে দিলে আপনাকে কল দেয়া হবে। আপনি আপনার নম্বর রেখে যান।” তবে যিনি নম্বর রাখেন, দেখেই বোঝা যায় তার গরজ কতটুকু। হয়তো মন্ত্রী মিনিস্টারের রেফারেন্সে বা দেশের ভিভিআইপি হলে সেই সদস্যপদ পাওয়া যেতে পারে!!

ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইট: স্টার সিনেপ্লেক্সের ফেসবুক পেজের অ্যাক্টিভিটি বেশ ভালো। এক তরফা পোস্ট না দিয়ে সদস্যদের সাথেও ইন্টারেকশন করে দেখা যায় এডমিনদের। ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায় নতুন অফার এবং আগামী সিনেমার নাম ও সময়। একই সাথে ওয়েবসাইট থেকেও আগামী সিনেমার খোঁজ খবর মিললেও সাইটটি এতটাই আনপ্রফেশনাল যে মনে হয় ৯০ দশকের একটা সাইট ভিজিট করছি। অথচ স্টার সিনেপ্লেক্স কিন্তু দেশের সুপ্রতিষ্ঠিত সফটওয়্যার ফার্ম বেইজ লিমিটেডের কনসার্ন!

সিনেমার মান: শুরুর দিকে ভালো সিনেমা আসতে অনেক দেরী হলেও এখন সম্ভবত তারা ভারতীয় পরিবেশকদের কাছ থেকে সিনেমা নিয়ে আসে, আর সেজন্য একটা ভালো সিনেমা মুক্তির সাথে সাথেই আমরা দেখার সুযোগ পাচ্ছি স্টার সিনেপ্লেক্সে। আয়রন ম্যান বা ম্যান অফ স্টিল মুক্তি পাওয়ার সপ্তাহেই বা তার পরের সপ্তাহেই আমরা দেখার সুযোগ পেয়েছি। সেজন্য অকপটে বলতে পারি স্টার সিনেপ্লেক্সের সিনেমার মান ভালো।

শেষ কথা: হয়তো খুঁটি নাটি অনেক কিছু লিখলে লেখা যেতো। কিন্তু ওখানে আমাদের অনেক আনন্দ মিশে আছে, তাই আমি চাইবো কর্তৃপক্ষ একতরফা হল না চালিয়ে একটু রক্ষনাবেক্ষনের কাজ করলে আমাদের আনন্দটা আরও সুন্দর হবে। একটা উচ্চ মানের মাল্টিপ্লেক্সের কাছে নিশ্চয়ই আমরা ময়লা, দুর্গন্ধ, মশা আশা করিনা।

রিভিউ: বেলিসমো প্রিমিয়াম আইসক্রিম

Tags

, , ,

বেলিসমো প্রিমিয়াম আইসক্রিম

বেশ কিছুদিন হলো বেলিসমো প্রিমিয়াম আইসক্রিম বাজারে এসেছে। আমি দেখেছি ২০১৩ ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলায়। সেই সময় অসাধারণ নজর কাড়া সব প্রমোশন এবং ভিন্ন স্বাদ নিয়ে আসায় একটু স্বস্তি পেয়েছিলাম যে এবার দেশে ভালো মানের দেশী আইসক্রিম পাওয়া যাবে। ভিড়ের জন্য তাদের প্যাভেলিয়ানে গিয়ে স্বাদ নেয়ার সুযোগ হয়নি তখন।

বেলিসমো তৈরী করছে কাজী ফার্মস্  গ্রুপ, যাদের রয়েছে কাজী ব্র্যান্ডের ভালো মানের অর্গেনিক কিছু পণ্য। তাই এদের এই পণ্য যে খারাপ হবেনা, তা ধরণা করছিলাম।

আমার ধারণা ভুল হয়ে গেলো, যখন প্রথমবার এদের কোন-আইসক্রিম খেলাম। দু’টি স্বাদের কোন-আইসক্রিম এখন পাওয়া যায় এই ব্র্যান্ডের, আমার কাছে দুটিই ফালতু মনে হয়েছে। এর চাইতে কম দামে ইগলু বা পোলারের কোন-আইসক্রিম ঢের ভালো। তবে আমার স্বভাবের কারণে নিজেকে বাকীগুলি পরখ করা থেকে বিরত রাখতে পারলাম না।

একদিন বাজার থেকে ছয়টি ফ্লেভারের কৌটা নিয়ে নিয়ে আসলাম। সবগুলি ফ্লেভার পাওয়া যায়নি এবং এই ব্লগ লেখা পর্যন্ত সবগুলি বাজারে পাওয়াও যায়না। সেগুলি খাওয়ার পরে আমার অভিজ্ঞতা:

  • প্রিমিয়াম ভেনিলা: বাজারের অন্যান্য ভেনিলা থেকে অনেক উঁচু মানের আইসক্রিম এটি। একটা ক্রিমি ফ্লেভার পাওয়া যায় মুখে দিলে, যেটা অন্য ইগলু/পোলার-এর ভেনিলায় পাওয়া যায়না। চমৎকার লেগেছে আমার কাছে।
  • প্রিমিয়াম চকলেট: প্রিমিয়াম ভেনিলা’র মতো প্রিমিয়াম চকলেটও বাজারের অন্যান্য চকলেট আইসক্রিম থেকে আলাদা। আমি সাধারণত চকলেট জাতীয় জিনিস নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করিনা, কারণ চকলেট জিনিসটা আমার মনের মতো কখনোই হয়না। কখনো বেশী মিষ্টি হয়ে যায়, আবার কখনো তিতা হয়ে যায় বেশী। কিন্তু এটাতে সবগুলি উপকরণ মেশানো হয়েছে খুব সুন্দরভাবে পরিমাণ মতো। সত্যই প্রসংশনীয়।
  • নাটি পেস্তাচিও: এটা একবার মুখে দিলে কিরা কাটবেন যে আর কোনোদিন মুখে দেবেননা। জঘন্য স্বাদ, উটকা গন্ধ। আমরা কষ্ট করে একটু খেয়ে পাশের বাসার পিচ্চিটাকে দিয়েছি। বাবা দেশে না থাকায় ছেলেটা আবার এগুলি খুব একটা বেশী পায়না, সে এক চামুচ মুখে দেয়ার পরে আর খেলোনা! এখন ওর মা বলে ছেলেটা না-কি আর আইসক্রিমই খায়না।
  • প্রিমিয়াম স্ট্রবেরি: সত্যি কথা বলতে আমার বাসায় কেউই স্ট্রবেরি স্বাদের আইসক্রিম পছন্দ করিনা। কিন্তু প্রিমিয়াম চকলেট ফ্লেভারের মতো এই স্বাদটিও আমাদের ধারণা বদলে দিলো। আমার কাছে মনে হয়েছে আইসক্রিমে স্ট্রবেরি ফ্লেভার ব্যবহার না করে সত্যিকারের স্ট্রবেরি ব্যবহার করা হয়েছে। চমৎকার একটা ফ্লেভার।
  • নাটি আমন্ড: নাটি আমন্ড মুখে দিয়ে অনেকটা গান্ধিপোকার মতো একটা গন্ধ পাওয়া যায়! একটু খেয়েতো আর খেতে পারলামনা, তাই আমাদের বাসায় যেই বুয়াটা কাজ করে, তার মেয়েকে দিয়ে দিলাম। সে একটু খেয়ে জিজ্ঞেস করলো যে এটাতে পোকা মরে পড়েছে কি-না!
  • প্রিমিয়াম ম্যাঙগো: এটা তেমন আহামরি কিছু না যার জন্য একে প্রিমিয়াম বলতে হবে এবং প্রিমিয়াম দাম দিতে হবে। ইগলু/পোলার আইসক্রিমের ম্যাঙগোও একই রকম।

এদের নাটি পেস্তাচিও আর নাটি আমন্ড স্বাদ দুটি আইসক্রিমের নামে কলঙ্ক হয়ে থাকবে। আমার ধারণা বাটার চকলেট আমন্ড স্বাদটাও এই দুটির মতো খারাপ কিছু হবে। এদের আমন্ড বা বাদামের মান খুবই খারাপ।

আপডেট ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩: গতকালকে আবার উক্ত ফ্লেবারগুলি কিনে এনেছি। এবার খেয়ে মনে হচ্ছেনা আহামরি কিছু খাচ্ছি, এটা ইগলু/পোলারের চাইতে ভালো কিছুনা। তাই নীচে কমেন্টকারী অনেকের সাথেই আমি এখন একমত যে এটা আহামরি কিছুনা। হয়তো প্রথমদিকে ভালো কিছু দিয়েছে এখন আর সেটা দেবার প্রয়োজন মনে করছেনা। এটাই হয় বাংলাদেশে!

পোস্টপেইড মোবাইল! না ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা!!

Tags

, ,

মোবাইল প্ল্যান

অনেকদিন থেকেই ভাবছি বিষয়টা নিয়ে লেখা দরকার, কিন্তু লেখা হয়নি। আজকে হঠাৎ ফেসবুকে আব্দুন নূর তুষারের পোষ্টটি চোখে পড়লে আবার বিষয়টি নিয়ে লেখার উৎসাহ ফিরে পাই।

আমার ধারণা আমাদের দেশের ৯০%-এর বেশী মোবাইল ফোন গ্রাহক প্রিপেইড মোবাইল সংযোগ ব্যবহার করেন, যার কারনে এই বিষয়টা নিয়ে সেরকম মাথা ব্যাথা কারও নেই। অথচ একসময় মোবাইল অপারেটাররা অনেক মুলা ঝুলিয়ে পোস্টপেইড সংযোগগুলি বিক্রি করেছে গ্রাহকদের কাছে, যার খেসারত এখনো দিতে হচ্ছে। আমি যদি তুষার ভাইর লেখাটি কোট করি, উনি লিখেছেন-

গ্রামীন ফোন ১৯৯৭ সালে পোস্টপেইড গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫০০০ টাকা নিরাপত্তা জামানতে হিসেবে নিয়ে ফোন দিয়েছিল। ১৫ বছরে ব্যাংকে রাখলে এখন এই টাকা হবার কথা ২০ হাজার। তার মানে তারা পোস্টপেইড এর নামে আসলে আমাদের দিয়েছে প্রি পেইড ফোন। এটা একটা প্রতারণামূলক কর্ম। দেশের সবচেয়ে বড় প্রতারক প্রতিষ্ঠান ডেস্টিনি বা হলমার্ক নয়, এর নাম জিপি। … রবি শেখাতে শুরু করেছে ইংরেজী.. ফ্রিজিং কোল্ড মানে বেসম্ভব ঠান্ডা…. টেলিফোনে ডাক্তারী পরামর্শ… বেসম্ভব গাধামী…

কথাগুলি কী সত্য না? দু-একটা অপারেটর বাদে, বেশীরভাগ অপারেটরের পোস্টপেইড সংযোগে কলচার্জ বেশী। কল চার্জ কম হলে দেখা যায় অন্য সুবিধা নেই, একটা না একটা সমস্যা আছেই পোস্টপেইড সংযোগে। এটা যেমন ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা। ছোট্ট কিছু উদাহরণ দেখি –

  • রবি‘র পোস্টপেইড প্যাকেজে এই মুহূর্তে কলচার্জ ৳০.৯০ প্রতি মিনিটে, অথচ রবির প্রিপেইডেই ৳০.৮৪ প্রতি মিনিট প্যাকেজ আছে।
  • রবি প্রিপেইড প্যাকেজে গ্রাহক চাইলে বিভিন্ন ইন্টারনেট বান্ডেল (১ মেগা, ১০ মেগা, ১ গিগা ইত্যাদি) প্যাকেজ ব্যবহার করতে পারেন, পোস্টপেইড গ্রাহকদের সেই সুবিধা নেই।
  • বাংলালিঙ্কের তো বেহাল দশা। পোস্টপেইডের বিল ৳১.২৩ প্রতি মিনিট, অথচ প্রিপেইডে তাদের ৳০.৮৪ প্রতি মিনিট প্যাকেজ আছে। এরা অন্যদের রেকোর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে।
  • রবির মতো বাংলালিঙ্কেও প্রিপেইড গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেট বান্ডেল অপশন অনেক বেশী এবং পোস্টপেইডে অনেক সীমিত অপশন।
  • গ্রামীণফোন আবার বাংলালিঙ্কের চেয়ে কম যায়না। ৳১.২০ প্রতি মিনিট পোস্টপেইডের কল চার্জ, অথচ প্রিপেইডের কল চার্জ ৳১.০৮ প্রতি মিনিট।
  • শুধু এয়ারটেলের ক্ষেত্রেই পোস্টপেইড সংযোগের খরচ সবচাইতে কম দেখা যায়। পোস্টপেইডে ৳০.৭৭ প্রতি মিনিট এবং ৳০.৯৬ প্রতি মিনিট প্রিপেইডে।
  • তবে ঝামেলা আছে এয়ারটেলের ইন্টারনেটে। পোস্টপেইডে ৳৩৫০.০০-এ ১ গিগা ডেটা, আবার প্রিপেইডে ৳৩১৬.২৫-এ ১ গিগা। পোস্টপেইডে বান্ডেল অপশন অনেক সীমিত।
  • অসমতা দেখা যায় টেলিটকেও, পোস্টপেইডে ৳০.৯৯ প্রতি মিনিট এবং প্রিপেইডে ৳০.৯০ প্রতি মিনিট।

শুধু বিল ছাড়াও পোস্টপেইড সংযোগ চালানোর আরও কিছু ঝামেলা আছে। এদের মধ্যে সবচাইতে বিরক্তিকর কয়েকটি হলো –

  • ক্রেডিট লিমিট থাকলেও কোম্পানি ভেদে ৭০-৮০% ব্যবহার হয়ে যাবার পরে কল করতে না দেয়া,
  • ক্রেডিট লিমিট পার হওয়ায় কোনো নোটিফিকেশন না আসা,
  • নগদ টাকা জমা রেখে ক্রেডিট লিমিট বাড়ানো,
  • ব্যাংকে বিল দিলেও সেটা সময়মতো এডজাস্ট না হওয়া,
  • ক্রেডিটকার্ড দিয়ে অটোডেবিট চালু করে রাখলেও সময়মত বিল না নিয়ে লাইন বন্ধ করে দেয়া, ইত্যাদি।

বিদেশে পোস্টপেইড সংযের সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশী। যেমন –

  • একজন পোস্টপেইড গ্রাহক অপারেটরের কাছ থেকে কিস্তিতে একটা দামী ফোন নিতে পারে, যা মাসের বিলের সাথে পরিশোধ করতে হয়।
  • প্রতি মিনিট বিল না গুনে নিজের ব্যবহারের উপর আন্দাজ করে একটা বান্ডেল কিনতে পারে, যাতে সে কল, এসএমএস, ইন্টারনেট সহ সব সুবিধা অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে পায়।
  • বছরে নতুন নতুন উপহার সহ অনেক কিছু।

বিটিআরসি অনেক কাজ করলেও আমার ধারণা এগুলিতে সমতা আনার জন্য কিছু করেনা, বা কখনো চোখেও দেখেনি যে এরকম একটা অসম ব্যবসা করে যাচ্ছে মোবাইল অপারেটরগুলি দিনের পর দিন।

পোস্টপেইড সংযোগ কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করেনা, যারা ব্যবহার করে, তাদের নুন্যতম কমিটমেন্ট থাকে অপারেটরের সাথে। পোস্টপেইড সিম কিনতে হয় বেশী টাকা দিয়ে, আবার সিকিউরিটি ডিপোজিট রাখতে হয়। কিন্তু তারপর কি লাভ!! ঐ টাকা ব্যাংকে ফেলে রাখলেওতো সুদ পাওয়া যাবে। তুষার ভাইর কথাইতো ঠিক।

*উপরের চার্জগুলি এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরের সাথে কল করার ক্ষেত্রে অনেকগুলি অপশনের মধ্যে সর্বনিম্নটি, এবং ভ্যাট ছাড়া।

ই-কমার্স সপ্তাহ

Tags

, , ,

গত ৫ জানুয়ারি ২০১৩ থেকে ঢাকায় প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছিলো ‘ই-কমার্স সপ্তাহ’। বাংলাদেশ ব্যাংকবাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর যৌথ উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনে ছিলো ই-কমার্স বিষয়ক প্রদর্শনী, সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক ও কনসার্ট (ফান্ড তো শেষ করতে হবে)।

E-Commerce Week Banner

‘অনলাইনে কেনাকাটা করুন, যেকোনো কিছু, যেকোনো সময়’ এটাই থিম ছিলো ই-কমার্স সপ্তাহের। কিন্তু বাস্তবটা কিরকম আমরা কী একটু দেখতে পারিনা? ই লেনদেনের কয়েকটা চিত্র দেখা যাক।

  • আমরা আমাদের দেশের ভিসা/মাস্টার/আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড দিয়ে অনলাইনে বিদেশ থেকে কিছু কিনতে পারিনা, শুধু হোটেল বুকিং দেয়া ছাড়া। সেটা কম-বেশী সবাই জানেন। এমনকি ট্রাভল কোটার ঐ কার্ডগুলি দিয়ে উড়জাহাজের টিকিট কেনা যায়না! উড়োজাহাজের টিকেট মনেহয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রাভল ডিকশনারিতে পড়েনা!!
  • আমেরিকায় গ্রেহাউন্ড বাসের কিয়স্ক থেকে টিকেট কিনতে পারিনি, কারণ সামনে কিয়স্ক থাকলেও পেছনের লেনদেন হচ্ছিলো ইন্টারনেটে।

এগুলি বিদেশের কথা। দেশী-বিদেশী লেনদেনে ঝামেলা হতেই পারে। আমি যদি ভুল না করে থাকি, তাহলে এই মূহুর্তে বাংলাদেশে কমার্শিয়াল ব্যাংকের সংখ্যা ৫০এর অধিক, দেখি সেগুলোর অবস্থা কী।

  • ই-কমার্স মানে শুধু কার্ড ব্যবহার করে অনলাইনে কেনাকাটা না, যদি বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা মনে করে, তাহলে আমাদের পাথরের যুগে চলে যাওয়া উচিৎ। ই-কমার্স সপ্তাহের ব্যানারে অন্তত সেরকম কিছুই লেখা আছে।
  • ৫০টি ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি ব্যাংকের অনলাইন সেবা আছে। অন্যদের থেকে থাকলে, হয় আমি জানিনা বা তারা সেগুলি প্রচার করতে বা সেবা দিতে আগ্রহী না। তো এই ১০টি ব্যাংকের অনলাইন সেবায় কী করা যায়? সেগুলি দিয়ে লেনদেন ও ব্যালেন্স দেখা যায়। ওহ্! মাঝে মাঝে আবার সার্ভার বন্ধ থাকে।
  • উক্ত ১০টি ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫টি ব্যাংক অনলাইনে বসে বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধের সুযোগ দিয়ে থাকে। কিন্তু যদি কোনো কারনে আপনি কিছু ভুল করে ফেলেন, আপনার টাকা আর ফেরৎ পাবেন না।
  • এই ৫টি ব্যাংকের মধ্যে ৩-৪টি ব্যাংক অনলাইনে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা লেনদেনের সুযোগ দিয়ে থাকে। তার মধ্যে ২টি ব্যাংকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই লেনদেন করা যায় এবং অন্যগুলিতে বহু কাঠ-খড় পুঁড়তে হয়, তার চাইতে সেবা না নেয়াই ভালো।

অনলাইন ব্যাংকিং এরকম হবার কারন কী? এবার দেখি দেশের ভেতরে ক্রেডিট/ডেবিড কার্ড ব্যবহারের অবস্থা!

  • এক ব্যাংকের মাস্টার ডেবিড কার্ড নিয়ে গেলাম অনলাইনে কিউবির বিল দিতে, কাজ হয়না। কাস্টমার কেয়ারে ঘ্যানর ঘ্যানর করার পরে জানলাম সেই ব্যাংকের ডেবিড কার্ড অনলাইনে ব্যাবহার করা যায়না!!!
  • আরেক ব্যাংকের ভিসা ডেবিড কার্ড নিয়ে গেলাম অনলাইনে ঐ বিলটি দিতে, কাজ হয়না। কাস্টমার কেয়ারে মা-বাবার নাম বলার পরে (ভেরিফিকেশনের জন্য) খানিকটা প্যাচাল পাড়তে হলো। ১০/১২ মিনিট লাইনে থাকার পরে তারা জানালেন সেই ব্যাংকেরও ডেবিড কার্ড অনলাইনে ব্যাবহার করা যায়না!!!
  • এবার একটা ভিসা ক্রেডিট কার্ড নিয়ে গেলাম ঐ বিল দিতে, একই ভাবে জন্ম তারিখ ও চৌদ্দগুষ্টির নাম শোনার পরে আমাকে বলা হলো তারা আমাদের নিরাপত্তার জন্য অনলাইন ট্রানজেকশন বন্ধ করে রাখেন। তবে এক্ষুনি খুলে দিচ্ছেন যাতে আমি বিলটা দিতে পারি। কিছুক্ষণ অপেক্ষায় রাখার পরে আপুটা কাজটা করতে না পেরে প্রচন্ড দুঃখ প্রকাশ করলেন (শুধু হাউমাউ করে কাঁদেননি) এবং আমাকে ঐ ফোনগুলি থেকে ফোন করতে বললেন যেগুলি এই কার্ডের সাথে নিবন্ধিত আছে। সেটাই যদি হবে, তাহলে জন্মতারিখ সহ চৌদ্দগুষ্টির নাম জিজ্ঞেস করার দরকার কী ছিলো?
  • ফোনে কথা হচ্ছিলো একটি ই-কমার্স দোকানের সাথে –
    : ভাই আমার কার্ডতো অনলাইনে ঝামেলা করে।
    : আপনি চেক আউটের সময় ‘ক্যাশ অন ডেলিভারী’ নির্বাচন করুন। আপনি অনলাইনে টাকা দিলে সেই টাকা আমার একাউন্টে আসতে মাস পার হয়ে যাবে, এর থেকে ক্যাশ নিতেই আমরা আগ্রহী!
  • সেদিন ফেসবুকেও দেখলাম, এক বন্ধু লিখেছে, “Bought StartupWeekend Student ticket from _____ but did not get any confirmation. Card is charged. I’ve complained by calling their number yesterday. they said they will inform me the status. but no further communication by them!!!”

কোনো ব্যাংক বলে সেন্ট্রাল ব্যাংকের নির্দেশে আমরা এরকম করছি, আমাদের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছিলো। একটা দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংক একটাই এবং নীতিমালাও এক, তাহলে একেক ব্যাংক একেক রকম কথা বলে কেন? কেউ সুযোগ দেবে কেউ দেবেনা এরকম হওয়া উচিৎ না।

অনেকে জেনে থাকবেন যে বিদেশে একটা একাউন্ট পে চেক জমা দিতে ব্যাংকে যেতে হয়না। বাসা থেকে চেক স্ক্যান করে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করলেই কাজ হয়ে যায়। বেসিস বা বাংলাদেশ ব্যাংক কি আদৌ এগুলি ঠিক করতে পারবে!

পুরুষদের জন্য দেশী পণ্য – কুল

Tags

, , ,

আমি ডেনিম ব্র্যান্ডটির একচেটিয়া ভক্ত ছিলাম, কিন্তু দিন দিন আমাদের দেশে এর মান খারাপ হতে থাকায় এক্স ব্যবহার করতে শুরু করি, কিন্তু এখানেও একই সমস্যা! দিন দিন পণ্যের রঙ-চঙ বাড়লেও পরিমান কমতে থাকে। যেই বডি-স্প্রে একমাস যাবার কথা, সেটা সর্বোচ্চ পনেরোদিন ব্যবহার করা যায়। কিন্তু বাহারি বাজ্ঞাপণ আবার ঠিকই চলছে। এক্স তো তাও ব্যবহার করা যায়, কিন্তু ডেনিমের বোতলের অবস্থা দেখলে মনে হয় এটা জিঞ্জিরায় তৈরী হয়।

এবছর শুরুর দিকে স্কয়ার টয়লেট্রিজের কুল বডি-স্প্রে কিনে নিয়ে আসলাম, ব্যবহার করেই ভালো লেগে গেলো। সত্যই অসাধারণ লেগেছে প্রথম ব্যবহারেই। অপেক্ষা করছিলাম পুরুষদের জন্য অন্যান্য পণ্যের। আজকে দেকানে ঘুরতে ঘুরতে দেখি কুল ব্র্যান্ডের শেভিং ফোম ও আফটার শেভ জেল পাওয়া যাচ্ছে। শেভিং ফোম গত ৩ বছরে কেনা হয়নি, তাই সঠিক বলতে পারছিনা এটা কবে বাজারে এসেছিলো। একটা শেভ দিলাম, মাথাই নষ্ট, এত স্মুথ আর আরামদায়ক হবে ভাবতে পারিনি। শেভ করার পরেও একটা ঠান্ডা অনুভুতি।

শেভ করার পরে আমার চামড়া খস্‌খসে হয়ে থাকে, এই আফটারশেভ জেলটা ব্যবহারের পরে অসম্ভব কোমল হয়ে আছে চামড়া। সব মিলিয়ে আমি ভীষণ খুশি এই পণ্যগুলি পেয়ে। অনেকেই হয়তো নাক সিটকাবে দেশী পণ্য বলে কিন্তু আমি একবার ব্যবহার করে দেখার পরামর্শ দেবো, আশাকরি হতাশ হবেনা।

এই পণ্যগুলি কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক মান থেকে কম যায়না। অবশেষে একটা ব্র্যান্ড পেলাম যা একসাথ দু্ই/তিনটা ব্র্যান্ডের সাথে প্রতিযোগীতা করবে।