Blog

  • A24 – হলিউডের নিয়ম ভাঙা ফ্যাক্টরি

    জন্ম: A24 হাইওয়ে থেকে A24 স্টুডিও!

    Daniel Katz, David Fenkel আর John Hodges — তিন সিনেমা-পাগল বন্ধু নিউ ইয়র্কে এই স্টুডিওর জন্ম দেয় ২০১২ সালে।

    • Daniel Katz Guggenheim Partners নামের একটা ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম, ২৭০ বিলিয়ন ডলার অ্যাসেট ম্যানেজ করে। Katz ওখানে ফিল্ম ফাইন্যান্স ডিভিশনে ছিলো। কাজ ছিলো ইন্ডি সিনেমায় টাকা ঢালা, ডিস্ট্রিবিউশন ডিল করা। Let Me In, The Social Network-এর ফাইন্যান্সিং-এ হাত ছিলো। মানে Katz শুরু থেকেই “টাকা + সিনেমা” — দুইটাই বুঝতো।
    •  David Fenkel Oscilloscope Laboratories নামের একটি ইন্ডি ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে ছিলো। ২০০৮-এ Beastie Boys-এর Adam Yauch স্টুডিওটা খুলেছিলো। Fenkel ছিলো Co-founder + President. কাজ: উইয়ার্ড, সুন্দর, ছোট সিনেমা কিনে হলে রিলিজ দেওয়া। Wendy and Lucy, We Need to Talk About Kevin, Exit Through the Gift Shop — এগুলা Oscilloscope রিলিজ করেছে। মানে Fenkel-এর হাত পাকা ছিলো “আউট-অফ-দ্য-বক্স” ফিল্ম চিনতো।
    • John Hodges ছিলো Big Beach নামের আরেকটি ইন্ডি ফিল্ম প্রোডাকশন কোম্পানিতে। ২০০৪-এ Marc Turtletaub আর Peter Saraf খুলেন ঐ কোম্পানি খোলে। Hodges ওখানে Head of Production + Development ছিলো। বানিয়েছে: Little Miss Sunshine, Safety Not Guaranteed, Loving. মানে Hodges জানতো কীভাবে কম বাজেটে ডিরেক্টর-বান্ধব সিনেমা প্রোডিউস করতে হয়।

    হতাশা একটাই: “ভালো স্ক্রিপ্ট আছে, কিন্তু স্টুডিও বলে ‘টু রিস্কি’।” ২০১২-তে চাকরি ছেড়ে কোম্পানি খুলে। নাম দেয় A24 — ইতালিতে রোড ট্রিপের সময় Katz যে হাইওয়ে ধরে রোমে ঢুকেছিলো, সেই A24! উদ্দেশ্য পরিস্কার: পরিচালককে ফাইনাল কাট দিবো, মার্কেটিং করবো পাগলের মতো, গল্প হবে আউট-অফ-দ্য-বক্স!!

    ২. প্রথম ধাক্কা: ডিস্ট্রিবিউশন দিয়ে শুরু, ২০১৩-২০১৫

    শুরুতে সিনেমা বানায়নি, কিনেছে। A Glimpse Inside the Mind of Charles Swan III দিয়ে ডেবিউ, কিন্তু আলোচনায় আসে Spring Breakers দিয়ে। নিয়ন কালার, স্কিনহেড James Franco, ডাবস্টেপ — সেলেনা গোমেজের ফ্যানরা হলে ঢুকে হাঁ। এরপর The Bling RingEnemyUnder the Skin. বাজেট ৫ মিলিয়নের নিচে, কিন্তু পোস্টারে লেখা “A24” দেখেই ফিল্ম-নার্ডরা টিকিট কাটে। ২০১৪-তে Ex Machina. AI, একটা ঘর, তিনটা ক্যারেক্টার — ১৫ মিলিয়নে বানিয়ে ৩৭ মিলিয়ন কামায়, অস্কার জেতে VFX-এ! হলিউড বুঝলো, “এরা খেলতে জানে” 😂

    ৩. অস্কার যুগ: Moonlight থেকে EEAAO, ২০১৬-২০২৩

    ২০১৬-তে Moonlight. মায়ামির কালো সমকামী ছেলের তিন অধ্যায়। কোনো স্টার নাই, বাজেট ১.৫ মিলিয়ন। A24 রিলিজ দিলো, ক্যাম্পেইন করলো ফলাও করে। ফলাফল: বেস্ট পিকচার অস্কার! La La Land-এর খাম ভুলে ঘোষণার সেই রাত — ইন্ডি সিনেমার ইতিহাসে ঢুকে গেল A24!

    এরপর একের পর এক কাল্ট:

    • Lady Bird — Greta Gerwig-এর ডেবিউ, মা-মেয়ের গল্পে ৫টা অস্কার নমিনেশন।
    • Hereditary — হররকে আর্টহাউস বানাল Ari Aster.
    • Uncut Gems — Adam Sandler-কে দিয়ে ২ ঘণ্টা অ্যাংজাইটি অ্যাটাক।
    • Midsommar — দিনের আলোয় হরর, ফুলের মুকুট পরে সুইসাইড।

    ২০২২-এ বাজিমাত Everything Everywhere All at Once। হটডগ-আঙুল, র‍্যাকুন-শেফ, ট্যাক্স অডিট, মাল্টিভার্স। Daniels জুটির পাগলামি। ২৫ মিলিয়নে বানিয়ে ১৪৩ মিলিয়ন কামায়, ৭টা অস্কার — A24-এর ঘরে বেস্ট পিকচার, ডিরেক্টর, অ্যাক্ট্রেস সব।

    ৪. ফর্মুলা? নো ফর্মুলা

    A24-এর নিয়ম তিনটা:

    • পরিচালক রাজা: স্ক্রিপ্টে নোট দেয় না, ফাইনাল কাট দিয়ে দেয়। Safdie ভাই, Robert Eggers, Charlotte Wells — সবাই তাই A24-এ দৌড়ায়।
    • জঁরা ভাঙোThe Lighthouse — সাদা-কালো, ১.১৯:১ ফ্রেম, ডাইনির গল্প। Bodies Bodies Bodies — Gen-Z স্ল্যাশার। Marcel the Shell — ১ ইঞ্চি শামুকের ডকুমেন্ট্রি।
    • মার্কেটিং = আর্টMidsommar-এর জন্য ৯ ফুট ভাল্লুক পাঠায় ইনফ্লুয়েন্সারদের। X-এর জন্য ৭০ দশকের পর্ন পোস্টার। EEAAO-এর জন্য লন্ড্রোম্যাটে গুগলি-আই। ট্রেলার না দেখেই লোগো দেখে মানুষ হলে ঢোকে।

    ৫. বিজনেস: ইন্ডি হয়েও জায়ান্ট

    ১২ বছরে ১৫০+ ফিল্ম, ৫০+ টিভি শো — EuphoriaBeef Apple ২.৫ বিলিয়নে কিনতে চেয়েছিলো ২০২১-এ, A24 “না” বলেছে। নিজেরাই ডিস্ট্রিবিউশন, নিজেরাই প্রোডাকশন, নিজেরাই মিউজিক লেবেল — A24 Music দিয়ে ZolaPearl-এর OST বের করে। মার্চেন্ডাইজ বিক্রি করে — A24 ক্যান্ডেল, স্ক্রিপ্টবুক। ইন্ডি স্টুডিও, কিন্তু ব্র্যান্ড ভ্যালু Marvel-এর মতো কাল্ট।

    ৬. কেনো দর্শক ভালোবাসে?

    কারণ A24 ধরে নেয় আমরা বোকা না। গল্পে গতি ধীর হতে পারে, শেষে উত্তর নাও থাকতে পারে, ফ্রেম বাঁকাও হতে পারে — তাও আমরা দেখি। Aftersun দেখে কাঁদি, Zone of Interest দেখে গিল্টি ফিল করি, Past Lives দেখে ২ দিন ঘোরে থাকি। বড় স্টুডিও সিক্যুয়েল বানায়, A24 রিস্ক নেয়। ১০০ মিলিয়ন CG না, ১টা ভালো আইডিয়া! ❤️

    শেষ কথা

    ভিন্ন রঙ, ভিন্ন আকারের ফ্রেম, উদ্ভট গল্প — এই তিন শব্দে A24-এর জন্ম। ২০১২-তে তিনজন লোক বলেছিলো “চলো পাগলামি করি”। আজ সেই পাগলামি অস্কার জেতে, বক্স অফিস কাঁপায়, আর আমাদের মতো দর্শককে হলে টেনে নেয়। গতানুগতিকের দুনিয়ায় ওরা প্রমাণ করেছে — Weird is the new mainstream, if you mean it.

    এখনো শেষ না। যতদিন কেউ এসে বলবে “এই গল্প কেউ বানাবে না”, A24 ক্যামেরা অন করবে।

  • ধর্মের দোহাই দিয়ে AI ব্যবহারে অব্যাহতি পেলেন ৩৪ বছর বয়সী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার Erin Maus

    এটা দুনিয়ার প্রথম দৃষ্টান্ত, যেখানে AI এর চাইতে গুরুত্ব পেলো ধর্ম, আইন আর ব্যক্তিগত নীতি।

    আমেরিকার এক টেক-এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানিতে সব সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বাধ্যতামূলকভাবে AI দিয়ে কোড লিখতে বলা হয়েছিলো। কোম্পানির দাবি, এতে প্রোডাক্টিভিটি বাড়বে। কিন্তু Unitarian Universalist ধর্মের অনুসারী Erin Maus সাফ জানিয়ে দেয়, সে AI ছোঁবে না। তার যুক্তি, AI ব্যবহার তার ধর্মীয় বিশ্বাস আর নৈতিকতার বিরোধী।

    কী হয়েছিলো Erin-এর সাথে?

    AI ব্যবহারে রাজি না হওয়ায় প্রথমে তার ওপর নেমে আসে অফিস পলিটিক্স। মিটিংয়ে তাকে বারবার জবাবদিহি করতে হয়েছে। পারফরম্যান্স রিভিউতে লাল দাগ পড়েছে। চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরী হয়েছে। সহকর্মীদের কাছে সে “টিমের গতি কমানো” অপবাদও পেয়েছে। মূলত কোম্পানির AI-নির্ভর কালচার তাকে কোণঠাসা করে ফেলেছিলো।

    কেনো সে এই লড়াইয়ে গেলো?

    Erin-এর কাছে AI মানে তিনটা জিনিসের মৃত্যু।

    • এক, মানবিক সৃজনশীলতার মৃত্যু। কারণ কোড লেখার দায়িত্ব যখন মেশিন নেয়, তখন ইঞ্জিনিয়ার কেবল প্রম্পটদাতা হয়ে যায়।
    • দুই, জবাবদিহিতার মৃত্যু। AI ভুল করলে দায় কার?
    • তিন, পরিবেশের ক্ষতি। AI চালাতে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ আর পানি পোড়ে, তা তার ধর্মের “সৃষ্টির প্রতি দায়িত্ব” নীতির বিরুদ্ধে।

    শেষ পর্যন্ত আমেরিকার Title VII আইন তার পাশে দাঁড়ায়। এই আইন বলে, আন্তরিক ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য কোম্পানিকে ছাড় দিতে হবে। Erin প্রমাণ করে, AI ছাড়াও তিনি হাতে কোড লিখে কোম্পানিকে সেরা আউটপুট দিতে পারে। কোম্পানি হার মানতে বাধ্য হয়।

    এই রায় প্রমাণ করলো, প্রযুক্তি যত শক্তিশালীই হোক, ধর্ম, আইন আর মানুষের ব্যক্তিগত নীতির কাছে তাকে মাথা নত করতেই হবে। Erin Maus দেখিয়ে দিলেন, ডিজিটাল যুগেও বিবেকের স্বাধীনতা টিকে আছে।

  • Monarch: Legacy of Monsters

    স্পয়লার-সহ রিভিউ

    Apple-এর টাকায় তৈরি হচ্ছে, তাহলে তো Monarch: Legacy of Monsters ভালোই হবার কথা। জানি না কোন দর্শকদের টার্গেট করে এই অর্থ লগ্নি করা হয়েছে। কিন্তু টাইমলাইন আর ফাঁকা বুলি দেখতে দেখতে আমি ও আমার কন্যা ক্লান্ত! কোনো কিং কং নেই, কোনো গডজিলা নেই, শুধু আছে ফাঁকা বুলি।

    স্পয়লার শুরু

    গল্প ৩টা টাইমলাইনে লাফায়, ১৯৫০-এ Lee Shaw (Wyatt Russell) + Bill Randa + Keiko মিলে Monarch গড়ে তোলে। তারা প্রথম Hollow Earth-এর রাস্তা খুঁজে পায়, একটা ড্রাগন-টাইপ টাইটান Frost Vark-এর সাথে ফাইট করে Keiko মারা যায়। ২০১৫-তে Godzilla (2014)-এর G-Day-এর পর Cate Randa তার ভাই Kentaro-কে নিয়ে বাপ Lee Shaw-কে খুঁজতে নামে। আর ২০১৫-র “বুড়া” Lee Shaw (Kurt Russell) আসলে ১৯৫০ থেকে টাইম-ডাইলেশনে আটকে ছিল।

    সমস্যা ১: মনস্টার কই?

    ১০ এপিসোডে গডজিলা আছে মাত্র ৮ মিনিট। প্রথম এপিসোডে গোল্ডেন গেট ব্রিজে ৩০ সেকেন্ড, শেষ এপিসোডে আলাস্কায় ২ মিনিট। কিং কং নাই-ই। বদলে পাই Endopede, Frost Vark, Ion Dragon — নাম শুনেই ঘুম আসে। CGI ভালো, কিন্তু মনস্টার না দেখালে লাভ কী? এটা Monarch: Legacy of Talking।

    সমস্যা ২: টাইমলাইন জগাখিচুড়ি

    ১৯৫০, ১৯৫২, ১৯৫৯, ১৯৬২, ১৯৭৩, ২০১৫ — প্রতি ৫ মিনিটে সাল পাল্টায়। Cate ফ্ল্যাশব্যাকে G-Day ট্রমা, Kentaro বাপের সিক্রেট ফ্যামিলি নিয়ে কান্নাকাটি, May টেক-হ্যাকার প্লট, Lee Shaw দুই বয়সে দুই Russell — মাথা ধরে যায়। কন্যা প্রতি সিজনের মাঝখানেই ঘুমিয়ে পড়ে কারণ কাহিনী আগায় না, শুধু “Monarch কী করে”, “সত্য লুকানো হয়েছে” টাইপ ফাঁকা বুলি।

    সমস্যা ৩: ক্যারেক্টার

    • Cate বিরক্তিকর। পুরো সিজন “আমার বাবা মিথ্যাবাদী” বলে কাঁদে।
    • Kentaro-র কাজ শুধু অবাক হওয়া।
    • May-এর সাইবার-থ্রিলার সাবপ্লট Godzilla-ভার্সে কেন ঢুকল কেউ জানে না।
    • একমাত্র দেখার মতো Kurt Russell + Wyatt Russell। বাপ-ছেলে একই চরিত্র, ডি-এজিং ছাড়া — এটা কুল। কিন্তু তাদের স্ক্রিনটাইম ২০%।

    ক্লাইম্যাক্স স্পয়লার

    শেষে জানা যায় Lee Shaw ১৯৬২-তে Hollow Earth-এ ঢুকে ২০১৫-তে বের হয়েছে। কারণ Monarch ওয়ার্ল্ডকে টাইটান থেকে বাঁচাতে “রিপ” বন্ধ করতে চায়। Cate, Kentaro, May মিলে আলাস্কায় Ion Dragon-এর সাথে ফাইট করে। Godzilla এসে Dragon-কে মেরে হাই তুলে চলে যায়। Lee Shaw আবার Hollow Earth-এ থেকে যায় সিজন ২-এর জন্য। Keiko বেঁচে আছে, সেও Hollow Earth-এ। ফ্যামিলি রিইউনিয়ন, কিন্তু ইমোশন জিরো।

    শেষ কথা

    Apple টাকা ঢেলেছে, প্রোডাকশন ভ্যালু ঝকঝকে। কিন্তু এটা পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন। MonsterVerse-এর ফ্যান হিসেবে মনস্টার চাই, টাইটান চাই, স্ক্রিন কাঁপানো ফাইট চাই। পেলাম থেরাপি সেশন আর ফ্যামিলি ড্রামা।

    রেটিং: 2/10

    কন্যাকে ঘুম পাড়াতে চাইলে চালাও। গডজিলা চাইলে Minus One দেখো। এটা কি ভাই! টাইমলাইন মেলাতে মেলাতে নিজেই হারিয়ে গেলাম।

  • Succession

    স্পয়লার-ছাড়া রিভিউ

    দর্শক হিসেবে আমরা ঠাট দেখতে পছন্দ করি। রাজা-বাদশাহদের ঠাট, লাট-সাহেবের ঠাট দেখার পাশাপাশি এখন যোগ হয়েছে বর্তমানের বড়লোকদের ঠাট দেখা। এরকমই ঠাট দেখতে চাইলে দেখতে হবে Succession. Roy পরিবারের ঠাট।

    কী নিয়ে গল্প?

    Logan Roy এক মিডিয়া মোগল। Waystar Royco নামের গ্লোবাল এম্পায়ার চালায়। বয়স হয়েছে, এবার সাম্রাজ্য কে পাবে? চার ছেলেমেয়ে — Kendall, Roman, Shiv, Connor — সবাই বাবার চোখের মণি হতে চায়, আবার ছুরিও মারতে চায়। এটা King Lear মিটস Game of Thrones, শুধু ড্রাগন নেই, আছে প্রাইভেট জেট আর বোর্ডরুম।

    কল্পকাহিনী হলেও এক মুহূর্তের জন্যও মনে হবে না এটা সত্য ঘটনা না। কারণ HBO এখানে Murdoch, Redstone, Trump — সবার ছায়া মিশিয়ে দিয়েছে। নিউজ চ্যানেল কেনা-বেচা, প্রেসিডেন্ট বানানো, টুইটে মার্কেট ধসানো — সব এত বাস্তবিক যে মনে হয় কালকের পত্রিকায় পড়েছি!

    প্রতিটি চরিত্র চমৎকারভাবে সাজানো হয়েছে!

    • Logan (Brian Cox): ৮০ বছর বয়সে সিংহ। মুখ খুললেই “Fuck off”।
    • Kendall (Jeremy Strong): বাবার ভ্যালিডেশন চায়, নিজেকে জবস ভাবে। ট্র্যাজিক।
    • Roman (Kieran Culkin): মুখে নোংরা জোক, ভেতরে ভাঙা বাচ্চা।
    • Shiv (Sarah Snook): সবচেয়ে স্মার্ট, কিন্তু বাপ-ভাইয়ের দুনিয়ায় মেয়ে বলে পিছিয়ে।
    • Tom-Greg: এই দুই চামচা ছাড়া Roy-দের ঠাট অসম্পুর্ণ। কর্পোরেট বাফুনারির নোবেল ডিজার্ভ করে।

    চমৎতার গল্পের ফ্লো!

    চার সিজন, ৩৯ এপিসোড। পেসিং রকেটের মতো। ডায়লগ শেক্সপিয়ার-লেভেল, কিন্তু গালি প্রতি লাইনে। Jesse Armstrong-এর রাইটিং এমন — এক সিনে হাসবে, পরের সিনে বমি আসবে এই লোকগুলার নিষ্ঠুরতায়। কোনো হিরো নেই এখানে। সবাই পাওয়ারের জন্য নিজের সন্তান, বউ, ভাইকে বিক্রি করতে রাজি। তবুও চোখ সরাতে পারবে না।

    ঠাট মানে কী?

    • প্রাইভেট আইল্যান্ডে জন্মদিন, কিন্তু কেউ সুখি না।
    • ১০ বিলিয়ন ডিল ব্রেকফাস্টে হয়, টয়লেটে ভেস্তে যায়।
    • “I love you” বলতে পারে না, কিন্তু কোম্পানি লিখে দিতে পারে।

    Roy-দের ঠাট হোলো টাকা আছে, কিন্তু শান্তি নেই। পাওয়ার আছে, কিন্তু ভালোবাসা নেই।

    কেন দেখবে?

    ভাব-গাম্ভীর্য চাও? Logan-এর সাইলেন্স দেখো। থ্রিল চাও? বোর্ডরুমের ব্যাকস্ট্যাবিং Se7en-এর চেয়ে টেন্স। ডার্ক কমেডি চাও? Roman-এর একটা পাঞ্চলাইনে ভাত উঠে যাবে। আর সিনেমাটোগ্রাফি? নিউ ইয়র্ক, লন্ডন, টাস্কেনি — প্রতিটা ফ্রেম Forbes কভার।

    শেষ কথা

    Succession শুধু বড়লোকদের ঠাট না, এটা পাওয়ারের পর্ন। কুৎসিত, লোভী, বিষাক্ত — তবু গ্ল্যামারাস। দেখার পর মনে হবে, গরিব থাকাই ভালো। অন্তত ফ্যামিলি ডিনারে কেউ কাউকে কোম্পানির জন্য খুন করতে চায় না।

    রেটিং: 9.5/10

    বিঞ্জ করো। কিন্তু দেখার পর আয়নায় নিজেকে জিজ্ঞেস করবে — “আমি কে!”

  • Counterpart (2017-2019) – রিভিউ

    এমন হয়না একটা টিভি সিরিজের ভাব-সাব দেখে মনে হয়েছে এটা high-octane একটা থ্রিলার হবে, আবার যত সামনে এগুবো, মনে হতে থাকে কি বাল-ছাল দেখছি! এমনি একটা সিরিজ Counterpart.

    কনসেপ্ট? ১০/১০ – এক্সিকিউশন?

    বার্লিনে একটা সিক্রেট অফিস। ৩০ বছর আগে এক সায়েন্টিফিক এক্সিডেন্টে পৃথিবী দুইটা প্যারালাল টাইমলাইনে ভাগ হয়ে গেছে, “আলফা” আর “প্রাইম”। দুই দুনিয়ার মধ্যে একটাই দরজা, আর সেই দরজা পাহারা দেয় UN-এর স্পাই এজেন্সি। আমাদের হাওয়ার্ড সিল্ক (J.K. Simmons) একজন লো-লেভেল ইন্টারভিউ ক্লার্ক। হঠাৎ দেখা হয় নিজেরই অন্য টাইমলাইনের ভার্সনের সাথে – যে কিনা কোল্ড-ব্লাডেড অ্যাসাসিন। ব্যস, স্পাই-থ্রিলার + সায়েন্স-ফিকশন + আইডেন্টিটি ক্রাইসিস। কাগজে-কলমে মাস্টারপিস।

    প্রথম ৩ এপিসোড: J.K. Simmons ডাবল রোলে আগুন। এক হাওয়ার্ড নরম, ভীতু, বউ কোমায়। অন্য হাওয়ার্ড খুনি, চোয়াল শক্ত, সিগারেট ফুঁকে। “এক অভিনেতা, দুই মানুষ” – এই কনসেপ্টেই পয়সা উসুল। বার্লিনের নোয়া-র ভাইব, লে-কারে-মার্কা স্পাই গেম, প্লাস Fringe-এর মতো অল্টারনেট ওয়ার্ল্ড। মনে হবে Tinker Tailor Soldier Spy মিটস The Americans।

    তারপর কী হয়?

    ৪ নম্বর এপিসোড থেকে গতি কমে। ৫ নম্বরে হাঁটে। ৮ নম্বরে এসে মনে হবে পাহাড়ে গর্ত করে রাস্তা বানানো সহজ, এই সিরিজ শেষ করা কঠিন। দুই সিজনে ২০টা এপিসোড, কিন্তু গল্প ৬ এপিসোডের। ফিলার আর সাবপ্লটে ভরা। “প্রাইম” দুনিয়ায় ফ্লু মহামারী, অফিস পলিটিক্স, কার কে কার বউ – এসব নিয়ে এত টানাটানি যে মেইন থ্রিলটা হারায় যায়।

    • ভালো দিক: J.K. Simmons ক্যারিয়ার-বেস্ট পারফরম্যান্স। Olivia Williams, Harry Lloyd সাপোর্টিংয়ে দারুন। প্রোডাকশন ডিজাইন, কোল্ড-ওয়ার প্যারানয়া, “আমি হলে কী করতাম” টাইপ মোরাল প্রশ্ন – সব টপ-নচ।
    • খারাপ দিক: পেসিং জঘন্য। High-octane থ্রিলার ভেবে বসলে ঠকবে। এটা স্লো-বার্ন স্পাই ড্রামা, যেটা নিজেই মাঝে মাঝে ভুলে যায় সে কী। সিজন ২-তে গল্পের গরু গাছে ওঠে, আর Starz ক্যান্সেল করে দেয় ক্লিফহ্যাঙ্গারে।

    শেষ কথা

    কনসেপ্টের জন্য একবার দেখতে পারো। J.K. Simmons-এর জন্য ৪টা এপিসোড দেখো। কিন্তু ২০ এপিসোড বসে শেষ করার ধৈর্য থাকলে তুমি সরকারি চাকরির ফাইলও নাড়তে পারবে। “কী বাল-ছাল দেখছি” ফিলিংটা রিয়েল, কারণ রাইটাররা নিজেরাও ১০ এপিসোড পরে কনফিউজড ছিলো মনে হয়।

    রেটিং: 2/10

    আইডিয়া অসাধারণ, সিরিজ ক্লান্তিকর। থ্রিল চাইলে Banshee দেখো, ব্রেইন চাইলে Devs দেখো। দুটো একসাথে চাইলে Counterpart ট্রাই দিয়ে ধরা খাও।