জন্ম: A24 হাইওয়ে থেকে A24 স্টুডিও!
Daniel Katz, David Fenkel আর John Hodges — তিন সিনেমা-পাগল বন্ধু নিউ ইয়র্কে এই স্টুডিওর জন্ম দেয় ২০১২ সালে।
- Daniel Katz Guggenheim Partners নামের একটা ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম, ২৭০ বিলিয়ন ডলার অ্যাসেট ম্যানেজ করে। Katz ওখানে ফিল্ম ফাইন্যান্স ডিভিশনে ছিলো। কাজ ছিলো ইন্ডি সিনেমায় টাকা ঢালা, ডিস্ট্রিবিউশন ডিল করা। Let Me In, The Social Network-এর ফাইন্যান্সিং-এ হাত ছিলো। মানে Katz শুরু থেকেই “টাকা + সিনেমা” — দুইটাই বুঝতো।
- David Fenkel Oscilloscope Laboratories নামের একটি ইন্ডি ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে ছিলো। ২০০৮-এ Beastie Boys-এর Adam Yauch স্টুডিওটা খুলেছিলো। Fenkel ছিলো Co-founder + President. কাজ: উইয়ার্ড, সুন্দর, ছোট সিনেমা কিনে হলে রিলিজ দেওয়া। Wendy and Lucy, We Need to Talk About Kevin, Exit Through the Gift Shop — এগুলা Oscilloscope রিলিজ করেছে। মানে Fenkel-এর হাত পাকা ছিলো “আউট-অফ-দ্য-বক্স” ফিল্ম চিনতো।
- John Hodges ছিলো Big Beach নামের আরেকটি ইন্ডি ফিল্ম প্রোডাকশন কোম্পানিতে। ২০০৪-এ Marc Turtletaub আর Peter Saraf খুলেন ঐ কোম্পানি খোলে। Hodges ওখানে Head of Production + Development ছিলো। বানিয়েছে: Little Miss Sunshine, Safety Not Guaranteed, Loving. মানে Hodges জানতো কীভাবে কম বাজেটে ডিরেক্টর-বান্ধব সিনেমা প্রোডিউস করতে হয়।
হতাশা একটাই: “ভালো স্ক্রিপ্ট আছে, কিন্তু স্টুডিও বলে ‘টু রিস্কি’।” ২০১২-তে চাকরি ছেড়ে কোম্পানি খুলে। নাম দেয় A24 — ইতালিতে রোড ট্রিপের সময় Katz যে হাইওয়ে ধরে রোমে ঢুকেছিলো, সেই A24! উদ্দেশ্য পরিস্কার: পরিচালককে ফাইনাল কাট দিবো, মার্কেটিং করবো পাগলের মতো, গল্প হবে আউট-অফ-দ্য-বক্স!!
২. প্রথম ধাক্কা: ডিস্ট্রিবিউশন দিয়ে শুরু, ২০১৩-২০১৫
শুরুতে সিনেমা বানায়নি, কিনেছে। A Glimpse Inside the Mind of Charles Swan III দিয়ে ডেবিউ, কিন্তু আলোচনায় আসে Spring Breakers দিয়ে। নিয়ন কালার, স্কিনহেড James Franco, ডাবস্টেপ — সেলেনা গোমেজের ফ্যানরা হলে ঢুকে হাঁ। এরপর The Bling Ring, Enemy, Under the Skin. বাজেট ৫ মিলিয়নের নিচে, কিন্তু পোস্টারে লেখা “A24” দেখেই ফিল্ম-নার্ডরা টিকিট কাটে। ২০১৪-তে Ex Machina. AI, একটা ঘর, তিনটা ক্যারেক্টার — ১৫ মিলিয়নে বানিয়ে ৩৭ মিলিয়ন কামায়, অস্কার জেতে VFX-এ! হলিউড বুঝলো, “এরা খেলতে জানে” 😂
৩. অস্কার যুগ: Moonlight থেকে EEAAO, ২০১৬-২০২৩
২০১৬-তে Moonlight. মায়ামির কালো সমকামী ছেলের তিন অধ্যায়। কোনো স্টার নাই, বাজেট ১.৫ মিলিয়ন। A24 রিলিজ দিলো, ক্যাম্পেইন করলো ফলাও করে। ফলাফল: বেস্ট পিকচার অস্কার! La La Land-এর খাম ভুলে ঘোষণার সেই রাত — ইন্ডি সিনেমার ইতিহাসে ঢুকে গেল A24!
এরপর একের পর এক কাল্ট:
- Lady Bird — Greta Gerwig-এর ডেবিউ, মা-মেয়ের গল্পে ৫টা অস্কার নমিনেশন।
- Hereditary — হররকে আর্টহাউস বানাল Ari Aster.
- Uncut Gems — Adam Sandler-কে দিয়ে ২ ঘণ্টা অ্যাংজাইটি অ্যাটাক।
- Midsommar — দিনের আলোয় হরর, ফুলের মুকুট পরে সুইসাইড।
২০২২-এ বাজিমাত Everything Everywhere All at Once। হটডগ-আঙুল, র্যাকুন-শেফ, ট্যাক্স অডিট, মাল্টিভার্স। Daniels জুটির পাগলামি। ২৫ মিলিয়নে বানিয়ে ১৪৩ মিলিয়ন কামায়, ৭টা অস্কার — A24-এর ঘরে বেস্ট পিকচার, ডিরেক্টর, অ্যাক্ট্রেস সব।
৪. ফর্মুলা? নো ফর্মুলা
A24-এর নিয়ম তিনটা:
- পরিচালক রাজা: স্ক্রিপ্টে নোট দেয় না, ফাইনাল কাট দিয়ে দেয়। Safdie ভাই, Robert Eggers, Charlotte Wells — সবাই তাই A24-এ দৌড়ায়।
- জঁরা ভাঙো: The Lighthouse — সাদা-কালো, ১.১৯:১ ফ্রেম, ডাইনির গল্প। Bodies Bodies Bodies — Gen-Z স্ল্যাশার। Marcel the Shell — ১ ইঞ্চি শামুকের ডকুমেন্ট্রি।
- মার্কেটিং = আর্ট: Midsommar-এর জন্য ৯ ফুট ভাল্লুক পাঠায় ইনফ্লুয়েন্সারদের। X-এর জন্য ৭০ দশকের পর্ন পোস্টার। EEAAO-এর জন্য লন্ড্রোম্যাটে গুগলি-আই। ট্রেলার না দেখেই লোগো দেখে মানুষ হলে ঢোকে।
৫. বিজনেস: ইন্ডি হয়েও জায়ান্ট
১২ বছরে ১৫০+ ফিল্ম, ৫০+ টিভি শো — Euphoria, Beef Apple ২.৫ বিলিয়নে কিনতে চেয়েছিলো ২০২১-এ, A24 “না” বলেছে। নিজেরাই ডিস্ট্রিবিউশন, নিজেরাই প্রোডাকশন, নিজেরাই মিউজিক লেবেল — A24 Music দিয়ে Zola, Pearl-এর OST বের করে। মার্চেন্ডাইজ বিক্রি করে — A24 ক্যান্ডেল, স্ক্রিপ্টবুক। ইন্ডি স্টুডিও, কিন্তু ব্র্যান্ড ভ্যালু Marvel-এর মতো কাল্ট।
৬. কেনো দর্শক ভালোবাসে?
কারণ A24 ধরে নেয় আমরা বোকা না। গল্পে গতি ধীর হতে পারে, শেষে উত্তর নাও থাকতে পারে, ফ্রেম বাঁকাও হতে পারে — তাও আমরা দেখি। Aftersun দেখে কাঁদি, Zone of Interest দেখে গিল্টি ফিল করি, Past Lives দেখে ২ দিন ঘোরে থাকি। বড় স্টুডিও সিক্যুয়েল বানায়, A24 রিস্ক নেয়। ১০০ মিলিয়ন CG না, ১টা ভালো আইডিয়া! ❤️
শেষ কথা
ভিন্ন রঙ, ভিন্ন আকারের ফ্রেম, উদ্ভট গল্প — এই তিন শব্দে A24-এর জন্ম। ২০১২-তে তিনজন লোক বলেছিলো “চলো পাগলামি করি”। আজ সেই পাগলামি অস্কার জেতে, বক্স অফিস কাঁপায়, আর আমাদের মতো দর্শককে হলে টেনে নেয়। গতানুগতিকের দুনিয়ায় ওরা প্রমাণ করেছে — Weird is the new mainstream, if you mean it.
এখনো শেষ না। যতদিন কেউ এসে বলবে “এই গল্প কেউ বানাবে না”, A24 ক্যামেরা অন করবে।
এটা দুনিয়ার প্রথম দৃষ্টান্ত, যেখানে AI এর চাইতে গুরুত্ব পেলো ধর্ম, আইন আর ব্যক্তিগত নীতি।
স্পয়লার-ছাড়া রিভিউ