Tags

, , , , ,

দি সিটি ব্যাংকের এটিএম মেশিনঅনেকদিন থেকেই ভাবছিলাম যে এদের সেবা নিয়ে কিছু বলা দরকার। আমি আমার জীবনে অনেক ব্যাংক ব্যবহার করেছি। এই “দি সিটি ব্যাংক” তাদের মধ্যে একজন। বাংলাদেশের প্রথম প্রাইভেট ব্যাংক না-কি এরা। কিন্তু সেবার মান সরকারী ব্যাংকের থেকেও খারাপ। নেই এমন কোনো সেবা নেই এদের কিন্তু হায়! সেবার যদি কোনো মান থাকে।

প্রথমে আসি এদের এসএমএস ব্যাংকিং সেবা নিয়ে। একাউন্ট থাকলে আপনি এসএমএস ব্যাংকিং সেবা নিতে পারবেন, তবে যে মোবাইল নম্বর দিয়ে একবার সেবা নিবেন, সেটা আর পরিবর্তন করতে পারবেন না। আমি আমার মোবাইল নম্বরটি বদলানোর জন্য অন্তত মোট ২০ বার আবেদন করেছি এবং অভিযোগ করেছি। হেড অফিসের আইটি বিভাগ থেকে আমাকে এবং আমার শাখাকে জানানো হয় যে হয়ে গ্যাছে, কিন্তু মোবাইল দিয়ে ম্যাসেজ পাঠালে বলে “You are not authorized to use this services” কিন্তু আগের নম্বর দিয়ে ম্যাসেজ পাঠালে আবার ঠিকই কাজ করে।

এর পরে আসি এদের এটিএম সেবায়। প্রথমে সেবার মান ভালো ছিলো। আমরা যারা পুরাতন একাউন্ট হোল্ডার, তাদের কার্ড খুব দ্রুত দিয়ে দিয়েছিলো এরা। কিন্তু এখন একাউন্ট খোলার পর মাসের পর মাস কার্ডের অপেক্ষায় থাকতে হয়। এই কার্ড এখন ডুমুরের ফুলের মতন।

ঠিক এমনটি হয় এদের কার্ড দিয়ে টাকা তুলতে গেলে। ঢাকা শহরে হাতে গোনা ১০ টার মতন এটিএম মেশিন আছে আর বাংলাদেশে আছে মনে হয় ১৬ টা মেশিন। সেখানে টাকা তুলতে যেতে হবে ব্যাংকিং আওয়ারে। অন্য সময় টাকা না বের হলে অভিযোগ করবেন কোথায়। একবার পিন নম্বর দিয়ে ১০-১৫ মিনিট লাগে লেনদেন সম্পন্ন করতে। বেশীরভাগ সময় টাকা বের হয় না। কিন্তু স্লিপ দিয়ে দেয় যে টাকা দিয়ে দিয়েছে।

আপনার একাউন্ট খোলার দরকার নাই। আপনি একবার এদের একটা শাখায় গিয়ে আধা ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকবেন। দেখবেন যে কত জনের কত সমস্যা। কখনো ইন্টারনেটের লাইন নাই, কখনো মেশিনে বিদ্যুৎ নাই। কার্ড ঢোকনো মাত্র মেশিন বন্ধ হয়ে গ্যাছে। আরও কত কি!

আমার এক বন্ধুর কার্ড মেশিনে আটকা পড়লো। ও একটু তাড়া হুড়ুর মধ্যে ছিলো তাই G4S এর যেই গার্ড দড়জায় পাহারা দিচ্ছিলো, তাকে বলে গেলো যে বিদ্যুৎ এলে আমার কার্ডটা নিয়ে রেখেন। বন্ধু এসে দেখে ডিউটি পরিবর্তন হয়েছে। এবং আর কোনো সময়ই ঐ গার্ডকে পাওয়া গেলো না। ম্যানেজারকে উক্ত বিষয়ে অভিযোগ করলে বলে, “আপনি কার্ডে জন্য অপেক্ষা করতে পারেন নাই?” সেই বন্ধ কার্ড হারিয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করে প্রায় ২ মাস অপেক্ষা করছে, নতুন কার্ড পায়নি।

ওদের মেশিন থেকে টাকা যদি বের না হয়, ওদের কাস্টমার কেয়ারে ফোন করলে বলে পাশের ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার করতে। সেখানে গিয়েও টাকা বের হয়না। আবার ফোন দেয়ার পরে সর্বমোট ৩০ মিনিট অপেক্ষায় থাকার পরে বলে সুইচে সমস্যা ছিলো, এখন দেখেন। এদের কার্ড দিয়ে যদি ডাচ্ বাংলার এটিএম মেশিন ব্যবহার করে টাকা তুলতে হয়, তাহলে এদের সেবা ব্যবহার করবো কোন দুঃখে?

কার্ড শুধু না, চেক দিয়ে টাকা তুলতে গেলে বলে একটু অপেক্ষা করেন, ইন্টারনেট নাই। এই কথা মনেহয় আপনাকে দিনে ১০০ বার শুনতে হবে। আমার ধারণা ওদের আইটি বিভাগ বা* ছিঁড়ে বসে বসে।

সেদিন ওদের এটিএম মেশিনের সামনে গিয়ে দেখি উইন্ডোজের ডেস্কটপ এসে বসে আছে। কোনো কাজ হচ্ছে না। আমি চট্ করে উপরের ছবিটা নিয়ে রাখলাম এবং অনেক্ষণ অপেক্ষা করে চলে এলাম।

আপনারাই বলেন এরকম ব্যাংকে কেউ একাউন্ট রাখবে?