Tags

, , , , , , ,

আজ (২০ জুন ২০০৯) বাংলাদেশের সফটওয়্যার শিল্পের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে মাইক্রোসফট কমিউনিটি (বাংলাদেশ) সারাদিনব্যাপী সফটওয়্যার ডেভলপার/আইটি প্রফেশনালদের নিয়ে এরকম একটি ইভেন্ট আয়োজন করলো। আইডিবি ভবনের অডিটরিয়াম এবং মিটিং রুমে সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত উৎসব মুখর পরিবেশে এই ইভেন্ট চলে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রায় আড়াইশজনের বেশী সফটওয়্যার ডেভলপার/আইটি প্রফেশনাল। একসাথে দু’টি ট্র্যাকে পরিচালিত হওয়া এই ইভেন্টটি মাইক্রোসফটের মোস্ট ভেল্যুয়েবল প্রফেসনাল (এমভিপি) এবং মাইক্রোসফট প্রযুক্তিবিদরা পরিচালনা করেন। একটি ট্র্যাক ছিলো ডেভলপারদের জন্য যেখানে মাইক্রোসফটের বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রযুক্তির উপরে আলোকপাত করা হয় এবং পাশাপাশি অন্য ট্র্যাকটি ছিলো সম্পুর্ণ আইটি প্রফেশনালদের জন্য।

সকাল নয়টায় ইভেন্টের শুরুতে সূচনা বক্তব্য রাখেন মাইক্রোসফট বাংলাদেশের জেনারেল ম্যানেজার ফিরোজ মাহমুদ এবং মাইক্রোসফট ইন্ডিয়া থেকে আগত এমভিপি লিড অভিষেক কান্ত। সূচনা বক্তব্য শেষে ইভেন্টের দু’টি ট্র্যাক আলাদা হয়ে যায়। ডেভলপারদের ট্র্যাকে শুরুতেই তানজিম সাকিব এএসপি ডট নেটের এপ্লিকেশন ডেভলপমেন্টের উপরে বক্তব্য রাখেন এবং তারপর এমভিপি মেহফুজ হোসেইন এএসপি ডট নেট প্ল্যাটফর্মে এমভিসি ফ্রেমওয়ার্কের ব্যবহারের উপরে বক্তব্য রাখেন। তারপর এমভিপি কাজী মনজুর রশিদ এমভিসি ব্যবহার করে ইউনিট টেস্টিং প্রদর্শন করেন এবং ওপেনসোর্স এএসপি ডট নেট এমভিসি এপ্লিকেশন ডটনেটসাউটের আভ্যন্তরীন বিষয় আলোচনা করেন। পরে ফয়সাল হোসেন খান মাইক্রোসফটের নতুন ওয়েব প্রযুক্তি সিলভারলাইট ব্যবহারের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে আলোচনা করেন।

মধ্যাহ্ন ভোজের পরে এমজে ফেরদৌস মাইক্রোসফট শেয়ারপয়েন্ট সার্ভারের বিভিন্ন বিষয় প্রদর্শন করেন এবং তার পরে এমভিপি ওমর আল যাবির এএসপি ডটনেট ব্যবহার করে ডেভলপ করা এপ্লিকেশন প্রডাকশনে নিয়ে যাওয়ার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা আলোচনা করেন। উইন্ডোস ক্লাউড কম্পিউটিং উইন্ডোস আযিউর নিয়ে আলোচনা করেন আশিক মাহতাব এবং উইন্ডোস আযিউরের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পরিদর্শন করেন। একটি চা চক্র বিরতির পরে এমভিপি মোঃ আশরাফুল আলম ভিজ্যুয়াল স্টুডিও ২০১০ টিম সিস্টেমের উপরে গভীর আলোচনা করেন।

অন্যদিকে আইটি প্রফেশনালদের ট্র্যাকে এম. মনজুরুর রহমান মাইক্রোসফট প্রজেক্ট এবং ইপিএম এর আলোচনার মধ্যমে ট্র্যাকটি শুরু করেন। তার আলোচনা শেষে আনোয়ার হোসেন উইন্ডোস সার্ভার ২০০৮ আরটু নিয়ে কথা বলেন এবং এই বিষয়ে উপস্থিত দর্শকশ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। মধ্যাহ্ন ভোজের পরে এমভিপিরা নতুন নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মের উপরে একটি ওয়ার্কশপ করেন। এরপরে অনলাইনে মাইক্রোসফট লাইভ মিটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারত থেকে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এমভিপি ইসমাইল মোহাম্মদ এবং বক্তব্য রাখেন এক্সচেঞ্জ সার্ভার ২০১০ এর উপরে। তারপরে আবারও ইন্টারনেটের মাধ্যমে আবারো লাইভ মিটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারত থেকে এমভিপি অমিত বানসাল এসকিউএল সার্ভার ২০০৮ এর উপরে বক্তব্য রাখেন। অনলাইনে এরকম প্রজেন্টেশন বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম, যা অংশগ্রহণকারীদের জন্য বেশ চাঞ্চল্যকর একটি অনুভুতি ছিলো।

এরকম চাঞ্চল্যকর প্রদর্শনীর পরে এমভিপি অমি আজাদ উইন্ডোস সেভেনের ব্যবহারিক কিছু নমুনা প্রদর্শন করেন এবং প্রতিদিনের কম্পিউটিং-এ কিভাবে উইন্ডোস সেভেন আমাদের অনেক কাজের প্রক্রিয়াকে সহজ করবে তা আলোচনা করেন, পরে ইরতিজা এ. আক্তার মাইক্রোসফটের সর্বশেষ ইন্টারনেট ব্রাউজার ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে উপরে আলোচনা করেন এবং এর বিভিন্ন উপকারী দিক প্রদর্শন করেন। সেই সাথে তিনি উইন্ডোস লাইভের অনলাইন সেবাসমূহ বর্ণনা করেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম মাইক্রোসফট কমিউনিটি সরাসরি এরকম একটি ইভেন্টের আয়োজন করলো। ইউরোপ, আমেরিকা এমনকি ভারতেও অহরহ এরকম ইভেন্ট হয়, যা সফটওয়্যার শিল্পের অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে যা আইটি প্রফেশনাল এবং ডেভলপাররা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য উদ্ভুদ্ধ্য করে। সফটওয়্যার শিল্পে সেবার মান উন্নয়ন করাই থাকে প্রযুক্তিবিদদের চেষ্টা, আর নতুন প্রযুক্তি কিভাবে সব কাজ সহজ করবে এবং এই শিল্পের অগ্রগতিতে সাহায্য করবে সেগুলোর উপর আলোচনার জন্যই বিশ্বব্যাপী এরকম ইভেন্ট এবং কর্মশালা আয়োজন হয়ে থাকে।

ইভেন্টের শেষে মাইক্রোসফট কমিউনিটির প্রতিনিধিরা ঘোষণা দেন যে এটা শুধুই শুরু, ভবিষ্যতে এরকম ইভেন্টের আয়োজন আরও ঘণ ঘণ করার চেষ্ট করা হবে। এর পর থেকে শুধু ডেভলপার বা আইটি প্রফেশনালদের নিয়ে কর্মশালা করা হবেনা, সাধারণ প্রযুক্তিপ্রেমী এবং আগ্রহী ছাত্র-ছাত্রীদেরকেও অগ্রাধিকার দেয়া হবে এবং ছোট পরিসরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হবে।