কলসেন্টারের নামে কেউ যেন প্রতারিত না হন?

Tags

, , , , , , , , , , , , , ,

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে মাঝেমধ্যে যেমন হইহই পড়ে যায়, একইভাবে প্রযুক্তি খাতেও মাঝেমধ্যে রইরই পড়ে যায়। আর সেই সুযোগে ঘোলা পানিতে কেউ কেউ আমাদের অসহায় মানুষগুলোকে ঠকিয়ে প্রচুর টাকা বানিয়ে সটকে পড়েন। বর্তমান সময়ে আবার তেমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকার বাংলাদেশে কলসেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য লাইসেন্স প্রদান করতে যাচ্ছে; এবং বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হচ্ছে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ শত কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে সক্ষম হবে। এমনও বলা হচ্ছে, এটি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে ছাড়িয়ে যাবে। এ ধরনের কথা প্রচারিত হওয়ার পর, অনেকেই ই-মেইল ও ফোন করে জানতে চেয়েছেন, কীভাবে তাঁরা এই শত কোটি ডলারের ভাগিদার হতে পারেন। তাঁদের জন্য এই কলসেন্টার ব্যবসার কিছু দিক তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির ইতিহাস বেশি দিনের ইতিহাস নয়। আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে কম্পিউটার জনপ্রিয় হতে শুরু করে। আর নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকেই দেশে একটি হুলস্থুল পড়ে যায় এই বলে যে, বাংলাদেশ ডাটা এন্ট্রি কাজ করে কোটি কোটি ডলার উপার্জন করতে পারে। সেই হইহই মিছিলে আমরা অনেকেই যোগ দিয়েছিলাম। দীর্ঘ এক দশক ধরে সেটা চলল। তখন বলা হলো, দেশে সাবমেরিন কেব্ল নেই। তাই এই ব্যবসাটি ঠিকমতো হচ্ছে না। অনেকে বললেন, যদি ভিস্যাট উন্নুক্ত করে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা সেই ব্যবসা করতে পারব। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে ভিস্যাট উন্নুক্ত করে দেওয়া হলো। কিন্তু আমাদের সেই ডাটা এন্ট্রি ব্যবসার কিছুই হলো না। অনেকেই ভিওআইপির (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট) ব্যবসা শুরু করে দিলাম। দেশ কোটি কোটি ডলার উপার্জনের বদলে হাজার কোটি ডলার হারিয়ে ফেলল।

ডাটা এন্ট্রির স্বপ্ন শেষ হওয়ার পর শুরু হলো মেডিকেল ট্রান্সক্রিপ্টের ব্যবসা। আমেরিকার ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র ক্যাসেট থেকে শুনে শুনে কম্পিউটারে এন্ট্রি করার কাজ হলো এটি। আমরা সেটাও করতে পারিনি। কিন্তু এই ডাটা এন্ট্রির কাজে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে, এই কথা বলে হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলো। বেশ কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি পার্টনার নিয়ে সেই লুটপাটে অংশ নিল।

তারপর এই শতকের শুরুতে শুরু হলো সফটওয়্যার রপ্তানির ব্যবসা। কিছু কিছু লোক বাজারে প্রচার করতে শুরু করল, বাংলাদেশ সফটওয়্যার রপ্তানি করে ভারতের মতো শত কোটি ডলার উপার্জন করতে পারে। পুরো জাতি তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ল। কয়েকটি ভারতীয় প্রশিক্ষন কেন্দ্র বাংলাদেশে এসে পাড়ায় পাড়ায় দোকান খুলে বসল। তারপর আমাদের হাজার হাজার মানুষকে ঠকিয়ে তারা কোটি কোটি টাকা নিয়ে এই দেশ থেকে চলে গেছে।
এখন কলসেন্টারের নামে আবারও শত কোটি ডলারের স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে দেশের মানুষকে। কয়েকটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে ঘোরাঘুরি শুরু করেছে। যাঁরা ভাবছেন কয়েকটি টেলিফোন লাইন আর ইন্টারনেট নিয়ে কিছু স্নার্ট ছেলেমেয়েকে বসিয়ে দিলেই একটি কলসেন্টার করা যাবে, তাঁরা একটি মূর্খ গন্ডির ভেতর বাস করছেন। বর্তমান সময়ের কলসেন্টারকে আর কলসেন্টার বলা হয় না, বলা হয় কনটাক্ট সেন্টার। আর এগুলো এখন হয়ে গেছে আরো পরিশীলিত। এখন আর শুধু কথা বলে কলসেন্টার হয় না, সেখানে যোগ হয়েছে ডাটা, ভিডিও, চ্যাট, পুশ টু টক, কল-ব্যাক, প্রেজেন্স ইত্যাদি। বাংলাদেশে কনটাক্ট সেন্টার ব্যবসার বড় চ্যালেঞ্জগুলো উল্লেখ করছি।

  • প্রথম সমস্যা হলো সময়। আমরা এই ব্যবসায় অনেক দেরিতে নামতে যাচ্ছি। এই ব্যবসায় ভারত, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ইত্যাদি দেশ অনেক দুরে চলে গেছে। ওই সব দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন নতুন করে ব্যবসায় নামতে গেলে প্রচন্ড প্রতিযোগিতায় পড়তে হবে। সেই প্রতিযোগিতায় থেকে কোনো ক্রেতা জোগাড় করা খুবই কঠিন হবে।
  • দ্বিতীয় সমস্যা হলো, রাজনৈতিক। কলসেন্টার হলো একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা। ওখানে সেবা গ্রহণকারীর সমস্যা তখনই সমাধান করে দিতে হবে। কোনো একটি কলসেন্টার যদি রাজনৈতিক ডামাডোলের কারণে কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকে, তাহলে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কলসেন্টার রাখবে না। কলসেন্টার প্রতিষ্ঠার আগেই এগুলো পরীক্ষা করা হবে। আর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ব্যাপারে আমাদের মোটেও সুনাম নেই।
  • তৃতীয় সমস্যা হলো, টেলি-যোগাযোগ। বর্তমানে বাংলাদেশে যে অপটিক্যাল ফাইবার আছে, সেটা প্রায়শই কাটা পড়ে। আর সেটা ঠিক করতে অনেক সময় এক দিন লেগে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কলসেন্টার ভারত কিংবা বাংলাদেশে হলেও, ‘ডাটা সেন্টার’ কিন্তু আমেরিকাতেই থাকবে। তখন দ্রুত গতির ইন্টারনেট না থাকলে কলসেন্টারগুলো ব্যর্থ হবে। যতদিন এই যোগাযোগব্যবস্থা ১০০ ভাগ নিশ্চিত না হচ্ছে, ততদিন এই ব্যবসা সফলতা লাভ করবে না।
  • চতুর্থ সমস্যা হলো, ভালো ইংরেজি জানা লোকবল। ভারতের একটি বড় সুবিধা হলো, তাদের ইংরেজি জানা বিশাল জনগোষ্ঠি। ভারতের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, যোগাযোগব্যবস্থা আর ইংরেজি জানা ছেলেমেয়ের প্রতুলতার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনোভাবেই তুলনা করা যাবে না। কলসেন্টারগুলো এশিয়াতে যায় মূলত আমেরিকা, ইউরোপ আর অস্ট্রেলিয়া থেকে। আমেরিকার ইংরেজি আমরা অনেকটা বুঝলেও, ব্রিটিশ আর অস্ট্রেলিয়ার ইংরেজি বোঝা এবং একই তালে কথা বলাটা তিন মাসের ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে সম্ভব নয়। তাই যাঁরা এই ব্যবসায় নামছেন, তাঁদের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকতে হবে।
  • পঞ্চম সমস্যা হলো, বিদ্যুৎ। যদি জেনারেটরের তেল পুড়িয়ে কলসেন্টার চালাতে হয়, তবে খরচ বেড়ে যাবে। আবার যদি সাবমেরিন কেবলের পাশাপাশি ভিস্যাট রাখতে হয়, তাহলেও সেটা ব্যয়সাপেক্ষ হবে। যদি ভিস্যাট দিয়ে কেউ কলসেন্টার চালাতে পারত, তাহলে এতদিনে বাংলাদেশে কলসেন্টার চলে আসত।
  • ষষ্ঠ সমস্যাটি হলো, আকার। এই ব্যবসাটি কিন্তু আকারের ওপর নির্ভরশীল। এখানে ১০-১৫ জন মানুষ খাটিয়ে খুব একটা সুবিধা হবে না। আমেরিকাতে একেকটি কলসেন্টারে তিন-চার হাজার লোক কাজ করে। বাংলাদেশে তত বড় না হলেও, দুই-তিন’শ লোকের ব্যবস্থা না হলে, সেটা ব্যবসায়িকভাবে সফল হবে বলে মনে হয় না।
  • সপ্তম সমস্যাটি হলো, সেবার মনোভাব। সেবা যে একটি পণ্য, এই ধারণাটিই আমাদের ভেতর এখনো ভালোভাবে জন্ন নেয়নি। তার ওপর আছে সরকারি খবরদারি আর চাঁদাবাজি (সরকারি ও বেসরকারি)। এমন ধরনের পরিবেশে সেবাশিল্প প্রসার হয় না।

দেশে যদি সত্যি সত্যি তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে সুবিধা নিতে হয়, তাহলে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। আর সেই পরিকল্পনাকে সবাই মিলে বাস্তবায়ন করতে হবে। সকল সরকারকে সেটার পেছনে সমর্থন দিতে হবে। এমন একটি জোরালো প্রতিজ্ঞা না থাকলে, বারবার এমন হুজুগ তৈরি হবে, আর কিছু তস্কর এসে আমাদের নিরীহ মানুষগুলোকে লোভ দেখিয়ে পকেট খালি করে নিয়ে যাবে।

তবে অসম্ভব বলে তো কিছু নেই। আমি শুধু বলতে চাইলাম, কাজটি খুবই কঠিন। আর এই হুজুগে পড়ে কেউ যেন প্রতারিত না হন। চাকরির ট্রেনিং, ব্যবসার ট্রেনিং কিংবা যেকোনো কিছু করার আগে, একটু বুঝেশুনে নেবেন। আর কেউ এটাকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে প্রতারিত করছে কি না সেটা সরকারের পক্ষ থেকে একটু খেয়াল রাখতে পারলে ভালো।

জাকারিয়া স্বপন: তথ্য প্রযুক্তিবিদ
সিলিকন ভ্যালি, যুক্তরাষ্ট্র
zs [এট] zswapan.com

ব্রায়ান আডামসের নতুন এলবাম ইলেভেন

Tags

, , , , , , ,

কানাডিয়ান রক্ শিল্পী ব্রায়ান আডামসের গান শোনেনি এমন কাউকে মনেহয় পাওয়া যাবে না। নাম বুঝে না শুনলেও Please Forgive Me বা Everything I do গানটা শোনেননি এমন কি কেউ আছেন!

ব্রায়ান আডামসের নতুন এলবাম “ইলেভেন” বের হয়েছে হত মার্চ মাসে। আমি কথনই উনার গান মিস করি না। তাই সংগ্রহ করে ফেললাম শিল্পীর এলবাম। তবে এলবামের প্রতিটা গান ভালো না হলেও চমৎকার করেছে এই এলবামটি। আমার কাছে সবচাইতে ভালো লেগেছে Walk on By নামের একুইস্টিক সিঙ্গেলটি। লিরিকটা এরকম-

Walk On By

I heard that you’re leavin – this sleepy little town
The bright lights must have caught your eye cuz you ain’t hangin’ round
Ya know people been talkin’ – they say you’re makin’ a mistake
Gotta get on that greyhound and forget about what they say

Just walk on by – walk on by
Don’t look over your shoulder – keep your head up high
Just walk on by

I’ve heard bad things about the city and i’m told that they’re true
Better watch out for those guys out there they’re gonna hit on you
So don’t talk to no strangers – no it ain’t your style
Don’t give up when the chips are down – just turn around and smile

Just walk on by – walk on by
Don’t look over your shoulder – keep your head up high
Just walk on by – ya walk on

You’re old enough to know why – you’re old enough to know why

Now you’re standing at the station – got a ticket in your hand
Guess you got you’re mind made up – gotta get out while you can
Don’t say i never told ya – now the rest is up to you
Those streets can be like a battlefield – when it’s hard to make it thru…

Just walk on by – walk on by
Don’t look over your shoulder – keep your head up high
Just walk on by

Walk on by – walk on by
You’re a little bit lonely you’re a little bit shy
Just walk on by

Walk on by – walk on by
Don’t look over your shoulder – keep your head up high
Just walk on by

Walk on by – walk on by
You’re a little bit lonely you’re a little bit shy
Just walk on by

এলবামটা সংগ্রহ করে শুনতে পারেন, ভালো লাগবে আশা করি। ও আরএকটা তথ্য দিয়ে রাখি, উনার গোটা নাম কিন্তু “ব্রায়ান গাই আডামস্” 🙂

গপসপের প্রথম প্রাইভেট বেটা রিলিজ হলো…

Tags

, , , , , , ,

গপসপ

 

তো হয়ে যাক, কিছু গপসপ!

এই স্লোগান নিয়ে আজ ২৬শে মার্চ ২০০৮, মহান স্বাধীনতা দিবসে আমরা সাধারণ ব্যবহারকারীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হলো।

কি হবে এই গপসপে?
অনেক কিছু! 🙂 গতানুগতিক ব্লগিং থেকে একটু অন্য কিছু করতে চাই আমরা। আবার রাখতে চাই সোসল নেটওয়ার্কিং এর বৈশিষ্ঠ। এ ছাড়াও অনেক কিছু পরিকল্পনা আছে যেগুলি এখন বলতে চাইছি না। তবে পরিকল্পনা বা উন্নয়নের কি কাজ চলছে সেটা জানতে চাইলে চোখ রাখুন এই ব্লগে। 🙂

আর গপসপ দেখতে চাইলে আপনাদের যেতে হবে এখানে। 🙂

অবশেষে সিবিট দর্শন

Tags

, , , , , , ,

 শুরুতেই অবাক করেছিল এর বিশালতা। মেলা প্রাঙ্গণের একটি প্যাভেলিয়ন থেকে অপরটিতে যেতে প্রয়োজন পড়েছিল বাস কিংবা কারের। বিশ্বের ৭৭টি দেশ থেকে অংশ নিয়েছে ৫৮৪৫টি প্রতিষ্ঠান। আর তাই নামের সাথে এর বিশেষণটা বেশ যায়, সেটি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তথ্য প্রযুক্তি মেলা। নাম তার সিবিট। ১৯৮৬ সাল থেকে জার্মানির হ্যানোভারে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই মেলা। এবারের ৬ দিনের এই প্রযুক্তি উৎসব শুরু হয়েছিল ৪ মার্চ, চলেছে ৯ মার্চ পর্যন্ত।

পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি
পৃথিবীতে বাড়ছে মানুষ। কমছে প্রাকৃতিক সম্পদ। ধ্বংস হচ্ছে গাছপালা তথা সবুজ পরিবেশ। আর এসবের বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মানুষের জীবনযাপনের ওপর। তাহলে উপায় কি? মানুষকেতো অবশ্যই বাঁচতে হবে, আর ঠিক সে জন্যই বাঁচতে হবে প্রকৃতিকে। জার্মানির সিবিট মেলাতেও গুরুত্ব পেয়েছিল বিষয়টি। এ জন্য মেলার থিম ছিল না আইটি, সহজ করে বলতে গেলে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি।

পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি তৈরি করতে গিয়ে উদ্ভাবকরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দিকে। আর তাই সিবিটের গ্রীন আইটি ভিলেজে গিয়ে দেখা মিললো নতুন এক মনিটরের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যেটা হয় ব্যবহারকারীরা কম্পিউটার বন্ধ করলেও মনিটরটি বন্ধ করতে ভুলে যায়। অথচ মনিটরও কিন্তু কম বিদ্যুৎ খায় না। নতুন উদ্ভাবিত মনিটরটি সেক্ষেত্রে বেশ স্মার্ট। কম্পিউটার বন্ধ করার সঙ্গে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে মনিটরটি। ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে অনেক। ইউরোপীয়ান প্রতিষ্ঠান ফুজিৎসু-সিমেন্স যৌথভাবে তৈরি করছে এই মনিটর। কথা হচ্ছিল ঐ প্রতিষ্ঠানের ইভেন্ট ম্যানেজার মার্ক ওয়েসকেম্প এর সঙ্গে। তিনি বললেন, আমরা এমন ধরনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে চাচ্ছি যেটা বিদ্যুৎও সাশ্রয় করবে। পরিবেশ বাঁচানো অবশ্যই জরুরি তবে ব্যবসার দিকটাও দেখতে হবে। সুতরাং আমাদের শ্লোগান হচ্ছে ভালো বিশ্বের জন্য ব্যবসা। নতুন উদ্ভাবিত পণ্যগুলো কিছুটা দামি। তবে যে কেউ বছরখানেকের মধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করবে। এই মনিটর কিন্তু সহসাই পাওয়া যাবে না এশিয়া’র বাজারে। অপেক্ষা করতে হবে অন্তত বছর দু’য়েক।

গ্রিন আইটি ভিলেজে দেখা মিললো ক্লাইমেট সেভারস নামক একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। ইন্টেল, গুগল, মাইক্রোসফট, এইচপি’র মতো নামজাদা প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় তৈরি হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি তৈরিতে পরস্পরকে সহায়তা করা। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি ক্লাইমেট সেভারস এর কমিউনিকেশন ম্যানেজার বারবারা গ্রিমস এর সঙ্গে। তিনি বললেন, ক্লাইমেট সেভারস হচ্ছে একটি উদ্যোগ যেটাতে পরিবেশকে বাঁচাতে নামকরা তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, এনজিও ইত্যাদিকে একত্রিক করা হয়েছে। আমরা প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য চেষ্টা করছি।

গ্রিন আইটি ভিলেজ সিসকো, বিটকমসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। সবারই লক্ষ্য একটি, পরিবেশ বাঁচাতে হবে, সঙ্গে ব্যবসাও। তবে গ্রিন আইটি ভিলেজের এসব আয়োজন কেন যেন পছন্দ হচ্ছিল না মার্কো মাসিক এর। জার্মানির মিউনিখ এর এই ব্যবসায়ী বললেন, আমি এখানে এসেছি শুধুমাত্র গ্রিন আইটি দেখার জন্য। কারণ মিডিয়া বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করছে। কিন্তু আমি এখানে এসে খুবই দুর্বল কয়েকটি প্রকল্প দেখলাম। ফলে কিছুটা হতাশ হয়েছি। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। আমার মনে হয় এটা নতুন একধরনের ব্যবসা। তবে বিদ্যুৎ বা শক্তি সংরক্ষণের কিছু উপায় বের হলে মন্দ কি।

তার মতো আরো কয়েকজন গ্রিন আইটি ভিলেজ সম্পর্কে কিছুটা বিরূপ মনোভাব পোষণ করলেন। এটা কি আসলেই পরিবেশ বাঁচানো নাকি নতুন কোনো ব্যবসার ফন্দি তা নিয়ে চিন্তিত অনেকে। তবে সমালোচনা যাই থাক, সিবিট এর মাধ্যমে গ্রিন আইটি নামে যে উদ্যোগটা শুরু হলো তা পরিবেশ বাঁচাতে কিছুটা ভূমিকা রাখবে বৈকি।

ক্রেজ কিন্তু মোবাইল ফোন
বিশ্বজুড়ে এখন তারুণ্যের ক্রেজ মোবাইল ফোন সেট। আর সেটাই জানান দিল সিবিটের মোবাইল প্যাভেলিয়ন। ব্ল্যাকবেরি, সনি এরিকসন, টি মোবাইল এর মতো বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানগুলো জড়ো হয়েছে মোবাইল প্যাভেলিয়নে। সনি এরিকসন গুরুত্ব দিচ্ছে তাদের নতুন মিউজিক সিরিজের মোবাইল ফোনসেটগুলোর ওপর। আর তাই তাদের স্টলে শুধু মিউজিক আর মিউজিক। টি মোবাইল অবশ্য মার্কেটিং করেছে আইফোন এর। আর ব্ল্যাকবেরি ব্যস্ত নতুন সফটওয়্যার নিয়ে।

আগামী’র প্রযুক্তি
মেলায় ঘুরতে ঘুরতেই দেখা গেল নরওয়ের প্রতিষ্ঠান টেলেনরকে। বাংলাদেশে টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের ৬২ শতাংশ শেয়ারের মালিক এই প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এক টেকনোলজি নিয়ে মোলায় হাজির তারা। মেশিন টু মেশিন কমিউনিকেশন, মানে যন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করবে আরেক যন্ত্রের সঙ্গে। আরেকটু সহজ করে দেই। ধরুন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোনো এক জায়গায় দুর্ঘটনায় পড়লো একটি গাড়ি। টেলেনরের এই প্রযুক্তি যুক্ত থাকলে গাড়িটি নিজে থেকেই যোগাযোগ করবে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং হাসপাতালের সঙ্গে। ফলে উদ্ধার কাজ করা যাবে বেশ দ্রুত। বিষয়টি নিয়ে টেলিনরের এক মুখপাত্র ডয়চে ভেলেকে জানালেন, আজকে সবার কাছে মোবাইল ফোন আছে। কিন্তু ভবিষ্যতে মেশিনকেও যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করতে হবে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে মেশিন টু মেশিন যোগাযোগও সহজলভ্য হয়ে যাবে। মেলায় আরেকটি আকর্ষণ ছিল ব্রেইন চালিত কম্পিউটার। মাথায় একগাদা তার পেঁচিয়ে বসে থাকতে দেখা গেলো একজনকে। সে কিছুক্ষণ পর পর মনিটরের দিকে তাকাচ্ছিলো আর তাতেই কম্পিউটার বুঝতে পারছিল ব্যক্তিটির আকাঙ্খা। তবে এই ব্রেইন চালিত কম্পিউটার এখনো রিসার্চ পর্যায়ে আছে। পুরোমাত্রায় কাজ করতে সক্ষম হতে সময় লাগবে নাকি আরো পাঁচ বছর।

চীনদের জয়জয়কার
মেলায় ঢুকে প্রথমেই একটু থমকে যেতে পারেন আপনি। যেদিকে যাবেন সেদিকেই চীনা নাগরিক। প্যাভেলিয়নগুলোতে চীনাদের স্টল। হবেই না বা কেন? এবারের সিবিটে শুধু চীন থেকে অংশ নিয়েছে ৫০০টি প্রতিষ্ঠান, এককভাবে কোনো দেশের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ এটি। আর তাই সিবিট প্রাঙ্গন এখন ছোটখাট এক চীনা শহরে রূপ নিয়েছে। অবশ্য সিবিট মেলায় এবারের থিম কান্ট্রি ছিল ফ্রান্স। তবে তাদের ছাপিয়ে চীন নিয়েই মাতামাতি বেশি ছিল।

সিবিটে বাংলাদেশ
সিবিট মেলা কেমন লাগছে? জানতে চেয়েছিলাম বাংলাদেশী ব্যবসায়ী মোরছালিন জুয়েল এর কাছে। তিনি বললেন, খুব ভালো লাগছে। জুয়েলের এই এক কথার জবাবের সঙ্গে একমত নয় বাংলাদেশ থেকে আসা অপর ব্যবসায়ী এম মঞ্জুরুর রহমান। জানালেন, সিবিটে আমি পর পর তিনবার এসেছি। গতবারের তুলনায় এবার তেমন কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে সিবিট একটি নির্দিষ্ট ছকের মধ্যে আটকে গেছে।

তবে বাংলাদেশ কেন জানি তথ্য প্রযুক্তি খাতে এগুতে পারছে না কোনোভাবেই। আর তার প্রভাব পড়েছে সিবিট মেলাতেও। প্রতি বছর সংকুচিত হচ্ছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ। এ বছর এসেছে মাত্র দু’টি প্রতিষ্ঠান। তাও আবার সরাসরি নয়, সুইস প্রতিষ্ঠান সিপ্রো’র ব্যানারে। কথা হচ্ছিলো বাংলাদেশ থেকে আসা লিডস সফট এর সহকারী মার্কেটিং ম্যানেজার আনিসুর রহমান খান এর সঙ্গে। তিনি জানালেন, সিবিট মেলা জার্মানিতে হয়। এখানে খরচের একটি ব্যাপার আছে। আর তাই এককভাবে একটি বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই মেলায় যোগ দেওয়া বেশ কঠিন। বাংলাদেশ সরকার এবং সফটওয়্যারের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বেসিস যৌথভাবে উদ্যোগ নিলে সিবিটে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানো যাবে।

তবে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হলেও ভারত কিন্তু বেশ অগ্রসর ছিল সিবিটে। প্রথম দিনেই খোঁজ মিললো অন্তত গোটা পঁচিশেক ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের। ভারতের নানান রাজ্য থেকে এসেছে তারা। তাদের সবারই নজর নতুন ক্রেতার দিকে। ইউরোপের বাজারে ভারতের তথ্য প্রযুক্তি পণ্য আরো ঢুকাতে বদ্ধপরিকর তারা। কথা হচ্ছিল তাদেরই একজন, ওয়েব ওয়ার্কস এর ম্যানেজার নিশাত রতি’র সঙ্গে। তিনি জানালেন, দক্ষ জনশক্তি আর ইংরেজিতে দক্ষতা আমাদেরকে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছে।

পুরো হ্যানোভার জুড়ে ছিল সিবিটের আমেজ। হোটেল-মোটেল কিংবা গেস্ট হাউজ- সবই কানায় কানায় পূর্ণ। আর তাই থাকার জায়গা না পাওয়ায় বিশ্বের নানান প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের একটি বড় অংশ এখন রাত কাটিয়েছে হ্যানোভারের স্থায়ী বাসিন্দাদের সঙ্গে, একই বাড়িতে। তবে অবশ্যই টাকার বিনিময়ে। হ্যানোভারের বাসিন্দাদের বাড়তি উপার্জনের একটি ভালো রাস্তা এটি। হ্যানোভারের পরিবেশও কিন্তু বেশ রহস্যময়। কখনো প্রখর রোদ্দুর, কখনো তুষারপাত। সঙ্গে কনকনে ঠান্ডা বাসাত। তবে এরই মধ্যে জমে উঠেছিল সিবিট। মাইক্রোসফট, ইয়াহু আর গুগলের মধ্যকার ঠান্ডা যুদ্ধের রেশ পাওয়া যাচ্ছিলো প্রথম দিন থেকেই। ঘুরতে ফিরতেই দেখা মিলেছে বিশ্বের নামজাদা সব তথ্য প্রযুক্তিবিদের সঙ্গে। এবারের সিবিটে সব মিলিয়ে ভিজিটরের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ। আগামী বছর সিবিট মেলা শুরু হবে ৩ মার্চ, আর চলবে ৮ মার্চ পর্যন্ত।

দৈনিক ইত্তেফাকের জন্য-
আরাফাতুল ইসলাম, হ্যানোভার (জার্মানি) থেকে

আবার নতুন ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার!!!

Tags

, , , , , , , , , , , , , , ,

IE 8ছাড়ে দে মা কাঁন্দে বাঁচি!!!

পুরাতন কথা, কিন্তু বেশ চলে। যারা একটু কম্পিউটার সচেতন, তারা ইন্টারনেট এক্সপ্লোডার ব্যবহার করে এই কথাই বলবেন।

আমরা যারা না জেনে না বুঝে মাইক্রোসফটের ইন্টারনেট এক্সপ্লোডার (না ভুল লিখি নাই, এটাই সঠিক বানান হওয়া উচিৎ) ব্যবহার করি, তারা প্রতি মুহূর্তেই বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছি। এর জন্য অবশ্য কাউকে দায়ী করা ঠিক হবেনা। এখনো ৯০% কম্পিউটার ব্যবহারকারী মনে করেন ইন্টারনেট মানেই হচ্ছে ডেস্কটপে নীল রঙের e চিহ্নটা। কিছু করার নাই।

ইন্টারনেট এক্সপ্লোডারের নিরাপত্তাজনিত অনেক সমস্যা ছিলো, আছে এবং আশা করা যায় থাকবে। গতকালকে মাইক্রোসফট মিক্স ০৮-এ ইন্টারনেট এক্সপ্লোডারের ৮ নম্বর সংষ্করণটির বেটা (এখনো শেষ হয়নি) ১ ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। আর এটা ব্যবহার করতে গিয়ে আমার যেই অভিজ্ঞতা হলো তা বলি।

উপরের ছবিটি মাইক্রোসফটের সাইট থেকে নেয়া, দেখা যাচ্ছে We Heard You লেখা আছে। আমরা কি চিৎকার করছিলাম আর মাইক্রোসফট সেটা শুনতে পেয়েছে! না, ইন্টারনেট বোদ্ধাদের প্রয়োজনের শেষ নাই, তাদের প্রয়োজন মেটায় এরকম সমাধান যারা দিতেপারে বোদ্ধারা সেটাই ব্যবহার করে। বাজারে ইন্টারনেট এক্সপ্লোডারের পাশাপাশি আছে মজিলা ফায়ারফক্স, অপেরা, সাফারি। এখন ইন্টারনেট এক্সপ্লোডার ব্যবহারের চাইতে যেহেতু ঐ তিনটা ব্রাউজার ব্যবহারে বেশী সুবিধা পাওয়া যায়, তাই স্বভাবতই মানুষ ইন্টারনেট এক্সপ্লোডার ছেড়ে ঐগুলি ব্যবহার শুরু করছে। Continue reading »