Reality Bites

~ by Omi Azad

  • Home
  • About Me!
  • My Movies
  • English

Category Archives: মন্তব্য

Personal Comments

ভাব-গাম্ভীর্যের জন্মগত অভিনেতা, বিতর্ক আর লিগ্যাসি

06 শনিবার জুন 2026

Posted by Omi Azad in মন্তব্য, মিডিয়া রিভিউ

≈ Leave a Comment

Kevin Spacey-কে আমার দারুন লাগে। মনে হয় ভাব-গাম্ভীর্য নিয়েই জন্মেছে এই মানুষ! হলিউড হয়তো অলিখিতভাবে বয়কট করেছে, কিন্তু তার কাজের প্রশংসা না করে উপায় নাই! একটা সময় ছিলো স্পেসিকে চিনতাম না, শুরু করলাম House of Cards দেখা — কি দুর্দান্ত অভিনয়! পরে IMDB হিস্ট্রি দেখে আবিষ্কার করলাম আমি The Usual Suspects, L.A. Confidential, The Negotiator, The Life of David Gale, Se7en, Horrible Bosses সিনেমাগুলোতে দারুন রেটিং দিয়েছি।

শুরুটা কোথায়? সংক্ষিপ্ত জীবনী

Kevin Spacey Fowler জন্ম ২৬ জুলাই ১৯৫৯, নিউ জার্সিতে। বাবা টেকনিক্যাল রাইটার, মা সেক্রেটারি। ছোটবেলা থেকেই থিয়েটার পাগল। Juilliard School-এ পড়াশোনা, ১৯৮১ সালে ব্রডওয়েতে অভিষেক। ৮০-র দশক পুরোটা স্টেজে কাটিয়ে ১৯৯০-এ ফিল্মে ব্রেক পান Glengarry Glen Ross-এ ছোট রোলে। এরপর আর পেছনে ফিরতে হয়নি।

যে রোলগুলো আইকন বানিয়েছে

  • The Usual Suspects (1995): Verbal Kint। ল্যাংড়া, নিরীহ, তোতলা। শেষ ৫ মিনিটে হলিউডের ইতিহাসের সেরা টুইস্ট দেন। অস্কার – Best Supporting Actor। এই রোলেই বুঝিয়ে দেন, “ভাব-গাম্ভীর্য” মানে চিৎকার না, কন্ট্রোল।
  • Se7en (1995): John Doe। স্ক্রিনটাইম ২০ মিনিট, কিন্তু ৭টা খুনের থিওলজি বুঝিয়ে পুরো ফিল্মের ভরকেন্দ্র হয়ে যান। ঠান্ডা গলায় বাইবেল আওড়ানো — আজও গা শিউরে ওঠে।
  • L.A. Confidential (1997): Det. Jack Vincennes। কোরাপ্ট হলিউড-কপ, ক্যামেরার সামনে হাসে, আড়ালে ডিল করে। নোয়া-র জগতে সবচেয়ে স্টাইলিশ রোল।
  • American Beauty (1999): Lester Burnham। মিড-লাইফ ক্রাইসিসে ভোগা বাবা। ব্যঙ্গ, বিষাদ, মুক্তি — সব একসাথে। অস্কার – Best Actor। “Look closer” ট্যাগলাইনটা Spacey-র ক্যারিয়ারের সারাংশ।
  • The Negotiator (1998): হোস্টেজ নেগোশিয়েটর Danny Roman। Samuel L. Jackson-এর সাথে ডায়লগ-ডুয়েল। টেনশন ধরে রাখার মাস্টারক্লাস।
  • The Life of David Gale (2003): ডেথ-রো-তে বসে ফিলোসফি কপচানো প্রফেসর। আইডিওলজি বনাম বাস্তবতা — Spacey ছাড়া এই রোল কেউ টানতে পারতো না।
  • House of Cards (2013-2017): Frank Underwood। “Democracy is so overrated” বলে চতুর্থ দেয়াল ভেঙে দর্শকের চোখে চোখ রাখা। নেটফ্লিক্সকে প্রেস্টিজ-TV-র ম্যাপে বসানোর কারিগর। এই রোলের জন্যই তাকে নতুন জেনারেশন চেনে।
  • Horrible Bosses (2011): Dave Harken। কমেডিতেও সমান সাবলীল। সাইকো বস হয়ে স্টিভ ক্যারেলদের জীবন নরক বানান, আমরা হাসতে হাসতে শেষ।

বয়কট: কেন হলিউড মুখ ফিরিয়েছে?

২০১৭-র অক্টোবরে #MeToo ঝড়ের সময় অভিনেতা Anthony Rapp অভিযোগ করেন, ১৯৮৬-তে ১৪ বছর বয়সে Spacey তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন। এরপর যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে আরও ১৫+ জন একই ধরনের অসদাচরণের অভিযোগ আনেন। কেউ বলেন কর্মক্ষেত্রে অশালীন মন্তব্য, কেউ বলেন শারীরিক হয়রানি।

ফলাফল: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে Netflix House of Cards থেকে তাকে ছাঁটাই করে, S6-এর স্ক্রিপ্ট নতুন করে লেখে। Ridley Scott All the Money in the World থেকে Spacey-র সব সিন বাদ দিয়ে Christopher Plummer-কে দিয়ে ৯ দিনে রি-শ্যুট করে। এজেন্সি, পাবলিসিস্ট সবাই সম্পর্ক ছিন্ন করে। এটাই “অলিখিত বয়কট”।

আইনি পরিণতি: ২০২২-এ নিউইয়র্কের সিভিল কোর্টে Rapp-এর মামলায় জুরি Spacey-কে দায়মুক্তি দেয়। ২০২৩-এ লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে ৯টি ফৌজদারি অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পান। অর্থাৎ ক্রিমিনাল কনভিকশন হয়নি। তবু ইন্ডাস্ট্রি তাকে আর মূলধারায় ফেরায়নি। ২০২৩-এর পর ছোট ইন্ডি ফিল্ম Control, Peter Five Eight করেছেন, কিন্তু স্টুডিও ফিল্মে নেই।

শিল্পী বনাম ব্যক্তি: দর্শকের ডিলেমা

Spacey-র কেসটা ক্লাসিক “separate art from artist” বিতর্ক। অভিযোগগুলো গুরুতর, ভিক্টিমদের ট্রমা সত্যি। আবার আইনের চোখে তিনি দোষী প্রমাণিত হননি। দর্শক হিসেবে তুমি কী করবে? Se7en-এর John Doe-কে দেখে আজও গায়ে কাঁটা দেয়, American Beauty-র Lester-এর মনোলগ আজও কোট করি। এই কাজগুলো তো মিথ্যা হয়ে যায়নি।

Spacey নিজে বলেছেন, “I have a lot of respect for actors who keep their personal lives personal.” অথচ তার ব্যক্তিগত জীবনই ক্যারিয়ার খেয়ে দিয়েছে। ভাব-গাম্ভীর্য নিয়ে জন্মানো লোকটা ক্যামেরার সামনে গড-লেভেল কন্ট্রোল দেখান, কিন্তু ক্যামেরার বাইরে কন্ট্রোল হারিয়েছেন — অভিযোগ যদি সত্যি হয়।

শেষ কথা

হলিউড তাকে বয়কট করতে পারে, IMDB থেকে তার পেজ ডিলিট হবে না। Usual Suspects-এর লিম্প, House of Cards-এর সাউদার্ন ড্রল, Se7en-এর হিম-ঠান্ডা সার্মন — এগুলো ফিল্ম-স্কুলে পড়ানো হবে। তুমি তাকে ঘৃণা করতে পারো, ভালোবাসতে পারো, ইগনোর করতে পারো। কিন্তু ১৯৯৫-২০১৭ — এই ২২ বছর Spacey ছিলেন হলিউডের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য “বুদ্ধিমান ভিলেন”।

বয়কট অলিখিত, কিন্তু লিগ্যাসি লিখিত। The Life of David Gale-এর ডায়লগ ধার করে বলি: “Fantasy is an exercise for the brain.” Spacey-র ফিল্মোগ্রাফি আমাদের ব্রেইনের জন্য সেই এক্সারসাইজ। ব্যক্তি Spacey-কে নিয়ে কোর্ট-রুম বিতর্ক চলুক, শিল্পী Spacey-কে নিয়ে ফিল্ম-রুম বিতর্ক চলবে আরও ৫০ বছর।

কারা ধ্বংস করল বাংলাদেশি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি?

08 শনিবার ডিসে. 2018

Posted by Omi Azad in গান বাজনা, বাংলাদেশ, মন্তব্য

≈ Leave a Comment

বাংলাদেশের সঙ্গীত শিল্প এখন আক্ষরিক অর্থেই মৃত। কোনো নতুন সুপারহিট অ্যালবাম নেই, নেই কোনো বড় কনসার্ট বা জাঁকজমকপূর্ণ শো—আমার জানা মতে, পুরো ইন্ড্রাস্ট্রি যেন এক জায়গায় স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

গত সপ্তাহে বসুন্ধরা সিটিতে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরার সময় হঠাৎ মনে পড়লো, ওয়ারফেজ ব্যান্ডের শেষ অ্যালবামটি আমার কেনা হয়নি। বেশ একটা আবেগ নিয়ে লেভেল ৬-এর দিকে ছুটে গেলাম; মনে পড়েছিলো পুরোনো দিনের কথা, যখন এই ফ্লোরটিতে দেশি-বিদেশি গানের দারুণ কালেকশন নিয়ে বেশ কিছু চমৎকার মিউজিক শপ গমগম করতো। কিন্তু সেখানে গিয়ে আমি হতবাক! সব মিউজিক শপ উধাও হয়ে গেছে, আর সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে মোবাইল ফোন আর এক্সেসরিজের দোকান। একটু আশার আলো নিয়ে আমার বাসার কাছাকাছি উত্তরার রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স এবং সাঈদ গ্র্যান্ড সেন্টারে গেলাম, যেখানে একসময় নামী কিছু ক্যাসেট-সিডির দোকান ছিলো। দুর্ভাগ্যবশত, সেগুলোও পুরোপুরি হাওয়া। অনেক খোঁজাখুঁজির পর টিকে থাকা একমাত্র দোকানটির সন্ধান পেলাম, কিন্তু সেখানেও আমার কাঙ্ক্ষিত এলবামটি ছিলো না।

তাহলে একজন সঙ্গীতপ্রেমী কোথায় পাবে মিউজিক সিডি?
এই প্রশ্নটা যখন এক বন্ধুকে করলাম, সে খুব স্বাভাবিকভাবেই পরামর্শ দিলো — আমার আইএসপির এফটিপি সার্ভারে ঢুকে যেন গানটা খুঁজে নি। আমার পাঠকরা খুব ভালো করেই জানে যে আমি কখনো পাইরেটেড বা চোরাই গান শুনি না। বিশেষ করে যখন বিষয়টি বাংলাদেশি শিল্পীদের স্বার্থের সাথে জড়িত। আর আমি কোনো ধরনের পাইরেসিকে কখনোই প্রশ্রয় দিই না। স্বভাবতই, আমি এফটিপি সার্ভারে গানটি খুঁজিনি। কিন্তু বর্তমানে এটিই এখন শহরের সবচেয়ে বড় ‘টক অব দ্য টাউন’। সবাই একবাক্যে স্বীকার করে যে তাদের আইএসপি-র কাছে সিনেমা, গান, সফটওয়্যার আর গেমসের এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। এখন আর কেবল ছোটখাটো পাড়া-মহল্লার আইএসপিগুলোই এটি করছে না; বড় বড় কর্পোরেট আইএসপিগুলোও তাদের গ্রাহকদের খুশি রাখতে এই পাইরেটেড কালেকশনের বিশাল স্তূপ মেইনটেইন করছে। অনেক ব্যবহারকারী এতে হয়তো খুবই খুশি, কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ব্যাপারটা এমন হওয়া মোটেও উচিত না।

এই পতনের শেকড় কিন্তু অনেক গভীরে। ঐতিহাসিকভাবে আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছিলো একটি সম্পূর্ণ চুক্তিভিত্তিক কাঠামোর ওপর। সারগাম, সাউন্ডটেক, সঙ্গীতা বা জি-সিরিজের মতো বড় বড় রেকর্ড কোম্পানিগুলো আর্টিস্ট বা শিল্পীদের সাথে কেবল সাময়িক চুক্তিভিত্তিক কাজ করতো। অনেকসময় বিক্রি ভালো হলে আরও একটু টাকা দিতো। বাংলাদেশে কপিরাইট আইন সবসময়ই দুর্বল এবং এর প্রয়োগ না থাকায়, এই চুক্তিগুলো কখনো শিল্পীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বা টেকসই কোনো ক্যারিয়ার হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি। আইনি সুরক্ষার এই অভাব নব্বইয়ের দশকে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্ম দেয়। অডিও ক্যাসেটের জোয়ারে রাতারাতি ব্যাঙের ছাতার মতো অগণিত মিউজিক কোম্পানি গজিয়ে ওঠে। এই মৌসুমি কোম্পানিগুলো বাজারে এসে বড় জোর ১/২টা হিট গান দিতো, কিংবা ১/২টা মিক্সড অ্যালবামের ট্রেন্ডে ব্যবসা করে রাতারাতি উধাও হয়ে যেতো। ফলে ইন্ডাস্ট্রি যেমন ভেঙে টুকরো হয়ে যায়, তেমনি শিল্পীরাও চরমভাবে শোষিত হন।

প্রায় এক দশক আগে আমি “Who Killed the Electric Car?” নামে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম দেখেছিলাম। সেখানে দেখানো হয়েছিলো কীভাবে পুঁজিবাদী জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলো ইলেকট্রিক কারকে কখনো আলোর মুখ দেখতে দিতে চায়নি। কিন্তু আজকের দিনের দিকে তাকান: মার্কিন সরকার এখন ইলেকট্রিক গাড়ির জন্য ‘ইনডাকশন চার্জিং’ প্রযুক্তিসম্পন্ন আলাদা হাইওয়ে লেন তৈরীর পরামর্শ দিচ্ছে। প্রগতির চাকা এভাবেই ঘোরে, আর এই কারণেই আমি বিশ্বাস করি—একদিন আমাদের মিডিয়া বা মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

তবে সেই সুদিনের জন্য আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করা জরুরী। আমাদের অন্যের বা বিদেশী কাজের কপিরাইটকেও সম্মান করতে শিখতে হবে। বাংলাদেশ একটি ছোটো দেশ, যেখানে বিপুল জনসংখ্যার মুখের খাবার জোগাতে হয়। আমরা যদি অন্যের মেধা বা কপিরাইটকে সম্মান করতে না শিখি, তাহলে বিশ্ব সম্প্রদায়ও আমাদের ঠিক একইভাবে অসম্মান করবে এবং আমাদের অত্যন্ত মূল্যবান কোনো সৃষ্টি থেকে আমাদের বঞ্চিত করবে — যা আমাদের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। যতদিন না আমরা অন্যের সৃষ্টির মূল্যায়ন করতে শিখবো, ততদিন এই মিউজিক শপগুলো খালিই পড়ে থাকবে, আর আমাদের ইন্ডাস্ট্রির নীরবতা শুধুই দীর্ঘায়িত হবে।

ডাক্তার শায়লা শামিম ও মনোয়ারা হাসপাতালের অভিজ্ঞতা

10 বুধবার জুন 2015

Posted by Omi Azad in বাংলাদেশ, মন্তব্য

≈ 2 Comments

Tags

বাংলাদেশ

পৃথিবীতে মা হওয়া একই সাথে বিশাল একটা সুখের এবং কষ্টের কাজ। আমরা ছেলেরা এই বিষয়টা বাহির থেকে দেখি। আনন্দ পাই, কিন্তু মেয়েরা যে পরিমান কষ্ট সহ্য করে একটা বাচ্চা এই পৃথিবীতে আনে যা কখনই বুঝতে পারবো না। আমার বন্ধু তালিকার সবাই প্রায় তরুণ। অনেকেই নতুন বিয়ে করছে, সামনেই তাদের ঘর আলো করে বাচ্চা আসবে। আমাদের সবার এই কথাটা মনে রাখা উচিৎ যে আমাদের অর্ধাঙ্গিনীরা এই ৯টা মাস অনেক কষ্ট করে পার করবে। আমরা হয়ত শরীরের কষ্ট কমাইতে পারবো না কিন্তু তাদের মন আনন্দে ভরিয়ে দিতে পারবো। একই সাথে আমাদের ভবিষ্যৎকরনীয় বিষয়গুলো নিয়েও সচেতন থাকতে হবে। বাংলাদেশ যেহেতু, সবার প্রথম যথেষ্ট পরিমান টাকা জমিয়ে রাখতে হবে হাতে। নিয়মিত ডাক্তার এর চেকআপ করাতে হবে। ঠিক মত খাওয়াদাওয়া করাতে হবে। কোন রকম ভারী কাজ করতে দেয়া যাবে না। কোথায় ডেলিভারি করাবেন, সেখানে কিভাবে নিয়ে যাবেন সেগুলো আগে থেকেই ঠিক করিয়ে রাখতে হবে।

অপদার্থের মত সব কিছু ডাক্তার এর হাতে ছেড়ে দিবেন না। কি হচ্ছে না হচ্ছে এই বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। আমাদের প্রথম বাচ্চার জন্মের সময় আমরা অনেক কেয়ারফুল ছিলাম। কিন্তু তারপরও অনেক ভুল করে ফেলেছিলাম যার জন্য আমরা তাকে হারিয়েছি। এই কষ্ট সারাজীবনের। আপনারা ভুল করবেন না। বাংলাদেশ অনেক খারাপ একটা জায়গা। এখানে স্বাস্থ্য সেবা নয় ব্যবসা। এখানকার ক্লিনিক + ডাক্তারদের একটা বড় চেষ্টা থাকে প্রিম্যাচিউর বেবি জন্ম দেয়ার। এখানকার ডাক্তাররা কখনই আপনাকে নরমাল ডেলিভারির কথা বলবে না। নানা রকম ভয় দেখাবে যাতে সিজার করতে রাজি হন। কারন নরমাল ডেলিভারিতে তাদের ইনকাম কম। সিজার করলে ইনকাম বেশি হওয়ার একটা বিশাল সুযোগ থাকে।

আমার টাকার অভাব ছিল না, অভাব ছিল জ্ঞানের। বাসার কাছেই বলে নিয়ে গিয়েছিলাম সিদ্ধেশ্বরীর “মনোয়ারা হাসপাতাল” এ। ওখানকার ডিউটি ডাক্তার (যতদূর সম্ভব ইন্টার্ন) ঠিক ভাবে চেকআপ না করেই বলেছিল যে আমার স্ত্রীর ডেলিভারি পেইন উঠেছে। অথচ আমার স্ত্রীর সেই রকম ব্যাথাও ছিল না, পানিও ভেঙ্গে যায় নাই। সিজার করার জন্য ডাক্তার শায়লা শামিম (MBBS, FCPS (Obs & Gynae) Assitant Professor, Gynae & Obs. Bangabandhu Sheikh Mujib Medical University) যে কোন রাস্তা দিয়ে অপারেশন থিয়েটার এ গেলো তা আমি জানিই না। একবার আমার সাথে কথাও বলে নাই অপারেশন শুরুর আগে। অতীতে চেকাপের সময় উনাকে একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম ম্যাডাম নরমাল ডেলিভারি ভালো নাকি সি-সেকশন ভালো। উনার ভদ্রতার মুখোশ খুলে উনি আমাকে বিশাল একটা ঝাড়ি দিয়েছিলেন যে আর কিছু বলি নাই।

যাই হোক আমার অজ্ঞতা আর উনাদের লোভ একটা বাচ্চার জীবন অনিশ্চিত করেই এই পৃথিবীতে নিয়ে এসেছিল। ইবাদত (আমার প্রথম ছেলের নাম) এর জন্মের পর যখন আমাকে দেখানো হল তখন নার্সরা বললো বাচ্চা ভালো আছে, সব ঠিক আছে। আমিও আনন্দে খুশিতে উনাদের বখশিশ দিলাম। একটু পড়ে শিশু ডাক্তার তাহমিনা যিনি অপারেশন এর সময় উপস্থিত ছিলেন, উনি বের হচ্ছিলেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে বাচ্চা আর মাকে কখন বাসায় নিতে পারবো। উনি অনেক রুডলি আমাকে বললেন, বাসায় নিবেন ? আপনার বাচ্চা বাঁচে কিনা সেইটা আগে দেখেন। উনার কথায় আমি হতভম্ব। মনে হলো সেকেন্ড এর মধ্যে জান্নাত থেকে জাহান্নামে এসে পড়লাম। উনি নিজে গজর গজর করতে করতে বের হয়ে গেলেন। একজন ডাক্তারকে মনে হয় শিক্ষা দেয়া হয় যে কিভাবে রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলা উচিৎ। বাংলাদেশ জন্য উনারা এই শিক্ষাটা ভুলে গেছেন।

বাচ্চাকে নিয়ে গেলো এনআইসিইউ তে। যেখানে আমাদের যেতে দেয়া হয় না, কথা বলার মত, কিছু জিজ্ঞাসা করার মতও কেউ নাই। আমি একবার এনআইসিইউ এর সামনে দৌড়াই আরেকবার পোস্ট অপারেটিভ রুমের সামনে। একই সাথে কেবিন পাওয়ার জন্য এডমিনিস্ট্রেসন এ। বাচ্চার কি সমস্যা হইছে কিছুই জানি না। পুরো দিনটা এভাবে গেলো। রাতে শিশু ডাক্তার তাহমিনা আবার আসলেন। জানা গেলো আমার বাচ্চা সময়ের আগেই জন্ম নেয়ার কারনে তার ফুসফুস কাজ করছে না। তাকে আপাতত ইনকিউবেটর এ রাখা হয়েছে অক্সিজেন দিয়ে। তার অবস্থা ভালো না। কি বলবো মনের ভিতর যে কি যাচ্ছিল। কেবিন এ ফিরে জেরিনকে বললাম বাবু ভালো আছে। সব ঠিক আছে। এনআইসিইউ এর ঠিক সামনের কেবিনটা নিয়েছি যাতে বাচ্চার খোজখবর নেয়া যায়। রাতে চোখটা একটু বন্ধ করেছি ঠিক এই সময় নার্সরা ডাক দিল। এনআইসিইউ এর ভিতরে গিয়ে ডিউটি ডক্টর এর কাছে জানতে পারলাম, আমার বাচ্চার অবস্থা ভালো না, তাকে ইমিডিয়েট লাইফ সাপোর্ট এ দিতে হবে যে মেশিন তাদের এখানে নাই। জিজ্ঞাসা করলাম কোথায় আছে। বললো ধানমন্ডির পেডিহোপ হাসপাতাল এ। (পরবর্তিতে জানতে পেরেছিলাম যে পেডিহোপ এর সাথে তাদের একটা লিয়াজো আছে)। বললাম বাচ্চাটাকে একটু দেখতে পারি। ছোট্ট একটা বাচ্চা, বুকটা উঠানামা করছে, মনে হচ্ছে একেবারে ভেঙ্গে যাবে। ওদেরকে বললাম এম্বুলেন্স রেডি করতে। আম্মুকে ফোন দিয়ে বললাম হাসপাতাল এ আসতে। বন্ধু শাওন আনোয়ারকেও ফোন দিয়ে আসতে বললাম। জেরিনকে বললাম শক্ত হইতে তোমার বাবুকে আমি অন্য হাসপাতাল এ নিয়ে যাচ্ছি। ১০ মিনিট এর মধ্যেই বাচ্চাকে নিয়ে রওনা দিলাম। রাস্তা ফাকা ছিল অনেক দ্রুতই পৌঁছে গেলাম পেডিহোপ নামের জঘন্য হাসপাতাল এ। ওরা ওরাই সবকিছু করে বাচ্চাকে লাইফ সাপোর্ট মেশিন এ দিয়ে দিল। আমাকে অফিস এ নিয়ে জানানো হইলো তাদের এইখানে প্রতিদিনের খরচ কি রকম এই সেই। হাসপাতাল এর অবস্থা দেখেই আমার মন চুপসায় গেছে। হাসপাতাল কম বস্তি বলাই বেটার।

সকাল বিকাল ডাক্তার আসে। একটা কথাই শুধু শুনি আপনার বাচ্চার অবস্থা ভালো না। কাচের জানালা দিয়ে দেখি আমার বাবুর বুক উঠানামা করছে। যতক্ষণ পারি তাকিয়ে থাকি। একটু গবেষণা করে জানা গেলো এই সমস্যার নাম RDS (Respiratory Distress Syndrome) এবং প্রথম চিকিৎসাই হল Surfactant therapy. দৌড়ে যাই ডিউটি ডাক্তার এর কাছে। তাকে বলি আমার বাচ্চাকে কি এইটা দেয়া হয়েছে কিনা। তার কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে কথা বলি মেইন ডক্টর এর সাথে। সে বলে জন্মের ছয় থেকে বারো ঘণ্টার মধ্যেই দিতে হয়। এইটা দেয়ার দায়িত্ব মনোয়ারা হসপিটাল এর শিশু ডাক্তার তাহমিনার ছিল। ডাঃ তাহমিনাকে ফোন দিলে সে বলে মনোয়ারা হাসপাতালে নাকি সেই সুযোগ সুবিধা ছিল না। মনোয়ারা হাসপাতালে ব্যবস্থা না থাকলে জন্মের প্রথম ১২ ঘণ্টা বাচ্চাটাকে শুধু ইনকিউবেটর এ রেখে ওরা টেস্ট করতেছিল। তারপর ডাক্তারকে বলি বাচ্চার অবস্থা যখন এতোই খারাপ এখনও আমি সারফ্যাক্টান্ট থেরাপি দিতে চাই। যদি কিছু উন্নতি হয়। ডিউটি ডক্টর একটা ছোট কাগজের টুকরায় ওষুধের নাম লিখে দেয়। বলে ওষুধের দাম ২০-২৫ হাজার টাকা। এইজন্য তারা নাকি সবাইকে বলে না। তার কথা আর কাগজের হাতের লেখা দেখে আমি হতভম্ব। আর যাই হোক কোন প্রফেশনাল ডাক্তার এর হাতের লেখা সেইটা ছিল না।

ধানমন্ডির রাস্তায় রাস্তায় দৌড়াই ওষুধের খজে আমি আর মাসুদ। অনেক খোজাখুজির পর পেয়ে যাই। বুকের মধ্যে একটু আশা বাড়ে, হয়ত আমার বাচ্চাটা সুস্থ হয়ে যাবে। ওষুধ নিয়ে এসে ডাক্তারকে বলি যে ওষুধ দেয়ার সময় আমি থাকতে চাই। এদের স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে ততক্ষণে ধারনা হয়ে গেছে। দামি ওষুধ যদি না দিয়েই বলে যে দিয়েছি। ওষুধ দেয়া হলো, আমার বুকে আর কোন সাহস অবশিষ্ট নাই। বন্ধু আনোয়ারকে আগে বারবার বলছিলাম অন্য কোন ভালো হাসপাতাল এ নেয়ার ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেটা দেখতে। কিন্তু ওষুধ দেয়ার সময় বুঝতে পারলাম যে লাইফ সাপোর্ট থেকে খুললে বাচ্চার শ্বাসপ্রসাস পুরো থেমে যায়। এই বাচ্চাকে নিয়ে আর কোথাও যাওয়ার সুযোগ নাই। এক মিনিট নিঃশ্বাস নিতে না পারলে আমাদের কত কষ্ট হয়। তিনটা দিন আমার বাচ্চাটা এতো কষ্ট সহ্য করলো, আমি বাবা হয়ে ওর জন্য কিছু করতে পারলাম না। অবশেষে ডাক্তার জানালো তাদের আর কিছু করার নাই। আমি চাইলে শেষ বারের মত আমার ছেলেকে দেখতে পারি।

এপ্রোন পড়ে আইসিইউতে গেলাম। আমার বাবা চোখ বন্ধ করে ছিল। ওর কপালে একটু হাত রাখলাম। ও চোখ মেলে তাকালো। ওর চোখ দিয়ে দুই ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো। এতোটুকু বাচ্চা ওই কি বুঝতে পেরেছিল যে বেঁচে থাকতে ওই কোনদিন ওর মায়ের বুকের আদর পাবে না। আমি আর কিছু দেখিনাই চোখে। সব কিছু ঘোলা হয়ে গেলো। বের হয়ে বললাম জেরিনকে যে করে হোক রিলিজ করিয়ে নিয়ে আসতে। জন্মের পর থেকে ও ওর বাচ্চাটাকে দেখতে পারে নাই। বন্ধুরা জেরিনকে এ্যাম্বুলেন্স এ করে নিয়ে আসলো জানিনা তখন আমার বাবা এই পৃথিবীতে আর ছিল কিনা। জেরিন আর আম্মু কাচের ফাঁক দিয়ে বাবুকে দেখে বাসায় চলে গেলো। তার কিছুক্ষণ পর সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে আমার সোনামনিটাকে আমার বুকে দিল। এতো সুন্দর হাসি মুখ নিয়ে ছিল। মনে হচ্ছিল পৃথিবীর এই সব কষ্ট থেকে ওই মুক্তি পেয়ে গেছে। বাপের কোলে তিনদিনের বাচ্চার দেহ যে কতটা ভারী হতে পারে তা আমি টের পাইলাম। বাসায় কেউ জানতো না। আমি আমার বাবাকে নিয়ে বাসায় আসলাম। জেরিন তো সাথে সাথেই পড়ে গেলো। বাচ্চার জন্য কাদবো না জেরিনকে সামলাবো বুঝতে পারছিলাম না। জেরিন এর বুকে ওর এতো কষ্টের ধন নিথর দেহটা দিলাম। আমি পারি নাই ওরা বাচ্চাটাকে বাচাইতে। আমি অনেক কিছুই জানতাম না। জানতাম না মনোয়ারা হাসপাতাল এতো খারাপ। জানতাম না পেডিহোপ হাসপাতাল এতো খারাপ। পরে কাউসার ভাইয়ের কাছে শুনি প্রায় একই ঘটনা। তিনিও মনোয়ারা – পেডিহোপ হাসপাতালের এই চক্রান্তে পড়তে ধরেছিলেন। কিন্তু তাদের জানা থাকায় তারা পেডিহোপ এ না নিয়ে নিজ দায়িত্তে স্কয়ার হাসপাতাল এ নিয়ে গিয়েছিলেন।

আমাদের এই দেশে মানুষের জীবনের দাম নাই। ডাক্তাররা রোগীর কথা চিন্তা করে না। তারা চিন্তা করে বাচ্চা প্রিম্যাচিউর হলেই ব্যবসা। আইসিইউতে ঢুকাইতেই পারলেই লাখ লাখ টাকা ইনকাম। তাতে বাচ্চা বাচুক আর মরুক। তাদের মনের ভিতর একটা ফুটফুটে বাচ্চার জন্য এক ফোটা মায়া হয় না। অনেক হাসপাতাল এ তো শুনেছি ইঞ্জেকশন দিয়ে ডেলিভারী পেইন তুলে দেয় বাচ্চা প্রিমাচিউর করার জন্য।

অনেক হয় দেখে শেখে না হইলে নিজের জীবন দিয়ে শেখে। আমি আমার জীবন দিয়ে শিখেছি। পুরো লেখাটা লিখতে আমার চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়েছে। আমার এই লেখা পড়ে যদি তোমরা কিছু শিখতে পারো তাহলেই আমার লেখা সার্থক হবে। নিজের বাচ্চার জন্মের সময় অনেক সতর্ক থাকা প্রয়োজন, সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন। সবাই পারলে এই পেডিহোপ হাসপাতাল, মনোয়ারা হাসপাতাল, ডাক্তার শায়লা শামিম, তার সাথের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ তাহমিনা এবং এদের মত সব ডাক্তারদের কাছে থেকে দূরে থাকবেন। এইসব বিষয়ে ইন্টারনেট এ অনেক লেখা আছে। এই লেখাগুলো পড়বেন। ডাক্তাররা বেশিরভাগ সময়ই ২ সপ্তাহ আগে অপারেশন করতে চায়। এই বিষয়েও সতর্ক থাকা দরকার। অনেক সময় বলে আপনার বাচ্চার ওজন বেশি তাই তারাতারি অপারেশন করতে হবে। জন্মের পর বলবে ওজন কম এইজন্য লাইফসাপোর্ট এ রাখতে হবে। এতো কিছু লাগে না। নরমাল ডেলিভারি সবচাইতে ভালো। বাচ্চা হওয়ার পরপরই মায়ের বুকে দেয়া উচিৎ এবং শালদুধ খাওয়াতে হবে। অনেক সময় মায়ের বুকে দুধ আসতে দেরি হয়। এইসময় দুধ না আসলেও বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে, বাচ্চা চুষলেই দুধ আসবে। এছাড়াও এই বিষয়ে সাহায্য প্রদান করে এমন একটি সংস্থা হচ্ছে বাংলাদশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন যা মহাখালিতে অবস্থিত। এদের প্রশিক্ষিত নার্সরা খুব সামান্য ফি এর বিনিময়ে আপনার বাসায় গিয়ে দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে সাহায্য করবে। অনেক সময় দুধ এর শিরায় ব্লক থাকে, এইজন্য বাচ্চা দুধ পায় নাই। এইসব বিষয়ে BBF সবচাইতে ভালো সাহায্য করতে পারে। ভুলেও বাচ্চাকে ফর্মুলা বা পাউডার দুধ খাওয়াবেন না। এইটা বাচ্চার শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর। মায়ের বুকের দুধই শ্রেষ্ঠ খাবার। সবাই ভালো থাকবেন।

Original Post: http://on.fb.me/1B5kWLN

পোস্টপেইড মোবাইল! না ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা!!

22 মঙ্গলবার জানু. 2013

Posted by Omi Azad in টেলিকম, মন্তব্য

≈ 19 Comments

মোবাইল প্ল্যান

অনেকদিন থেকেই ভাবছি বিষয়টা নিয়ে লেখা দরকার, কিন্তু লেখা হয়নি। আজকে হঠাৎ ফেসবুকে আব্দুন নূর তুষারের পোষ্টটি চোখে পড়লে আবার বিষয়টি নিয়ে লেখার উৎসাহ ফিরে পাই।

আমার ধারণা আমাদের দেশের ৯০%-এর বেশী মোবাইল ফোন গ্রাহক প্রিপেইড মোবাইল সংযোগ ব্যবহার করেন, যার কারনে এই বিষয়টা নিয়ে সেরকম মাথা ব্যাথা কারও নেই। অথচ একসময় মোবাইল অপারেটাররা অনেক মুলা ঝুলিয়ে পোস্টপেইড সংযোগগুলি বিক্রি করেছে গ্রাহকদের কাছে, যার খেসারত এখনো দিতে হচ্ছে। আমি যদি তুষার ভাইর লেখাটি কোট করি, উনি লিখেছেন-

গ্রামীন ফোন ১৯৯৭ সালে পোস্টপেইড গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫০০০ টাকা নিরাপত্তা জামানতে হিসেবে নিয়ে ফোন দিয়েছিল। ১৫ বছরে ব্যাংকে রাখলে এখন এই টাকা হবার কথা ২০ হাজার। তার মানে তারা পোস্টপেইড এর নামে আসলে আমাদের দিয়েছে প্রি পেইড ফোন। এটা একটা প্রতারণামূলক কর্ম। দেশের সবচেয়ে বড় প্রতারক প্রতিষ্ঠান ডেস্টিনি বা হলমার্ক নয়, এর নাম জিপি। … রবি শেখাতে শুরু করেছে ইংরেজী.. ফ্রিজিং কোল্ড মানে বেসম্ভব ঠান্ডা…. টেলিফোনে ডাক্তারী পরামর্শ… বেসম্ভব গাধামী…

কথাগুলি কী সত্য না? দু-একটা অপারেটর বাদে, বেশীরভাগ অপারেটরের পোস্টপেইড সংযোগে কলচার্জ বেশী। কল চার্জ কম হলে দেখা যায় অন্য সুবিধা নেই, একটা না একটা সমস্যা আছেই পোস্টপেইড সংযোগে। এটা যেমন ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা। ছোট্ট কিছু উদাহরণ দেখি –

  • রবি‘র পোস্টপেইড প্যাকেজে এই মুহূর্তে কলচার্জ ৳০.৯০ প্রতি মিনিটে, অথচ রবির প্রিপেইডেই ৳০.৮৪ প্রতি মিনিট প্যাকেজ আছে।
  • রবি প্রিপেইড প্যাকেজে গ্রাহক চাইলে বিভিন্ন ইন্টারনেট বান্ডেল (১ মেগা, ১০ মেগা, ১ গিগা ইত্যাদি) প্যাকেজ ব্যবহার করতে পারেন, পোস্টপেইড গ্রাহকদের সেই সুবিধা নেই।
  • বাংলালিঙ্কের তো বেহাল দশা। পোস্টপেইডের বিল ৳১.২৩ প্রতি মিনিট, অথচ প্রিপেইডে তাদের ৳০.৮৪ প্রতি মিনিট প্যাকেজ আছে। এরা অন্যদের রেকোর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে।
  • রবির মতো বাংলালিঙ্কেও প্রিপেইড গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেট বান্ডেল অপশন অনেক বেশী এবং পোস্টপেইডে অনেক সীমিত অপশন।
  • গ্রামীণফোন আবার বাংলালিঙ্কের চেয়ে কম যায়না। ৳১.২০ প্রতি মিনিট পোস্টপেইডের কল চার্জ, অথচ প্রিপেইডের কল চার্জ ৳১.০৮ প্রতি মিনিট।
  • শুধু এয়ারটেলের ক্ষেত্রেই পোস্টপেইড সংযোগের খরচ সবচাইতে কম দেখা যায়। পোস্টপেইডে ৳০.৭৭ প্রতি মিনিট এবং ৳০.৯৬ প্রতি মিনিট প্রিপেইডে।
  • তবে ঝামেলা আছে এয়ারটেলের ইন্টারনেটে। পোস্টপেইডে ৳৩৫০.০০-এ ১ গিগা ডেটা, আবার প্রিপেইডে ৳৩১৬.২৫-এ ১ গিগা। পোস্টপেইডে বান্ডেল অপশন অনেক সীমিত।
  • অসমতা দেখা যায় টেলিটকেও, পোস্টপেইডে ৳০.৯৯ প্রতি মিনিট এবং প্রিপেইডে ৳০.৯০ প্রতি মিনিট।

শুধু বিল ছাড়াও পোস্টপেইড সংযোগ চালানোর আরও কিছু ঝামেলা আছে। এদের মধ্যে সবচাইতে বিরক্তিকর কয়েকটি হলো –

  • ক্রেডিট লিমিট থাকলেও কোম্পানি ভেদে ৭০-৮০% ব্যবহার হয়ে যাবার পরে কল করতে না দেয়া,
  • ক্রেডিট লিমিট পার হওয়ায় কোনো নোটিফিকেশন না আসা,
  • নগদ টাকা জমা রেখে ক্রেডিট লিমিট বাড়ানো,
  • ব্যাংকে বিল দিলেও সেটা সময়মতো এডজাস্ট না হওয়া,
  • ক্রেডিটকার্ড দিয়ে অটোডেবিট চালু করে রাখলেও সময়মত বিল না নিয়ে লাইন বন্ধ করে দেয়া, ইত্যাদি।

বিদেশে পোস্টপেইড সংযের সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশী। যেমন –

  • একজন পোস্টপেইড গ্রাহক অপারেটরের কাছ থেকে কিস্তিতে একটা দামী ফোন নিতে পারে, যা মাসের বিলের সাথে পরিশোধ করতে হয়।
  • প্রতি মিনিট বিল না গুনে নিজের ব্যবহারের উপর আন্দাজ করে একটা বান্ডেল কিনতে পারে, যাতে সে কল, এসএমএস, ইন্টারনেট সহ সব সুবিধা অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে পায়।
  • বছরে নতুন নতুন উপহার সহ অনেক কিছু।

বিটিআরসি অনেক কাজ করলেও আমার ধারণা এগুলিতে সমতা আনার জন্য কিছু করেনা, বা কখনো চোখেও দেখেনি যে এরকম একটা অসম ব্যবসা করে যাচ্ছে মোবাইল অপারেটরগুলি দিনের পর দিন।

পোস্টপেইড সংযোগ কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করেনা, যারা ব্যবহার করে, তাদের নুন্যতম কমিটমেন্ট থাকে অপারেটরের সাথে। পোস্টপেইড সিম কিনতে হয় বেশী টাকা দিয়ে, আবার সিকিউরিটি ডিপোজিট রাখতে হয়। কিন্তু তারপর কি লাভ!! ঐ টাকা ব্যাংকে ফেলে রাখলেওতো সুদ পাওয়া যাবে। তুষার ভাইর কথাইতো ঠিক।

*উপরের চার্জগুলি এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরের সাথে কল করার ক্ষেত্রে অনেকগুলি অপশনের মধ্যে সর্বনিম্নটি, এবং ভ্যাট ছাড়া।

ই-কমার্স সপ্তাহ

13 রবিবার জানু. 2013

Posted by Omi Azad in মন্তব্য, রিভিউ

≈ 12 Comments

গত ৫ জানুয়ারি ২০১৩ থেকে ঢাকায় প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছিলো ‘ই-কমার্স সপ্তাহ’। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর যৌথ উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনে ছিলো ই-কমার্স বিষয়ক প্রদর্শনী, সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক ও কনসার্ট (ফান্ড তো শেষ করতে হবে)।

E-Commerce Week Banner

‘অনলাইনে কেনাকাটা করুন, যেকোনো কিছু, যেকোনো সময়’ এটাই থিম ছিলো ই-কমার্স সপ্তাহের। কিন্তু বাস্তবটা কিরকম আমরা কী একটু দেখতে পারিনা? ই লেনদেনের কয়েকটা চিত্র দেখা যাক।

  • আমরা আমাদের দেশের ভিসা/মাস্টার/আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড দিয়ে অনলাইনে বিদেশ থেকে কিছু কিনতে পারিনা, শুধু হোটেল বুকিং দেয়া ছাড়া। সেটা কম-বেশী সবাই জানেন। এমনকি ট্রাভল কোটার ঐ কার্ডগুলি দিয়ে উড়জাহাজের টিকিট কেনা যায়না! উড়োজাহাজের টিকেট মনেহয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রাভল ডিকশনারিতে পড়েনা!!
  • আমেরিকায় গ্রেহাউন্ড বাসের কিয়স্ক থেকে টিকেট কিনতে পারিনি, কারণ সামনে কিয়স্ক থাকলেও পেছনের লেনদেন হচ্ছিলো ইন্টারনেটে।

এগুলি বিদেশের কথা। দেশী-বিদেশী লেনদেনে ঝামেলা হতেই পারে। আমি যদি ভুল না করে থাকি, তাহলে এই মূহুর্তে বাংলাদেশে কমার্শিয়াল ব্যাংকের সংখ্যা ৫০এর অধিক, দেখি সেগুলোর অবস্থা কী।

  • ই-কমার্স মানে শুধু কার্ড ব্যবহার করে অনলাইনে কেনাকাটা না, যদি বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা মনে করে, তাহলে আমাদের পাথরের যুগে চলে যাওয়া উচিৎ। ই-কমার্স সপ্তাহের ব্যানারে অন্তত সেরকম কিছুই লেখা আছে।
  • ৫০টি ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি ব্যাংকের অনলাইন সেবা আছে। অন্যদের থেকে থাকলে, হয় আমি জানিনা বা তারা সেগুলি প্রচার করতে বা সেবা দিতে আগ্রহী না। তো এই ১০টি ব্যাংকের অনলাইন সেবায় কী করা যায়? সেগুলি দিয়ে লেনদেন ও ব্যালেন্স দেখা যায়। ওহ্! মাঝে মাঝে আবার সার্ভার বন্ধ থাকে।
  • উক্ত ১০টি ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫টি ব্যাংক অনলাইনে বসে বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধের সুযোগ দিয়ে থাকে। কিন্তু যদি কোনো কারনে আপনি কিছু ভুল করে ফেলেন, আপনার টাকা আর ফেরৎ পাবেন না।
  • এই ৫টি ব্যাংকের মধ্যে ৩-৪টি ব্যাংক অনলাইনে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা লেনদেনের সুযোগ দিয়ে থাকে। তার মধ্যে ২টি ব্যাংকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই লেনদেন করা যায় এবং অন্যগুলিতে বহু কাঠ-খড় পুঁড়তে হয়, তার চাইতে সেবা না নেয়াই ভালো।

অনলাইন ব্যাংকিং এরকম হবার কারন কী? এবার দেখি দেশের ভেতরে ক্রেডিট/ডেবিড কার্ড ব্যবহারের অবস্থা!

  • এক ব্যাংকের মাস্টার ডেবিড কার্ড নিয়ে গেলাম অনলাইনে কিউবির বিল দিতে, কাজ হয়না। কাস্টমার কেয়ারে ঘ্যানর ঘ্যানর করার পরে জানলাম সেই ব্যাংকের ডেবিড কার্ড অনলাইনে ব্যাবহার করা যায়না!!!
  • আরেক ব্যাংকের ভিসা ডেবিড কার্ড নিয়ে গেলাম অনলাইনে ঐ বিলটি দিতে, কাজ হয়না। কাস্টমার কেয়ারে মা-বাবার নাম বলার পরে (ভেরিফিকেশনের জন্য) খানিকটা প্যাচাল পাড়তে হলো। ১০/১২ মিনিট লাইনে থাকার পরে তারা জানালেন সেই ব্যাংকেরও ডেবিড কার্ড অনলাইনে ব্যাবহার করা যায়না!!!
  • এবার একটা ভিসা ক্রেডিট কার্ড নিয়ে গেলাম ঐ বিল দিতে, একই ভাবে জন্ম তারিখ ও চৌদ্দগুষ্টির নাম শোনার পরে আমাকে বলা হলো তারা আমাদের নিরাপত্তার জন্য অনলাইন ট্রানজেকশন বন্ধ করে রাখেন। তবে এক্ষুনি খুলে দিচ্ছেন যাতে আমি বিলটা দিতে পারি। কিছুক্ষণ অপেক্ষায় রাখার পরে আপুটা কাজটা করতে না পেরে প্রচন্ড দুঃখ প্রকাশ করলেন (শুধু হাউমাউ করে কাঁদেননি) এবং আমাকে ঐ ফোনগুলি থেকে ফোন করতে বললেন যেগুলি এই কার্ডের সাথে নিবন্ধিত আছে। সেটাই যদি হবে, তাহলে জন্মতারিখ সহ চৌদ্দগুষ্টির নাম জিজ্ঞেস করার দরকার কী ছিলো?
  • ফোনে কথা হচ্ছিলো একটি ই-কমার্স দোকানের সাথে –
    : ভাই আমার কার্ডতো অনলাইনে ঝামেলা করে।
    : আপনি চেক আউটের সময় ‘ক্যাশ অন ডেলিভারী’ নির্বাচন করুন। আপনি অনলাইনে টাকা দিলে সেই টাকা আমার একাউন্টে আসতে মাস পার হয়ে যাবে, এর থেকে ক্যাশ নিতেই আমরা আগ্রহী!
  • সেদিন ফেসবুকেও দেখলাম, এক বন্ধু লিখেছে, “Bought StartupWeekend Student ticket from _____ but did not get any confirmation. Card is charged. I’ve complained by calling their number yesterday. they said they will inform me the status. but no further communication by them!!!”

কোনো ব্যাংক বলে সেন্ট্রাল ব্যাংকের নির্দেশে আমরা এরকম করছি, আমাদের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছিলো। একটা দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংক একটাই এবং নীতিমালাও এক, তাহলে একেক ব্যাংক একেক রকম কথা বলে কেন? কেউ সুযোগ দেবে কেউ দেবেনা এরকম হওয়া উচিৎ না।

অনেকে জেনে থাকবেন যে বিদেশে একটা একাউন্ট পে চেক জমা দিতে ব্যাংকে যেতে হয়না। বাসা থেকে চেক স্ক্যান করে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করলেই কাজ হয়ে যায়। বেসিস বা বাংলাদেশ ব্যাংক কি আদৌ এগুলি ঠিক করতে পারবে!

← Older posts

Categories

  • অ্যানড্রোয়েড
  • আইটি বিশ্ব
  • ই-কমার্স
  • উদ্ভট
  • ওপেন সোর্স
  • গল্প টল্প
  • গান বাজনা
  • গুগল্
  • গ্যাজেট
  • টিউটোরিয়াল
  • টেলিকম
  • বাংলা কম্পিউটিং
  • বাংলাদেশ
  • ব্যক্তিগত
  • মন্তব্য
  • মাইক্রোসফট
  • মিডিয়া রিভিউ
  • রিভিউ
  • সফটওয়্যার রিভিউ

Recent Posts

  • ভাব-গাম্ভীর্যের জন্মগত অভিনেতা, বিতর্ক আর লিগ্যাসি
  • কারা ধ্বংস করল বাংলাদেশি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি?
  • ডাক্তার শায়লা শামিম ও মনোয়ারা হাসপাতালের অভিজ্ঞতা
  • ই-কমার্স – বাংলাদেশ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ!
  • Install Google Apps and Play Store on Nokia X, X+ and XL

Proudly powered by WordPress Theme: Chateau by Ignacio Ricci.