ফিরে চাওয়া ২০০৯

Tags

, ,

বসে বসে ভাবছিলাম কি কি করেছি এই গত ১ বছরে যেটা সবার সাথে শেয়ার করা যায়। সেটারই একটা তালিকা তৈরী করলাম 🙂

  • সিগারেট খাওয়া বাদ দিয়েছি!
  • বহু কষ্টে আমার ইউএমপিসি’র হাত থেকে রেহাই পেয়েছি!
  • কল সেন্টারে কাজ করা বাদ দিয়েছি!
  • দ্বিতীয়বার সিলেট, জাফলং বেড়াতে গিয়েছি।
  • প্রথমবার শ্রীমঙ্গল বেড়াতে গিয়েছি।
  • প্রথমবার সাত রঙের চা খেয়েছি।
  • একটি ক্রিয়েটিভ সাউন্ড ব্লাস্টার এক্স-ফাই টাইটেনিয়াম ফিটালিটি প্রো সাউন্ড কার্ড পেয়েছি।
  • ক্রিয়েটিভ গিগাওয়ার্কস জি৫০০ সাউন্ড সিস্টেম কিনেছি।
  • প্রথমবার আমার নীচের ফ্লোরের ভাড়াটিয়া অভিযোগ করতে এসেছে আমার রাতের বেলা ধুম ধাম শব্দে সিনেমা দেখা নিয়ে!
  • কম্পিউটারে কোয়ার্ড কোর প্রসেসর লাগিয়েছি।
  • অনেক ঘাঁটা ঘাঁটি করার পর উইন্ডোসের ৬৪বিট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার শুরু করেছি।
  • বাপিকে আম্মুর বদলি হজ্জ করতে পাঠিয়েছি।
  • সিনেমা দেখা কমিয়েছি (ইচ্ছা করে কমাইনি, কাজের চাপে সিনেমা দেখা কম হয়েছে 🙂 )।
  • ১৬৪টা সিনেমা দেখেছি।
  • ইবানকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছি।
  • প্রখমবারের মতন বাংলাদেশে মাইক্রোসফট ডে এট্ ঢাকা উদযাপন করেছি ২০ জুন ২০০৯ তারিখে।
  • এক্সনেটের ইন্টারনেট ব্যবহার বাদ দিয়েছি। কোম্পানীটার ম্যানেজমেন্ট বেয়াদব হয়ে গিয়েছে, আর বেয়াদবের সাথে থাকা যায়না।
  • কিউবি’র ওয়াইম্যাক্স ব্যবহার শুরু করেছি।
  • পাঁচটি মোবাইল ফোন কিনেছি! (একটি আমার বৌ-এর নোকিয়া ৬১২০ ক্লাসিক, আমার একটি নোকিয়া ৫৮০০, একটি আমার স্যামসং অনমিনয়া বি ৭৩৩০ উইন্ডোস ফোন (এই ফোনটা এতই জঘণ্য যে পরে ৫০০০ টাকা লস করে নোকিয়া ৫৫৩০ এর সাথে বদলাতে হয়েছে), আরেকটি গ্রামীণের নাম্বারটি চালু রাখার জন্য কিনে ফেলে দিতে হয়েছে নোকিয়ার জঘণ্য কোয়ালিটির সস্তা সেট। পরে আরও একটা কিনেছি নোকিয়ারই ২৩২৩ ক্লাসিক)
  • প্রথমবার যমুনা রিসোর্ট বেড়াতে গিয়েছি।
  • তিন বছর পরে পরিবারে একে অপরকে ছেড়ে দূরে থাকলাম।
  • একটি ৩২ গিগা ফ্ল্যাশ ড্রাইভ হারিয়েছি।
  • একটি ৩২ গিগা ফ্ল্যাশ ড্রাইভ নষ্ট করেছি।
  • উইন্ডোস সেভেন লঞ্চ করেছি ৭ নভেম্বর ২০০৯ তারিখে।
  • স্টিভ বালমারের সিগনেচার এডিশন উইন্ডোস ৭ সহ লঞ্চ বক্স পেয়েছি।
  • মাইক্রোসফট কানেক্টে উইন্ডোস সেভেনের ফিডব্যাক দেবার জন্য আরেকটি উইন্ডোস সেভেনের বাক্স পেয়েছি।
  • জন হান্নার কাজকে লাখি মেরেছি (এরকম ক্লায়েন্টের পাছায় সবারই লাথি মারা উচিৎ, কিছু কুত্তার বাচ্চা ব্রিটিশ এখনো অন্যদেরকে গোলামের চোখে দেখতে ভালোবাসে, সামনে এদের পাছায় লাথি মারা দরকার)
  • বোর্ড অফ ইনভেস্টমেন্টের কাজটা আবার শুরু করেছি, মনে হয় জন হান্নার বেয়াদবিতে এই কাজটাও বাজে একটা কাজ হবে। তবে কাজ শেষ করার আগেই আমাকে এটা ছেড়ে দিতে হবে। বেয়াদবের সাথে কাজ করা খুব কঠিন।
  • মাইক্রোসফটের ফুল টাইম হিসেবে কাজ করা শুরু করেছি।
  • দু’টি নেটবুক কিনেছি।
  • বর্ণকে একটি নেটবুক গিফ্ট করেছি।
  • ভাইয়াকে একটি নেটবুক গিফ্ট করেছি।
  • ছোটো বেলা শিখেছিলাম ৬০ সেকেন্ডে এক মিনাট, ৬০ মিনিটে এক ঘন্টা, ২৪ ঘন্টায় ১ দিন। সেটা এবছর কাজে লাগেনি। বছরের শেষ দিনটি ছিলো ২৫ ঘন্টার। 🙂
  • এই ব্লগটা লিখেছি

🙂

বাংলালায়নে ফোনে একদিন

Tags

, , , , , , ,

গতকালকে প্রথম আলোতে বিশাল বিজ্ঞাপণ দিয়েছে বাংলালায়ন। আমি কিউবি ব্যবহার করছি, কিন্তু চিন্তা করলাম দেখি এদের কি অবস্থা। ফোন দিলাম ওদের নম্বরে (হট্‌লাইনে), এক মহিলা ধরলেন গলার স্বর সেক্সি না। কেনাকাটার ব্যপারে কোথাও ফোন করে যদি সেক্সি স্বরের মেয়ের সাথে কথা না হয় ভালো লাগেনা। এখানে একটা পরামর্শ দিয়ে রাখতে চাই, কেউ যদি ভালো ব্যবসা করতে চান, তাহলে টেলিফোন অপারেটরের কন্ঠ অবশ্যই সেক্সি দেখে নিয়োগ দেবেন এবং শো-রুমেও সেক্সি মেয়েদের (চিকন, খানিকটা লম্বা এবং ফর্সা হলেই চলে আমাদের দেশে) নিয়োগ দেবেন; ব্যবসা ভালো হবে। যাই হোক, আলাপ আলোচনা কি হলো সেটা বলি-

  • অপারেটর: হ্যালো!
    • যখন আমি কিছু কেনার উদ্দেশ্যে ফোন দিয়েছি আমি আশা করছিলাম আমাকে গুড মর্নিং বা আসসালামুআলাইকুম জাতীয় কিছু বলবে, শুধু হ্যালো আমি আশা করি নাই।
  • আমি: আচ্ছা আপনাদের সেলস্ বা মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের সাথে কথা বলতে পারি?
  • কোথা থেকে বলছেন?
    • সাথে প্লিজ বললে ভালো করতেন, কিন্তু বলেন নাই।
  • অমি আজাদ বলছি, মাইক্রোসফট থেকে।
    • ভাবলাম আমার প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করলে একটু বেশী গুরুত্ব পাবো, কিন্তু পরবর্তী আলোচনায় সেরকম কোনো লক্ষণ দেখলাম না।
  • আপনি আমাকেই বলতে পারেন, আমি প্রয়োজন মনে করলে ফরোয়ার্ড করবো টিমের কাছে।
  • আচ্ছা আপনারা যে পত্রিকায় বিজ্ঞাপণ দিয়েছেন, আপনারা কি কার্যক্রম শুরু করেছেন?
  • জ্বী।
  • আপনারা কি উত্তরাতে লাইন দিচ্ছেন বা গুলশানে?
  • দিচ্ছি কিন্তু সবখানে ঠিকমতন লাইন পৌছেনি, আমাদের কাজ চলছে, আপনি আমাদের ওয়েব সাইটে গিয়ে দেখতে পারেন আপনার এলাকা আমাদের আওতায় আছে কি-না।
  • আপু, আমার তো এখন ইন্টারনেট সংযোগ নেই, আপনি যদি একটু দেখে বলতেন।
    • মিথ্যা বলার জন্য দুঃখিত, আমার টার্গেট ছিলো ওদেরকে যাচাই করা, তাই বলতে হয়েছে।
  • আপনাকে আমাদের সাইটে গিয়েই দেখতে হবে, এটাই সিস্টেম করেছি আমরা।
  • আমার যে এখন ইন্টারনেটের লাইন নাই!
  • আপনি অফিস বা সাইবার ক্যাফে থেকে বাংলালায়নওয়াইম্যাক্স ডট কম সাইটে গিয়ে দেখতে হবে।
    • এখানে আমি লক্ষ্য করলাম মেয়েটা প্লিজ বললো না, প্লিজ বললেই কিন্তু ল্যাটা চুকে যায়!
  • আচ্ছা, আপনারা কি কি মডেম দিচ্ছেন আর কিভাবে সংযোগ নিবো?
  • আমরা তিন রকমের মডেম দিচ্ছি, ডিপেন্ড করে আপনার অবস্থান এবং আমাদের কাভারেজের উপরে। ইউএসবি ৩৫০০ টাকা, ইনডোর মডেম ৪০০০ এবং আউটডোর মডেম ১০০০ টাকা দাম।
  • আচ্ছা ইনডোর আর আউটডোর মডেমে কি রাউটার বিল্ট-ইন?
  • এটা ঠিক বলতে পারবো না।
  • না মানে কিউবি যেই সিমেন্স গিগাসেটের মডেমটা দিচ্ছে সেটা রাউটার হিসেবে কাজ করে, আপনি ওখান থেকে লাইন নিয়ে একটা সুইচ বা হাবে লাগিয়ে অনেকগুলি মেশিনে একসাথে চালাতে পারবেন। আপনাদের কি সেরকম সুবিধা আছে?
  • আমি ঠিক বলতে পারছি না।
  • আপনি কি এরকম কাউকে দেবেন যে বলতে পারবে?
  • এটা আপনি সচাইতে ভালো জানতে পারবেন আমাদের যে প্রমোশনাল এক্সপিরিয়েন্স কার আছে সেখানে জিজ্ঞেস করলে।
    • এক্সপিরিয়েন্স কার কথাটা হুবহু নাও মিলতে পারে, কি নাম বলেছিলো হুবহু মনে পড়ছেনা।
  • সেটা আবার কি?
  • বিভিন্ন এলাকায় আমরা আমাদের প্রমোশনাল এক্সপিরিয়েন্স কার পাঠাচ্ছি, একটা মাইক্রোবাসের মধ্যে আমাদের ডিভাইস, কম্পিউটার ইত্যাদি দিয়ে। আপনি সেখানে আমাদের সেবা ব্যবহার করে দেখতে পারেন এবং ওখানে অনেক তথ্য দেয়া আছে, আশাকরি ওরা আপনার প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে।
  • আচ্ছা, আমি লাইন নিতে কোথায় যাবো?
  • আপনার রেজিস্ট্রেশন নম্বরটা কত?
  • কোন রেজিস্ট্রেশন নম্বর জানতে চাইছেন?
  • আপনি কি অনলাইনে আমাদের ওয়েব সাইটে রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন?
  • করেছিলাম বছরখানেক আগে, নম্বরটাতো লিখে রাখিনি।
  • যাই হোক সমস্যা নাই, আপনি যেই এলাকা থেকে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, সেই এলাকা ধরে আমরা লটারি করবো। লটারিতে যাদের নাম উঠবে আমরা তাদের ফোন করে জানাবো তাদের এলাকায় বা কাছাকাছি কোখায় কবে আমাদের এক্সপিরিয়েন্স কার থাকবে, তারা সেখানে গিয়ে লাইন নিতে পারবেন।
    • এমন মনে হলো বাংলালায়ন লটারি করে নির্বাচন করবে কোন কোন দরিদ্র/দুস্থ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী(দের)কে লাইন দেয়া যায়। দয়া করে তাদেরকে লাইন দেবে এবং সেই দয়া পেয়ে দরিদ্র/দুস্থ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জীবনধারা পাল্টে যাবে।
  • আচ্ছা।
  • আর কি কিছু জানতে চান?
  • না ঠিক আছে, আমার এলাকায় লাইন আসলেতো আমি জানতেই পারছি। ঠিক আছে, আপনাকে ধণ্যবাদ।
    • কিছু বোঝার আগেই খটাস্ করে ফোন রেখে দিলেন ভদ্রমহিলা!

আমার মনেহয় এদের অনেক কাঠ খড়ি পুড়াতে হবে সেবা দিতে, তথ্য দিতে এবং ব্যবহার ঠিক করতে। এখন কিন্তু একটা রিক্সাওয়ালাও ব্যবহার বোঝে এবং ভালো ব্যবহার আশা করে। “এই ব্যাটা যাবি” বললে রিক্সাওয়ালা নিয়ে যেতে চায়না যদি খুব বাঁটে না পড়ে। আর আমি কি মনে করে এদের সেবা নিবো! যারা ফোনেই ঠিক করে কথা বলেনা।

সবচাইতে খারাপ জিনিসটা হলো এদের সাইটের স্পিড মিটার, যা কিনা আপানার ইন্টারনেট সেবার গতি পরীক্ষা করে বলবে আপনার বর্তমান সংযোগের গতি কত। চালাকি করে সেটার মাপের ধরণ কমিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে আপনর ইন্টারনেট সংযোগের গতি আপনি কম দেখেন। বিশ্বাস না করলে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। 🙂

খেলা তো কেবল জমবে, মার্চে ব্র্যাকনেট কি এক আহামরি মোবাইল প্রযুক্তি নিয়ে আসবে শুনলাম। আমাদের কাজ দেখা আর মজা নেয়া। প্রতিযোগিতা না থাকলে মজা নাই।

জাগরণের গান – ৭১টি দেশের গান নিয়ে একটি সংকলন

Tags

, , , , , , , , , , , , ,

অনেকেই জানেননা যে আমার ক্যরিয়ার (টাকা কামাই করার) শুরু করেছিলাম আমার শহরের ক্যাসেটের একটি দোকানে কাজ করে। যখন আমাদের বিশেষ দিনগুলি আসতো, (যেমন ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর) তখন অনেকেই দেশাত্ববোধক গান খোঁজ করতেন এবং কিনতেন। তখন (কিছুদিন আগ পর্যন্ত) একটাই ক্যাসেট বাজারে পাওয়া যেতো। অনেক পুরাতন রেকোর্ডিং, সেটাকে কপি করতে করতে আরও খারাপ অবস্থা। সেগুলি মাইকে বাজানোর জন্য ঠিক আছে, কিন্তু কালেকশন করে রাখার মতন অবস্থায় নাই। বিশ্বাস করতে খারাপ লাগে, কিন্তু আমাদের জাতীয় সঙ্গীতেরই কোনো ভালো রেকোর্ডিং সংগ্রহে ছিলো না।

এই জাগরণের গান এলবামটি বাংলাদেশী সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য সত্যই চরম ভালো একটি উদ্দ্যোগ হয়েছে। লোম দাঁড় করানো এই দেশের গানগুলি এভাবে পেয়ে যে আমি কত খুশি হয়েছি তা বলে বোঝাতে পারবো না। বাংলার জন্য, দেশের জন্য একটি দুটি নয়, ৭১টি গানের সংকলন নিয়ে তৈরী এই এলবামটি।

পরীক্ষামূলক শোনার জন্য মাত্র 96kbps-এ গানগুলি এখানে দিলাম, আমি আশা করবো গানগুলি ভালো লাগলে অবশ্যই ছয় সিডির এই এলবামটি কিনে শুনবেন এবং কোনো অবৈধ উৎস থেকে ডাউনলোড করে শুনবেন না।

Continue reading »

Brigade 71 – The Echoes of 71 দারুন একটা এলবাম

Tags

, , , , , , , , , , , , , , , , , ,

মহান বিজয়ের এই দিনে এর চাইতে বড় আর কি উপহার হতে পারে! বাংলার বিভিন্ন সংগ্রামে বাংলার জন্য যেসব গান হয়েছিলো সেগুলিকে যুগের চাহিদায় নতুন করে তৈরী করেছে ব্রিগেড সেভেন্টিওয়ান নামের একটি ব্যান্ড। শোনার জন্য গানগুলি আমি এখানে দিচ্ছি

[audio:http://omi.net.bd/files/media/Echos/01.mp3]
১ – তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর-

[audio:http://omi.net.bd/files/media/Echos/02.mp3]
২ – আবার যুদ্ধ

[audio:http://omi.net.bd/files/media/Echos/03.mp3]
৩ – সাদা কালো

[audio:http://omi.net.bd/files/media/Echos/04.mp3]
৪ – নোঙ্গর তোল

[audio:http://omi.net.bd/files/media/Echos/05.mp3]
৫ – রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি

[audio:http://omi.net.bd/files/media/Echos/06.mp3]
৬ – সোনায় মোড়ানো বাংলা

[audio:http://omi.net.bd/files/media/Echos/07.mp3]
৭ – একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে

[audio:http://omi.net.bd/files/media/Echos/08.mp3]
৮ – দূর্গম গিরি

[audio:http://omi.net.bd/files/media/Echos/09.mp3]
৯ – পূর্ব দিগন্তে

পাঠকদের কাছে অনুরোধ থাকলো গানগুলি ডাউনলোড করে শুনবেননা। একটি সিডির দাম মাত্র ৬০ টাকা, অনুগ্রহ করে কিনে গান শোনার অভ্যাস করুন।

ওয়াইম্যাক্স – আশায় গুড়েবালি!

Tags

,

অনেক হৈ চৈ পড়েছিলো দেশে যে ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তি আসছে! আগা মাথা না বুঝেই লাফা লাফি শুরু হলো পাবলিকের (যেটা হয় সবসময়)। সবার ধারণা হলো, গরীব এই দেশে অল্প টাকায় অনেক দ্রুত গতির ইন্টারনেট পাবার এটাই একটা উপায়! কেউ এটা বুঝলো না যে ব্যান্ডউইড্‌থ নামে একটা জিনিস এই সেবার সাখে জড়িত, যা আমাদের দেশে এখনো অনেক মূল্যবান এবং ওয়াইম্যাক্সের মাধ্যমে সেটাই গ্রহণ করতে হবে। তাই সেটার দাম বেশী থাকলে কখনো কম দামে সেবা পাওয়া যাবে না।

ঐ যে বললাম, আগা মাথা কোনো জ্ঞান নাই, আজাইরা লাফা লাফি। আমাদের সরকার আবার প্রায় দুইশত পনেরো কোটি টাকার নিয়ে লাইসেন্স নিলাম করে একে অপরের পিঠ চাপড়ায় নিজেদেরকে বাঘের বাচ্চা মনে করে। এটা একবারও মাথায় আসলোনা যে এই টাকা কোম্পানী ব্যবসা শুরু করে সাধারণ মানুষদের চিপা দিয়ে বের করে নিবে। অনেকে কথাটা বলেছিলো শুরুতে, আমাদের দেশে কে কার কখা শোনে!

শুরুতে তিনটা কোম্পানী লাইসেন্স নিলেও এখন টিকে আছে দু’টা। এই বছর শুরুর দিকে বাংলা লায়ন (সাইটটিতে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৬ দিয়ে যাবেন না, ভাইরাস আছে) অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন শুরু করে, কিন্তু অপারেশনে আসার খবর নাই। কয়েকজন এরই মধ্যে বাংলা লায়নের পরীক্ষামূলক সংযোগ পেয়াছে। এদের সেবার মান সত্যই সবার জন্য হতাশা জনক। এই লাইন থাকার চাইতে না থাকা ভালো। ল্যাপটপে ইউএসবি ডঙ্গল লাগিয়ে রাস্তায় চলমান অবস্থায় নেটওয়ার্ক থাকে না যেসব এলাকায় নেটওয়ার্ক আছে। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে নেটওয়ার্ক আসে। কি হাস্যকর!

পরে অওগের নামের একটি কোম্পানী কিউবি ব্র্যান্ড নাম নিয়ে ব্যবসা আরম্ভ করে। এরাও ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলে দাবি করে। একবার যদি আমরা ওয়াইম্যাক্স নিয়ে লেখাপড়া করি তাহলে বুঝতে পারবো এই প্রযুক্তি আসলে কি। ওয়াইম্যাক্স অর্থ হলো, আপনি উচ্চ গতির ইন্টারনেট বা ডেটা ব্যবহার করতে পারবেন চলমান অবস্থায়। কিউবি সেখানে প্রথমবার হতাশ করলো। তাদের বিশাল সাইজের মোডেম নাকি জানালার কাছে রাখতে হবে, নাইলে কাজ করেনা। ইন্টেল যখন আইইইই-এর একটি কনফারেন্সে ওয়াইম্যাক্স বর্ণনা করছিলো, তখন বলেছিলো, যত বাঁধাই থাকুক, ওয়াইম্যাক্স দেবে লাস্ট মাইল পারফরমেন্স। তাহলে জানালায় কেনো!

আবার ট্যারিফ দেখলে মাথা নষ্ট! লাইন নিতেই দিতে হবে সাত হাজার টাকা। পারে মাসে মাসে সস্তা কোনো প্যাকেজ নাই, নাই আনলিমিটেড প্যাকেজ। আসলে ওদেরও তেমন কোনো দোষ নেই। একে তো চড়া দামে লাইসেন্স কিনেছে, তার উপরে এক মেগা ব্যান্ডউইড্‌থের দাম প্রায় একুশ হাজার টাকা। ওরাই বা কি করবে, কতই বা গতি দেবে, কতই বা টাকা কম নেবে। ব্যবসা করে তো চলতে হবে।

আমাদের দেশেই ইন্টারনেটের অবস্থা শোচনীয়। সেদিন আমার এক বন্ধু বললো, “বাংলাদেশে ইন্টারনেট এখনো বড়লোকদের বিলাসিতা।” কথাটা মাঝে মাঝে খুবই সত্য মনে হয়। আমি বলছিনা আমাকে ট্রান্সফার লিমিট ছাড়া পাঁচশত টাকায় এক মেগা লাইন দিক। কিন্তু সেবার একটা ন্যুনতম মান থাকা দরকার। আজকে কিন্তু আমরা যে কেবল টিভি দেখি, সেটারও একটা মান আছে, একটা নীতিমালা আছে। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো ইন্টারনেটের ন্যুনতম কোনো নীতিমালা নেই। যে যেমন চাইছে তেমন লাইন দিচ্ছে, অনেক টাকা দিয়ে সংযোগ নিলেও সেবা পাওয়া যায় না, ঝামেলার শেষ নাই। সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও কেউ মানে, কেউ মানে না।

আইটি লাইনের সবাই অনেক আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছে যে এটার একটা সমাধান আসবে, আমরাও একসময় আলো’র মুখ দেখবো।