পিওরটেক্সট্ – ভীষণ কাজের একটা কপি পেস্ট টুল

আমাদের প্রয়োজনে আমরা অনেক সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে লেখা কপি পেস্ট করি। যেমন একটি ওয়েব পেইজ থেকে আমারা প্রয়োজনে কিছু লেখা কপি করতে চাই একটি ওয়ার্ড ডকুমেন্টে। ঝামেলাটা হয় লেখার সাথে লেখার সাথে থাকা অপ্রয়োজনীয় জিনিস চলে আসে (যেমন ইউআরএল), যেটা আমরা রাখতে চাইনা। আবার দেখা যায় আমরা এক ডকুমেন্টের লেথা আরেক ডকুমেন্টে নিতে চাই, কিন্তু লেখার সাথে যে ফরম্যাটিং আছে সেটা আমি রাখতে চাইনা।

এই পরিস্থিতিগুলিতে সাধারণত আমরা লেখা আগে নোটপ্যাডে পেস্ট করি আবার সেখান থেকে কপি করে নিয়ে ওয়ার্ডে বা অন্যখানে পেস্ট করি, যাতে লেখার সাথে ফরম্যাটিং বা অন্যান্য আবর্জনা চলে না আসে।

এই জটিলতার অবসান ঘটাতে আমরা একটা ছোট্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারি, যার নাম পিওরটেক্সট্। সফটওয়্যারটি পাওয়া যাবে এখান থেকে। সফটওয়্যারটি চালিয়ে রাখলে উইন্ডোসের সিস্টেম-ট্রে’র মধ্যে বসে থাকে আর কোনো ঝামেলা করে না। স্বাভাবিকভাবে Ctrl+C দিয়ে কপি করে নেয়া যে কোনো লেখা Windows Key+V দিয়ে পেস্ট করলেই পরিস্কার টেক্সট্ পেস্ট হয়ে যাবে।


আপনি চাইলে Windows Key+V এর বদলে অন্য কিছুও ব্যবহার করতে পারেন। আামার খুব কাজে লেগেছে, আশাকরি আপনাদেরও কাজে লাগবে সফটওয়্যারটি।

ভাওতাবাজির চরমে সিটিসেল (ShittyCell)

Tags

, , , , ,

একটা কোম্পানি কত বাটপার হতে পারে তা সিটিসেলকে দেখলে বোঝা যায়। এই সপ্তাহে ওরা একটা নতুন হ্যান্ডসেট বাজারে ছেড়েছে যার নাম স্যামসং এবসোলিউট। সেটটির বর্তমান মূল্য ১০,৪৫০ টাকা আর ব্লুটুথ হেডফোন সহ এর দাম ১১,৮৫০ টাকা। ফকির মিসকিন ছাড়া ভালো মানুষের কথাও মনেহয় এরা এখন নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে! কারণ কিছুদিন আগে আমার বৌকে সিটিসেলের ZTE C332 সেটটা দিতে চাইলে আমাকে বলে, ইবানের স্কুলের সামনে এক মহিলা পুঁথির মালা বিক্রি করতে আসে, সে এই সেট চালায় আমি কিভাবে এটা চালাবো।” এই তো সিটিসেলের অবস্থা!

যে কারণে এই পোস্টটি লিখছি সেটাতে আসি। আমার ধারণা সিটিসেল এই সেটটা তাদের অফিসে বসে বানিয়েছে বা দেশের কোথাও কারখানা ভাড়া করে সেখানে বানাচ্ছে। কারণ সেটটা সম্পর্কে অনেক ধরণের কীওয়ার্ড ব্যবহার করে গুগলে খোঁজাখুঁজি করলাম, কিন্তু কোনো লাভ হলো না। গুগল্ এটা চেনে না। ভাবলাম এক্কেবারে নতুন সেট তাই গুগল্ এটা চেনে না। তাই এই সেটের পেছনে দেয়া ইউআরএল samsungmobile.com-এ গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আমি এই সেটের কোনো হদিস পেলাম না। তার পরেও আমি ভারতের CDMA সেবা প্রদানকারী কোম্পানিদের ওয়েব সাইটে গিয়ে এই ফোন বের করার চেষ্টা করলাম, কোনো লাভ হলো না। সুতরাং আসলেই এই নামে পৃথিবীতে কোনো সেট নাই।

এরপরে লক্ষ্য করলাম এক আজিব জিনিস সেটটার হেডফোনের কন্ট্রোলে মিরর ইমেজে Samsung লেখা এবং হেডফোনের জ্যাকেও Made in China মিরর ইমেজে লেখা। নিজের চোখে দেখার জন্য এখানে ক্লিক্ করুন।

ব্যাস আমার ধারণাই সত্য হয়ে গেলো। প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড স্যামসং এবসোলিউট নামে যে মোবাইলটি বাজারে বিক্রি করছে সেটার সাথে স্যামসং কোম্পানির আদৌ কোনো সম্পর্ক নাই। এরা কোনো চাইনিজ কোম্পানিকে দিয়ে এটা বানিয়ে নিয়ে ঐ নামে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে প্রতারণা করছে যার সম্পর্কে আমরা অনেকেই অবগত না।

এরকম ব্যবসা আজ থেকে ৫/১০ বছর আগে করলে একটা কথা ছিলো, কিন্তু এখন আমরা অনেক সচেতন। যোগাযোগ আজকে উন্মুক্ত চাইলেই এই বাটপারদের ধাপ্পাবাজী থেকে আমরা অবগত
থাকতে পারি।

সুতরাং আপনার যতই প্রয়োজন থাক, আগে সত্যতা যাচাই করুণ এবং তারপরে এই তৃতীয় শ্রেণীর সেটটি কিনবেন কি-না ভাবুন।

সবচাইতে সুন্দর বাংলা ফন্ট উইন্ডোস সেভেনে

Tags

, , , , , , , , ,

বাংলা নিয়ে মাইক্রোসফট কাজ করছে বেশী দিন হয়নি। উইন্ডোস এক্সপি সার্ভিস প্যাক ২ এর সাথে প্রথম বাংলা ফন্ট দিয়েছিলো মাইক্রোসফট, পরে সেটার মান আমাদের বেশ হতাশ করে। কিন্তু সেখানেই শেষ না, বৃন্দা নামের সেই ফন্টটিকে মাইক্রোসফট এরই মধ্যে অনেক ঘষা মাজা করে ভিস্তায় সুন্দরভাবে উপস্থিত করে। উইন্ডোস ভিস্তা ব্যবহারকরীরা কোনো বাংলা ফন্ট ইনস্টল করা ছাড়াই বাংলা ব্যবহার করা যায়, কিন্তু উইন্ডোস সেভেন দিচ্ছে আশার চাইতে আরেকটু বেশী।

উইন্ডোস সেভেনের সাথে আসছে সোনার বাংলা নামের একটি ফন্ট। এক কথায় আমি বলতে চাই This is the best Bangla font ever created on earth so far.

মাইক্রোসফট চাইলে অনেক আগে এই ফন্টটা আমাদের দিতে পারতো। কারণ এই ফন্টে যেই অক্ষরগুলি ব্যবহার করা হয়েছে,  মনোটাইপের তৈরী করা সেই অক্ষরগুলি Arial Uni MS নামের ফন্টের মধ্যে অফিস ২০০০ থেকেই ছিলো। নয় বছর পরে সেটাকে ব্যবহার উপযোগী করে “সোনার বাংলা” নামে উপস্থিত করেছে মাইক্রোসফট।

ফন্টটির নমুনা:

সংগ্রহ করুন উবুন্টু জন্টি জ্যাকোল্প (৯.৪) ডিভিডি বিনামূল্যে

Tags

, , , ,

আমার ব্লগের পাঠকরা এবং লিনাক্স ব্যবহারকারীরা অনেকেই জানেন যে প্রতিবার উবুন্টু লিনাক্সের নতুন সংস্করণ আসার সাথে সাথে আমি এর ডিভিডি বিনামূল্যে কিছু সহজ শর্ত সাপেক্ষে বিতরণ করে থাকি।

গত ২৩ এপ্রিল ঝাকানাকা কিছু ফিচার নিয়ে বের হয়েছে উবুন্ট লিনাক্সের নতুন সংস্করণ জন্টি জ্যাকোল্প, সেদিনই বিভিন্ন মেইলিং লিস্টে সবাইকে জানিয়েছিলাম যে আমি ডিভিডি বিতরণ শুরু করবো গত রবিবার থেকে। কিন্তু নানা ব্যস্ততার জন্য ডিভিডি সংগ্রহ হয়ে গেলেও ঘোষণা দেয়া হয়ে ওঠেনি।

যাই হোক এক নজর দেখে নেই আমার কাছ থেকে কিভাবে পাবেন এই ডিভিডি:

  • ডিভিডি গ্রহণে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে অবশ্যই একটি ফাঁকা (Blank) ডিভিডির বিনিময়ে উবুন্তু জন্টি জ্যাকল্প ডিভিডি সংগ্রহ করতে হবে।
  • বিনিময়কৃত ডিভিডিতে কোনো অবস্থাতেই কোনো দাগ থাকা চলবে না, সুতরাং কেনার সময় পর্যবেক্ষণ করে ক্রয় করুন।
  • আমার কাছ থেকে ডিভিডি নেয়ার পরে যদি সুযোগ থাকে তাহলে অবশ্যই সেটার অনুলিপি বা কপি করে বিতরণ করতে হবে।
  • গ্রাহককে ডিভিডি বাংলাদেশের ভেতরে যে-কোনো ঠিকানায় ডাক বা কুরিয়ার যোগে পাঠানো যাবে, সেই ক্ষেত্রে গ্রাহককে আগে ফাঁকা ডিভিডি আমার ঠিকানায় পাঠাতে হবে এবং ডাক বা কুরিয়ার মাসুল গ্রাহককেই বহন করতে হবে। এই ক্ষেত্রও দ্বিতীয় শর্তটি প্রযোজ্য হবে।
  • বাংলাদেশের বাহিরের কোনো গাহকের অনুরোধ গ্রহণ করা হবে না। তাদের ইন্টারনেটের গতি যথেষ্ট ভালো, তাই তাদেরকে ডাউনলোড করে নিজ এলাকায় বিলি করার জন্য উৎসাহিত করা হলো।
  • গ্রাহক শুধু ফাঁকা ডিভিডির বদলেই উবুন্তু জন্টি জ্যাকল্প সংগ্রহ করতে পারবেন, এই লেনদেনে কোনো প্রকার টাকা-পয়সা অন্তর্ভুক্ত থাকবে না।
  • একজন গ্রাহক শুধু একটি ডিভিডি গ্রহণ করতে পারবেন, বন্ধ বা স্বজনের জন্য অনুরোধ গ্রহণযোগ্য না। সেই ক্ষেত্রে ডিভিডি গ্রহণের জন্য বন্ধু বা স্বজনকে আসার জন্য উৎসাহিত করা হলো।
  • ডিভিডি বিনিময়ের সময় সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, এর পরে কোনো রকম সাক্ষাত বা ফোন কল না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
  • (ঐচ্ছিক) আমি মাঝারি মানের ডিভিডি সরবরাহ করি, তাই আপনাদের অনুরোধ করা হলো একেবারেই সস্তা দামের ফাঁকা ডিভিডি দেবেন না। কারণ আপনার দেয়া ডিভিডিটাই কিন্তু আমি রাইট করে আরেক ভাইকে দেবো। বিষয়টা অনুগ্রহ করে মাথায় রাখবেন।


উক্ত শর্তগুলি গ্রহণ করতে পারলে অনুগ্রহ করে ০১১ ৯৯৩৮ ১০০৫ নম্বরে ফোন করে “রুশো” এর সাথে যোগাযোগ করে স্থান এবং সময় নির্ধারণ করে ডিভিডি সংগ্রহ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

উল্লেখ্য যে আমার কাছে উবুন্তু জন্টি জ্যাকল্প এর ডিভিডি ছাড়াও কুবুন্তু জন্টি জ্যাকল্প এর ডিভিডি আছে। এইগুলি সংগ্রহ করতে হলে “রুশো” এর সাথে যোগাযোগ করে প্রথমদিন ফাঁকা সিডি দিয়ে যেতে হবে এবং পরেরদিন সেই সিডি (বিষয়বস্তু সম্বলিত) ফেরৎ নিতে হবে। তবে সিডির ক্ষেত্রেও উপরোক্ত শর্তগুলি প্রযোজ্য হবে।

কিছুদিন আগে উবুন্টু জন্টি জ্যাকোল্পের ডেক্সটপ নটিফিকেশন ৩টি নমুনা পাবলিশ করা
হয়েছিলো, সেগুলি একবার দেখতে পারেন নমুনা ১, নমুনা ২, নমুনা ৩ লিঙ্কসমূহ থেকে।

মাইক্রোসফট শেয়ারপয়েন্ট ডিজাইনার ২০০৭ এক্কেবারে বিনামূল্যে

Tags

, , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

খুব সহজে মাইক্রোসফট বিনামূ্ল্যে কিছু দেয়না। আর দিলেও তা সীমিত সংখ্যক মানুষ বা কোম্পানি পেয়ে থাকে।

তবে মাইক্রোসফটও মাঝে মাঝে একটু পাগলামী করে। তার নমুনা হচ্ছে অফিস শেয়ারপয়েন্ট ডিজাইনার ২০০৭ তারা এক্কেবারে বিনামূল্যে বিতরণ শুরু করেছে গত ২ এপ্রিল ২০০৯ থেকে। আমি জানিনা কতদিন এরা এই কার্যক্রম চালাবে, তাই সময় ফুরিয়ে যাবার আগেই ডাউলোড করে নেয়া উচিৎ হবে।

ডাউনলোড করার আগে একবার জেনে নেয়া দরকার কি এই শেয়ারপয়েন্ট ডিজাইনার।

আমার জানা মতে প্রথম বিনামূল্যে WYSIWYG (What You See Is What You Get)
HTML এডিটর হিসেবে মাইক্রোসফট ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৪-এর সাথে ফ্রন্টপেইজ এক্সপ্রেস সফটওয়্যারটি দেয়। উইন্ডোস ৯৮ ব্যবহারকারীরা সেটা ব্যবহার করতো। সঠিকভাবে কাজ না করার জন্য অনেকেই একে বলতো WYSIWTF (What You See Is What The Fuck!) এবং এর ব্যবহারে ভাটা পড়তে থাকে।

তবুও খোঁড়া ডিজাইনাররা এটার ব্যবহার করতো। পরে প্রফেশনালদের জন্য আসে মাইক্রোসফট ফ্রন্টপেইজ ৯৭ এবং তখন থেকেই ব্যপক জনপ্রিয় হতে থাকে ফ্রন্টপেইজ এবং তার সর্বশেষ সংস্করণ ২০০৩। কিন্তু এর পরে মাইক্রোসফট ফ্রন্টপেইজকে দুটো আলাদা ভাগ করে ফেলে। একটা মাইক্রোসফট এক্সপ্রেশন ওয়েব যেটা সাধারণ ডিজাইনারদের জন্য এবং অন্যটি মাইক্রোসফট শেয়ারপয়েন্ট ডিজাইনার, যেটাতে এক্সপ্রেশন ওয়েবের বৈশিষ্ঠ্য ছাড়াও ওয়েব এপ্লিকেশন তৈরীর জন্য বিশেষ ক্ষমতা দেয়া আছে।

আমরা অনেকেই ওয়েব ডিজাইনের জন্য এডোবি ড্রিমউয়েভার ব্যবহার করি, শেয়ারপয়েন্ট ডিজাইনার সেরকম কাজই করে থাকে এবং এর ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা হলো এটা বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে পাইরেটেড ড্রিমউয়েভার বাদ দিয়ে একবার এটা ব্যবহার করে দেখি। 🙂

আশাকরি মাইক্রোসফট শেয়ারপয়েন্ট ডিজাইনার ২০০৭ ওয়েব ডিজাইনারদের কাজে দেবে।