দি সিটি ব্যাংক – Making No Sense of Money

Tags

, , , , ,

দি সিটি ব্যাংকের এটিএম মেশিনঅনেকদিন থেকেই ভাবছিলাম যে এদের সেবা নিয়ে কিছু বলা দরকার। আমি আমার জীবনে অনেক ব্যাংক ব্যবহার করেছি। এই “দি সিটি ব্যাংক” তাদের মধ্যে একজন। বাংলাদেশের প্রথম প্রাইভেট ব্যাংক না-কি এরা। কিন্তু সেবার মান সরকারী ব্যাংকের থেকেও খারাপ। নেই এমন কোনো সেবা নেই এদের কিন্তু হায়! সেবার যদি কোনো মান থাকে।

প্রথমে আসি এদের এসএমএস ব্যাংকিং সেবা নিয়ে। একাউন্ট থাকলে আপনি এসএমএস ব্যাংকিং সেবা নিতে পারবেন, তবে যে মোবাইল নম্বর দিয়ে একবার সেবা নিবেন, সেটা আর পরিবর্তন করতে পারবেন না। আমি আমার মোবাইল নম্বরটি বদলানোর জন্য অন্তত মোট ২০ বার আবেদন করেছি এবং অভিযোগ করেছি। হেড অফিসের আইটি বিভাগ থেকে আমাকে এবং আমার শাখাকে জানানো হয় যে হয়ে গ্যাছে, কিন্তু মোবাইল দিয়ে ম্যাসেজ পাঠালে বলে “You are not authorized to use this services” কিন্তু আগের নম্বর দিয়ে ম্যাসেজ পাঠালে আবার ঠিকই কাজ করে।

এর পরে আসি এদের এটিএম সেবায়। প্রথমে সেবার মান ভালো ছিলো। আমরা যারা পুরাতন একাউন্ট হোল্ডার, তাদের কার্ড খুব দ্রুত দিয়ে দিয়েছিলো এরা। কিন্তু এখন একাউন্ট খোলার পর মাসের পর মাস কার্ডের অপেক্ষায় থাকতে হয়। এই কার্ড এখন ডুমুরের ফুলের মতন।

ঠিক এমনটি হয় এদের কার্ড দিয়ে টাকা তুলতে গেলে। ঢাকা শহরে হাতে গোনা ১০ টার মতন এটিএম মেশিন আছে আর বাংলাদেশে আছে মনে হয় ১৬ টা মেশিন। সেখানে টাকা তুলতে যেতে হবে ব্যাংকিং আওয়ারে। অন্য সময় টাকা না বের হলে অভিযোগ করবেন কোথায়। একবার পিন নম্বর দিয়ে ১০-১৫ মিনিট লাগে লেনদেন সম্পন্ন করতে। বেশীরভাগ সময় টাকা বের হয় না। কিন্তু স্লিপ দিয়ে দেয় যে টাকা দিয়ে দিয়েছে।

আপনার একাউন্ট খোলার দরকার নাই। আপনি একবার এদের একটা শাখায় গিয়ে আধা ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকবেন। দেখবেন যে কত জনের কত সমস্যা। কখনো ইন্টারনেটের লাইন নাই, কখনো মেশিনে বিদ্যুৎ নাই। কার্ড ঢোকনো মাত্র মেশিন বন্ধ হয়ে গ্যাছে। আরও কত কি!

আমার এক বন্ধুর কার্ড মেশিনে আটকা পড়লো। ও একটু তাড়া হুড়ুর মধ্যে ছিলো তাই G4S এর যেই গার্ড দড়জায় পাহারা দিচ্ছিলো, তাকে বলে গেলো যে বিদ্যুৎ এলে আমার কার্ডটা নিয়ে রেখেন। বন্ধু এসে দেখে ডিউটি পরিবর্তন হয়েছে। এবং আর কোনো সময়ই ঐ গার্ডকে পাওয়া গেলো না। ম্যানেজারকে উক্ত বিষয়ে অভিযোগ করলে বলে, “আপনি কার্ডে জন্য অপেক্ষা করতে পারেন নাই?” সেই বন্ধ কার্ড হারিয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করে প্রায় ২ মাস অপেক্ষা করছে, নতুন কার্ড পায়নি।

ওদের মেশিন থেকে টাকা যদি বের না হয়, ওদের কাস্টমার কেয়ারে ফোন করলে বলে পাশের ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার করতে। সেখানে গিয়েও টাকা বের হয়না। আবার ফোন দেয়ার পরে সর্বমোট ৩০ মিনিট অপেক্ষায় থাকার পরে বলে সুইচে সমস্যা ছিলো, এখন দেখেন। এদের কার্ড দিয়ে যদি ডাচ্ বাংলার এটিএম মেশিন ব্যবহার করে টাকা তুলতে হয়, তাহলে এদের সেবা ব্যবহার করবো কোন দুঃখে?

কার্ড শুধু না, চেক দিয়ে টাকা তুলতে গেলে বলে একটু অপেক্ষা করেন, ইন্টারনেট নাই। এই কথা মনেহয় আপনাকে দিনে ১০০ বার শুনতে হবে। আমার ধারণা ওদের আইটি বিভাগ বা* ছিঁড়ে বসে বসে।

সেদিন ওদের এটিএম মেশিনের সামনে গিয়ে দেখি উইন্ডোজের ডেস্কটপ এসে বসে আছে। কোনো কাজ হচ্ছে না। আমি চট্ করে উপরের ছবিটা নিয়ে রাখলাম এবং অনেক্ষণ অপেক্ষা করে চলে এলাম।

আপনারাই বলেন এরকম ব্যাংকে কেউ একাউন্ট রাখবে?

MobaLiveCD একটি দূর্দান্ত অ্যাপ্লিকেশন

Tags

, , ,

আজকে একটা জটিল অ্যপ্লিকেশন দেখলাম। MobaLiveCD বা মোবালাইভ সিডি।

লিনাক্স চালাতে এখনো অনেকেরই একটা ভীতি এখনো কাজ করে আর তাই লিনাক্স নির্মাতারা লিনাক্সকে জানার জন্য তৈরী করে থাকে লাইভ সিডি/ডিভিডি, যাতে করে কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা কোনো কিছু বদল না করেই উক্ত সিডি/ডিভিডি ব্যবহার করে অপারেটিঙ সিস্টেমটি সম্পর্কে জানতে পারে।

লাইভ সিডির ব্যবহার আরও সহজ করে দিতে বের হয়েছে মোবালাইভসিডি। উইন্ডোজ কম্পিউটারে ইনস্টল করে ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোডকৃত লাইভ সিডি/ডিভিডি-এর ISO ইমেজ সিডি/ডিভিডিতে রাইট না করেই সরাসরি চালানো যায়। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে অ্যাপ্লিকেশনটি।

মোবালাইভ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে এখানে,
আর কোনো লিনাক্সের লাইভ ইমেজ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে এখান থেকে।

আশাকরি এই অ্যাপ্লিকেশনটি অনেকের অনেক কাজে দেবে। লাইভ লিনাক্স চালানোর জন্য আর সিডি/ডিভিডি নষ্ট করার দরকার নাই!

সিটিসেলের গ্রাহক নেই সেটা দেখানোর কি দরকার ছিলো!

Tags

, , ,

সিটিসেল বিজ্ঞাপন

সিটিসেলের এই নতুন বিজ্ঞাপণটা আমরা বেশ কিছুদিন থেকেই দেখছি। আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম যে ওরা বিজ্ঞাপণের মধ্যে নিজেদের অজান্তে একটা সত্য দেখিয়ে ফেলেছে। আর সেটা হলো, ওদের গ্রাহক নাই।

বিজ্ঞাপনে দেখা যায় দু’টো স্কুল ফেরা ছেলে খেলনা মোবাইল দিয়ে কথা বলে এবং এর মধ্যে একটি ছেলে সিটিসেলের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে যায় এবং সেবাদাতা ভদ্রলোক তাকে মোবাইল দেখায়; ভালো থিম। কিন্তু এই থিমের মধ্যেই সেই সত্যটি লুকিয়ে আছে। ছেলেটি ঐ গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে ঢোকা থেকে বের হয়ে যাওয়া পর্যন্ত ঐ কেন্দ্রে ৩য় কোনো প্রাণী নেই। অর্থাৎ তাদের কেন্দ্রের লোকেরা সারাদিন মাছি মারছে, যেহেতু তাদের কোনো কাজ নেই এবং যে বা যারা আসছে তাদেরকেই সময় দিচ্ছে।

উপরে যেই ছবিটি আমি দিয়েছি, সেটা ওদের ওয়েব সাইট থেকে নেয়া। সেখানেও একটা ভুল আছে। ওরা লিখেছে “No customer’s need is too small for us…” না আমরা কেউই ভুল পড়ছি না। আমরা যখন মোবাই/ইন্টারনেট ইত্যাদির গ্রাহক হই, তখন কিন্তু আমরা ক্রেতা না, গ্রাহক। তাহলে Customer এবং Subscriber দু’টো শব্দের মধ্যে পার্থক্য আছে। সেটা কি তারা বুঝতে পারেনি! আমার ভুল হতে পারে, তবে কথাটা এরকম হতে পারতো, “No subscriber’s need is too small for us… Even those who are not our subscriber yet.” এছাড়াও আরেকটা খটকা লাগছে এই TOO শব্দটা। No customer’s need is too small for us, which means some needs are small for them. অনেক শিক্ষিত লোক নিয়ে এরা কাজ করে, কিন্তু এরকম কথা লিখে কেনো যেটার অর্থ বিপরীত হয়।

এর আগেও একটা বিজ্ঞাপণে বলছিলো পাহাড়ের গায়ের সব কথা না-কি বসে বসে শুনবে। তাহলে কি আর কেউ তাদের সেবা নিতে চাইবে? কে যেচে ব্যক্তিগত কথা আরকজনকে শুনতে দিতে চাইবে বলুন।

মোদ্যা কথা সিটিসেলের অবস্থা ১৯৯৫ সালে যা ছিলো আজও তাই আছে। আর এর জন্য দায়ী হচ্ছে তাদের ওভার স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট, যারা মানুষকে মানুষ মনে করেনা। ওদের ধারণা মানুষ তাদের সেবা নেবেই! আরে ভাই, তোর এমন কি আহামরি সুবিধা আছে যে তোর সেবা মানুষ গ্রহণ করবেই? আমি নিজে অনেকদিন ওদের গ্রাহক ছিলাম, শেষে কিছু ফালতু সমস্যার জন্য সেবা বাদ দিয়ে দিলাম। বিদেশে এসএমএস পাঠালে সেটা যায় ইউকে’র নম্বর হয়ে আর তার ভেতরে আমার নম্বর দেয়া থাকে। এমনকি বেশিরভাগ বিদেশী অপারেটর থেকেই কোনো এসএমএস সিটিসেলে আসেনা। ইন্টারন্যাশনাল কল ঠিকমতো আসে না। আমি নিজে স্কাইপি দিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি। তারপরে ফেলে দিয়ে অন্য অপারেটরে সুইচ করেছি এবং ভালো আছি।

এখন বিষয় হলো ওদের এই উপলব্ধিটা হওয়া উচিৎ যে ১৭ বছর ব্যবসা করেও যাদের গ্রাহকের পরিমান যাদের ব্যবসার ২য় বছর চলছে তাদের থেকে কম হয়, তাহলে তাদের সেবা কি নেয়া ঠিক হবে? যে কোম্পানী ঐ ১৭ বছরে ৪ বার নাম পরিবর্তন করেছে (সূত্র) এই কোম্পানিতো ভাই যে-কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

মামা গ্রামীণফোন তো গোয়া মেরে দিলো

Tags

, , ,

আমার এক বন্ধু, টেলিভিশনে অভিনয় করে। নামটা বলছিনা (নাম বললেই সবাই চিনে ফেলবেন), আমাকে মামা ডাকে। আমি উনাকে নিয়ে ১১টার মত নাটিকা করেছিলাম পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের জন্য। চলতি মাসের শুরুর দিকে গাজীপুরের পুবাইল এলাকায় শুটিং চলছিলো আমার বন্ধুর প্রোডাকশন হাউজের। আমি সকাল সকাল গেলাম সেখানে, অনেকদিন কোথাও যাওয়া হয়না দেখে। ওখানে পৌছাতেই আমার ঐ বন্ধু দুর থেকে আমাকে ট্যাক্সি থেকে নামতে দেখে চিৎকার করে আমাকে বলছে “মামা গ্রামীণফোন তো গোয়া মেরে দিলো।” আমি ট্যাক্সি ভাড়া চুকিয়ে দিয়ে উনার কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম কি হয়েছে, উনার মোবাইলের সংযোগ বন্ধ হয়ে গ্যাছে এবং উনি ২ দিন থেকে সবার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

বেশকিছুদিন ধরে ভাবছি এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলা দরকার। সময় করে উঠতে পারছিলাম না। গ্রামীণফোন আমাদের দেশের সবচাইতে বড় মোবাইল অপারেটর। উনাদের গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি (!) এবং উনাদের দাবী একসাথে ২ কোটি গ্রাহকই কথা বলছেন, কেউ সিম ফেলে দেন নাই। কথাটা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য না। আমার নিজের গ্রামীণ সিমটাইতো আমি চালাচ্ছি না। সেই সাথে আছে পরিচিত অনেকেই। তাই ভুয়া কথা বলার লিমিট নাই গ্রামীণ ফোনের বলে ধরে নিচ্ছি আপাতত।

দেশের সবচাইতে খারাপ নেটওয়ার্ক এখন গ্রামীনের। কি কারণে আমি জানিনা। তবে আমার একটা মন্তব্য আছে যেটা শেষে লিখছি। আমাদের দেশে অনেকদিন থেকেই চলছিলো মোবাইল ব্যবহারকারীদের পুনরায় রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি। সেটা নিয়ে আমি আমার ব্লগে / টা পোস্ট এর আগেও দিয়েছি। আমার সূত্রের দেয়া খবরে গ্রামীনফোনের গ্রাহকরাই ঠিকমতন তাদের নম্বরগুলি রেজিস্ট্রেশন করছিলো না, যার জন্য বার বার পুনরায় রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য বিটিআরসি’র হাত পা ধরে তারিখ বর্ধিত করিয়েছে তারা এবং শেষে রেজিস্ট্রেশন করলে টাকা পাবেন, এরকম লোভ দেখিয়েছে তারা। শেষের দিকে গ্রামীণ পান দোকান বা মোবাইল টু মোবাইল টং দোকানেও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করে, যাতে মানুষ রেজিস্ট্রেশন করে। তারা মানতেই নারাজ যে অনেকে তাদের সিম ফেলে দিয়েছে এবং অন্য অপারেটর ব্যবহার করছে এবং শান্তিতে আছে। যাই হোক রেজিস্ট্রেশনের তারিখ শেষ হবার পরে একে একে বিভিন্ন নম্বর বন্ধ হয়ে গেলো। এর মধ্যে আমার সেই অভিনেতা বন্ধু একজন, আমার নিজের একটি সিম, আমার এক ছোটোবোন এবং আমার বস্ও আছে।

আমার অভিনেতা বন্ধুর শেষ পর্যন্ত কি হয়েছে তা জানিনা। সে কিন্তু আমাকে অনেক জোর দিয়েই বলেছিলো যে সে রেজিস্ট্রেশন করেছে এবং গ্রামীণ শালাদের ঢাকায় গিয়ে দেখে নেবে। সেদিনো ওর ঐ নম্বর বন্ধ দেখলাম, মনেহয় সেও ৯ বছরের ব্যবহৃত সিমের মায়া ভুলে গিয়ে অন্য নম্বর ব্যবহার করছে। আমার বস্ কানাডা গিয়েছে, সেখান থেকে জার্মানি যাবেন, লম্বা সফরে আছেন। উনি যাবার আগেরদিন দুপুর থেকে নম্বরটা বন্ধ, গ্রামীণে ফোন করে জানতে চাইলে বলে রেজিস্ট্রেশন না করায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অথচ সিমের রি-রেজিস্ট্রেশনের কাগজ আমাদের অফিসেই আছে। বস্ যেহেতু চলে গেছেন, তাই ঐ বিষয়টাও এখনো সমাধান করা হয়নি।

আমার যেই ছোটো বোনটার কথা বললাম সে ঢাকার উত্তরায় এক বেসরকারী মেডিকেল কলেজে পড়ে। ৩/৪ মাস আগে নর্থ টাওয়ারের গ্রামীণফোন সেন্টার থেকে ঐ সিমটা কিনেছিলো। ছবি, আইডি কার্ডের কপি, সব দিয়েছে। কিন্তু ওর নম্বর তো বন্ধ হবার কথা না, যেহেতু নতুন নম্বর। গ্রামীণের কাছ থেকে জানা গেলো যে গ্রামীণ নাকি সমস্থ ব্যবহারকারীদের বলেছিলো পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করতে। নতুন পুরাতন যেই হোক, সবাইকে নাকি রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরকম কবে বললো সেটাই বুঝলাম না, আর কাগজপত্র দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে সিম কিনে কি আবার ওদের ওখানে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে!!! যাই হোক, সেই সিমের কাগজ নিয়ে আমি গেলাম জসিমউদ্দিন রোডের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে। বিশা-আ-আ-আ-আ-ল লাইন। সবারই একই সমস্যা, রেজিস্ট্রেশন করেছে লাইন বন্ধ। যাদের কাগজ আছে সেই কাগজের কপি গ্রামীণের কর্মীরা নিয়ে বলছে ৭২ ঘন্টার মধ্যে লাইন চালু হয়ে যাবে। তাহলে তো আমার ঐ বন্ধুর মতো বলতেই হয়, এই ৭২ ঘন্টা কি পাবলিক গোয়া মারাবে?

যাই হোক, প্রায় এক ঘন্টার মতন অপেক্ষা করে আসলাম কাউন্টারে। কাগজ যেহেতু আছে, লাইন তো আমার বোনেরটাও চালু হয়ে যাবে। কাগজ হাতে নিয়ে কম্প্যুটারে কি টিপা টিপি করে বলছে এই কাগজ নকল। আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম। ওদের সেন্টার থেকে কেনা সিমের কাগজ দেখে বলছে এটা বলে নকল কাগজ। আমি অনেক কষ্টে নিজেকে স্বাভাবিক রেখে বললাম কি সমস্যা ভাই, বলে আপনার কাগজের নাম আর আমাদের ইনফরমেশন ঠিক নাই!!! আমি বললাম আপনাদেরও তো ভুল হতে পারে। বলে অসম্ভব। আমি কথা না বাড়িয়ে বের হয়ে আসছি এই সময় আমার পরিচিত ইউএনডিপি’র গাড়ির এক ড্রাইভার আমাকে জিজ্ঞেস করলো ভাই কি হলো। আমি ঘটনা বললাম। উনি তখন উনার এক্সপেরিয়েন্স বললো। উনি নাকি সিম রেজিস্ট্রেশন করেছিলো ঐ টাকা দেবার সময়। কি একটা অফার ছিলো না, এখন সিম রেজিস্টার করলে পাবেন ১০০ টাকা আর অন্যজনদের করিয়ে দিলে ৫০ টাকা। উনি সেই সময় রেজিস্ট্রেশন করেছেন। কিন্তু টাকা পায়নি আর লাইনও বন্ধ হয়ে গ্যাছে। 🙂 আমি আমার বোনটাকে একটা ওয়ারিদের সিম কিনে দিলাম।

কি অবস্থা!!!

গ্রামীণের এই সব সমস্যার পাশাপাশি আছে ভয়েসের সমস্যা। আপনি জিপি থেকে জিপ কথা বললে শুধু কথা কেটা কেটে যায়। অভিযোগ করলে বলে আমাদের সমস্যা নাই, আপনি হ্যান্ডসেট বদলান। আমার হ্যন্ডসেট দিয়ে সব অপারেটর ঠিক চলে ওদেরই সমস্যা। আরেকটা মজার খবর দেই। গ্রামীণফোন ক্রস কানেকশন। আমার বৌ এর ছোটোভাই আমাদের সাথেই থাকে। ও আবার ডিজুস ফ্যান। কয়েকদিন আগে ওর মোবাইলে একটা কল আসে, রিসিভ করে দেখে দু’জন কথা বলছে (প্রেমালাপ করছে)। অনেক চেষ্টা করেও ওদেরকে কিছু বলতে পারলাম না, আমার কথা ওরা শুনতে পাচ্ছে না, আমরা শুধু ওদের কথা শোনা যাচ্ছে। গতকালকের কথা। অফিস থেকে টিএন্ডটি দিয়ে আমাদের অফিসের এক ড্রাইভারকে ফোন করা হলো, আবার ক্রস কানেকশন। এক ম্যানেজার তার নিম্নপদস্ত কর্মচারীকে ঝাড়ছে। 🙂

এই হলো গ্রামীণের সার্ভিসের অবস্থা! এরা বলে কাছে থাকুন, এতই কাছে যে একজনের সিম আরেকজনের নামে রেজিস্টার হয়। এতই কাছে যে দু’জনের কথা অন্যজন শুনছে। একসময় দেখা যাবে ২ কোটি (!) গ্রাহক সবাই সবার কথা শুনতে পাচ্ছে। 🙂 কে কাকে কি বলছে বোঝা যাচ্ছে না। তবে সবাই কিন্তু কাছে থাকছে। এক বাসের ভেতর যখন ৪০ জনের জায়গায় ৮০ জন ঠুকে তখন যেমন কাছে থাকে, এখানেও তাই হয়েছে মনে হয়।

উপরে বলেছিলাম যে ওদের সেবা সম্পর্কে আমার একটা মন্তব্য আছে, সেটা হচ্ছে- আমার ধারণা গ্রামীণের ইঞ্জিনারদের ঘুষ খাবার অভ্যাস হয়ে গেছে এবং সেই সুযোগ নিয়ে অন্য অপারেটররা তাদের ঘুষটুস দিয়ে সার্ভিস খারাপ করে রেখেছে যাতে মানুষ বিরক্ত হয়ে ওদের সার্ভিস বাদ দিয়ে দেয় (পরিচিত অনেকেই দিচ্ছে এবং দিয়েছে এর মধ্যে), আর আমার দৃড় বিশ্বাস যে এরকম পরিকল্পনা যে করেছে সে সম্পুর্ণ সফল।

একটা ৩২ গিগা ফ্ল্যাশ ড্রাইভ নিলাম

Tags

, , , , ,

জিনিসটা অনেক নামে পরিচিত, যখন বের হয়েছিলো তখন সবাই ডাকতো থাম্ব ড্রাইভ। পরে ডাকতে শুরু করলো ইউএসবি পেন ড্রাইভ (আমাদের দেশে এখনো এই নামেই ডাকে) আর এখন ডাকা হয় ফ্ল্যাশ ড্রাইভ নামে।

আমি আমার জীবনের প্রথম ফ্ল্যাশ ড্রাইভ কিনেছিলাম ১৬ মেগাবাইটের। আমার তখন কি ভাব যে আমার ১৬ মেগাবাইট ফ্ল্যাশ ড্রাইভ আছে যেটা নিয়ে চিন্তা করতে হয়না। ফ্লপির মতন বার বার নষ্ট হয়ে যায়না আর চালাতে ফ্লপির মতন আলাদা ড্রাইভো লাগে না। 🙂

সেটা কিনেছিলাম মনেহয় ২০০১ সালে, তখন সেটার দিম নিয়েছিলো ৩,৭০০ টাকা। কিছুদিন পরে সেটা নষ্ট হয়ে যায় এবং ওদের কাছে নিয়ে গেলে সেটা বদলে আরও ১,০০০ টাকা নিয়ে একটা ৩২ মেগাবাইটের ফ্ল্যাশ ড্রাইভ দেয়। সেটা আজও আছে আমার। এখনো চলে!

আমি আমার জীবনে আর কোনোদিন ফ্ল্যাশ ড্রাইভ কিনে ব্যবহার করিনাই। এরপরে মাইক্রোসফট দিলো ১ গিগা একটা, সেটা ব্যবহার করতে করতে মুসা ভাই (এক বড় ভাই যার প্রজেক্টে অনেকদিন কাজ করেছি) দিলো একটা ২ গিগা বাইট। পরে মাইক্রোসফট থেকে আবার ভিস্তা রিলিজ উপলক্ষে রেডিবুস্ট ক্ষমতা সম্পন্ন একটা ২ গিগাবাইটের ফ্ল্যাশ ড্রাইভ। মুসা ভাই’র দেয়াটা হারিয়ে যাবার পরে মাইক্রোসফটের দেয়া ২ গিগাটা বহুদিন ব্যবহার করেছি।

এবার পেলাম এই ৩২ গিগা ফ্ল্যাশ ড্রাইভটা। একলাফে অনেকদুর। 🙂
আমার এক ছোটোভাই আছে, নাম বর্ণ। নর্খ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার প্রকৌশলী বিষয়ে লেখাপড়া করছে। এবার সে এটা গিফ্ট করলো আমাকে। আমেরিকাস্থ বিশ্বের উচ্চ মানের মেমরী নির্মাতা OCZ এর পণ্য এটা। এটা OCZ ATV নামে পরিচিত এবং বিরূপ আবহাওয়ার জন্য তৈরী করা হয়েছে বলে এর নাম দেয়া হয়েছে ATV.

বিশ্বের বাজারে এটা ২য় ৩২ গিগা ফ্ল্যাশ ড্রাইভ, এর আগেরটা বের করেছিলো কর্সএয়ার এবং গতি ভালো না হওয়ায় ওদেরটা বাজারে তেমন চলেনা।