আজকে আমার ইবানের ৪র্থ জন্মদিন

Tags

, ,

আমার পিচ্চি পরিবারহ্যপি বার্থডে টু ইবান। আজ থেকে চার বছর আগে এই দিনে ইবান এই পৃথিবীতে আসে। গতবছর অবশ্য এটা নিয়ে কিছু কথা বলেছিলাম। তাই আর নতুন করে কিছু বলছিনা। আজও বৃষ্টি হয়েছে, যেমন হয়েছিলো ওর জন্মের দিন।

আশেপাশের প্রতিবেশীদের নিয়ে ছোট্ট একটা অনুষ্ঠান করলাম। খুবই মজা হয়েছে। যারা এসেছে তাদেরকে আসার জন্য ধন্যবাদ আর যাদের অনুষ্ঠানে ডাকতে পারি নাই, তাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আর যারা আসতে পারেন নাই, তারা দূর থেকেই আমার ইবানের জন্য দোয়া করবেন।

অনুষ্ঠানের ছবিগুলি দেখা যাবে এখান থেকে। 🙂

ইবান এখন বেশ বড় হয়েছে। ভালো লাগা মন্দ লাগা প্রকাশ করতে পারে। ওর জন্য পৃথিবীর সবচাইতে কষ্টকর বিষয় হলো খেতে বসা। সব বাচ্চারা যা পছন্দ করে, ও তা করে না, সবাই যেটা করতে বলে, সেটা ও করেনা। নিজে যেটা ভালো বলবে সেটা ভালো, যেটা ভালো বলবে না, সেটা শত চেষ্টা করলেও ভালো করা যাবেনা ওর কাছে।

আমরা কেমন কম্পিউটার কিনছি!

Tags

, , , , , , , ,

Click to see larger sizeআমরা সস্তা কম্পিউটার কিনতে পছন্দ করি! কথাটা গত বিসিএস কম্পিউটার মেলায় এক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলেছিলেন। উনার প্রতিষ্ঠান মাত্র প্রায় ৳১২,০০০/- তে একটা সিপিউ বিক্রি করছে। ভেতরে কি আছে দেখতে পারি নাই ব্যাস্ততার কারণে। তবে প্রচুর দর্শকদের আগ্রহ ছিলো সেই কম্পিউটার সিপিউটির প্রতি।

যখন মাত্র ৳১২,০০০/- তে একটি সম্পুর্ণ সিপিউ কিনতে পারা যায়, তার অর্থ এই না যে পৃথিবীতে সিলিকনের দাম কমে গিয়েছে আর আমরা সেজন্য কমদামে জিনিস পাচ্ছি। কমদামে জিনিস কেনার অর্থ এই যে আমরা একটি নিম্নমানের পণ্য কিনছি।

কিভাবে একটু বিশ্লেষণ করি। আমি সাধারণত আমার ব্যবহারের জন্য কম্পিউটারের মালামাল বিদেশ থেকে আমদানী করি (এর জন্য আমি আমার মাইক্রোসফটের বন্ধুরা এবং আমার বন্ধুদের আত্মীয় স্বজনদের কাছে কৃতজ্ঞ)।পাশের ছবিতে যেই রেমগুলি দেখা যাচ্ছে সেগুলি আমার বাসার কম্পিউটারগুলিতে ব্যবহৃত হয়। উপরেরটা OCZ Reaper HPC Edition যার একজোড়ার দাম $১৭৫ (আমেরিকান), বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৳১২,০০০/- এক প্যাকেটে একজোড়া থাকে এবং একজোড়াতে ৪ গিগা মেমরি হয়।

২য়টি নাম US Modular Coldfusion, যার একজোড়ার দাম $১৯৮ (আমেরিকান), অর্থাৎ বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৳১৩,০০০/- এক প্যাকেটে একজোড়া থাকে এবং একজোড়ায় ৪ গিগা মেমরি হয়।

তার পরেরটা সবচাইতে দামী Crucial Ballistix, এক জোড়ার দাম $৪৫৬ (আমেরিকান), অর্থাৎ বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৳৩১,০০০/- এবং এর এক প্যাকেটে এক জোড়া থাকে এবং এক জোড়ায় ২ গিগা মেমরি হয়।

আমাদের দেশে মাত্র ৳৩,০০০/- দিয়ে চার গিগা মেমরি কেনা সম্ভব এবং সেটা লাগিয়ে উইন্ডোস ভিস্তার মত অপারেটিং সিস্টেম ইসন্টল করে আমরা মন্তব্য করি, “শালা কি অপারেটিং সিস্টেম বানাইছে, চরম স্লো!” আসলেই কি তাই? আপনি কি কিনেছেন আর কি চালাচ্ছেন সেটা একটু বিবেচনা করবেন না?

বেশ কিছুদিন আগে আমার এক কলিগ মন্তব্য করেছিলো যে বাংলাদেশে কম্পিউটারের যা মাল পাওয়া যায় সেগুলার শুধু অঙ্কই বেড়েছে, পারফরমেন্স বাড়েনি। উনার বক্তব্য হচ্ছে আমাদের এখানে বর্তমান বাজারের ২ গিগা মেমরি, উনার ৫১২ মেগার সমান পারফরমেন্স দিতে পারে না। কথাটা কিছুটা হলেও সত্যি।

তবে আমাদের বাজারে যে ভালো জিনিস পাওয়া যায়না তা কিন্তু না। কিন্তু যারা বিক্রি করে এরা কুড়াল দিয়ে কোপ দেয়ার মত দাম চায়। যেটা $৪০০ দাম সেটা চায় $১৪০০, যাতে একবারের সব লগ্নি ফেরৎ আসে। একটু সততার সাথে ব্যবসা করলেই কিন্তু আমরা ভালো জিনিস কিনতে পারি।

কম্প্লিমেন্ট হিসেবে বিটডিফেন্ডারের লাইসেন্স পেলাম

Tags

, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

আমার মনে হয় বাংলাদেশের বিটডিফেন্ডার বিক্রেতারা আমার ব্লগের বিভিন্ন পোস্ট লক্ষ্য করে আসছিলো। সেদিন হঠাৎ করে আমাকে ফোন দিয়ে বলে, “আপনাকে কোথায় পাওয়া যাবে, আমরা আপনাকে বিটডিফেন্ডার ইন্টারনেট সিকিউরিটি ২০০৮ এর একটা সংষ্করণ উপহার দিতে চাই।” আমি ঠিকানা দিতেই এক ভদ্রলোক একটা বাক্স নিয়ে এসে হাজির হলেন। আমি কিছুটা হলেও অবাক হয়েছি। তাই জিজ্ঞেস করলাম, ভাই এটা কেনো? উনি জানালেন উনার কোম্পানী আমার কার্যকলাপ লক্ষ্য করছিলো, উনারা আমার ব্লগ নিয়মিত পড়েন তাই আমাকে একটা কপি দিতে চান যাতে আমি সেটা ব্যবহার করতে পারি এবং আমার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সবাইকে এটা ব্যবহার করার জন্য উৎসাহিত করতে পারি।

সত্য কথা বলতে আমি আজ দেড় বছর হতে চললো এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার কিনে ব্যবহার করি। আগে ব্যবহার করতাম এভিজি প্রফেশনাল এডিশন, কিন্তু পরে দেখলাম ওদের এন্টিভাইরাস চট্ করে কোনো ভাইরাস চিনতে পারেনা। পরে কিনলাম আভাস্ত, এরও একই সমস্যা। ম্যাকফির দাম অনেক বেশী আর নর্টন একটা ফালতু সিকিউরিটি স্যুট। আভিরা কিনি নাই, কারণ আভিরা নতুন ভাইরাস চিনতে পারলেও পুরাতন ভাইরাস চিনতে পারে না।

আর তথন অনেক খোঁজ খবর নিয়ে বিটডিফেন্ডার কিনেছিলাম। আমি যখন লাইসেন্স কিনেছিলাম, তখন বাংলাদেশের বাজারে এভাবে বিটডিফেন্ডার উপলব্ধ ছিলোনা বলে আমার মনে হয়। এখন কিন্তু কেউ চাইলেই বিটডিফেন্ডার, ক্যাসপারস্কাই, নড৩২ কিনতে পারেন বাংলাদেশের বাজারে। তবে কেউ যদি কিনেই এন্টিভাইরাস ব্যবহার করতে চান, তাহলে বিটডিফেন্ডার বা ক্যাসপারস্কাই কিনে ব্যবহার করুন। বিশ্বের বাজারের চাইতে আমাদের এখানে অনেক সস্তায় এগুলি পাওয়া যায়।

আর যাই করুন, এন্টিভাইরাসটি অন্তত কিনে ব্যবহার করুন, এতে আপনারই সুবিধা। Continue reading »

শেষ পর্যন্ত ম্যাডোনা আমাদের অর্ণবের মিউজিক নকল করলো!

Tags

, , , , , , , ,

হাঃ হাঃ হাঃ
কি আশ্চর্যের কথা, তাই না? কোথায় ম্যাডোনা আর কোথায় অর্ণব। কিন্তু কাকতলীয় হলেও সত্য যে ম্যাডোনার একটি গানের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অর্ণবের মিউজিকের সাথে মিলে যায়।

প্রমাণ দেবার আগে একটু ইতিহাস বলে নেই। গত মার্চ মাসে ম্যাডোনা আর যাস্টিন টিম্বারলেক মিলে একটি গান বের করে যার টাইটেল 4 Minutes. গানটি খুব পপুলার হয়ে যায় রিলিজ হওয়ার সাথে সাখেই। সবাই গুন গুন করতে থাকে 4 minutes to save the world. একটি গানকে কেন্দ্র করেই বের ওয়ার্নার ব্রসের ব্যানারে বের হয় এই অ্যালবামটি। বের হয়েই হুলুস্থুল অবস্থা। বিলবোর্ড চার্ট তোলপাড় হয়ে যায়, এরকম বিলবোর্ডের ইতিহাসে ২য়বার হয়।

পরে এপ্রিলের শেষের দিকে বের হয় ম্যাডোনার অ্যালবাম হার্ড ক্যান্ডি। ঐ গানটা এই অ্যালবামেও আছে। এই গানটারই মিউজিক মিলে যায় আমাদের অর্ণবের গান বেবাক বিবাগী’র মিউজিকের সাথে।

বেবাক বিবাগী গানটি অর্ণবের প্রথম একক অ্যালবাম চাইনা ভাবিস এর ৯ নম্বর গান। যেটা সম্ভবত ২০০৫ সালের শেষের দিকে বের হয় একতার মিউজিকের ব্যানারে।

তাহলে কি ম্যাডোনা অর্ণবের গানের মিউজিক মেরে দিয়ে হিট্ গান বের করলো? হাঃ হাঃ হাঃ একবার নিজের কানেই শুনুন না!

[audio:Madonna – 4 Minutes.mp3]
ম্যাডোনার ফোর মিনিটস্ গানের অংশ শোনার জন্য উপরের প্লে বোতামে ক্লিক্ করুন…

[audio:Ornob – Bebaak Bibaagee.mp3]
অর্ণবের বেবাক বিবাগী গানের অংশ শোনার জন্য উপরের প্লে বোতামে ক্লিক্ করুন…

কি মনে হয় এবার?

বোকাদের বোকা*দা বানেচ্ছে গ্রামীণফোণের ব্ল্যাকবেরি অফার

Tags

, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

গ্রামীণফোন বাংলাদেশের বড় মোবাইল কোম্পানী। অনেক ভালো সেবা দিয়েছে অনেকদিন ধরে আমাদের। কিন্তু শোষণও করেছে আমাদের এবং এখনো করছে। বাংলাদেশের সবচাইতে বেশী কলচার্জ এই মোবাইল অপারেটরের। বলে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। এখন আবার কোনো অপারেটরের নেটওয়ার্কে সমস্যা আছে? বিটিআরসির নির্দেশে তো খাগড়াছড়ি এবং হিলস্ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে সবার নেটওয়ার্ক। হিলস থেকে এক বন্ধু ফিরে জানালো সেখানে সিটিসেল, ওয়ারিদ, একটেল পৌছে গ্যাছে, খবর নাই বাংলালিঙ্ক আর আমাদের সেরানেটওয়ার্ক দাবীদার গ্রামীণফোণের। হয়তো অনেক ভালো মালামাল লাগাবে বলে আমদানী করতে দেরী হচ্ছে বা টেলিনরের কোথাও কোনো বাতিল মাল পাওয়া যাচ্ছে না যেটা এনে লাগাবে। শালারা অন্যদেশের রিজেক্ট মাল এনে লাগিয়ে নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে আর এখন এতই খারাপ অবস্থা যে জিপি জিপি ঠিকমতন কথা বলা যায় না।

যাই হোক, অনেকদিন হলো কথাটা বলবো বলবো করে বলা হচ্ছে না। আইটির সাথে জড়িত থাকায় শুরু থেকেই অনেকে প্রশ্ন করছে যে গ্রামীণফোন এত্তসব সুবিধা সম্বলিত ব্ল্যাকবেরি সেট দিচ্ছে সেটা কিনবে কি-না। মানুষের তো আর টাকার অভাব নাই। আর সেটা বুঝতে পেরেই গ্রামীণের এই সব আজাইড়া অফার। গ্রামীণফোণের এই ভাওতাবাজির ফাঁদে অনেকেই পা দিচ্ছে। তাদের কথা হচ্ছে এই সেট কিনলে ইমেইলের সুবিধা পাবেন, ভালো অর্গানাইজার পাবেন। এত ভালো অর্গানাইজার যে সেটা অর্গানাইজ করতে আবার একজন পিএস রাখতে হবে! যাই হোক, আসল কথায় ফিরে যাই।

আমি ইন্টারনেট সংযোগ সম্বলিত একটা সাধারণ নোকিয়া সেট দিয়েই কিন্তু ইমেইলের সুবিধা ভোগ করতে পারি। জিমেইল, হটমেইল, ইয়াহুর জন্য জাভা ভিত্তিক ক্লায়েন্ট আছে। বা থার্ড পার্টি ক্লায়েন্ট দিয়েও সেই মেইলগুলি ব্যবহার করা যায়। আবার ৪০০০ টাকা দামের চাইনিজ সেটেও কিন্তু এখন ভালো অর্গানাইজার আছে। এমন কি মিটিং-এর আলোচনা পর্যন্ত রেকর্ড করে রাখা যায় ক্যালেন্ডারের মধ্যেই। তো কেনো আমি এই ব্ল্যাকবেরি সেট ব্যবহার করবো আর সেটা ব্যবহারের জন্য শালাদের বাড়তি টাকা দেবো!

আসল কথা হচ্ছে আমরা অনেকেই জানিনা মোবাইলের মধ্যেই যে সুবিধাগুলি উপলব্ধ আছে। আমার মোবাইলে অপেরা ব্রাউজার লাগানো থাকলে পৃখিবীর যে-কোনো ওয়েবমেইল আমি ব্যবহার করতে পারছি। গুগল্ নিজেই দিচ্ছে গুগল্ মেইল বা জিমেইল ক্লায়েন্ট মোবাইলের জন্য। আবার আপনার ডোমেইন যদি জিমেইলে হোস্ট করা থাকে, সেটাও ব্যবহার করতে পারছেন আরেকটা গুগল্-এর ক্লায়েন্ট সফ্টওয়্যার দিয়ে। তো আমরা যারা প্রযুক্তিকে জানিনা, তারা কিন্তু প্রযুক্তিকে ভয় পাই। এখনো পাড়ার দোকানগুলি ভাইরাস আক্রান্ত কম্পিউটার ফরম্যাট দিয়ে পাইরেটেড উইন্ডোস ইনস্টল করে দিতে ১০০০ টাকা বিল করে এবং আমাদেরই ভাই/বোন/বন্ধুরা সেটা দিয়ে যাচ্ছে নির্বিকারে।

ঠিক গ্রামীণেরও এই অবস্থা! যারা বোকা, তাদেরকে বোকাচোদা বানাচ্ছে একটা ফালতু সেট ধরিয়ে দিয়ে। ভাই আপনি এইচটিসি বা আসুস কোম্পানীর উইন্ডোস অপারেটিং সিস্টেম সম্বলিত মোবাইল পাবেন ২৫০০০ থেকে ৩৫০০০ টাকায়। সেটাতে উইন্ডোজের যাবতীয় সফটওয়্যারকে পোর্ট করা হয়েছে। এটাচ্‌মেন্টসহ মেইল আসলে সেটাও খুলে দেখতে পারবেন। মিটিং-এ এই সেট দিয়ে প্রেজেন্টেশন দেখাতে পারবেন কম্পিউটার ছাড়া। আছে লাইভ ম্যাসেঞ্জার ব্যবহারের সুবিধা, স্কাইপি ব্যবহারের সুবিধা। আরও থাকছে ফায়ারফক্সের নির্মাতা মোজিলা প্রজেক্টের ব্রাউজার মিনিমো এবং ইন্টারনেট এক্সপ্লোডার তো আছেই। কি নাই সেই সেটগুলিতে! আর ফালতু এক ব্ল্যাকবেরি সেট কিনবেন প্রায় সমান বা তার চাইতেও বেশী দামে যেটা দিয়ে ঐ এক মেইল চেক করা ছাড়া তেমন কিছুই করা যায় না। হ্যাঁ আমি স্বীকার করছি যে সমান কিছু সুবিধা ব্ল্যাকবেরিতে আছে, কিন্তু আমি কেনো এইচটিসি না কিনে ওটা কিনবো? আমি কেনো ব্ল্যাকবেরি কিনে গ্রামীণকে সার্ভিসচার্জ দেবো?

শেষবারের মতন ব্ল্যাকবেরি কিনতে ইচ্ছুক বন্ধুদের বলতে চাই ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না।