ভিস্তার জন্য নতুন য়াহু ম্যাসেঞ্জার

প্রায় এক বছর আগে য়াহু ঘোষণা দেয় যে তারা উইন্ডোজ ভিস্তা ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ একটি সংস্করণ ছাড়তে যাচ্ছে। অনেক অপেক্ষার পরে গত পরশুদিন তারা পরীক্ষামূলক সংস্করণটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়।

প্রথমেই বলে নেই এর সমস্যাগুলি। দেখতে সুন্দর হলেও এটা চালাতে প্রচুর মেমরী (রেম) লাগে। ম্যাসেঞ্জার শুরু হতে বা কারও সাথে আলাপ (চ্যাট) শুরু করতে অনেক সময় নেয়। সবচাইতে বেদনাদায়ক বিষয় হলো এর ইন্সটলেশন। প্রাথমিকভাবে ইনস্টলারটি ডাউনলোড করে ইনস্টল চালালে এটি আবার নতুন করে ইনস্টলার ডাউনলোড করে আপনার টেম্প ফোল্ডারে এবং সাথে আনুসাঙ্গিক কিছু ডাউনলোড করে। এই সময় আপনার ইন্টারনেটের গতি যদি ভালো না হয়, তাহলে ডাউনলোড বন্ধ হয়ে গিয়ে বলে “সফলভাবে ইনস্টল হতে না পারায় আমরা দুঃখিত!” এই সামান্য জিনিস ইনস্টল করতে যদিউচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট লাগে, তাহলেতো সমস্যা।

আরেকটি বাজে সমস্যা হলো বাংলা সমর্থনের। য়াহু ম্যাসেঞ্জারে সম্পুর্ন বাংলা সমর্থন কখনোই ছিলোনা। টেক্সট ইনপুট উইন্ডোতে বাংলা লিখলে সেটা “?????” প্রশ্নবোধক চিহ্ন দেখাতো। তবে অন্য ম্যাসেঞ্জার ক্লায়েন্ট যেটা য়াহু প্রোটোকল ব্যবহার করে (যেমন – পিজিন, ট্রিলায়ান, মিরান্ডা), তা দিয়ে বাংলা লিখলে সেটা য়াহু ৭ বা তার থেকে নতুন সংস্করণগুলিতে সমার্থন করতো। লিখতে না পারলেও দেখা যেতো। কিন্তু এখন লেখা বা দেখা দুটিই নষ্ট হয়ে গিয়েছে, যেটা বেশ বেদনাদায়ক।

অনেকদিন আগে থেকেই য়াহু এবং লাইভ (এমএসএন) ম্যাসেঞ্জারের ব্যবহারকারীরা একে অপরের সাথে কথা বলতে পারতেন। যদিও সমর্থনের এখনো কোনো উন্নতি হয় নাই, তবে য়াহু বলছে সামনে তারা একে অপরের সাথে ফাইল শেয়ার করার সুবিধা যোগ করেত যাচ্ছে। এই সুবিধা এখনো নাই।

এখন আসা যাক এতে নতুন কি কি সুবিধা যোগ করা হয়েছে। প্রথমে এসেছে ট্যব ইন্টারফেইস – আগের ম্যাসেঞ্জারে একাধিক বন্ধুদের সাথে আলাপ করতে গেলে একাধিত উইন্ডো খুলে থাকতো, এটাকে ট্যাব দিয়ে সীমিত করা হয়েছে। এখন একাধিক বন্ধুদের সাথে আলাপ করতে গেলে সেটা একটা উইন্ডোতেই সীমিত থাকবে। প্রতিটি বন্ধুকে ট্যাব ধরে ধরে আলাদা করা যাবে। তবে এটা এখন গ্রুপের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে, মানে আপনার একেকটি বন্ধু যদি একেক গ্রুপে থাকে, তাহলে তারা আলাদা আলাদা ট্যাবে খুলবে। তবে য়াহু বলেছে তারা একটি অপশন দেবে যাতে করে আপনার সব বন্ধুদের এক ট্যাবে দেখা যায় বা সব বন্ধুদের আলাদা আলাদা ট্যাবে দেখা যায়।
ড্র্যাগ এন্ড ড্রপ ট্যাব
– এটা আবার একটা মজার অপশন। বিভিন্ন গ্রুপের বিভিন্ন উইন্ডো খুললেও আপনি একটি উইন্ডোর বন্ধুর নাম ধরে টেনে এনে অন্য একটি উইন্ডোর বন্ধুর নামের পাশে ছেড়ে দিয়ে যদি আগের (যার নাম ধরে নিয়ে এসেছেন) উইন্ডোটি বন্ধ করে দেন, সেই বন্ধুর আলাপটি তখন অন্য উইন্ডোতে ট্যাব হিসেবে চলে আসবে।
নতুন ইমোটিকন
– ইমটিকনগুলি সত্যই জটিল করেছে এবার। খুবই সুন্দর দেখতে এবং সুন্দর এনিমেটেড।
নতুন বন্ধুদের তালিকা
– বন্ধুদের তালিকাতে সরাসরি এভাটার দেখা যাবে, কেউ চাইলে সেটা ছোটো বা বড় করতে পারবে।
স্কিন কালার সমর্থন – য়াহু কিছু সুন্দর সুন্দর কালার স্কিন তৈরী করেছে। আপনি বন্ধুদের তালিকা উইন্ডোটি থেকে শুরু করে আলাপের উইন্ডো পর্যন্ত আলাদা আলাদা করে স্কিন কালার সেট করতে পারেন। উল্লেখ্য যে, ভিন্ন ট্যাবের জন্য ভিন্ন কালার স্কিন সেট করে রাখা যায়।
সাইডবারে কন্টাক্ট – আপনি যে বন্ধুদের সাথে বেশী আলাপ করেন তাদের এক এক করে ভিস্তা সাইডবারে এনে রাখতে পারেন, ম্যাসেঞ্জারের মূল উইন্ডো না খুলেই আপনি আপনার বন্ধুর সাথে আলাপ শুরু করতে পারবেন সরাসরি সাইডবার থেকে।
ফিডব্যাক – আপনার মন্তব্য য়াহু মূল্যায়ন করবে (!) বলে সব উইন্ডোর উপরে একটি ফিডব্যাক বোতাম জুড়ে দিয়েছে। আপনি চাইলে সেই বোতামে ক্লিক্ করে তাৎক্ষণিক আপনার মতামত জানাতে পারবেন।

আশাকরবো যেসমস্থ ঝামেলা এখনো রয়েছে, য়াহু সেগুলি কাটিয়ে উঠবে এবং আমরা একটি চমৎকার ম্যাসেঞ্জার ব্যবহারের সুযোগ পাবো। 🙂

অনলাইনে ‘ডিভি ২০০৯’ -এর নিয়মকানুন

বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লটারির মাধ্যমে ভাগ্যবান বিজয়ীদের সুযোগ দেয়া হয় আমেরিকার নাগরিকত্ব। বছর ঘুরে আবার শুরু হয়েছে আমেরিকা যাবার ২০০৯ সালের ডিভি লটারি কার্যক্রম। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ‘ডাইভারসিটি ভিসা ২০০৯’ ঘোষণা করেছে। এবার ভারত, পাকিস্তানসহ অনেক দেশ এই ভিসা কর্মসূচী থেকে বাদ পড়লেও বাংলাদেশকে এই তালিকায় রাখা হয়েছে। যারা লটারিতে অংশ নিতে চান, তাদের ইন্টারনেটে থাকা নির্দিষ্ট আবেদপত্র পূরণ করতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে ছবি। সেটিও রাখতে হবে ইন্টারনেটেই।৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা থেকে আবেদনপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়েছে। চলবে ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা পর্যন্ত। এই সময়ের পর আর আবেদন গ্রহণ করা হবে না। হাতে লেখা কোনো আবেদনপত্রও গ্রহণ করা হবে না। তবে আবেদন করার জন্য শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা না করাই ভালো। কারণ শেষ দিকে সার্ভারে বেশি চাপ পড়ায় আবেদনপত্র পাঠানোর প্রক্রিয়া ধীরগতির হতে পারে।

ডিভি ২০০৯ লটারিতে আবেদনপত্র পাঠানোর একটিই মাত্র পথ রয়েছে। আবেদনকারীকে অবশ্যই ইলেকট্রনিক ডাইভারসিটি ভিসা আবেদনপত্র জমা দিতে হবে, যা পাওয়া যাবে http://dvlottery.state.gov ঠিকানায়। তবে সব তথ্য সম্পূর্ণ ও সঠিক না হলে আবেদনপত্র বাতিল হয়ে যাবে।

আবেদনপত্রে যা দিতে হবে:
পুরো নাম: নামের শেষাংশ/পারিবারিক নাম, প্রথম অংশ, মাঝের অংশ।
জন্মতারখি: দিন, মাস, বছর।
লিঙ্গ: পুরুষ/নারী।
জন্মস্থান: কোন শহরে জন্ম হয়েছে। আবেদনকারী যে দেশে জন্ম গ্রহণ করেছে। যে যোগ্য ভৌগোলিক অঞ্চলের দেশের বাসিন্দা তার নাম।
সঠিক ছবি: ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা ছবি অবশ্যই জেপ্যাগ ফরম্যাটের হতে হবে দৈর্ঘ্যে ৩২০ এবং প্রস্থে ২৪০ পিক্সেল। এছাড়া ছবির ইমেজ ডেপথ কালার হবে ২৪ বিট কালার, ৮ বিট কালার অথবা ৮ বিট গ্রে স্কেলের। আর স্ক্যান করা ছবি হলে সেটার সাইজ হবে ২ ইঞ্চি বাই ২ ইঞ্চি বা (দৈর্ঘ্যে ৩০০ এবং প্রস্থে ৩০০ পিক্সেল)। প্রতি ইঞ্চিতে ১০ ডট (ডিপিআই) রেজ্যুলেশনে ছবিটি স্ক্যান করতে হবে। ছবির আকার হবে সর্বোচ্চ ৬২.৫০০ বাইট। ছবির পেছনের দিকে সাদা বা হালকা রঙের ব্যাকগ্রাউন্ডে ছবি হওয়া উচিত। কালো বা খুব গাঢ় বা কোন নকশা করা জমকালো ব্যাকগ্রাউন্ডে তোলা ছবি গ্রহণযোগ্য হবে না। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে মাথা ঢাকা, টুপি বা হ্যাট পরা ছবি গ্রহণ করা হবে যদি তা আবেদনকারীর মুখমন্ডল আড়াল না করে। অন্য কোন কারণে মাথা ঢাকা বা হ্যাট পরা থাকলে ছবি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং আবেদনপত্রও বাতিল হয়ে যাবে।
পূর্ণ ঠিকানা: ঠিকানা, শহর, জেলা, পোস্টাল কোড/জিপ কোড, দেশ। যে দেশে এখন বসবাস করছেন, তার নাম। Continue reading »

আমাদের দেশে ইন্টারনেটের এত ভেজাল কেনো?

কথা শুরু করার আগে বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর থেকে নেয়া দু’টি খবর শেয়ার করি:

সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য বিটিটিবি-ই দায়ী

বারবার সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন হয়ে ইন্টারনেট ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার জন্য বিটিটিবির অদক্ষতাকে দায়ী করেছেন সফটওয়্যার ব্যবসায়ী ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, হরতালের কারণে প্রতিদিন যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হতো এতে তার চেয়েও বেশি ক্ষতি হচ্ছে। সরকারের কাছে বিটিটিবির সাবমেরিন কেবলের বিকল্প ব্যবস্থা রাখার দাবি করেছেন তারা।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ যৌথ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বেসিসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, “২০০৬ সালের মে মাসে সাবমেরিন কেবল স্থাপনের পর দেশে ইন্টারনেট সেবার মান উন্নত হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে- এটাই আশা করেছিলাম। অথচ চালু হওয়ার পর থেকে ২৭ বার সাবমেরিন কেবলের কারণে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। যার ফলে দেশের আইটি সেক্টর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে আমাদের অর্থনীতির ওপর।” সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার জন্য বিটিটিবিকে দায়ী করে তিনি বলেন, “তাদের অযোগ্যতাই এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে বলে আমরা মনে করি।”

সরকারের কাছে সাবমেরিন কেবলের বিকল্প ব্যবস্থা রাখার দাবি জানান রফিকুল ইসলাম। দেশে বেসরকারি সংস্থার কাছেও সাবমেরিন কেবল সংযোগ থাকার কথা উল্লেখ করে এজন্য প্রয়োজনে তাদের কাছ থেকে তা লীজ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বেসিস সভাপতি জানান, সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন থাকলে একদিনেই তথ্য প্রযুক্তি খাতে আড়াই লাখ ডলার ক্ষতি হয়।

আরেকটি খবর:

অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল বারবার কাটা পড়ায় হুমকির মুখে রপ্তানি বাণিজ্য

অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল সংযোগ বারবার বিচ্ছিন্ন হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় ৯৫০ কোটি ডলারের রপ্তানি বাণিজ্য। রপ্তানির অনেক অর্ডার বাতিল হওয়ার পাশাপাশি তা চলে যাচ্ছে অন্য দেশে। বিটিটিবি জানিয়েছে, ২০০৬ সালের ২১ মে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর কক্সবাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত ৪৩৭ কিলোমিটারের অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল এ যাবৎ ২২ বার কাটা পড়ে। এরমধ্যে নাশকতামূলকভাবে আটবার এবং অবকাঠামো উন্নয়নের সময় অসাবধানতা, ভূমিধস, চুরি ও যানবাহনের দুর্ঘটনার কারণে বাকি সময়গুলোতে লাইন কাটা পড়েছে। Continue reading »

আরও একটা ভালো ইংরেজি গান

কিছুদিন আগে একটা সিনেমা দেখছিলাম, “দা লাস্ট মিমযি” একটু সায়েন্স ফিকশন টাইপের, তবে আমাদের না, বাচ্চারা পছন্দ করবে। সিনেমাটা শেষ হতে নাম দেখানো শুরু হলো, আমি টিউন শুনেই বুঝতে পারলাম কোনো বস্-এর গান হবে। হলোও তাই, পিঙ্ক ফ্লোয়েডের পুরাতন ভোকাল রজার ওয়াটারর্স-এর গলা।

বহুবছর এদের গান শুনিনা। না পিঙ্ক ফ্লোয়েড, না রজার ওয়াটার্স। কিছুদিন আগে অবশ্য পিঙ্ক ফ্লোয়েডের বর্তমান লিড ভোকাল ডেভিড গিলমর একটা এলবাম বের করেছিলেন “অন এন আইল্যান্ড” কিন্তু রজার ওয়াটার্স হলেন আসল সইকেডেলিক রক্ গুরু। উনাকে ছাড়া গান জমে না। 🙂

গুরুর এই গানটা শুনলে সেই পিঙ্ক ফ্লোয়েডের স্বাদ পাওয়া যায়। বলা যায় সাইকেডেলিক পিপাসা মেটানোর জন্য ভালো খোরাক। ইউটিউবকে ধন্যবাদ ভিডিওটি ধরে রাখার জন্য।

গানের কথাগুলি এরকম: Continue reading »