Rose of Nevada (২০২৫) — আর্টের গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাওয়া এক সিনেমা

পরিচালক যখন নিজের তৈরী শৈল্পিকতার প্রেমে অতিরিক্ত মশগুল হয়ে দর্শকের বিনোদনের দায়ভার ভুলে যায়, ঠিক তখনই জন্ম নেয় Rose of Nevada-র মতো বিভ্রান্তিকর সিনেমা!
প্লট ও হালকা স্পয়লার:
Mark Jenkin এর লেখা, পরিচালনা, এডিট, মিউজিক সব একা করা এই British sci-fi drama টা দারুণ কনসেপ্ট নিয়ে তৈরী হয়েছে। ৩০ বছর আগে সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া একটা ফিশিং ট্রলার Rose of Nevada হঠাৎ একদিন ফিরে আসে কর্নওয়ালের এক আধমরা জেলে গ্রামে। গ্রামটা তখন অর্থনৈতিকভাবে প্রায় শেষ।
এই সুযোগ দুইজনের জন্য – নিক (George MacKay), যার সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে, আর লিয়াম (Callum Turner), যে ডকে ঘুমায়। অভাবের তাড়নায় এই দুই যুবক ট্রলারটির ক্রু হিসেবে সাগরে পাড়ি জমায়। কিন্তু প্রথম সফর শেষ করে ঘাটে ফিরতেই তারা আবিষ্কার করে যে তারা আসলে ১৯৯৩ সালে, অর্থাৎ ঠিক ৩০ বছর আগে টাইম-স্লিপ করে ফিরে গেছে! অদ্ভুত ব্যাপার হলো, গ্রামবাসীরা তাদের নতুন কেউ হিসেবে নয়, বরং অতীতে নিখোঁজ হওয়া পুরোনো দুই জেলের পরিচয়ে গ্রহণ করে! Liam হয়ে যায় Alan, আর Nick হয়ে যায় Luke!! যারা আসল Rose of Nevada তেই নিখোঁজ হয়েছিলো। লিয়াম সহজেই নতুন পরিবার আর অতীতে নিজের জায়গা করে নিলেও, নিক নিজের আসল পরিচয় ও বর্তমানের পরিবারের কাছে ফেরার পথ খুঁজতে গিয়ে বাস্তব ও ঘোরের এক অন্তহীন লুপে বন্দি হয়ে পড়ে।
এই আইডিয়াটা দারুণ ছিলো, কিন্তু এখানেই ডিরেক্টর খেই হারিয়ে ফেলেন। ১৬মি.মি. Bolex ক্যামেরায় শুট, অ্যানালগ সাউন্ড, হিপনোটিক ভিজুয়াল – সব আর্টের জন্য। কিন্তু গল্প কোথায় যাচ্ছে, কেন Nick বারবার পালাতে চায়, Liam কেন সহজে নতুন জীবনে ঢুকে যায়, Mrs. Richards এর ওয়ার্নিং এর মানে কী – কোনো কিছুরই পরিষ্কার উত্তর নেই।
কেমন লাগলো?
শুনতে দারুণ সাই-ফাই টাইম-লুপ মিস্ট্রি মনে হলেও, পর্দার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত ক্লান্তিকর। পুরো সিনেমাটি ১৬মিমি ক্যামেরায় শুট করা, সাথে ধাতব শব্দ আর ঝাপসা দৃশ্য—আর্টহাউজ ঘরানার দৃষ্টিতে হয়তো একে দারুণ সিনেমাটোগ্রাফি বলা যায়। কিন্তু এর অতিরিক্ত ধীরগতি, খাপছাড়া সম্পাদনা আর অস্পষ্ট সংলাপ গল্পের সব টানটান ভাব নষ্ট করে দিয়েছে। George MacKay আর Callum Turner ভালো অভিনয় করেছে, কিন্তু তাদের ক্যারেক্টারের অস্পষ্ট ন্যারেটিভের কারণে কানেক্ট করা যায় না। শেষে মনে হয়, টাইম-লুপের লজিক বোঝানোর চেয়ে ডিরেক্টর মুড বানাতেই বেশি ব্যস্ত ছিলো।
কোথা থেকে শুরু হয়ে কোথায় শেষ হলো, তার কোনো সরল ব্যাখ্যা পরিচালক দেয়নি। এটি এমন এক সিনেমা যা হয়তো চলচ্চিত্র সমালোচকদের বিশ্লেষণে বাহবা পাবে, কিন্তু সাধারণ দর্শকের জন্য কেবলই হাই তোলার কারণ। হাতে জরুরী কোনো কাজ থাকলে নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করে এটি দেখার কোনো প্রয়োজন নেই!

তোমার হাতে সময় কম থাকলে স্কিপ করো। আর যদি স্লো, এক্সপেরিমেন্টাল সিনেমা ভালো লাগে, তাহলে একবার দেখতে পারো – তবে ধৈর্য্য নিয়ে।

আমার রেটিং ২/১০

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top