Tyrant – বাস্তবতার ছায়া থেকে অযৌক্তিক টানাটানি

২০১৪ সালের টেলিভিশন সিরিজ Tyrant দেখতে বসেছিলাম একটা পলিটিক্যাল থ্রিলার ভেবে। ২০১৪ সালের সিরিজ, মধ্যপ্রাচ্যের কাল্পনিক দেশ আব্বুদিনকে কেন্দ্র করে। প্রথম সিজনে মনে হয়েছিল এটা আসলেই মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটে তারই ছায়া। একনায়ক বাবা, তার উগ্র ছেলে জামাল, আর আমেরিকায় পালিয়ে যাওয়া ছোট ছেলে ব্যারি যে ডাক্তার হয়ে ফিরে আসে। ক্ষমতা, পরিবার, গোত্র, আমেরিকার হস্তক্ষেপ – সবকিছু এতটাই বাস্তব লাগছিল যে এক সময় মনে হচ্ছিল আমি নিজেই যেন মধ্যপ্রাচ্যের কোনো এক দেশে বসে খবর দেখছি, সিরিজ না।

সমস্যা শুরু হয় সিজন ১ এর শেষ দিক থেকেই। গল্পকে টেনে বড় করার চেষ্টা এতটাই স্পষ্ট যে পেস একেবারে পড়ে যায়। যেটা ১০ এপিসোডে শেষ করা যেত, সেটাকে ৩ সিজনে টানা হয়েছে। ফলে লজিক হারিয়ে যায়।

সিজন ২ আর ৩ আমার কাছে প্রায় অযৌক্তিক লেগেছে। ব্যারি একবার প্রেসিডেন্ট হতে চায়, পরক্ষণেই বিদ্রোহী, আবার স্বৈরাচারী। তার চরিত্রের কোনো ধারাবাহিকতা নেই। রাজনৈতিক চালগুলোও আর বাস্তব মনে হয় না, মনে হয় হলিউডের লেখা মধ্যপ্রাচ্য।

আরেকটা বিরক্তির জায়গা হলো অপ্রয়োজনীয় সাবপ্লট। মূল গল্প যেখানে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে, সেখানে হঠাৎ হঠাৎ পরকীয়া আর সমকামী সম্পর্কের ট্র্যাক ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে যেগুলো মূল প্লটকে এগোয় না। মনে হয়েছে প্রযোজকরা জোর করে কিছু ইস্যু ঢোকাতে চেয়েছেন, গল্পের প্রয়োজনে না।

২০১৪ সালে হয়তো এই স্কেলে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে কাজ করাটাই বড় ব্যাপার ছিল, তাই নাম করেছিল। কিন্তু ১০ বছর পর দেখতে বসে আমি কোনো পেস পাইনি। প্রথম সিজনটা ৭/১০ দেওয়া যায়, কিন্তু পুরো সিরিজ হিসেবে ৪ এর বেশি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top