Justin Spitzer-এর নাম দেখে আর Superstore বা Parks and Recreation-এর মতো দুর্দান্ত ওয়ার্কপ্লেস কমেডির আভাস পেয়ে ভাবলাম NBC হয়তো নতুন কোনো ক্লাসিক বানিয়েছে। কিন্তু ডেট্রয়েটের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘Payne Motors’-এর গল্প দেখতে বসে প্রতিটা পর্বে কেবলই বিরক্তি আর অস্বস্তি বেড়েছে! একটানা মানুষের অযোগ্যতা আর ভুল দেখতে দেখতে একপর্যায়ে হাসির বদলে শুধু ক্লান্তি বাড়ে!
গল্প ও কিছু বড় স্পয়লার
সিরিজের শুরুতেই নতুন সিইও হয়ে আসে Katherine Hastings – Ana Gasteyer, যে কিনা অটোমোবাইল ব্যবসা সম্পর্কে ক অক্ষর জ্ঞান রাখে না! প্রথম সিজনেই তাদের তৈরি ফ্ল্যাগশিপ সেলফ-ড্রাইভিং গাড়ি “Ponderosa”-এর অ্যালগরিদম ব্লান্ডার দেখানো হয়, যেখানে গাড়িটি একজন কৃষ্ণাঙ্গ পথচারীদের শনাক্তই করতে পারে না এবং তার ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেয়! এই মারাত্মক স্ক্যান্ডাল ঢাকতে গিয়ে একের পর এক অথর্ব সব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
পরবর্তী সিজনেও এই চরম অপেশাদারিত্ব চলতেই থাকে, কখনও ভুলবশত ফার্মাকোলজিক্যাল ড্রাগ স্ক্যান্ডালের সাথে তাদের নাম জড়ায়, তো কখনও সোশ্যাল মিডিয়া ব্লান্ডারে শেয়ার বাজারে ধস নামে। এমনকি দ্বিতীয় সিজনের শেষে যখন পুরো কোম্পানি টেকওভার হতে যাচ্ছে, তখন সিইওকে বাঁচানোর চেয়ে বোর্ডের সবাই নিজেদের পিঠ বাঁচাতে একে অপরের বিরুদ্ধে নোংরা খেলায় মেতে ওঠে। এই বিশৃঙ্খলা কোনো চতুর স্যাটায়ার উপস্থাপন করে না, বরং পুরোটাকেই জোর করে হাসাতে চাচ্ছে এবং দর্শকদের খাওয়াতে চাচ্ছে এরকম মনে হয়।
কেমন লাগলো?
The Office বা Parks and Recreation-এর চরিত্রগুলো যতই অদ্ভুত হোক না কেন, তাদের মাঝে একটা মন ছোঁয়া মানবিকতা বা চার্ম ছিলো। কিন্তু American Auto-র মূল সমস্যা হলো এর প্রতিটি চরিত্র অতিরিক্ত অহংকারী, চরম অপদার্থ এবং কোনোভাবেই সহমর্মিতা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না। হাস্যরসের নামে একের পর এক অদক্ষতার পুনরাবৃত্তি এবং জোর করে ক্রিন্জ সিচুয়েশন তৈরী করায় একপর্যায়ে দেখার আগ্রহটাই মরে যায়।
বুদ্ধিদীপ্ত কর্পোরেট স্যাটায়ারের মুখোশ পরে আসা এই সিটকমটি দর্শকদের হাসানোর বদলে ধৈর্য পরীক্ষা নেয়। NBC যে মাত্র দুই সিজনেই এর পাট চুকিয়ে এটাকে বাতিল করার সঠিক সিদ্ধান্তনিয়েছে। নিজের মূল্যবান সময় বাঁচাতে এই সিরিজ এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ!
আমার রেটিং ২/১০
