পরিবারহীনদের পরিবার SOS Children’s Village-এ একদিন

বহুদিন ধরেই আলী ভাই আমাদের দাওয়াত দিয়ে আসছিলেন যাতে একবার গিয়ে তাদের ছোট্ট পল্লীটি ঘুরে দেখি। আমার নিজেরও খুব ইচ্ছা ছিলো গিয়ে শিশুদের জীবনধারা দেখে আসার; কিন্তু কাজের ফাঁকে সময় করে উঠতে পারছিলাম না।

গত বুধবারে ইমরান ভাই আর আমি প্ল্যান করে ফেললাম যে বৃহষ্পতিবারে দুপুরের মধ্যে সমস্থ মিটিং শেষ করে ওখানে বেড়াতে যাবো।

ঢাকা, রাজশাহী, খুলনাবগুড়ার এস ও ওস শিশু পল্লী’র সামনে দিয়ে যাবার সময় ওদেরকে জানার একটা আগ্রহ কাজ করতো; এত সুন্দর পরিপাটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যের নেপথ্যে আসলে কি থাকতে পারে!

প্রথম যেদিন আলী ভাইয়ের সাথে দেখা হয়, সেদিন তিনি ধারনা দেন তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে, মা-বাবা হারা, বা শুধু মা হারা, অথবা শুধু বাবা হারা শিশুদের একটি পরিবারের মধ্যে রেখে, শিশুদের ভবিষ্যত গড়ে তোলে এস ও ওস শিশু পল্লী বা SOS Children’s Village. অনেকে এস ও ওস শিশু পল্লীকে এতিমখানা ভেবে ভুল করতে পারেন, আমি শুরুতেই বলে রাখি যে, এস ও ওস শিশু পল্লী আর দশটা গতানুগতির এতিমখানা না।

ভেতরে ঢুকেই আমি একটু হতভম্ব হয়ে গেলাম এর বিশালত্ব দেখে। আমরা গিয়েছিলাম ঢাকাস্থ শ্যামলী শাখায়। খেলার মাঠ, মসজিদ, বাচ্চাদের খেলার আলাদা আলাদা জায়গা, সব কিছু এত গোছানো যে চোখে না দেখলে বিশ্বাস হয়না। আমাদের শহুরে বাচ্চারাই এতকিছু কল্পনাই করতে পারেনা।

একটি পল্লীর ভেতরে তারা কয়েকটি বাড়ি নিয়ে তারা আলাদা আলাদা গ্রাম তৈরী করেছে। প্রতিটি বাড়ী ডুপ্লেক্স, যার উপর তলায় শিশুরা থাকে এবং নীচে থাকে তাদের মা। একটি বাড়িতে সর্বোচ্চ ১২ জন শিশু নিয়ে তৈরী পরিবার। একটি পরিবারে মা থাকেন, যিনি বাচ্চাদের দেখাশোনা এবং পরিচর্যা করেন, আর মা’কে সাহায্য করেন খালাম্মা। ছোট্ট সোনামনির যত্নের দরকার হলে বড় ভাই-বোনেরারও পিছিয়ে থাকেনা, যেমনটি হয় একটি স্বাভাবিক পরিবারে। অসাধারণ পারিবারিক কনসেপ্ট নিয়ে সেই ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করে যাচ্ছে এই সংস্থাটি।

একটি সাধারণ পরিবারের শিশু যেভাবে তার পরিবারে বেড়ে ওঠে এই পল্লীতেও শিশুরা ঠিক সেভাবেই বেড়ে ওঠে। লেখাপড়া, খেলাধুলা, বিনোদন, কোনোকিছুতেই ফাঁকি দেবার কোনো সুযোগ নেই। আর দশটা মানুষের মতন এই শিশুরা বড় হয়, নিজেদের পায়ে দাঁড়ায় এবং জীবন সংগ্রামে যোগ দিতে চলে যায় পল্লী ছেড়ে। ইচ্ছে হলে বেড়াতে আসতে পারে নিজের বেড়ে ওঠা বাড়িতে, সাথে নিয়ে আসতে পারে জীবনসঙ্গীকে 🙂

ঘুরতে ঘুরতে আমরা একটি বাড়িতে ঢুকলাম তাদের অবস্থা দেখার জন্য, তাদেরকে জানার জন্য। কথা হলো মা আর বড় মেয়ের সাথে; মেয়ে সদ্য লালমাটিয়া কলেজে ভর্তি হয়েছে। মা মেয়ে মিলে অনেক পদের নাশ্তা বানিয়ে খাওয়ালো আমাদের। মেয়ের চাঞ্চল্য ও আধুনিকতা দেখে বোঝাই যায় এই মেয়ে বহমান সমাজের স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে নিতে পারবে। ১৯৭২ সালে তৈরী হলেও বাড়ীগুলির প্ল্যানিং সত্যই প্রশংসনীয়। অসম্ভব গোছানো, একসময় মনে হচ্ছিলো, এত গোছানো কেন!

সত্যি বলতে এটা ছিলো এক স্বর্গীয় অভিজ্ঞতা। আমরা যারা যান্ত্রিক জীবনের ঘাতের মধ্যে আটকে পড়েছি, তাদের আমি এরকম পল্লী একবার ঘুরে আসার পরামর্শ দেবো। আশাকরি খারাপ লাগবেনা।

আমার নতুন গ্যাজেট কিন্ডল ফায়ার নিয়ে ১৯ ঘন্টা

Tags

,

২০১১ সালে বেশ কিছু গ্যাজেট নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার সুযোগ হয়েছে। এর মধ্যে এন্ড্রোয়েডের বেশ কিছু ডিভাইস ছিলো। এন্ড্রয়েড নিয়ে যত ঘেঁটেছি, তিক্ততা ততই বেড়েছে। অপারেটিং সিস্টেম নির্মাতা কোনো লিমিটেশন নির্ধারণ করে না দিলে হার্ডওয়্যার কিনে ক্রেতাদের বিপদে পড়তে হয়।

আমি কেনো এন্ড্রোয়েডের জিভাইসগুলি নিয়ে বিরক্ত সেটি একটা বলার প্রয়োজন মনে করছি। এই বছর শুরুর দিকেই এন্ড্রোয়েড মার্কেটের কোনো কনসিসটেন্সি ছিলোনা। একজন একটা ভালো এ্যপ্লিকেশন বানালে বোঝার উপায় নেই, যতক্ষণ সেই ডেভলপার বা কোম্পানী ঐ এ্যপ্লিকেশনের প্রচার না করছে বা ব্যবহারকারীরা ব্যবহার না করে রেটিং না করছে। শত শত এ্যপ্লিকেশন প্রতিদিন আসছে মার্কেটপ্লেসে, কিন্তু কেউ জানেনা কোথায় যায় সেগুলি। তাছাড়া ডিভাইসের কোনো স্ট্যান্ডার্ড না থাকায় কোথায় কি চলবে বলা মুশকিল! একই এ্যংগ্রি বার্ডস্ কোনো ডিভাইসে চলে, কোনোটায় চলেনা। ডিভাইস কেনার বা ব্যবহার করার আগে বলা মুশকিল কোনটায় কি চলবে। একটায় বাংলা সমর্থন করে, আরেকটায় করেনা! এই ঝামেলাগুলির জন্য আমি অনেকটা বিরক্ত। আর নিম্নমানের ডিভাইস দিয়ে বাজার সয়লাব!

যখন প্রথমবার এমাজন কিন্ডেল ফায়ারের নাম শুনলাম, ভাবলাম এবার হাতের নাগালে একটা ভালো জিনিস আসছে। মানুষ কোয়ালিটি জিনিস পাবে। আমিও একটা কেনার ব্যবস্থা করলাম আমেরিকা থেকে। গত ২৭ তারিখে হাতে এসে পৌছায় ডিভাইসটি। চালু করেই টাসকি খেলাম! শুরুতেই ক্রেতার নাম এবং বিলিং তথ্য দেখাচ্ছে! মানে আমার যেই কাজিন এটা কিনেছে তার ক্রেডিট কার্ডের তথ্যও ভরে দেয়া আছে ভেতরে। সাথে সাথে এমাজনে গিয়ে আমার কার্ড দিয়ে একটা একাউন্ট খুলে আমার তথ্য দিয়ে ডইভাইসটি চালু করলাম। আমি আমার কার্ড দিলাম, এমাজন আমার কার্ড থেকে $০.১০ কেটে আাবার ফেরৎ দিয়ে দিলো এবং নিশ্চিত করলো যে কার্ডটা ঠিক আছে আর এরপরই শুরু হলো খেলা!

আমি এপস্ সেকশনে গিয়ে ফ্রি কিছু এপ্লিকেশন নামানোর চেষ্টা করে দেখলাম, আমাতে জানালো যে “আমাকে আমেরিকার কার্ড ব্যবহার করতে হবে ফ্রি এপ্লিকেশন ব্যবহার করার জন্য” একটু হতাশ হলাম। হাল না ছেড়ে একটু গিকি ঘাঁটাঘাঁটি করা শুরু করলাম। যখন কিন্ডেলটা নেবার চিন্তা করেছিলাম, তখনই জানতাম যে একটু হ্যাক করতে হতে পারে, কারণ কিন্ডেল এখনো সেভাবে তৈরী না।

  • থ্যাংকস গিভিং এবং ক্রিসমাসের সেল ধরার জন্য এমাজন খুব তাড়াহুড়ো করে কিন্ডেল ফায়ার রিলাজ করে,
  • এমাজনের ডেভলপার টিম এখনো তৈরী না (এখনো তারা ডেভলপার হায়ার করছে),
  • এন্ড্রোয়েডের মার্কেটপ্লেস ব্লক করে নিজেদের মার্কেটপ্লেস স্টাবলিশ করার চেষ্টা করে,
  • হার্ডওয়ার বিক্রি করার চাইতে তাদের মূল লক্ষ্য ক্লাউড সার্ভিস বিক্রি করা, যেমন মুভি ভাড়া করা, বই কেনা ইত্যাদী।

যেহেতু ক্লাউড দিয়ে ভবিষ্যতে ব্যবসা হবে, তাই ভেন্ডর লক করে কমদামে ডিভাইসগুলি বিক্রি করছে তারা। ৫/৬ ঘন্টা ঘাঁটা ঘাঁটি করে দেখলাম তাদের নতুন আপডেট ৬.২ হ্যাক করার জন্য আগের পন্থাগুলি কাজ করছে না। আরও সময় নিয়ে বসলাম এবং মনে একটা ভয় কাজ করে, যদি ডিভাইসটি নষ্ট হয়ে যায়! পরে এক্সডিএ ডেভলপারদের এই থ্রেড থেকে সাহায্য নিয়ে হ্যাক করে ফেললাম কিন্ডেল ফায়ার। এমাজনের জিনিসপত্র বাদ দিয়ে গো লঞ্চার লোড করলাম। এখন এটা গ্যালাক্সি ট্যাবের মতন ব্যবহার করা যায় আর এন্ড্রোয়েড মার্কেটপ্লেস থেকে সবকিছু ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যায়!

মাত্র ১৯ ঘন্টা ব্যবহার করেছিলাম ডিভাইসটা (পরে এক ছোট ভাই নিয়ে নিয়েছে, অবশ্যই টাকার বিনিময়ে), হ্যাক করে লোড করেছিলাম বাংলা ফন্ট, কিন্তু ঠিক মতন কাজ করেনি। বাংলা দেখার জন্য ওপেরা মোবাইল ব্রাউজার ব্যবহার করতে হবে আপাতত। হ্যাক করার পরে মুভি চালানোর সফটওয়্যার লোড করেছি এবং কাজ করেছে খুব সুন্দর। হার্ডওয়্যার রেন্ডারিং সমর্থন করে মৃভি প্লেব্যাক করার ক্ষেত্র। হ্যাক করে ব্যবহার করলে, এটা ইন্টারনেট ব্যবহার আর এন্টেরটেইনমেন্টের একটা ডিভাইস হিসেবে ভালো কাজে দিতে পারে। এর সাথে আসা সিল্ক ব্রাউজার আমার কাছে ভালো লেগেছ। দামের সাথে তুলনা করলে ঠিকই আছে, কিন্তু হাতে টাকা থাকলে আমি এখনো আইপ্যাড কেনার পরামর্শ দেবো…

শেষে একটা কথা বলতে চাই, কেউ যদি কারও জন্য কিনে দেয়, সেই ক্ষেত্র অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যাতে নিজের ক্রেডিটকার্ডের মতন তথ্য ডিভাইসে দিয়ে না দেয়। আমি এমাজনে দেখেছি এই অপশন আছে, অন্যের জন্য কেনা যায় এবং তখন ওরা তথ্যগুলি লোড করে দেয়না। 🙂

হাত ধরে কাজ করলে আরও উন্নত হতে পারে আমাদের আইটি!

বহুবছর থেকে একটা জিনিস লক্ষ্য করে আসছি, আজকে ভাবলাম এটা নিয়ে লেখা দরকার। ২০০১ থেকে একটা চেষ্টার মধ্যে আছি, কমিউনিটির জন্য কিছু করার। বিভিন্ন কাজ করার চেষ্টা করেছি যাতে অন্যদের কাজে লাগে, বিভিন্ন গ্রুপের সাথে মিশেছি, অনেকে এক হয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় যা কিছু করেছি কারও ক্ষতি হয়নি তাতে বরং লাভ হয়েছে। যত কাজ করেছি, তত নতুন জিনিস শিখেছি, নেটওয়ার্ক বড় হয়েছে, সর্বোপরি অভিজ্ঞতা বেড়েছে।

কমিউনিটির জন্য প্রথম কাজ করি লোকালাইজেশন নিয়ে। নিজের ভাষায় সবকিছু হবে, সবাই নিজের ভাষায় সব ব্যবহার করতে পারবো। ভাবতেই ভালো লাগতো। ছোট্ট একটা আইএসপি চালাতাম আর বসে বসে অনুবাদের কাজ করতাম, ফন্ট তৈরীর কাজ করতাম। এই কাজ করতে পরিচিত হয়েছি অসাধারণ কিছু মানুষের সাথে। ম্যাক ভাই, জামিল ভাই, সুজন, আলমগীর সহ অনেকে; ভারতেরও দুই একজনের সাথে কাজ করা হতো, চমৎকার সিংক্রোনাইজেশন ছিলো আমাদের মধ্যে। কেউ সরাসরি হয়তো কাজ করতনা, কিন্তু পাশে থেকে ব্যপক সহযোগীতা দিয়েছে, যেমন ইরু ভাই, মোজাহেদুল ভাই, রাসেল ভাই, মুনির ভাই, সহ অনেক অনেক মানুষের। আর কাজের পথেই বন্ধু হিসেবে পেয়েছি হাসিন হায়দারের মতন মানুষকে।

প্রথম থেকে ওপেনসোর্সের প্রতি একটা ঝোঁক ছিলো, ধারণা ছিলো সব কিছু নিজের মতন করে ঢেলে সাজানো যাবে, আর তাই লিনাক্সের এডভোকেসি করেছি প্রচুর। সঙ্গে থেকেছি অঙ্কুর, বিডিলাগবিডিলুয়ার মত সংগঠনের, প্রতিষ্ঠায় উৎসাহ দিয়েছি বিডিওএসএন-এর।

কিন্তু সেই শুরু থেকে একটা জিনিস লক্ষ করেছি যে আমাদের কমিউনিটিতে কিছু মানুষ আছে যারা সাহায্য করার নাম করে আসে, অনেক উঁচা লম্বা কথা বলে এবং পরে কুলশিত করে ফেলে কমিউনিটিকে। ক্ষতিগ্রস্থ হয় ফ্রেশাররা, হরিয়ে ফেলে দিক নির্দেশনা। একসময় লিনাক্সের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফোরামগুলিতে কথা হতো, এখন কি হয়েছে জানিনা! চমৎকার অনেকগুলি ফোরম এখন মৃত, এখন আলোচনা কোথায় হয় আমার জানা নাই! আবার আরেক ধরণের মানুষ আছে, যারা “কমিউনিটির জন্য কিছু করছি” বলে কিছু মেনে নিতে পারেনা। একটা ফোরাম করলে সেটার মালিক হয়ে থাকতে চায়; পরে মালিক হিসেবে স্বিকৃতী না দিলে, রাগ করে সব বন্ধ করে দেয়। আরও একদল মানুষ আছে যারা সবসময় উশখুশ করতে থাকে, ও না জানি কি বললো, এ নাজানি কি বলবে এবং না বুঝে মন্তব্য করে, এরকম কথা বলে ফেলে যেটা আরেকজনের বিরুদ্ধে যায় এবং কমিউনিটিতে ঝামেলা লেগে যায়!

এগুলি ছিলো শুরু থেকে, এখন দেখাযায় অনলাইন/অফলাইন মিডিয়াতে কাদা ছেটানো, কে কাকে কত কাদা ছেটাতে পারে। মোস্তফা জব্বার এবং অভ্র’র ঝগড়াটা মনে থাকবে অনেকদিন। অযথা একটা ঝামেলা এতদূর গিয়েছিলো। প্রথমেই যদি মোস্তফা জব্বার রাগ না করে বিষয়টা মেটানোর চেষ্টা করতেন আমার মনেহয় বেশী ঝামেলা হতোনা। এখন অনলাইন মাধ্যমগুলিতে বিভিন্ন বিষয়নিয়ে অনেক নোংরা নোংরা কথা হচ্ছে, কেউ কাজ করছে কমাউনিটি ডেভলাপ করার, কারও গা জ্বলছে অকারণে; শুরু হচ্ছে কাদা ছোঁড়া ছুঁড়ি! কেউ কারও বিরুদ্ধে কথা বললেই যেনো বীর আর কেউ গালি দিয়ে বীর!

একটা ছোট্ট উদাহরণ দি, আমরা শত শত শব্দ অনুবাদ করেছি লিনাক্স, মোজিলা, গুগল্-এর জন্য। এখন গুগল্ ওয়েবদুনিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে টাকা দিয়ে অনুবাদের কাজগুলি করায়!  আমরা যারা প্রথমদিকে গুগল্-এর বিভিন্ন সেবার অনুবাদ করেছি, তারা কি আজকে গুগল্-কে গিয়ে প্রশ্ন করছি যে আমাদের কাজের টাকা না দিয়ে কেন এখন টাকা দিয়ে ওয়েবদুনিয়ার কাছ থেকে অনুবাদ করাচ্ছে! ঠান্ডা মাথায় বসে বসে অনেক কিছু বিলুপ্ত হয়ে যেতে দেখেছি। ভুল করেছি, বকা খেয়েছি, তবে কমিউনিটির ক্ষতি হয়ে এরকম কিছু করিনি।

আমি আরেকটা জিনিস লক্ষ্য করি যে টোট্‌কা ফোট্‌কা আইটি প্রফেশনালরা একে অন্য প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কথা বলছে। ওপেনসোর্স নিয়ে যারা কাজ করছে তারা ক্লোজ্‌ড সোর্স প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছে কোনো কারণ ছাড়া; আবার উল্টোটাও হচ্ছে। আবারও কনফিউজ হচ্ছে ফ্রেশাররা। আমি যদি ওপেনসোর্সের সাকসেস নিয়ে কথা বলি, এক হাজারটা কথা বলতে পারবো, আবার ক্লোজ্‌ড সোর্স প্ল্যাটফর্মে নিয়ে বলতে পারবো হয়তো তারও বেশী। ফায়ারফক্স দিয়ে যেমন কনজিউমার ওয়েব ব্রাউজিং ভালো হয়, সেরকম এন্টারপ্রাইজ এপ্লিকেশন দিনের পর দিন চালাতে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার লাগে। কিন্তু দরকার টা কি এভাবে একটা, আরেকটার সাথে তুলনা করার? যে যার স্থানে শ্রেষ্ঠ!

আইটি নিয়ে আমাদের দেশে ব্যপক সম্ভাবনা, এটা নতুন কিছু না। আমাদের উচিৎ হবে আমারা যে যেখানে আছি, সেই পরিধীর মধ্যে থেকে আমাদের অভিজ্ঞতা নতুনদের সাথে শেয়ার করা, তাদের উৎসাহিত করা। উৎসাহিত করা সবকিছু এক্সপ্লোর করে দেখার জন্য। আমাদের কখনই উচিৎ হবেনা নিজেদের মধ্যে কে কি করলো, কে কি বললো এসব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানো। আমরা যারা কমিউনিটির উন্নয়ন করার চেষ্টা করি বা করছি, তারা একটু পরচর্চায় কান না দিলে কিন্তু অনেক প্রডাক্টিভ হতে পারি। আর যারা কিছু করতে পরিনা, তারা পরনিন্দা বা পরচর্চাটা উপেক্ষা করে সেই সময়টা কিছু শেখার জন্য কাজে লাগাতে পারি। সেদিন কাকে যেনো বলছিলাম যে দু’লক্ষ টাকা প্রতিমাসে বেতন দিতে চায়, এরকম কোম্পানী ঘুরে বেড়াচ্ছে কিন্তু লোক পাচ্ছে না শেয়ারপয়েন্টের। কারণ আমরা কখনো এটা নিয়ে আলাপ করিনি, কেউ জানেনা এরকম একটা বাজার আছে। ভাই যেমনই হোক, একটা কর্মশালা বা আলোচনা সভা করলে মানুষ নামটাতো জানতে পারবে; উপস্থিত ২০০ জনের মধ্য থেকে ২০ জন তো এক্সপ্লোর করবে। ২০ জনের মধ্যে থেকে ২ জন এই প্ল্যাটফর্মকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেবে। এটাইতো আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ; আর উপস্থিতদের মধ্যে একটা দল নানারকম মন্তব্য করবে, কিছু মন্তব্য থেকে অনেক কিছু শেখা যায়; সেগুলিকে পজেটিভ ভাবে নিলেই কিন্তু পরেরবার ঝামেলা হয়না। আর আমরা এই চেষ্টাগুলি করি নতুনদের জন্য। যারা জানে, তাদের জন্য এই আয়োজনগুলি হয়না, তাই চেষ্টা করা উচিৎ নতুনদের ফিডব্যাক নেয়ার।

আমি মনে করি আইটি প্রফেশনে যারা আছে, সে একটা কম্পিউটারের দোকানের বিক্রতা হতে পারে আবার গ্রামীণফোনের সিইও হতে পারে, এদের বুদ্ধিমত্তা সাধারণ মানুষের থেকে অনেক বেশী। আমরা কেন আমাদের বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার না করে বোকার মতন নোঙরা কাজ করবো! কেনো আমরা কারও কথা না ভেবে, কিছু চিন্তা না করে একটা পদক্ষেপ নেবো বা একটা মন্তব্য করবো!

শেষে একটা কথা বলতে চাই নতুনদের জন্য। পৃথিবীতে অপশন সবসময় থাকবে, এসকিউএল সার্ভার জেনেছি দেখে ওরাকল জানা যাবেনা, এই ধারণা রাখা ঠিক না। নিজের জ্ঞানের পরিধী যত থাকবে কর্মক্ষেত্রে অপশন তত বেশী হবে। পিএইচপি শিখলে যে উইন্ডোসে কাজ করা যাবেনা এরকম ধারণা নিয়ে বেশীদূরে যাওয়া যায়না। নিজেকে সবসময় ওপেন রাখতে হবে অপশনের জন্য আর হাতের কাছে যা পাওয়া যায় একটু ঘাঁটাঘাঁটি করলেই অনেক কিছু শেখা যায়। তথ্য-প্রযুক্তিকে ক্যরিয়ার হিসেবে নিতে যে পিএইচডি ডিগ্রি নিতে হবে, এমন কথা নেই। আশে পাশে দেখা শীর্ষ তথ্য-প্রযুক্তিবিদরা বেশীরভাগই কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে লেখাপাড় করেননি। আর যেহেতু আমরা রাজনীতিবিদ নই, আসুননা একে অপরের হাত ধরে, এক কমিউনিটি অন্য কমিউনিটির সাথে মিশে একত্রিত হয়ে নিজেদের উন্নত করি!

🙂

আমার নতুন গ্যাজেট ZTE AC30

Tags

, , , , , , , , , , , , , ,

নিত্য-নতুন গ্যাজেট ব্যবহার করতে কে না চায়! অনেকে নতুন গ্যাজেটের খবর পায়না, অনেকে আবার ব্যবহার করে দেখার রিস্ক নিতে চায়না। আমি সুযোগ হলে ব্যবহার করে দেখতে দ্বিধা করিনা। আমি আজকে থেকে নতুন একটা ক্যাটাগরি আরম্ভ করলাম আমার ব্লগে। “গ্যাজেট” নামের এই ক্যাটাগরিতে আমি যেসব ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেট ব্যবহার করি, সেগুলি নিয়ে কিছু লিখবো। হয়তো অন্যান্যদের কাজে লাগবে ভবিষ্যতে।

কিছুদিন আগে ZTE AC30 MiFi ডিভাইসটা হাতে পেলাম। ভেতরে যাবার আগে একবার জেনে নেই এই বস্তুর কাজ কি।

প্রায় দুই বছর আগে MiFi নামটা শিখেছিলাম আমেরিকার Verizon কোম্পানির কাছ থেকে। ইন্টারনেটে ঘোরাফিরা করলে এই জিনিসগুলি সম্পর্কে জানা যায় এবং ব্যবহারের ইচ্ছা জাগে। মোবাইল ইন্টারনেট এখন জীবনের একটা অংশ হয়ে গিয়েছে, ইন্টারনেট নির্ভর গ্যাজেটগুলির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মোবাইল ইন্টারনেটকেও বহনযোগ্য করার প্রয়োজন বেড়ে গেছে; আর তারই সমাধান নিয়ে এসেছে MiFi; চলার পথে সব ডিভাইসে ইন্টারনেট!

MiFi এর কথা জানার পরে একটা ইচ্ছা ছিলো ব্যবহার করার। কিন্তু Verizon-এর টা আনালে যদি না চলে! সেই সময় হাতে পাই D-Link DIR-412 রাউটার। বাজারে পাওয়া যায় এরকম যে-কোনো USB মডেম লাগিয়ে দিলেই সেটা WiFi নেটওয়ার্কে শেয়ার করা যায়।

কিন্তু মনের স্বাধ তো মেটেনা, মন চায় গাড়ীতে চলমান অবস্থায় যাতে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় 🙂 আর তখনই খবর পেলাম ZTE AC30 ডিভাইসটির। পৃথিবীতে বর্তমান সমস্থ মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি এতে সমর্থন করে।

মোবাইলের মতো দেখতে এই ডিভাইসটিতে GSM/CDMA সিমকার্ড লাগিয়ে দিলেই ডিভাইসটি নিজে থেকে মূল কনফিগারেশনের কাজগুলি করে নেয়। একসাখে পাঁচটি ডিভাইস সংযুক্ত করা যায় এর সাথে, পাঁচটাই বা কম কি! আবার USB পোর্ট দিয়ে কম্পিউটারে সংযুক্ত করলে একই সাখে ডিভাইসটি চার্জ হয় এবং USB দিয়েই নেটওয়ার্ক শেয়ার করে।

যাদের একাধিক ডিভাইসে মোবাইল ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয়, তাদের জন্য এটা বেশ কাজের বলে মনে হয়েছে আমার। ও, আমি এটা দিয়ে PC-to-PC গেইম খেলে ও ফাইল শেয়ার করে দেখেছি। চমৎকার কাজ করে এই পিচ্চি রাউটার দিয়ে!

MiFi-এর কনসেপ্টটা উপরের ছবির মতন। মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে ইন্টারনেট নিয়ে WiFi-এর মাধ্যমে বিতরণ করা…

আমাদের কিউবি এবং লাগাম ছাড়া একটি প্রতিযোগীতা!

কিউবি ব্র্যান্ডটি বাংলাদেশে একটা ভালো অবস্থা করে নিয়েছে। সম্প্রসারিত করেছে সারা দেশে তাদের নেটওয়ার্ক, হাজার হাজার মানুষের কাছে ইন্টারনেট সেবা সহজলভ্য করেছে। বাংলালিঙ্ক আসার পরে যেমন মোবাইলফোন জগতে একটা ভুতুড়ে পরিবর্তন হয়েছে, ঠিক সেরকম ওয়াইম্যাক্স, তথাপি কিউবি আসার পরে ইন্টারনেটের চেহারা পাল্টে গিয়েছে বলে আমি মনে করি।

ছোট ছোট কয়েকটা সমস্যা অগ্রাহ্য করলে কিউবি কিন্তু ভালোই সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আমার আরেকটা জিনিস ভালো লাগে যে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ইন্টারনেটের ঝোঁক বজায় রাখার জন্য এরা মাঝে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করে। আমি সত্যই তাদের এই প্রোগ্রামগুলিকে এপ্রিশিয়েট করি।

সম্প্রতি তাদের Seen And Be Seen প্রতিযোগীতাটি আমার ভালো লাগলেও তাদের অপরিকল্পিত প্রচেষ্টা আমার ভালোলাগেনি। কিউবিতে কাজ করে এরকম এক বন্ধ আমাকে বললনে, “ইন্টানেটে যে মাজার কিছু করা যেতে পারে, সেটার একটা ধারণা দেবার জন্যই আমাদের এই আয়োজন।” এটা আমিও বুঝি যে যত বেশী ইন্টারনেটে ব্যাস্ত থাকবে, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলির লাভ ততবেশী। এরকম চিন্তা এর আগে কারও মাথায় আসেনি। এই প্রোগামগুলির কিন্তু ভালো দিক আছে, দুষ্টামির পাশাপাশি যে ভালো কিছু করা যায়, তা সম্পর্কে ব্যবহারকারীরা অবগত হচ্ছে, এটা ১৯৯৫ সালে করলে আজকে ইন্টারনেট ব্যবহারের চেহারাই পাল্টে যেতো দেশে!

যাই হোক, আসি আসল কথায়। প্রতিযোগীতা থাকবে এবং প্রতিযোগীতার নিয়ম-কানুন (আমরা যেটাকে Terms and Conditions বলে থাকি) থাকবে। আমি কিন্তু এই প্রতিযোগীতাটির কোনো নিয়ম-কানুন খুঁজে পেলাম না। অক্টবরের শুরুতে তারা যখন এই প্রতিযোগীতা ঘোষণা দিলো, তখন এটাও বলেনি যে ছবির সাবজেক্ট কি হবে। লঞ্চ করার প্রায় ৬ দিন পরে বলে, Two Categories of pictures are valid in the competition:

  • Unseen Bangladesh: any part of our country, a landscape, a story, an event which truely (বানান ভুল) depicts Bangladesh would be considered by the judges.
  • Candid Shots: A moment with friends, families, near ones, or an event that portrays an intriguing story will be considered in the category.

এছাড়া আর কিছু কিন্তু বলেনি। আমি যখন একটা প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করবো, তখন কিছু জিনিস পরিস্কারভাবে জানতে হবে; যেমন: আমি কি কি ভুল করলে বাদ পড়ে যাবো, বা আমাকে সর্বনিম্ন কি মেইনটেইন করতে হবে, বা আমি যা নিয়ে অংশগ্রহণ করবো, সেটার কি হবে। মাইক্রসফটের একটা প্রতিযোগীতার উদাহরণ দেখা যাবে এখান থেকে। এখানে পরিস্কার বলা আছে যে কি করলে কি হবে, কি ব্যবহার করা যাবে, যারা অংশগ্রহণ করবে তাদের স্বত্ত কি হবে, সর্বনিম্ন বয়স কত হতে হবে ইত্যাদী।

এই ছবিতে পরিস্কার দেখা যাচ্ছে যে কিউবির এই প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের কি দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে। কিন্তু উপরের লিঙ্কের মতন কিছুই বলছেনা। একজন ফটোগ্রাফারের ছবি কিন্তু অমূল্য, একটা ম্যাকবুক দিয়ে সেটার মূল্যায়ন করা সম্ভব বলে আমি মনে করিনা। কালকে যদি কিউবি প্রতিযোগীতায় ব্যবহৃত একটি ছবি তাদের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করে, তাহলে আমদের কিছুই বলার নেই।

এক জায়গায় তারা বলেছে-

In the App, register with your valid Name, Phone, Email and organization (your university, School, college or workplace),select the category of picture you are submitting, upload the link of the picture and then submit.

Do not forget to press upload and submit button for a successful registration. Without registration emailed photographs will not be considered.

কিন্তু এটা কি কোথাও বললো যে এই তথ্য তারা কোথায় ব্যবহার করবে? এটাকে আমরা বলি Privacy Policy (একটা উদাহরণ দেখা যাবে এখানে), আমরা যে তথ্য তাদেরকে দেবো, তারা সেটা কি কাজে ব্যবহার করবে সেটা পরিস্কার জানানো দরকার। তারা তো সেটা বিক্রিও করে দিতে পারে! আমি ধরে নিচ্ছি তারা ছবি বা তথ্যের অপব্যবহার করবে না, কিন্তু সেটা পরিস্কার লেখা থাকা উচিৎ বলে আমি মনে করি।

কালকে যদি ১৬ বছরের একজন প্রতিযোগী বিজয়ী হয়, আর পুরস্কার পায়, আমি চাইলেই কিউবির উপরে একটা মামলা ঠুকে দিয়ে বলতেপারি যে তারা শিশুশ্রম উৎসাহিত করছে! আমি নিশ্চিত যে এই মামলায় কিউবি হেরে যাবে। তাই এইসব বিষয়ে অতি সাবধান হওয়া দরকার।

আমি আশা করবো যে ভবিষ্যতে কিউবির মত একটি কর্পোরেট ব্র্যান্ড এরকম ভুল করবে না। প্রতিযোগীতা না হলে মেধার বিকাশ অনিশ্চিত, কিন্তু এটার যাতে অপব্যবহার না হয়, সেই বিষয়টাওতো নিশ্চিত করতে হবে।