সীমিত করি মোজিলা ফায়ারফক্সের মেমরি ব্যবহার

অতিরিক্ত মেমরি (RAM) ব্যবহার করার জন্য মোজিলা ফায়ারফক্সের জনপ্রিয়তা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিগত দিনে খুব দ্রুত গতিতে ফায়ারফক্স অনেকগুলি নতুন সংস্করণ ছেড়েছে কিন্তু কোনো ভাবেই তাদের এই পুরাতন ব্যধি নিরাময় করতে পারেনি। কম্পিউটারে যদি অগাধ মেমরি থাকে, তাহলে অবশ্য অন্য বিষয়! কিন্তু একটি এপ্লিকেশন যখন বেশী মেমরি ব্যবহার করবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই অনেক ঝামেলা হবে, যেমন অন্য এপ্লিকেশন ধীরে চলবে, ব্যাটারী চালিত ল্যাপটপের চার্জ স্বাভাবিকের চাইতে দ্রুত গতিতে শেষ হবে ইত্যাদী। এরপরও ফায়ারফক্সের ওয়েবসাইট উপস্থাপনা অদ্বিতীয় আর তাই বেশীরভাগ ব্যবহারকারী এই ব্রাউজারের মায়াজাল থেকে বেরহতে পারেনা।

সম্প্রতি আমি Firemin নামের একটি এপ্লিকেশনের সন্ধান পেলাম এবং এর কার্যকরিতা দেখে আমি মুগ্ধ।

এই এপ্লিকেশনটি ব্যবহার করে ফায়ারফক্সের মেমরি ব্যবহার সীমিত করে ফেলা যায়। Firemin মূলত EmptyWorkingSet এপিআই ইন্সট্রাকশন ব্যবহার করে কাজ করে।

এপ্লিকেশনটি ব্যবহার করে ফায়াফক্সের মেমরি ব্যবহার বহুগুনে কমিয়ে ফেলা যায়। নীচে একটি উদাহরণ দেয়া হলো-

Firemin ব্যবহারের আগে:

এবং ব্যবহারের পরে:

তবে মেমরী যত কমবে, প্রসেসরের ব্যবহার তত বেড়ে যাবে মেমরি কমানোর জন্য, এই বিষয়টাও মাথায় রাখতে হবে। তথ্যটি শেয়ার করার জন্য রেমন্ডকে ধন্যবাদ।

Firemin হোম পেইজ

ভুয়া ডাউনলোড লিঙ্ক চেনার সহজ উপায়

নিজেদের হোস্টিং-এর স্পেস বাঁচাতে এখন অনেকেই ফাইল বিতরণের জন্য ফ্রি ফাইল হোস্টিং সেবা (ড়্যাপিড শেয়ার, ফাইলফ্যাক্ট্রি, টারবোবিট ইত্যাদি) ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু আমরা যারা ফাইল ডাউনলোড করতে যাই, তাদের পড়তে হয় বিপাকে। ডাউলোডের পাতায় একাধিক ডাউলোড বাটন দেখে অনেকসময় বোঝাই যায়না যে কোনটা ক্লিক্ করে ডাউনলোড করতে হবে!

উপরে আমি টারবোবিট ফাইল হোস্টিং সাইটের একটা উদাহরণ ব্যবহার করলাম, এই পেজের একাধিক ভুয়া ডাউনলোড বাটন যেকোনো ব্যবহারকারীকেই বিভ্রান্ত করবে। এই বাটনগুলি আসলে বিজ্ঞাপণ, যেখানে ব্যবহারকারীরা ক্লিক্ করলে বিজ্ঞাপণদাতার মুনাফা হবে।

তবে আমরা যদি Mipony বা jDownloader, ব্যবহার করি, তাহলেই ঐ বাটনগুলির ঝামেলা পোহাতে হয়না। আবার যদি Adfender বা Adblock ব্যবহার করি, তাহলেও এই ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

কোনো কিছু ব্যবহার করা ছাড়াও এই ভুয়া ডাউনলোড বাটন সনাক্ত করার আরেকটি উপায় আছে, আমরা যদি ঐ ডাউনলোড বাটনের উপর মাউস নিয়ে গিয়ে ডান বোতামে ক্লিক্ করি, তাহলেই দেখতে পাবো এগুলি সাধারণ বাটন বা লিঙ্ক না, এগুলি ফ্ল্যাশে তৈরী করা বিজ্ঞাপণ।

🙂

mp3gain ভীষণ কাজের পিচ্চি একটা সফটওয়্যার

পুরাতন কিছু MP3 গান নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলাম, দেখলাম কিছু গান বেশ লাউড আবার কিছু গানের গেইন বেশ নীচে। সাথে সাথে ইন্টারনেটে ঝাঁপিয়ে পড়লাম একটা ভালো সমাধানের জন্য।

কয়েক মিনিটের মাথায় পেলাম mp3gain নামের এই পিচ্চি সফটওয়্যারটি। MP3 ফাইল যোগ করার পরে একটা গেইন নির্ধারণ করে সেইভ করলেই হয়ে গেলো। মিউজিক লাইব্রেরির সমস্থ ফাইল একবারেই একটা নির্দিষ্ট গেইনে নিয়ে আসা যাচ্ছে। প্রযুক্তির ভাষায় এটাকে normalization বলা হয়ে থাকে।

আর সবচাইতে সুখের ব্যাপার হলো এটা এক্কেবারে ফ্রী এবং ওপেনসোর্স! আশাকরি আমার মতন আপনাদেরও কাজে লাগবে সফটওয়্যারটি…

কমিউনিটির জন্যই কাজ করে যেতে চাই

গতকাল ছিলো ইবানের জন্মদিন, আর মাইক্রোসফট বাংলাদেশের সাথে কাজ না করার সিদ্ধান্তটাও বাস্তবায়ন করলাম গতকালকে। বেশ কিছু পত্রিকা/অনলাইন মাধ্যমের বদৌলতে এই খবর এখন পুরাতন, কিন্তু অনেকেই প্রশ্ন করছে কেন এই সিদ্ধান্ত আর ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি।

মাইক্রোসফটের সাথে কাজ করে আসছি সেই ২০০২ সাল থেকে, মাইক্রোসফটের তৈরী করা ছোট বড় প্রায় ১২০টি পণ্য ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ২০০৯ সালে যখন সুযোগ হয়, তখন  এক্সপ্লোর করার সুযোগটা হাতছাড়া হতে দেইনি। কাছে থেকে গত আড়াই বছরে বহু কিছু দেখেছি এবং শিখেছি। সে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আমার পরিচিত অনেক ডেভলপার আছে, যারা কি করবে, কিভাবে করবে বুঝতে পারছেনা। অথচ মাইক্রোসফটের একটি প্রযুক্তির উপরে অভিজ্ঞতা অর্জন করলেই ভবিষ্যত নিয়ে আর চিন্তা করতে হয়না। গত জানুয়ারি মাসের একটা ছোট্ট জরিপে দেখানো হয়েছে যে উন্নতবিশ্বে প্রায় দেড়লাখ ডায়নামিক্স ন্যাভ ডেভলপার দরকার ছিলো ২০১১ সালে এবং তিনগুন ডেভলপার দরকার ২০১২ সালে, একই জরিপে শেয়ারপয়েন্টের কথাও এরকম বলা হয়েছে; তবে শেয়ারপয়েন্টের ডেভলপার দরকার আরও বেশী। এদের পারিশ্রমিকও কিন্তু কম না, নবীনদেরই প্রতি মাসের বেতন হতে পারে দুই হাজার থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত! সাথে পারিবারিক স্বাস্থ্য বীমা, ভিসা স্পন্সার সহ থাকে নানান সুবিধা। আমার জানা মতে বাংলাদেশ থেকে ৩/৪ জনের বেশী এই সুবিধাগুলি নিতে পারেনি। শুধু বাংলাদেশেই ১০জন মানুষ দরকার যারা মাইক্রোসফটের লাইসেন্স এক্সপার্ট, কিন্তু এরকম মানুষ পাওয়া কঠিন।

যেজন্য এই কথাগুলি বললাম, আমার লক্ষ্য ছিলো এই জিনিসগুলি আমাদের দেশের নব্য-ডেভলপারদের সামনে তুলে ধরা, যাতে তারা অনায়াসে একটা ভালো ক্যারিয়ার গঠন করতে পারে। আমার শক্তি আমাদের দেশের ডেভলপাররা। আমাদের কিন্তু বিশাল একটা ডেভলপার কমিউনিটি আছে যাদের মন মানসিকতা অত্যন্ত খোলামেলা। একজন প্রতিষ্ঠিত ডেভলপারের কাছে একজন নবীন ডেভলপার কোনো সাহায্য চেয়েছে, কিন্তু পায়নি এমনটা হয়না। শুধু এদের এক ছাদের নিচে নেয়ার প্রয়োজন ছিলো। আমাদের খুবই পরিচিত গ্রুপ পিএইচপিএক্সপার্টস, সারা বিশ্বের ওয়েব ডেভলপাররা সেখানে কোলাবরেট করছে এবং উপকৃত হচ্ছে। পিএইচপিএক্সপার্টসের যাত্রা কিন্তু ভারত বা আমেরিকা থেকে শুরু হয়নি, হয়েছে এই বাংলাদেশ থেকে। ছোট ছোট এরকম আরও উদাহরণ আছে যা প্রমাণ করে আমরা কত শক্তিশালী এবং একটু সাহায্য পেলেই আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে পারি।

এই চিন্তা মাথায় রেখেই শুরুকরেছিলাম যাত্রা মাইক্রোসফটের সাথে। যাত্রার অভিজ্ঞতা অসাধারণ; চমৎকার একটা দল ছিলো মাইক্রোসফট বাংলাদেশে আর এর বাহিরে মাইক্রোসফট স্টুডেন্ট পার্টনারদের নিয়ে আমার দলটা ছিলো আরও শক্তিশালী। অনেক চড়াই উৎরই-এর মধ্যেও আমরা কাজ করে গিয়েছি স্বাভাবিকভাবে এবং জয়ের মুখ দেখেছি। কিন্তু হঠাৎ করেই আমাদের দলটিতে ভাঙ্গে যেতে শুরু করলো! এই বছর জানুয়ারী মাসে আমাদের কান্ট্রি ম্যানেজার ফিরোজ মাহমুদ আমাদের অনেকটা চমকে দিয়েই পদত্যাগ করলেন, সাথে সাথে মাইক্রোসফট শ্রীলঙ্কার কান্ট্রি ম্যানেজার আমাদের দেখাশোনার দ্বায়িত্ব নিলেন কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছিলো যে মাইক্রোসফটের এই সিদ্ধান্তটা সঠিক না। শ্রীলঙ্কার কান্ট্রি ম্যানেজারের নিজেরই অনেক বড় দ্বায়িত্ব, সে নিজের কাজের পাশাপাশি কিভাবে আমাদের সহায়তা করবে সেটা ছিলো সবার প্রশ্ন। বিভিন্ন দিক থেকে আমাদের চ্যালেঞ্জ বেড়ে যেতে লাগলো। সবকিছু কেমন যেনো এলোমেলো হয়ে যেতে লাগলো এবং দলের লোকেরা একে একে বিভিন্ন দিকে চলে যেতে থাকলেন।

লোক কমে যাওয়ায়, শেষে আমার কাজের বাহিরে অনেক কাজ বেড়ে গেলো! একটা কিছু করতে হলে সেটার কোটেশন নেয়া থেকে শুরু করে পেমেন্টের ভ্যাট/ট্যাক্স হিসাবও আমাকে করতে হচ্ছিলো, এবং হাঁপিয়ে গিয়ে গত মার্চ মাসে আমার কান্ট্রি ম্যানেজারকে এসব কথা বললে উনি আমার কাছে সময় চান। গত ৫ তারিখে আমাকে নতুন কিছু অফার করেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো- টাকা পয়সা বেশী হয়তো পেতে পারি, কিন্তু সেটা দিয়েতো আর দু’টা হাত আর একটা মাথা কিনতে পারবোনা, তাই না? তাই আমি অনুরোধ করলাম আমাদের চুক্তির ইতি ঘটাতে এবং উনি কথা না বাড়িয়ে আমার অনুরোধ রাখেন।

আমি চাইলে মার্চেই ছেড়ে দিতে পারতাম, কিন্তু কমিউনিটির কাছে আমার যে প্রতিশ্রুতি আছে সেটা নষ্ট হয়ে যেতো। তাই ইমাজিন কাপ শেষ করে, তাদের সকল দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে শেষ করলাম মাইক্রোসফটের সাথে আমার যাত্রা।

আমি শুরু থেকেই কমিউনিটির কাছে প্রতিশ্রতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতে যাই করি, চেষ্টা করবো তা হবে কমিউনিটির জন্যই কাজ করে যেতে। আশা করবো আমার বন্ধু এবং শুভাকাঙ্খীরা আমার জন্য তাই দোয়া করবেন; আর পক্ষান্তরে আমিও মাইক্রোসফট বাংলাদেশের শুভকামনা করি, আশাকরি সকল জটিলতা পার করে আগামীতে তারা অনেক বড় হয়ে উঠবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দৃষ্টান্তমূলক ভুমিকা পালন করবে।

শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ

Tags

, ,

আজ বাংলাদেশ নামটির ৪১তম জন্মদিন। আমরা কম বেশী সকলেই এই ইতিহাস জানি এবং ইতিহাসের পাশাপাশি আরও একটা কথা আমরা শুনে আসছি, আর সেটা হচ্ছে, “বিপুল সম্ভাবনার দেশ, বাংলাদেশ।”

৪১ বছরে এসে কারও কি জানতে ইচ্ছে হয়না যে কিসের এই সম্ভাবনা? আর কারজন্য এই সম্ভাবনা?

আমরা সম্ভাবনাময় যেই কথাগুলি শুনে আসছি, সেগুলি কিছুটা এরকম-

  • তৈরী পোষাক শিল্পে আমারদের ব্যপক সম্ভাবনা,
  • আইটি সেক্টরে আমাদের ব্যপক সম্ভবনা,
  • টেলিকম খাতে আমাদের সম্ভাবনা অস্থির,
  • সফটওয়্যার রপ্তানী দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে ব্যপক ভূমিকা পালন করবে,
  • আউটসোর্সিং-এ আমাদের ব্যপক সম্ভাবনা, ইত্যাদি।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে এক শ্রেণীর মানুষ সম্ভাবনার কথা বলছে আর সেই কথা শুনে গ্রাম-গঞ্জ থেকে হাজার হাজার কর্মী শহরে এসে পরিশ্রম করছে দিনের পর দিন। বিনিময়ে সত্যই কি সেই পারিশ্রমিক পাচ্ছে?

৪১তম জন্মদিনে নেতানেত্রীরা যখন ছাঁয়ায় বসে কুচকাওয়াচ দেখছেন, তখন আমার মনে কিছু প্রশ্ন জেগেছে-

  • ক’জন তৈরী পোষাক কারিগর এক গ্লাস ভালো পানি পান করতে পারে তাদের বাসস্থানে?
  • ক’জন তৈরী পোষাক কারিগর দু’বেলা সুষম আহার করতে পারে?
  • আইটি/টেলিকম খাত কি সত্যই আমাদের কৃষি খাতের পরিবর্তনে কোনো ভূমিকা রাখতে পেরেছে?
  • ক’জন দেশী সফটওয়্যার শ্রমিক তার পারিশ্রমিকের টাকায় আজ দেশের ভেতর এক টুকরো জমি কিনতে পেরেছে?
  • যারা আজকে বিভিন্ন ক্ষ্যাপে আউটসোর্সিং করছে, তাদের বয়স ৫০ হলে তারা কি করবে?

ভীষণ সাধারণ কিছু প্রশ্ন, কেউ কি এর জবাব দেবে?