২০১০ কুরবানী ঈদ যাত্রা, এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা!

আমার GPS অনুযায়ী আমার উত্তরার (ঢাকা) বাসা থেকে দিনাজপুরের বাড়ীর দূরত্ব ৩২৩.২ কিঃমিঃ, এবার ঈদে আসতে মোট সময় লেগেছে ৯:০৪ ঘন্টা, আমার গাড়ীর সর্বোচ্চ গতি ছিলো ১২০.০ কিঃমিঃ/ঘন্টা এবং এই যাত্রায় আমার গতি ছিলো গড়ে ৩৫.৯ কিঃমি/ঘন্টা। যদিও ঢাকা থেকে বগুড়া আসতেই লেগেছে ৬ ঘন্টার মতো আর গতি ছিলো গড়ে ২০.০ কিঃমিঃ/ঘন্টা।

এবারের যাত্রাটা একটু অন্যরকম আমার জন্য। আমি প্রথম গাড়ী নিয়ে বাড়ীতে ঈদ করতে আসলাম। তাছাড়া আমি প্রথম ঈদে যাত্রা দিনের বেলায় করলাম। মাঝখানে একদিন হরতাল হওয়ায় রাস্তায় যানবাহনের চাপ একটু বেশী হবে বলে মনে করেছিলাম কিন্তু আমি সেরকম একটা সমস্যায় পড়িনি।

দিনের বেলায় যাত্রা করার জন্য যে অভিজ্ঞতাটা হলো, সেটাই সবার সাথে শেয়ার করতে এই ব্লগ লেখা। আমরা গাজীপুর বাইপাসে ঢুকলাম প্রায় সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে। ঐ সাত সকালে রাস্তার বাম দিকে শত শত নারী, পুরুষ, শিশু অপেক্ষায় রয়েছে যদি একটা বাহন পাওয়া যায় ঈদের গন্তব্যে পৌছাবার জন্য। কিছুদূর পার হতে আমার উপলব্ধি হলো আমরা রাস্তায় তেমন কোনো বাস দেখিনি, শুধু দেখেছি ট্রাক ভর্তি মানুষ। বুঝলাম এই ট্রাকগুলি গরু নিয়ে এসেছিলো ঢাকায় এবং এখন মানুষ নিয়ে ফিরে যাচ্ছে। উপরের ছবিটা তোলা হয়েছিলো যমুনা থুক্কু বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে। আমরা সেতু পার হতেই আর চলার অবস্থা রইলো না, জ্যামের মধ্যে বিশাল ট্রাকের বহর, মানুষ ভর্তি ট্রাক আর ট্রাক।

হরতালের কারণে এক দিন যান চলাচল না করায় এই মানুষগুলি ঘরে ফেরার জন্য আর কোনো স্বাভাবিক বাহন না পেয়ে গরুর ট্রাকে ভর করেছে সম্ভবত আগেরদিন রাতে। পুরুষের পাশাপাশি আছে শিশু এবং নারী। আমি জাতের কোনো ক্যামেরা সাথে নিয়ে না যাওয়ায় ঠিক মতো ছবি তুলতে পরিনাই মানুষের দূর্ভোগের। প্রায় ৭-৮ কিঃমিঃ জুড়ে ট্রাক আর ট্রাক ভর্তি মানুষ, ট্রাকের উপরে মাল, মালের উপরে মানুষ।

আমার বিশ্বাস এসি রুমে বসে থাকা আমাদের নেত্রী-নেতারা এই সব দৃশ্য দেখতে চাননা। তাই ঈদের মতন একটা সময়ে বিরোধী দল হরতাল দিয়ে বসে থাকেন, আর সরকারী দল একটু সবুর করতে পারেননা প্রতিশোষ নেবার। আমার ভাষা নাই এদের বা এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করার!

5 thoughts on “২০১০ কুরবানী ঈদ যাত্রা, এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা!”

  1. জিপিএস লগাইলেন, কোন ডিভাইস একটু কইয়েন। আর পুরা রাস্তা অন রাখছিলেন, নাকি পিরিওডিক্যালি লগ করছেন।

  2. রনি পারভেজ

    আমাদেরও একই অবস্হা । বাসায় আসতে প্রায় ১৫ ঘন্টা লেগেছে 🙁

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top