Silent Night (2023) – John Woo’র শব্দহীন এক সাহসী তবে মিশ্র পরীক্ষা

আগে যখন Steven Seagal আর Jean-Claude Van Damme এর সিনেমা দেখতাম, তখন মনে হতো সোফায় বসে মারামারি, দাঁড়িয়ে থেকে মারামারি – গল্প বলে কিছু নেই, শুধু ঘুষি। সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু অ্যাকশন ঘরানার খুব বড় রূপান্তর কি সত্যিই ঘটেছে! ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর দিকে তাকালে এখনো সস্তা, প্রাণহীন অখাদ্য অ্যাকশন প্রজেক্টের ছড়াছড়িই চোখে পড়ে। সেই ফর্মুলাভিত্তিক ভিঁড়ের ভেতর কিছু কাজ খুব নিখুঁত না হলেও স্রেফ নতুন কিছু চেষ্টা করার সাহসের জন্য আলাদাভাবে নজর কাড়ে। পরিচালক John Woo-এর ২০২৩ সালের অ্যাকশন থ্রিলার Silent Night ঠিক তেমনই এক ব্যতিক্রমী ও পরীক্ষামূলক প্রয়াস।
প্লট ও নির্মাণশৈলী
গল্পের মূল কাঠামো একদম নতুন ধরণের রিভেঞ্জ ড্রামা। Christmas Eve-এর দিনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংয়ের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে Brian Godlock (Joel Kinnaman)-এর বাচ্চা ছেলে প্রাণ হারায়, এবং গ্যাংস্টারদের গুলিতে ব্রায়ানের ভোকাল কর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কথা বলার ক্ষমতা হারায়। এরপর শুরু হয় ছেলের মৃত্যুর বদলা নেওয়ার এক বছরের কঠোর প্রস্তুতি।
এই সিনেমার সবচেয়ে আলোচিত ও দুঃসাহসিক দিক হলো এর সংলাপহীনতা। পুরো ছবিতে কোনো সংলাপ নেই বললেই চলে! না প্রধান চরিত্রের, না খলনায়কদের। একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যাকশন সিনেমাকে কোনো মুখের কথা ছাড়া স্রেফ দৃষ্টি, শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ, পরিবেশের অ্যাম্বিয়েন্স এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর দিয়ে এগিয়ে নেওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। এই দুঃসাহসিক ঝুঁকি নেওয়া একমাত্র John Woo-এর মতো মাস্টারের পক্ষেই সম্ভব ছিলো।
অভিনয় ও দেখার অভিজ্ঞতা
আমি Joel Kinnaman এর বড় ভক্ত, সেটা আগেও বলেছি। এই ছবির মজা হলো Joel Kinnaman এর মুখে কোনো কথা নেই। পুরো ছবিতেই প্রায় কোনো সংলাপ নেই। মুখে কোনো সংলাপ না রেখে কেবল চোখ, চোয়ালের টান এবং শারীরিক অভিব্যক্তির মাধ্যমে এক শোকগ্রস্ত পিতার তীব্র যন্ত্রণা ও প্রতিশোধের আগুন ফুটিয়ে তোলার কাজটিতে তিনি শতভাগ উজাড় করে দিয়েছেন। Catalina Sandino Moreno এবং Kid Cudi নিজেদের সীমিত পরিসরে চেষ্টা করেছেন, তবে পুরো ভরটাই ছিল কিনাম্যানের কাঁধে।
এই সংলাপহীনতার ধারণাই শেষ পর্যন্ত ছবির কিছুটা দুর্বলতায় রূপ নিয়েছে। প্রথম অর্ধেকের ট্রেনিং পর্ব অহেতুক লম্বা এবং কিছুটা একঘেয়ে লাগে। যখন ক্লাইম্যাক্সের অ্যাকশন শুরু হয়, তখন জন উ-এর চেনা সিগনেচার গান-ফু স্টাইল দেখা গেলেও অনেক মারামারির দৃশ্যেই সেই পুরনো দিনের ক্লান্তিকর ছক স্পষ্ট ধরা পড়ে।
ভালো লেগেছে কী?
সাহস। কোনো কথা ছাড়া ১০০ মিনিট টেনে নিয়ে যাওয়া সহজ নয়। Joel Kinnaman চোখ দিয়ে অভিনয় করেছে। প্রশিক্ষণের অংশ, গাড়ি ঠিক করা, শরীর তৈরি – এই অংশগুলোতে সংলাপ লাগেও না।
খারাপ লেগেছে কী?
গল্প পাতলা। প্রথম আধা ঘণ্টা পর ছবিটা সেই পুরনো Seagal এর মতোই হয়ে যায় – শুধু মারামারি। বাবার কষ্টটা আর গভীর হয় না। শেষের গোলাগুলিও অতিরিক্ত লম্বা মনে হয়।
সব মিলিয়ে এটি কোনো মাস্টারপিস নয়, তবে নিখাদ বাণিজ্যিক ছবির বাজারে এমন একটি নীরব ও ব্যতিক্রমী শৈল্পিক পরীক্ষা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। সংলাপ ছাড়া ছবি বানানো একটা বড় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় John Woo অর্ধেক পাশ করেছেন।
ব্যক্তিগত রেটিং: ৫/১০

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top