এখন থেকে আর ঘন্টায় ঘন্টায় কারেন্ট যাবেনা!

অনেকদিন আগে “বাংলাদেশের উন্নতি” নামের একটি আর্টিক্যাল লিখেছিলাম। আজকে আবার একই বিষয় নিয়ে লিখছি। অনেকে হয়তো মনে করবে একই বিষয় নিয়ে দু’বার লেখার দরকার কি। আমি এজন্যই লিখছি যাতে প্রমাণ সহ বলতে পারি আমরা কুকুরের ল্যাজের মতো একটি জাতি, আর কুকুরের ল্যাজ যেমন ঘি দিয়ে মালিশ করলেও সোজা হয়না!সেরকম যত যাই হোক আমাদের চরিত্রও কখনো ঠিক হবে না।

গত কয়েকদিন থেকে যারা এয়ারপোর্ট রোডে যাতায়াত করছেন দুপুরের পরে, নিশ্চয়ই লক্ষ্য করে থাকবেন যে সারা রাস্তার বাতিগুলি জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে। অনেকসময় বাতি ঠিক করার জন্য জ্বালানো হয়, কিন্তু আমার চোখে সেরকম কিছু পড়েনি।

কয়েকদিন ধরে বিশ্বরোডের এই দৃশ্য তো দেখছি, আজকে আমার এলাকায় আসতেই দেখি এলাকার লাইটগুলিও জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে। ভাবটা এরকম মনে হলো যে রাজপথের বাতিগুলির সাথে এই বাতিগুলি পাল্লা দিচ্ছে।

ছবির আলো দেখেই বুঝতে পারছেন তখন কত বেলা! যতদূর চোখ গেলো, সব বাতি জ্বলছে রাস্তার। কিছুদিন আগে সরকারী একজন পেপারে বলেছিলেন, এখন থেকে আর আমরা বলতে পারবোনা যে ঘন্টায় ঘন্টায় কারেন্ট যায়, কারণ এখন থেকে দুই ঘন্টা করে কারেন্ট বন্ধ থাকবে। উনাকে আমার জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হচ্ছে, দুই ঘন্টা কারেন্ট বন্ধ রেখে কি দিনের বেলা রাস্তার বাতি জ্বালিয়ে রাখা হবে?

2 thoughts on “এখন থেকে আর ঘন্টায় ঘন্টায় কারেন্ট যাবেনা!”

  1. সরকারকে শুধু একা দোষ দিয়ে কোন লাভ নাই। প্রত্যেকটা এলাকাতেই এসবের জন্য আলাদা লোক রাখা আছে, তারা তাদের কাজ গুলো ঠিক মত না করে.. বাংলা বতলে চুমুক মারছে হয়ত। অনেক আগের কথা মনে পড়ে গেল। ৯৫-৯৬ সালের ঘটনা। আমার মনে একটা কৌতুহল ছিল, কিভাবে এই রাস্তার লাইট গুলো জলছে? আর কে বা জালাচ্ছে? হাজারীবাগ থাকতাম আমরা তখন। সন্ধ্যায় আব্বুর সাথে বেড়িয়েছি, একটা ছোট খাটো রেস্টুয়েন্টে ঢুকবো বিকেলের নাস্তা কেনার জন্য। পাশেই একটা মুচির দোকান। আমি রেষ্টুয়েন্টের ভিতরে না ঢুকে বাহিরে দারালাম, মুচির জুতা সেলাই দেখছিলাম। সূর্য্য তখন ঢুবে গেছে। অন্ধকার প্রায়, বিদ্যুত ছিল কিন্তু রাস্তার লাইট গুলো ছিল নেভানো। হঠাৎ মুচি দারিয়ে রাস্তার পাশেই একটা ছোট বাক্স ছিল, সেটা টান দিয়ে খুলে কি যেন অন করল| সাথে সাথেই আলো জলে উঠল ল্যামপোষ্টে। আর বলছিল ‘হালায় মনে হয় আইজ্যাও.. বতল লইয়া বইয়া রইচে’। তখন তো বুঝতে পারিনি, কিন্তু আজ মনে হয় একটু বুঝি যে, আমাদের ব্যবস্থাপনা আসলে কেমন করে চলছে!!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top