You are FUPed! (ন্যায্য ব্যবহার নীতিমালার কথা বলছি)

অনেকদিন থেকেই ভাবছি এই ইস্যুটা নিয়ে লেখা দরকার, কিন্তু সময়ের অভাবে লেখা হয়ে ওঠেনি।

বিষয়টা হলো আমাদের ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বা আইএসপি-গুলিকে নিয়ে। বেশ কিছুদিন হয়ে গেলো আমাদের আইএসপি-গুলি ফেয়ার ইউজ পলেসি বা ন্যায্য ব্যবহার নীতিমালা আরম্ভ করেছে; বিশেষ করে মোবাইল ইন্টারনেট কোম্পানিগুলি। সরকারী লাইসেন্সধারী কোনো কোম্পানি কি ধুম করে একটা নীতিমালা আরম্ভ করে দিতে পারে? আমার মনেহয় তাদের পারার কথা না, লাইসেন্সে সবসময় শর্ত দেয়া থাকে, সেই শর্তে কিছু উল্লেখ করা না থাকলে সেটার জন্য লিখিত সম্মতি নিতে হয়। মোবাইল ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলি বা তাদেরকে যারা লাইসেন্স দিয়েছে সেই বাংলাদেশ টেলিকম রেগুলেটারি কমিশন (বিটিআরসি) কি সেভাবে কাজ করেছে?

আমার কাছে সবসময় মনে হয় সরকার চলছে সরকারের মতন আর কোম্পানি চলছে তাদের মতন। লাইসেন্স দিয়েই সরকারের কাজ শেষ!  ফেয়ার ইউজ পলেসি আরম্ভ করার পরে আমার খুব জানতে ইচ্ছে হয়, এই পলেসি বা নীতিমালায় কি বিটিআরসির অনুমোদন আছে! একটা নীতিমালা পাশ হয়ে গেলো, দেশের জনগনের উপরে  সেটা চাপিয়ে দেয়া হবে, সেটা থেকে কার কতটুকু লাভ হবে, কতটুকু ক্ষতি হবে সেটা কি অনুমোদন দেবার আগে কেউ খতিয়ে দেখেছে? অন্তত বিটিআরসির কাছ থেকে আমি এটা আশা করিনা।

আমার ধারণা বিটিআরসি আমাদের ভালো মন্দ বোঝে এবং ধরে নিচ্ছি নীতিমালার অনুমোদন তারা দিয়েছে। এবার একটু নীতিমালাগুলি জানি-

  • গ্রামীণফোন – ৫ গিগা ট্রান্সফারের পরে ন্যায্য ব্যবহার নীতিমালা প্রয়োগ করা হবে পরবর্তি বিলের তারিখ পর্যন্ত।
  • বাংলালিংক – এক সপ্তাহে ৩ গিগা ট্রান্সফারের পরে ন্যায্য ব্যবহার নীতিমালা প্রয়োগ করে “পে এজ ইউ গো” করে দেয়া হবে পরবর্তি বিলের তারিখ পর্যন্ত।
  • সিটিসেল – ৭ গিগা ট্রান্সফারের পরে ন্যায্য ব্যবহার নীতিমালা প্রয়োগ করা হবে পরবর্তি বিলের তারিখ পর্যন্ত।
  • কিউবি – ৩০ গিগা ট্রান্সফারের পরে ন্যায্য ব্যবহার নীতিমালা প্রয়োগ করা হবে পরবর্তি বিলের তারিখ পর্যন্ত।
  • এরকম অনেক নীতিমালা আছে।

নীতিমালার ধরণ দেখে কিন্তু মনে হয়না যে বিটিআরসি এরকম উদ্ভট  নীতিমালার অনুমোদন দিতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে আমার কিন্তু এই নীতিমালা নিয়ে কোনো সমস্যা নাই, সমস্যা হলো অন্যখানে। একটা আইএসপি বলছে তারা সর্বোচ্চ XX কেবিপিএস বা YY এমবিপিএস গতির সংযোগ দেবে; তারা কিন্তু এটা বলছেনা যে সর্বনিম্ন কত গতি থাকবে। আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্কে যা ঢুকে তাতে আমি বুঝি আমাদের সেবার মানের নিশ্চিত করার কাজ বিটিআরসির। উদ্ভট নীতিমালায় অনুমোদন বা এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যবসা করার অনুমতি দেবার সময় তারা কি একবারও ভাবেনা যে গ্রাহকদের অবস্থানটা কোথায় থাকবে! অনেক টাকায় লাইসেন্স দিয়ে দিলেই হলো, না লাইসেন্সে উল্লেখ করতে হবে যে সেবার বিস্তৃতি কিরকম হবে, খরচ কত হবে, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মাপ কত ইত্যদি! একটা পাগল তার নিজের ভালো মন্দ বোঝে, বিটিআরসি যখন বিদেশী কোম্পানিগুলির কাছে লাইসেন্সের জন্য ফাটাফাটি রকমের অর্থ চার্জ করে, তখন টাকা গ্রহণ করার পাশাপাশি সুদুরপ্রসারী চিন্তা করে দেখা উচিৎ বলে আমি মনে করি।

যে কোনো সেবা গ্রহণের ক্ষেত্র নিজেকে মাঝে মাঝে এত অসহায় মনে হয়! কি করে আমাদের জন্য আমাদের সরকার!

3 thoughts on “You are FUPed! (ন্যায্য ব্যবহার নীতিমালার কথা বলছি)”

  1. কাউয়া কমলা খাইতে জানেন না

    You are FUকed!

    হাহাহহা

    বাংলা লায়ন ইজ দ্যা বেষ্ট…..

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top