স্পয়লার-সহ রিভিউ

Apple-এর টাকায় তৈরি হচ্ছে, তাহলে তো Monarch: Legacy of Monsters ভালোই হবার কথা। জানি না কোন দর্শকদের টার্গেট করে এই অর্থ লগ্নি করা হয়েছে। কিন্তু টাইমলাইন আর ফাঁকা বুলি দেখতে দেখতে আমি ও আমার কন্যা ক্লান্ত! কোনো কিং কং নেই, কোনো গডজিলা নেই, শুধু আছে ফাঁকা বুলি।

স্পয়লার শুরু

গল্প ৩টা টাইমলাইনে লাফায়, ১৯৫০-এ Lee Shaw (Wyatt Russell) + Bill Randa + Keiko মিলে Monarch গড়ে তোলে। তারা প্রথম Hollow Earth-এর রাস্তা খুঁজে পায়, একটা ড্রাগন-টাইপ টাইটান Frost Vark-এর সাথে ফাইট করে Keiko মারা যায়। ২০১৫-তে Godzilla (2014)-এর G-Day-এর পর Cate Randa তার ভাই Kentaro-কে নিয়ে বাপ Lee Shaw-কে খুঁজতে নামে। আর ২০১৫-র “বুড়া” Lee Shaw (Kurt Russell) আসলে ১৯৫০ থেকে টাইম-ডাইলেশনে আটকে ছিল।

সমস্যা ১: মনস্টার কই?

১০ এপিসোডে গডজিলা আছে মাত্র ৮ মিনিট। প্রথম এপিসোডে গোল্ডেন গেট ব্রিজে ৩০ সেকেন্ড, শেষ এপিসোডে আলাস্কায় ২ মিনিট। কিং কং নাই-ই। বদলে পাই Endopede, Frost Vark, Ion Dragon — নাম শুনেই ঘুম আসে। CGI ভালো, কিন্তু মনস্টার না দেখালে লাভ কী? এটা Monarch: Legacy of Talking।

সমস্যা ২: টাইমলাইন জগাখিচুড়ি

১৯৫০, ১৯৫২, ১৯৫৯, ১৯৬২, ১৯৭৩, ২০১৫ — প্রতি ৫ মিনিটে সাল পাল্টায়। Cate ফ্ল্যাশব্যাকে G-Day ট্রমা, Kentaro বাপের সিক্রেট ফ্যামিলি নিয়ে কান্নাকাটি, May টেক-হ্যাকার প্লট, Lee Shaw দুই বয়সে দুই Russell — মাথা ধরে যায়। কন্যা প্রতি সিজনের মাঝখানেই ঘুমিয়ে পড়ে কারণ কাহিনী আগায় না, শুধু “Monarch কী করে”, “সত্য লুকানো হয়েছে” টাইপ ফাঁকা বুলি।

সমস্যা ৩: ক্যারেক্টার

  • Cate বিরক্তিকর। পুরো সিজন “আমার বাবা মিথ্যাবাদী” বলে কাঁদে।
  • Kentaro-র কাজ শুধু অবাক হওয়া।
  • May-এর সাইবার-থ্রিলার সাবপ্লট Godzilla-ভার্সে কেন ঢুকল কেউ জানে না।
  • একমাত্র দেখার মতো Kurt Russell + Wyatt Russell। বাপ-ছেলে একই চরিত্র, ডি-এজিং ছাড়া — এটা কুল। কিন্তু তাদের স্ক্রিনটাইম ২০%।

ক্লাইম্যাক্স স্পয়লার

শেষে জানা যায় Lee Shaw ১৯৬২-তে Hollow Earth-এ ঢুকে ২০১৫-তে বের হয়েছে। কারণ Monarch ওয়ার্ল্ডকে টাইটান থেকে বাঁচাতে “রিপ” বন্ধ করতে চায়। Cate, Kentaro, May মিলে আলাস্কায় Ion Dragon-এর সাথে ফাইট করে। Godzilla এসে Dragon-কে মেরে হাই তুলে চলে যায়। Lee Shaw আবার Hollow Earth-এ থেকে যায় সিজন ২-এর জন্য। Keiko বেঁচে আছে, সেও Hollow Earth-এ। ফ্যামিলি রিইউনিয়ন, কিন্তু ইমোশন জিরো।

শেষ কথা

Apple টাকা ঢেলেছে, প্রোডাকশন ভ্যালু ঝকঝকে। কিন্তু এটা পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন। MonsterVerse-এর ফ্যান হিসেবে মনস্টার চাই, টাইটান চাই, স্ক্রিন কাঁপানো ফাইট চাই। পেলাম থেরাপি সেশন আর ফ্যামিলি ড্রামা।

রেটিং: 2/10

কন্যাকে ঘুম পাড়াতে চাইলে চালাও। গডজিলা চাইলে Minus One দেখো। এটা কি ভাই! টাইমলাইন মেলাতে মেলাতে নিজেই হারিয়ে গেলাম।