নকল সফটওয়্যার ব্যবহার বা কপিরাইট প্রসঙ্গ অধুনা বেশ আলোচিত বিষয়। আসছে নভেম্বরে প্রথমবারের মতো বিজনেস সফটওয়্যার এলায়েন্স (বিএসএ) নামক একটি আন্তর্জাতিক পাইরেসিবিরোধী সংস্থা এ বিষয়ে ঢাকায় একটি সেমিনারেরও আয়োজন করছে। সংস্থাটি সারা দুনিয়ায় সফটওয়্যার পাইরেসির বিরুদ্ধে রিতিমতো যুদ্ধ করে আসছে। পাইরেসির ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়াচ লিস্ট’ এ থাকার প্রেক্ষিতে এই সেমিনার অবশ্যই অনেক গুরুত্ব বহন করে। ধারণা করা যেতে পারে, পাইরেসির ‘স্বর্গ’ থেকে বাংলাদেশের পতনের দিন ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু যারা সফটওয়্যার শিল্পের সঙ্গে জড়িত তাদের কাছে কেবলমাত্র কপিরাইটই কি যথেষ্ট? কপিরাইট ভায়োলেশনের এই ভয়ঙ্কর সময়ে প্যাটেন্টের সঙ্গে সফটওয়্যারের সম্পর্ক নিয়ে লিখেছেন মোস্তাফা জব্বার।
সফটওয়্যারের জন্য কপিরাইটই যথেষ্ট –
আমাদের ধারণা এমনটাই। কিন্তু সারা দুনিয়ার পরিস্থিতি এবং বাস্তব অবস্থা অবলোকন করলে এটি নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, কপিরাইট হচ্ছে কোন সফটওয়্যারের কপি, বিক্রি, বিতরণ, ব্যবহার এককথায় পাইরেসির বিরুদ্ধে একটি ব্যবস্থা মাত্র। কিন্তু সফটওয়্যারের প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা অনেকটাই নির্ভর করে প্যাটেন্টের ওপর। প্রযুক্তিবিশ্বে এখন সফটওয়্যার উন্নয়নকারীরা তাই কপিরাইটের পাশাপাশি প্যাটেন্টের প্রতিও নজর দিচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রথম সফটওয়্যার প্যাটেন্ট –
সুদীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর সংগ্রামের পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে ‘বাংলা স্ক্রিপ্ট ইন্টারফেস সিস্টেম’ নামক একটি প্যাটেন্টের প্রত্যয়ণপত্রে স্বাক্ষর করেছেন প্যাটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস-এর নিবন্ধক জনাব মেসবাহউদ্দিন আহমেদ। ২০০৪ সালের ২৯ জুলাই এই ব্যতিক্রমী প্যাটেন্টটির অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, ১৯৯২ সালে প্রথম এই প্যাটেন্টটির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে প্যাটেন্ট অধিদপ্তর এই আবেদনটি গ্রহণ করেনি। এর অন্যতম কারণ ছিল, এটি সফটওয়্যার হিসেবে কিভাবে প্যাটেন্ট অনুমোদন পাবে সেটি তখন নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এমনকি এই প্যাটেন্টটি পরীক্ষা করার মতো জ্ঞানী কোন কর্মকর্তাও তখন ছিল না।
কিন্তু ২০০৪ সালের আবেদনটি বিবেচনা করা হয়। সুদীর্ঘ সময় পরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ১০ মে ২০০৭ তারিখে এই প্যাটেন্টটির গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ১২০ দিনের মধ্যে এর ব্যাপারে কোন আপত্তি না ওঠায় এর প্রত্যয়ণপত্র প্রদান করা হয়। আপাতদৃষ্টে এটি একটি সাধারণ ও নিয়মিত ঘটনা মনে হলেও বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য এটি একটি গুরুত্ব্বপূর্ণ ঘটনা। Continue reading »