Reality Bites

~ by Omi Azad

  • Home
  • About Me!
  • My Movies
  • English

Category Archives: ব্যক্তিগত

Personal Articles

মাইক্রোসফটের কাছে পাওয়া শেষ চেক্!

29 শনিবার মার্চ 2014

Posted by Omi Azad in ব্যক্তিগত, মাইক্রোসফট

≈ 1 Comment

গত ২০১২ সালের জুন মাসে মাইক্রোসফট ছেড়েছি, সবার ক্ষেত্রে যা হয় আমার ক্ষেত্রেও তাই হলো, ছাড়ার সময় কিছু দেনা পাওনা থেকেই গেলো। আমি অনেক ভাগ্যবান যে গত ২৫ তারিখে শেষ পাওনা চেক্‌টি হাতে পেয়েছি। শেয়ার করার মতো একটি বিষয় বলে শেয়ার না করে পারলাম না।

এখান থেকে একটি বিষয় শিক্ষা নেয়া যায়, সহসা কিছু হচ্ছেনা বলে আমরা অনেকসময় নিরাশ হয়ে যাই, অনেক সময় নিজের উপরে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলি, একটু ধৈর্য্য ধরলেই কিন্তু আমরা যা চাই, তা পেয়ে যাই। 🙂

Root Walton Walpad 8b, Walpad 8w, Walpad 8 and Walpad 7

10 সোমবার মার্চ 2014

Posted by Omi Azad in ব্যক্তিগত

≈ 5 Comments

Tags

7, 8, 8b, 8w, Root, Walpad, Walton

ওয়ালটনের ওয়ালপ্যাডগুলি সাধ্যের মধ্যে দাম এবং পারফর্মেন্সও সুন্দর। কিন্তু অ্যানড্রোয়েডের আমার যে জিনিসটা ভালোলাগেনা, সেটা হলো বাংলা ফন্ট। তাই রুট করে ফন্টটা ফেলে মনের মতো ফন্ট ইনস্টল করাই হচ্ছে আমার প্রথম কাজ। রুট করার পদ্ধতিটা এত সহজ এবং মজার যে না শেয়ার করে পারলাম না।

প্রথমে Settings -> About Tablet-এ গিয়ে ডানের কলামে Build Number অংশটিতে চট্‌পট্ কয়েকবার (সম্ভবত দশবার) ট্যাপ করতে হবে।

Walton Walpad

করতে করতেই বামের About Phone-এর উপরে Developer Options নামে নতুন একটি অংশ আসবে। বাম কলাম থেকে সেই Developer Options নির্বাচন করে ডান কলামে USB Debugging অপশনটিতে ট্যাপ করে টিক্ দিতে হবে।

Walton Walpad

উপরের ঘরের মতো একটি সতর্কীকরণ বার্তা আসবে, সেটাতে OK করে দিতে হবে। ভয়ের কিছু নাই, এটা ক্ষতির কিছু না, আর প্রক্রিয়াটি শেষ হলে একইভাবে টিক্‌টি আবার তুলে দেয়া যাবে।

Walton Walpad

এবার বামের কলামে Security নির্বাচন করে ডানের কলামে Unknown Sources অপশনটিতে ট্যাপ করে টিক্ দিতে হবে। আমি যে প্রক্রিয়াটি বলছি, সেটা অনুকরণ করলে যে ঝামেলা হবেনা, সেটা নিশ্চিত হবার জন্য পরের Verify Apps অপশনটিতেও ট্যাপ করে টিক্ দেয়া যেতে পারে। এতে করে সম্পুর্ণ প্রক্রিয়াটি গুগল পরীক্ষা করবে।

এবার ট্যাবলেট থেকে এই লিঙ্কে গিয়ে Framaroot-এর সর্বশেষ সংষ্করণটি ডাউনলোড করে নিতে হবে (আমার ক্ষেত্রে আমি ব্যবহার করেছি ১.৯.১ সংষ্করণটি), এবং সেই .apk ফাইলটা চালু করতে হবে।

স্ক্রিনে আসা নির্দেশনাগুলি অনুসরণ করলে Framaroot ইনস্টল হয়ে যাবে এবং সেটা চালু করলে এরকম একটি উইন্ডো দেখতে পাবো:
সেখানে Barahir অপশনটি নির্বাচন করলে রুট করার প্রক্রিয়া চালু হবে এবং কোনো ঝামেলা না থাকলে সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং ট্যাবলেটটি রিস্টার্ট করতে বলবে। রিস্টার্ট করার পরে আমরা অ্যাপ ট্রে-তে SuperSU নামের একটি অ্যাপ দেখতে পাবো। সেটা চালু করে সেটিংস ট্যাবে গেলেই বুঝতে পারবো রুট হয়েছে কি-না।

এই বিষয়ে কোনোকিছু জানার থাকলে এই লিঙ্কে গিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

মাইক্রোসফট সার্ফেস (আরটি) নিয়ে চারদিন!

16 শুক্রবার নভে. 2012

Posted by Omi Azad in গ্যাজেট, ব্যক্তিগত, মাইক্রোসফট, রিভিউ

≈ 4 Comments

গতমাসে মাইক্রোসফট অনেক ঢাক-ঢোল পিটে সার্ফেস নামের নতুন এই গ্যাজেট লঞ্চ করেছে। সার্ফেস লঞ্চ অনুষ্ঠানগুলিতে মাইক্রোসফটের বড় বড় কর্মকর্তাদের গুলিস্তানের হকার বনে যাওয়া দেখে ভাবলাম এই যাদুর বাক্স চালিয়ে না দেখলেই না! উঠে পড়ে লেগে গেলাম কিভাবে এই জিনিস আমেরিকা থেকে আমদানী করা যায়। গত সপ্তাহে এক বড়ভাই’র আত্মীয়র মাধ্যমে আমেরিকা থেকে একটি সার্ফেস আনিয়ে নিয়েছিলাম। জিনিসটা হাতে পেয়ে অসম্ভব ভালো লাগছিলো। অসাধারণ ডিজাইন, এমনকি প্যাকেজিংটাই অসম্ভব সুন্দর। বলতেই হয় অ্যাপলের কাছ থেকে কিছু হলেও উৎসাহ পেয়েছে মাইক্রোসফট।

আমি একদম কম খরচেরটা কিনেছিলাম। কম খরচ বলতে কী-বোর্ডের ধরণ/রঙে এবং স্টোরেজের পরিমাপের উপর ভিত্তি করে সার্ফেসের দামের অনেক তারতম্য আছে। যেমন:

  • কী-বোর্ড বাদে ৩২ গিবা সার্ফেস আরটি – $৪৯৯
  • কালো টাচ্ কী-বোর্ড ৩২ গিবা সার্ফেস আরটি – $৫৯৯
  • কালো টাচ্ কী-বোর্ড ৬৪ গিবা সার্ফেস আরটি – $৬৯৯
  • অন্য রঙের টাচ্ কভার (সাদা, লাল, ফিরোজা, গোলাপী) – $১১৯
  • সার্ফেস কালো টাইপ কভার – $১২৯

আমি $৫৯৯ দিয়ে কালো টাচ্ কী-বোর্ড সহ ৩২ গিবা সার্ফেস আরটি কিনেছিলাম। আর মাইক্রোসফট জার্মানীর এক বন্ধুর দেয়া কুপন ব্যবহার করে $৯৯ ডিসকাউন্ট নিতে পেরেছিলাম মাইক্রোসফট স্টোর থেকে।

সারাদিন চার্জ করার পরে সেদিন সন্ধ্যায় অনেক উত্তেজনা নিয়ে সার্ফেসটা চালু করলে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে স্ক্রিণে “অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন আমরা আপনার জন্য সার্ফেস প্রস্তুত করছি, ধৌর্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ” টাইপের একটা ম্যাসেজ ঝুলে ছিলো। অগত্যা আবার চার্জে লাগিয়ে বসে থাকলাম। আমি কিন্তু ওয়াই-ফাইতেও সংযুক্ত করিনি তখনো। চালু হবার পরে ইন্টারনেটে কানেক্ট করলাম, মাইক্রোসফট একাউন্টে লগ-ইন করলাম, কিন্তু স্টোরে গেলে আমাকে বার বার বলছে যে আমি ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত নই, অথচ আমি অনায়াসে নেট ব্রাউজ করতে পারছিলাম।

পরে বুঝতে পারলাম এখানে দেশ ভিত্তিক ঝামেলা থাকতে পারে। আমি এর আগেও মাইক্রোসফটের সংকীর্ণমনতা দেখেছি এসব ক্ষেত্রে, তাই Outlook-এ গিয়ে আমেরিকার ঠিকানা দিয়ে একটা ইমেইল খুললাম, সার্ফেস ফ্যাক্ট্রি রিসেট দিয়ে আবার ঐ ইমেইল দিয়ে চালু করয় দেখি স্টোরের ঝামেলা ঠিক হয়েছে।

আমার একটা দ্বিতীয় প্রজন্মের আইপ্যাড টু আছে। সার্ফেসটা সেটা থেকে একটু বড় হলেও স্ক্রীনে অতটা উজ্বল না। দিনের আলোতে ব্যালকনিতে ব্যবহার করা যায়না ঠিকমত। তারমানে কেউ যদি গাড়িতে বসে কাজ করতে চায়, সেটা মনেহয়না সম্ভব হবে। থিউটিটিক্যালি এটা ওজন আইপ্যাড থেকে কম বলা হলেও আমার কাছে সেরকম কিছু মনে হয়নি, বরং আকারটা একটু বাল্কি মনে হয়েছে।

উইন্ডোজ আরটি-এর মধ্যে ডেস্কটপ মোড আছে, কিন্তু সেটা কেনো আছে তা আমার কাছে পরিস্কার না। কন্ট্রল প্যানেলে কিছু করতে গেলে কখনো মডার্ণ মোডে কখনো ডেস্কটপ মোডে যায়! আমার মনেহয় ব্যহারকারীরা এতে চরম বিরক্ত হবে।

স্টোরে কাজে লাগার মতন অ্যাপের বড়ই অভাব। আর যেগুলি আছে সেই অ্যপ্লিকেশনগুলি অসম্ভব ধীর গতির! একটায় ট্যাপ করে বসে থাকতে হয়। আবহাওয়ার অ্যাপ্লিকেশনের মিনিট খানেক লাগে ডেটা নিয়ে আসতে (আমেরিকায় আরও ভালো কাজ করতে পারে উচ্চ গতির ইন্টারনেটে)।

যেই অ্যাংরি বার্ডস্ অ্যান্ড্রোয়েডে বিনামূল্যে পাওয়া যায়, বা HD ভার্সনটা আইওএসে দুই ডলার দিয়ে পাওয়া যায়, সেটা (HD কি না সেটা বলা নাই) উইন্ডোজ স্টোরে আইওএসের চাইতে আরও দেড় ডলার দাম বেশী। আমি কারণ বুঝতে পারিনি।

স্কাইপির মতন অ্যাপ্লিকেশন কত খেলনা আর স্লো হতে পারে, সেটা জানতে উইন্ডোজ আরটি ব্যবহার করা দরকার। সামনে-পেছনে ক্যামেরা থাকলেও ক্যামেরার পারফরমেন্স আমার কাছে সেরকম সুবিধার মনে হয়নি! সামনের ক্যামেরার ছবি অনেকটা ব্লার হয়ে যায় থেকে থেকে।

আমার ধারণা এর প্রসেসরে একটা ঘাপলা আছে। সবকিছুই অত্যন্ত ধীর গতির। আর পিসির সাথে ভিডিও, গান, ছবি লেনদেনের বিষয়টা অত্যন্ত বিরক্তিকর এই যুন প্লেয়ারের কারণে।

কেনার আগেই কিছু জিনিস বিবেচনায় আনা উচিৎ ছিলো, যেমন অ্যাপলের একটা পণ্য রিলিজ হলে মানুষ লাইন ধরে সেটা কেনার জন্য অপেক্ষা করে, কিন্তু উইন্ডোজ এইট বা সার্ফেসের ক্ষেত্র কিন্তু সেরকম কিছু হয়নি। জেডিনেটের লেখক বেন উড  একটা সুন্দর কথা লিখেছিলেন “Would I buy a Surface RT right now? Probably not. If it was my cash, I’d be inclined to wait for the Surface Pro, but then that’s because I use tablets like a laptop replacement (where it’s not appropriate or convenient to use a full-size device) rather than as a companion device or for gaming.” এখন সিদ্ধান্তটা ব্যবহারকারীদের। 🙂

তবে সার্ফেসের যে কোনো ব্যবহার নাই তা না, মাউক্রোসফটে উইন্ডোজ গ্রুপের প্রধান স্টিভেন সিনোফস্কি সার্ফেস দিয়ে রোলার স্ক্যাট বানিয়ে দেখিয়েছেন-

আমাদের মা-বোনেরা হয়তো পাটা (যাতে মশলা পেশা হয়) হিসেবেও সার্ফেস ব্যবহার করতে পারবেন। 🙂

নতুন গ্যাজেট “আই-ফাই” মেমরি কার্ড

05 রবিবার আগস্ট 2012

Posted by Omi Azad in গ্যাজেট, ব্যক্তিগত, রিভিউ

≈ 2 Comments

কয়েক বছর আগের কথা। ক্যামেরায় ছবি তুলে কম্পিউটারে নেবার সময় ভাবতাম, এত ঝামেলার দরকার কি, এরকম প্রযুক্তি বের হয়না কেন যে ছবি তোলার সাথে সাথে সরাসরি কম্পিউটারে চলে যাবে! সেবার যখন সিঙ্গাপুরে গেলাম, দেখলাম ওরা ট্যুরিস্টদের ছবি তুলছে এক জায়গায় আর প্রিন্ট করে দিচ্ছে আরেক জায়গা থেকে। মাঝখানে তারের কোনো যোগাযোগ চোখে পড়লোনা।

একটু খোঁজ নিতেই পেয়ে গেলাম আই-ফাই ডিভাইসের সন্ধান। সাধারণ একটা এসডি কার্ড হলেও ডিভাইসটি কিন্তু আমার কল্পকাহিনীকে বাস্তব রূপ দিয়েছে। আই-ফাই একটি আধুনিক ওয়াই-ফাই এনেবেল্ড ডিভাইস, একবার কনফিগার করে নিলে ওয়াই-ফাই রেঞ্জের মধ্যে থেকে ছবি/ভিডিও সরাসরি কম্পিউটার বা ক্লাউডের সাথে সিঙ্ক করে নিতে পারে। অর্থাৎ আমি আই-ফাই কার্ডটি প্রথমে আমার কম্পিউটারের লাগিয়ে কনফিগার করে নেবো, এর পরে ছবি তুললে সে প্রথমে তার নিজস্ব মেমরিতে ধারণ করে রাখবে। পরে ওয়াই-ফাই রেঞ্জের মধ্যে আসলে কম্পিউটারের সাথে বা ক্লাউডের সাথে সিঙ্ক করে নেবে। আমাকে তার লাগিয়ে বা কার্ড খুলে ডাটা ট্রান্সফার করতে হবে না।

এক নজরে দেখে নেই এই ডিভাইসের কয়েকটি কার্যকরীতা –

  • কোনো তারের সংযোগ ছাড়াই ছবি/ভিডিও সরাসরি কম্পিউটার বা ক্লাউডে আপলোড
  • সরাসরি অনলাইনে (ফেসবুক, পিকাসা, ফ্লিকর, ইউটিউব ইত্যাদি) শেয়ার
  • ক্যামেরায় জিওট্যাগ না থাকলেও ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে ছবিতে জিওট্যাগ
  • এপ্লিকেশনের মাধ্যমে এন্ড্রোয়েড বা আইওএস ডিভাইসে ছবি/ভিডিও ডাউনলোড
  • ক্লাশ ৬ গতির ইন বিল্ট মোমরি সহ অনেকগুলি চমৎকার ফিচার

আমি Pro X2 মডেলটা প্রায় $১০০ দিয়ে কিনেছি এবং আমার কাছে জিনিসটা দারুন লেগেছে! একটা ভিডিওতে চট্ করে এর সম্পর্কে জেনে নেই-

ওহ্ একটা ঝামেলা আছে, এটা উইন্ডোজ আর ম্যাকে চললেও লিনাক্সের জন্য এর কোনো সমাধান নেই আপাতত!

কমিউনিটির জন্যই কাজ করে যেতে চাই

07 বৃহস্পতিবার জুন 2012

Posted by Omi Azad in ব্যক্তিগত, মাইক্রোসফট

≈ 15 Comments

গতকাল ছিলো ইবানের জন্মদিন, আর মাইক্রোসফট বাংলাদেশের সাথে কাজ না করার সিদ্ধান্তটাও বাস্তবায়ন করলাম গতকালকে। বেশ কিছু পত্রিকা/অনলাইন মাধ্যমের বদৌলতে এই খবর এখন পুরাতন, কিন্তু অনেকেই প্রশ্ন করছে কেন এই সিদ্ধান্ত আর ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি।

মাইক্রোসফটের সাথে কাজ করে আসছি সেই ২০০২ সাল থেকে, মাইক্রোসফটের তৈরী করা ছোট বড় প্রায় ১২০টি পণ্য ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ২০০৯ সালে যখন সুযোগ হয়, তখন  এক্সপ্লোর করার সুযোগটা হাতছাড়া হতে দেইনি। কাছে থেকে গত আড়াই বছরে বহু কিছু দেখেছি এবং শিখেছি। সে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আমার পরিচিত অনেক ডেভলপার আছে, যারা কি করবে, কিভাবে করবে বুঝতে পারছেনা। অথচ মাইক্রোসফটের একটি প্রযুক্তির উপরে অভিজ্ঞতা অর্জন করলেই ভবিষ্যত নিয়ে আর চিন্তা করতে হয়না। গত জানুয়ারি মাসের একটা ছোট্ট জরিপে দেখানো হয়েছে যে উন্নতবিশ্বে প্রায় দেড়লাখ ডায়নামিক্স ন্যাভ ডেভলপার দরকার ছিলো ২০১১ সালে এবং তিনগুন ডেভলপার দরকার ২০১২ সালে, একই জরিপে শেয়ারপয়েন্টের কথাও এরকম বলা হয়েছে; তবে শেয়ারপয়েন্টের ডেভলপার দরকার আরও বেশী। এদের পারিশ্রমিকও কিন্তু কম না, নবীনদেরই প্রতি মাসের বেতন হতে পারে দুই হাজার থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত! সাথে পারিবারিক স্বাস্থ্য বীমা, ভিসা স্পন্সার সহ থাকে নানান সুবিধা। আমার জানা মতে বাংলাদেশ থেকে ৩/৪ জনের বেশী এই সুবিধাগুলি নিতে পারেনি। শুধু বাংলাদেশেই ১০জন মানুষ দরকার যারা মাইক্রোসফটের লাইসেন্স এক্সপার্ট, কিন্তু এরকম মানুষ পাওয়া কঠিন।

যেজন্য এই কথাগুলি বললাম, আমার লক্ষ্য ছিলো এই জিনিসগুলি আমাদের দেশের নব্য-ডেভলপারদের সামনে তুলে ধরা, যাতে তারা অনায়াসে একটা ভালো ক্যারিয়ার গঠন করতে পারে। আমার শক্তি আমাদের দেশের ডেভলপাররা। আমাদের কিন্তু বিশাল একটা ডেভলপার কমিউনিটি আছে যাদের মন মানসিকতা অত্যন্ত খোলামেলা। একজন প্রতিষ্ঠিত ডেভলপারের কাছে একজন নবীন ডেভলপার কোনো সাহায্য চেয়েছে, কিন্তু পায়নি এমনটা হয়না। শুধু এদের এক ছাদের নিচে নেয়ার প্রয়োজন ছিলো। আমাদের খুবই পরিচিত গ্রুপ পিএইচপিএক্সপার্টস, সারা বিশ্বের ওয়েব ডেভলপাররা সেখানে কোলাবরেট করছে এবং উপকৃত হচ্ছে। পিএইচপিএক্সপার্টসের যাত্রা কিন্তু ভারত বা আমেরিকা থেকে শুরু হয়নি, হয়েছে এই বাংলাদেশ থেকে। ছোট ছোট এরকম আরও উদাহরণ আছে যা প্রমাণ করে আমরা কত শক্তিশালী এবং একটু সাহায্য পেলেই আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে পারি।

এই চিন্তা মাথায় রেখেই শুরুকরেছিলাম যাত্রা মাইক্রোসফটের সাথে। যাত্রার অভিজ্ঞতা অসাধারণ; চমৎকার একটা দল ছিলো মাইক্রোসফট বাংলাদেশে আর এর বাহিরে মাইক্রোসফট স্টুডেন্ট পার্টনারদের নিয়ে আমার দলটা ছিলো আরও শক্তিশালী। অনেক চড়াই উৎরই-এর মধ্যেও আমরা কাজ করে গিয়েছি স্বাভাবিকভাবে এবং জয়ের মুখ দেখেছি। কিন্তু হঠাৎ করেই আমাদের দলটিতে ভাঙ্গে যেতে শুরু করলো! এই বছর জানুয়ারী মাসে আমাদের কান্ট্রি ম্যানেজার ফিরোজ মাহমুদ আমাদের অনেকটা চমকে দিয়েই পদত্যাগ করলেন, সাথে সাথে মাইক্রোসফট শ্রীলঙ্কার কান্ট্রি ম্যানেজার আমাদের দেখাশোনার দ্বায়িত্ব নিলেন কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছিলো যে মাইক্রোসফটের এই সিদ্ধান্তটা সঠিক না। শ্রীলঙ্কার কান্ট্রি ম্যানেজারের নিজেরই অনেক বড় দ্বায়িত্ব, সে নিজের কাজের পাশাপাশি কিভাবে আমাদের সহায়তা করবে সেটা ছিলো সবার প্রশ্ন। বিভিন্ন দিক থেকে আমাদের চ্যালেঞ্জ বেড়ে যেতে লাগলো। সবকিছু কেমন যেনো এলোমেলো হয়ে যেতে লাগলো এবং দলের লোকেরা একে একে বিভিন্ন দিকে চলে যেতে থাকলেন।

লোক কমে যাওয়ায়, শেষে আমার কাজের বাহিরে অনেক কাজ বেড়ে গেলো! একটা কিছু করতে হলে সেটার কোটেশন নেয়া থেকে শুরু করে পেমেন্টের ভ্যাট/ট্যাক্স হিসাবও আমাকে করতে হচ্ছিলো, এবং হাঁপিয়ে গিয়ে গত মার্চ মাসে আমার কান্ট্রি ম্যানেজারকে এসব কথা বললে উনি আমার কাছে সময় চান। গত ৫ তারিখে আমাকে নতুন কিছু অফার করেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো- টাকা পয়সা বেশী হয়তো পেতে পারি, কিন্তু সেটা দিয়েতো আর দু’টা হাত আর একটা মাথা কিনতে পারবোনা, তাই না? তাই আমি অনুরোধ করলাম আমাদের চুক্তির ইতি ঘটাতে এবং উনি কথা না বাড়িয়ে আমার অনুরোধ রাখেন।

আমি চাইলে মার্চেই ছেড়ে দিতে পারতাম, কিন্তু কমিউনিটির কাছে আমার যে প্রতিশ্রুতি আছে সেটা নষ্ট হয়ে যেতো। তাই ইমাজিন কাপ শেষ করে, তাদের সকল দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে শেষ করলাম মাইক্রোসফটের সাথে আমার যাত্রা।

আমি শুরু থেকেই কমিউনিটির কাছে প্রতিশ্রতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতে যাই করি, চেষ্টা করবো তা হবে কমিউনিটির জন্যই কাজ করে যেতে। আশা করবো আমার বন্ধু এবং শুভাকাঙ্খীরা আমার জন্য তাই দোয়া করবেন; আর পক্ষান্তরে আমিও মাইক্রোসফট বাংলাদেশের শুভকামনা করি, আশাকরি সকল জটিলতা পার করে আগামীতে তারা অনেক বড় হয়ে উঠবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দৃষ্টান্তমূলক ভুমিকা পালন করবে।

← Older posts

Categories

  • অ্যানড্রোয়েড
  • আইটি বিশ্ব
  • ই-কমার্স
  • উদ্ভট
  • ওপেন সোর্স
  • গল্প টল্প
  • গান বাজনা
  • গুগল্
  • গ্যাজেট
  • টিউটোরিয়াল
  • টেলিকম
  • বাংলা কম্পিউটিং
  • বাংলাদেশ
  • ব্যক্তিগত
  • মন্তব্য
  • মাইক্রোসফট
  • রিভিউ
  • সফটওয়্যার রিভিউ

Recent Posts

  • ডাক্তার শায়লা শামিম ও মনোয়ারা হাসপাতালের অভিজ্ঞতা
  • ই-কমার্স – বাংলাদেশ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ!
  • Install Google Apps and Play Store on Nokia X, X+ and XL
  • মাইক্রোসফটের কাছে পাওয়া শেষ চেক্!
  • Root Walton Walpad 8b, Walpad 8w, Walpad 8 and Walpad 7

Proudly powered by WordPress Theme: Chateau by Ignacio Ricci.