অনেকেই The Bear-কে “কমেডি” ক্যাটাগরিতে ফেলে। অ্যাওয়ার্ড শো গুলোও তাই করে। কিন্তু তিন সিজন দেখার পর আমার মনে হয়েছে, এটা টিভির সবচেয়ে টেনশন-ভরা, দমবন্ধ করা ড্রামাগুলোর একটা। শুধু সেটিংটা একটা স্যান্ডউইচের দোকান।
গল্পের কেন্দ্রে কারমি
ফাইন ডাইনিং-এর ট্রেইন্ড শেফ, যে শিকাগোতে ভাইয়ের রেখে যাওয়া জরাজীর্ণ “The Original Beef of Chicagoland” বাঁচাতে ফিরে আসে। বাইরে থেকে প্লটটা সহজ: একটা ডুবন্ত রেস্টুরেন্টকে রিব্র্যান্ড করে মিশেলিন লেভেলে নেওয়া। কিন্তু সিরিজের আসল ইঞ্জিন হলো ট্রমা, গ্রিফ, আর পরিবার — রক্তের সম্পর্ক হোক বা রান্নাঘরে তৈরি হওয়া পাতানো পরিবার।
শো-টা দেখতে বসলে প্রথম যে জিনিসটা হিট করে তা হলো সাউন্ড ডিজাইন আর এডিটিং। অর্ডার চেঁচানো, প্যানের শব্দ, প্রিন্টার থেকে বের হওয়া টিকেটের বন্যা — সব মিলে একটা প্যানিক অ্যাটাকের মতো অভিজ্ঞতা। ক্যামেরা কখনো স্থির হয় না। ক্যারেক্টারগুলো একে অন্যের উপর কথা বলে, কথা শেষই করে না। এই হৈচৈটাই শো-এর ভাষা। কারণ রান্নাঘর কোনো থেরাপি রুম না। এখানে সবাই ভাঙা, সবাই প্রেশারে, আর সবাই চায় পারফেক্ট একটা প্লেট নামাতে।
অভিনয়ের কথা না বললেই নয়
- Jeremy Allen White-এর কারমি নিঃশব্দে জ্বলতে থাকা একটা আগুন।
- Ayo Edebiri-র সিডনি অ্যাম্বিশন আর ইনসিকিউরিটির পারফেক্ট ব্যালেন্স। আর
- Ebon Moss-Bachrach-এর রিচি — শুরুতে অসহ্য লাগলেও ধীরে ধীরে ওর ভাঙা দিকটা দেখলে বুকটা মোচড় দেয়।
The Bear “ক্লাসি” কারণ এটা কষ্টকে গ্ল্যামারাইজ করে না। এখানে কোনো মন্টাজ নেই যেখানে হঠাৎ সব ঠিক হয়ে যায়। প্রতিটা জয়ের পেছনে তিনটা ভুল, প্রতিটা সুন্দর ডিশের পেছনে রাত ৩টার ইনভেন্টরি আর কান্না। পরিবার মানে শুধু ভালোবাসা না, পরিবার মানে দায়, অপরাধবোধ, আর একে অন্যকে টেনে তোলার ক্লান্তিকর চেষ্টা।
কমেডি আছে
ড্রাই, অবসাদগ্রস্ত, ডিফেন্স মেকানিজম টাইপ কমেডি। তুমি হাসবে, কিন্তু হাসির পরেই বুকে একটা চাপ অনুভব করবে।
যদি তুমি প্রিসিশন, টেনশন, আর মানুষের ভেঙে পড়া ও জোড়া লাগার গল্প পছন্দ করো — তাহলে The Bear দেখো। এটা রেস্টুরেন্ট নিয়ে শো না। এটা সেই সব মানুষকে নিয়ে যারা আগুনের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের পোড়াতে পোড়াতে সুন্দর কিছু বানানোর চেষ্টা করে।

Leave a Reply