ভারতের ১৩০ কোটি মানুষের অর্থনীতি বাঁচলো বউ আর পিয়নের আইডিয়ায়!
“১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ভারত যখন ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে, মাত্র কয়েক সপ্তাহের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অবশিষ্ট, তখন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরের চেয়ারে বসা মানুষটির মেধা ও ঠান্ডা মাথার কূটনীতি ভারতকে খাদের পড়া থেকে বাঁচিয়ে দেয়” — ইতিহাস আমাদের এমনটাই বলে। তবে বায়োপিক থ্রিলার সিনেমা ‘Governor’-এর পরিচালকের কাজ দেখলে বিশ্বাস করতে হবে যে ভারতের সেই ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক পুনরুত্থানের পেছনে কোনো দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার, আন্তর্জাতিক কূটনীতি বা প্রখর অর্থনীতির জ্ঞান ছিলো না! দেশ বেঁচে গিয়েছিলো কিছু অবিশ্বাস্য কাণ্ডকলাপ আর কাকতালীয় ঘটনায়!!
Manoj Bajpayee অভিনীত A. Ramanan, যিনি আসলে S. Venkitaramanan এর আদলে বানানো, তাকে RBI Governor বানানো হয় দেশকে বাঁচাতে। তার কাজ ছিলো গোল্ড মর্টগেজ করে লোন নিয়ে দেশকে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচানো। কাগজে কলমে টানটান থ্রিলার হওয়ার কথা।
কিন্তু পরিচালক Chinmay D. Mandlekar কী বানিয়েছেন?
সিনেমার অফিসিয়াল সারসংক্ষেপ বেশ ভারী ও গম্ভীর — সিস্টেমের বিরুদ্ধে একা লড়াই করে গভর্নর দেশকে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করছেন। কিন্তু পর্দা চালু হতেই সেই গুরুগম্ভীর ভাব গ্যাসের মতো উড়ে গিয়ে এটি এক খাঁটি অনিচ্ছাকৃত কমেডির রূপ নেয়। গল্পের তথাকথিত জিনিয়াস গভর্নর নিজের দপ্তরে বসে জটিল ম্যাক্রো-ইকোনমিক্স নিয়ে ভাবার সময় যতটা না নিজের বিদ্যা খাটান, তার চেয়ে বেশি নির্ভর করেন দৈনন্দিন ভাগ্যের ওপর।
সিনেমার গভর্ণরের নিজের কোনো ট্যালেন্টই নেই। দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ক্রাইসিস চলছে, আর উনি সকালে বউ Vandita এর সাথে চা খেতে খেতে আড়চোখে যে ঘরোয়া টিপস বা সাধারণ সাংসারিক কথা ছুড়ে দেন, সেটাই নাকি গভর্নরের মাথায় রাতারাতি ‘বিপ্লবী ইকোনমিক পলিসি’ হিসেবে জ্বলে ওঠে! ভাবতে থাকে – “আচ্ছা, সোনা বন্ধক রাখলে কেমন হয়?” পরের দিন অফিসে পিয়ন Patil ফাইল দিতে এসে বলে – “স্যার, আমার মামা বলছিল…” আর সেখান থেকেই আরেকটা যুগান্তকারী পলিসি বেরিয়ে আসে! মানে, RBI এর গভর্নর, যিনি দেশের অর্থনীতি বাঁচাবেন, তিনি চলছেন বউ আর পিয়নের কাকতালীয় বুদ্ধিতে! এটা দেখে হাসতে হাসতে মরে যাবে। মনে হবে ১৩০ কোটি মানুষের দেশের ভাগ্য নির্ভর করছে পিওন ও গৃহিণীর দেয়া টিপসের উপর। কোনো রিসার্চ, কোনো ইকোনমিক থিওরি, কোনো টিমওয়ার্ক নেই। সবকিছু হঠাৎ করে মাথায় আসে, আর হয়ে যায়!
Manoj Bajpayee বেচারা চেষ্টা করেছে। তার মতো অভিনেতা এই জগাখিচুড়ি স্ক্রিপ্টেও সিরিয়াস থাকার চেষ্টা করেছে, কিন্তু স্ক্রিপ্ট তাকে সাহায্য করেনি। Madhoo বউ হিসেবে আর Jaywant Wadkar পিয়ন Patil হিসেবে আসলে সিনেমার আসল হিরো, কারণ তাদের ছাড়া তো দেশ বাঁচতোই না! সিনেমাটি দেখার সময় কোনো দর্শক যদি একটুখানিও অর্থনীতি বা সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান কাজে লাগায়, তবে তার হাসতে হাসতে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। কোনো অর্থনৈতিক সংস্কারের জটিলতা নেই, বাস্তব রাজনীতির কোনো হিসাব নেই — সবকিছু সমাধান হচ্ছে যেন জাদুমন্ত্রে! জটিল বৈশ্বিক সংকটকে এতটা হাস্যকরভাবে হালকা করে দেখানো হয়েছে যে মনে হয় এক বিশাল দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করা আসলে ভাগ্য পরীক্ষা ছাড়া আর কিছুই ছিলো না।
১২২ মিনিটের সিনেমাটা কোনো টেনশনই তৈরি করতে পারে না। যেখানে The Big Short এর মতো সিনেমা শুকনো ইকোনমিক্সকে থ্রিলার বানায়, সেখানে Governor জটিল একটা বিষয়কে কমেডি শো বানিয়ে ফেলে। একটি ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে এত সস্তা ও অগভীর চিত্রনাট্যের ‘বায়োপিক’ সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি। গম্ভীর ইতিহাস দেখতে বসে খাঁটি প্যারোডি দেখার অভিজ্ঞতা যাদের পছন্দ, কেবল তারাই এটি দেখার সাহস করতে পারে!
যদি তুমি মন দিয়ে দেখো, তাহলে বুঝবে ভারতের ১৯৯১ এর অর্থনীতি বেঁচেছিল শুধু কাকতালীয় ঘটনার উপর। আর যদি হালকা মেজাজে দেখেন, তাহলে এটা ২০২৬ এর সেরা আনইনটেনশনাল কমেডি।
