Reality Bites

~ by Omi Azad

  • Home
  • About Me!
  • My Movies
  • English

Category Archives: মন্তব্য

Personal Comments

কোথা থেকে এলো উইন্ডোস সেভেন নামটি!

26 সোমবার জানু. 2009

Posted by Omi Azad in মন্তব্য, মাইক্রোসফট

≈ 7 Comments

Tags

৭, উইন্ডোজ, মাইক্রোসফট, সেভেন

এরই মধ্যে উইন্ডোস সেভেন নামটি বেশ পরিচিত হয়ে গিয়েছে আমাদের কাছে। অনেকে ব্যবহারও করছি, কিন্তু আমাদের সবারই মনে একটা প্রশ্ন, কেনো এই নাম ব্যবহার করলো মাইক্রোসফট। অন্য কিছুও তো ব্যবহার করতে পারতো।

প্রথমে মাইক্রোসফট সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে উইন্ডোসের নাম আগের মতন করেই করা হবে, যেমন প্রথম উইন্ডোসের নাম ছিলো ১.০, এর পরে আসে ২.০, তারপরে আসে এনটি। উইন্ডোস এনটি ছিলো আসলে উইন্ডোস ৩.০। এর পরে ব্যবহারকারীদের জন্য পরিমার্জিত একটি সংস্করণ আসে যার নাম ৩.১ এবং ৩.১১। কিন্তু তার পরে ৯৫ – ৯৮ – ২০০০ এভাবে আসতে থাকে। পরে আবার সেই ধারা বাদ দিয়ে নাম দেয়া শুরু করে, যেমন এক্সপি, ভিস্তা।

মাইক্রোসফট সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা তাদের আগের নামের ধারাবাহিকতায় ফিরে যাবে। কেনো? আমি জানিনা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছে, মাইক্রোসফট যেহেতু অনেক কিছু অ্যাপল থেকে নকল করে আসছে (যেমন ইউজার ইন্টারফেইসে অ্যাপলের ম্যাক ওএস এর অনেক কিছু নকল করেছে), সেরকম নামের ধারাবাহিকতায় ফিরে যাওয়াটাও এরকম একটা কারণ হতে পারে।

উইন্ডোস ৯৫ আসে ৩.১ (বা ৩.১১) এর পরে, কিন্তু তার কোড সংস্করণ ছিলো ৪। আর উইন্ডোস ৯৫ এর পরে আসে উইন্ডোস এনটি ৪, সেটারও কোড সংস্করণ ছিলো ৪। তার পরে আসে উইন্ডোস ৯৮, ৯৮ সেকেন্ড এডিশন এবং মিলেনিয়াম এডিশন যাদের কোড সংস্করণ ছিলো যথাক্রমে ৪.০.১৯৯৮, ৪.১০.২২২২ এবং ৪.৯০.৩০০০। সুতরাং এই সবগুলিই ছিলো সারিতে ৪র্খ সংস্করণ।

এর পরে আসলো উইন্ডোস ২০০০, যার কোড সংস্করণ ছিলো ৫.০ এবং এক্সপি’র কোড সংস্করণ ছিলো ৫.১। যদিও এক্সপি একটা মেজর রিলিজ ছিলো মাইক্রোসফটের এপ্লিকেশন ব্যবহারকারীদের জন্য, কিন্তু কিছু আভ্যন্তরীণ কাঠামো ২০০০ এর মতো হওয়ায়, এপিআই এর পরিবর্তন তেমন না হওয়ায় এর কোডে তেমন পরিবর্তন আনেনি মাইক্রোসফট। ঠিক সেরকমই, যখন উইন্ডোস সার্ভার ২০০৩ আসে, তার কোড সংস্করণ হয় ৫.২। তার পরে আসে উইন্ডোস ভিস্তা এবং তারপরে ২০০৮। উক্ত দুটি অপারেটিং সিস্টেমই কোড সংস্করণ ৬ ঘরানার।

সুতরাং আমাদের পরবর্তি অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোস সেভেন এই কারণেই নাম পেয়েছে সেভেন মানে ৭। কিন্তু তার মানে কিন্তু এই না যে উইন্ডোস সেভেনের কোড সংস্করণ ৭। উইন্ডোস সেভেনের কোড সংস্করণ ৬.১ তার কারণ কিন্তু একই, যেই কারণে উইন্ডোস ২০০ এবং এক্সপির কোড সংস্করণে বিশেষ পরিবর্তন আসে নাই, সেরকম ভিস্তা আর সেভেনের কোড সংস্করণে তেমন পরিবর্তন আনছেনা মাইক্রোসফট।

সুতরাং সঙ্গত কারণে সেভেন নামটা ব্যবহার করছে মাইক্রোসফট।

তবে ইন্টারনেটে বেশ কিছু বুলি প্রচলিত আছে, যে কেনো মাইক্রোসফট উইন্ডোস সেভেন নামটা পছন্দ করলো। তার মধ্যে আমার ভালো লেগেছে এরকম ১০টি এখানে প্রকাশ করলাম:

  1. Want to remind users of the good old days of Windows for Workgroups 3.11 instead of Vista.
  2. Signifies the number of billions Bill Gates lost in the stock market last week. 🙂
  3. It’s the number of debuggers working on this version.
  4. Drawing comparisons to the seven deadly sins with name just too irresistible. 😉
  5. It’s the number of years before it’ll be released. 😀
  6. Instead of using release years, new editions will now be named according to years until the robot uprising.
  7. Because as they say at Microsoft, seventh time’s the charm. 🙂
  8. With so few names not trademarked, Windows 7 sounded better than Windows Popplers. 😀
  9. Product naming team wanted to leave early to beat rush hour.
  10. Proves that Windows is only three versions behind Apple.

আবার আমাকে অনেকে প্রশ্ন করেছে যে কেনো আমি বাংলায় উইন্ডোস সেভেন বলছি আমার তো ৭ (সাত) বলতে সমস্যা ছিলো না।আসলে একটা কথা আমাদের মনে রাখা উচিৎ যে নাম সব সময় নামই, সেটার অনুবাদ করা ঠিক না। “বাংলা” শব্দটা যখন একটা ভাষার নাম, সেটার ইংরেজী অনুবাদ “বেঙ্গলি” হতে পারে না, ঠিক সেই রকম, “সেভেন” নামটা যারা ব্যবহার করছে সেটার বাংলায় সাত বলা ঠিক না।

একবার নিজেই দেখে নিন উইন্ডোস সেভেন

15 বৃহস্পতিবার জানু. 2009

Posted by Omi Azad in মন্তব্য, মাইক্রোসফট

≈ 9 Comments

Tags

৭, উইন্ডোজ, ডাউনলোড, বিনামূল্যে, বেটা, মাইক্রোসফট

মাত্র কয়েকদিন হলো মাইক্রোসফট তাদের পরবর্তি অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোস সেভেন এর প্রথম বেটা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উনমুক্ত করেছে। আর এই কয়েকদিনেই এর ডাউনলোডের সংখ্যা দশ লক্ষ্যাধিক ছাড়িয়ে গিয়েছে। যা কি-না উইন্ডোস ভিস্তার চাইতে ৬০% বেশী!

এই ডাউনলোড বেশী হবার কারণ একটু বলে নেই। যখন ভিস্তা বের হয়, তখন বেশীরভাগ কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা সিঙ্গেল কোর প্রসেসর ব্যবহার করতেন এবং ৭০% এর বেশী ব্যবহারকারী খুব বেশী হলে ৫১২ রেম ব্যবহার করতেন কম্পিউটারে। তাই ভিস্তা ব্যবহার করতে একটু হলেও দ্বিধা বোধ করতো। কিন্তু এই এক ভিস্তা গত দুই বছরে গোটা কম্পিউটার বাজারের চেহারাই বদলে দিয়েছে। স্টোরেজ, প্রসেসরের গতি, রেম সব দুই বছরে বেড়েছে প্রায় চার গুণ। তাই এখন কেউ উইন্ডোস সেভেন ব্যবহার করে দেখার জন্য ২য়বার ভাবছেনা। সরাসরি ডাউনলোড এবং ইনস্টল।

আপনারা চাইলেও এখনি উইন্ডোস সেভেন ডাউনলোড করে ইনস্টল করে দেখতে পারেন কতো ঝাকানাকা হতে পারে আপনার ডেস্কটপ! আমি এখানে উইন্ডোস সেভেন-এর রিভিউ লিখছিনা। আর এত কিছু পরিবর্তন হয়েছে উইন্ডোস সেভেন-এ, যে এক আর্টিক্যালে লিখে শেষ করাও যাবে না। তবে শিঘ্রই শুরু করবো রিভিউ লেখা।

চলুন তাহলে জেনে নেই কিভাবে ডাউলোড করা যাবে উইন্ডোস সেভেন।

  • ৩২ বিট-এর ইংরেজি উইন্ডোস সেভেন ডাউনলোড করা যাবে এই ঠিকানা থেকে
  • ৬৪ বিট-এর ইংরেজি উইন্ডোস সেভেন ডাউনলোড করা যাবে এই ঠিকানা থেকে

ডাউলোড করা আইএসও ডিভিডিতে রাইট করে সেখান থেকে ইনস্টল করতে হবে উইন্ডোস সেভেন। ইনস্টল হয়ে গেলে একটিভেট করতে হবে একটি প্রোডাক্ট কী দিয়ে। আর সেটা সংগ্রহ করতে হবে এই ঠিকানা থেকে। উক্ত ঠিকানায় গেলে আপনার উইন্ডোস লাইভ আইডি চাইবে এবং একবার প্রবেশ করে কিছু প্রক্রিয়া শেষ করলে আপনি একটি প্রডাক্ট কি পেয়ে যাবেন।

তাহলে আর দেরি না করে এক্ষুণি দেখে নিন, কেমন ঝাকানাকা করেছে এই নতুন উইন্ডোস। আর সামনে আমি উইন্ডোস সেভেন-এর রিভিউ তো লিখছিই।

ভালো কথা, আমার কিন্তু উইন্ডোস সেভেন-এর বুট স্ক্রিন (স্টার্টআপ স্ক্রিন) জটিল লেগেছে।

বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন – পাগলে কি-না বলে, ছাগলে কি-না খায়!

01 শনিবার নভে. 2008

Posted by Omi Azad in উদ্ভট, বাংলাদেশ, মন্তব্য

≈ 28 Comments

Tags

horlicks, বিজ্ঞাপণ, হরলিকস্

আসলেই, আমাদের দেশের বিজ্ঞাপনের এই দশা (!) এখন। এক মোবাইল কোম্পানি বলে “কাছে থাকুন” আবার ঐ কোম্পানিই আরেকটি বিজ্ঞাপনে বলে “হারিয়ে যাও।” তাহলে কি বলা ভুল হলো “পাগলে কি-না বলে, ছাগলে কি-না খায়!”

ঘটনার শুরু লন্ডনে। সেখানকার এক টেলিভিশন চ্যানেল ভুল করে একটা বিজ্ঞাপন প্রচার করে হরলিকস্ নামের একটি পণ্যের। সেখানে দেখানো হয় যে হরলিকস্ খেলে আপনার বাচ্চারা হয়ে উঠবে আরও লম্বা, আরও কঠিন এবং আরও ধুর্ত। ওরে বাবা! আর বাকি থাকলো কি!!!

এই বিজ্ঞাপন প্রচারের সাথে সাথে ওখানে একটা হাঙ্গামা হয়ে গেলো, সাধারণ জনগনের একটাই প্রশ্ন যে এরকম কিভাবে হয়। এবং এই প্রশ্নের জবাবে হরলিকস নির্মাতা জানায় যে ঐ বিজ্ঞাপনটি বাংলাদেশের জন্য তৈরী করা হয়েছে এবং ভুল করে ওখানে প্রচারিত হয়ে গিয়েছে। আমার এক বন্ধু আমাকে লন্ডন থেকে দৈনিক মেট্রোতে প্রকাশিত একটি সংবাদের ছবি পাঠায়, যেটা আপনারা দেখতে পাবেন এখান থেকে।

আমি সেদিন উইকিপিডিয়াতে গিয়ে হরলিকস্ সম্পর্কে পড়ে তো অবাক হলাম এবং সত্যই তো, আমি যখন ছোট ছিলাম, হরলিকসের বিজ্ঞাপনে তাই বলা হতো, যে এটা ঘুমের সময় পান করলে ভালো ঘুম হয় এবং শরীরকে রাখে চাঙ্গা। ভারতে যখন হরলিক উৎপাদন শুরু হলো, তখন বলা হতো পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটায় হরলিকস্। আমি একটা জিনিসই বুঝলাম না, মল্ট যা কি-না গমের মতই একটা দানা এবং সাধারণত বিয়ার তৈরীতে ব্যবহৃত হয়, এটা দিয়ে তৈরী পানীয় আবার পরিবারের কি পুষ্টি যোগাবে!!!

যাই হোক, এর পরে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রক সংস্থা – অ্যাডভারটাইজিং স্ট্যান্ডার্ড এজেন্সি (এএসএ) সেদেশে স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ব্যাপারে ‘প্রমাণিত নয়’ এমন দাবি করায় হরলিকসের বিজ্ঞাপনে প্রচার বন্ধ করেছে। আজকেও টেলিভিশনে দেখলাম যে আমাদের দেশে ঐ স্লোগান নিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে এবং বিজ্ঞাপনেই দেখাচ্ছে একই স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের উপর গবেষণা করে না-কি ঐ ফল পাওয়া গিয়েছে। তাহলে কি হরলিকস্ ইয়াবা’র মতই একটা ড্রাগ! যেটা তৈরী কারা হয়েছে আমাদের বাচ্চাদের মোটা তাজা করার জন্য!!

মোটা তাজার কথা বলতে গিয়ে মনে পড়ে গেলো যে আমাদের গ্রামে বেশ কয়েকটি Beef Fattening (গরু মোটাতাজা করণ) প্রকল্প রয়েছে। সেখানে ছয় থেকে সাত মাস বয়সের বাচ্চা গরু কেনা হয় এবং এক থেকে দেড় বছর ধরে যত্ন নেয়া হয়, ভালো ভালো খাবার দেয়া হয় এবং খাবারে মেশানো হয় ইউরিয়া সার। যারা ইউরিয়া সার সম্পর্কে জানেননা, তাদের একটু সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেই। এটি একটি খুব শক্তিশালী সার। আমি যতদুর জানি, মাটিতে এই সারের প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ/ফসল দ্রুত বেড়ে উঠে আর তাই এই সার ব্যপকহারে এই উপমহাদেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। একটা বাঁধাকপি বা একটা টমেটো গাছের জীবনে ৩/৪টা ইউরিয়া সারের দানাই যথেষ্ট। তো ঐ গরু মোটাতাজা করণ প্রকল্পের খাবারে একটি গরুকে সপ্তাহে ২টি দানা খাওয়ানো হয়, এবং সেটাই না-কি ভীষণ কাজ করে গরুর বেড়ে এবং শক্তিশালী হয়ে ওঠায়!

উপরের বিশ্লেষণটি দেবার কারণ এই যে, যদি হরলিকস্ খাইয়েই বাচ্চাকে লম্বা, কঠিন এবং ধুর্ত করতে হবে, তাহলে এত টাকা দিয়ে হরলিকস কেনার দরকার কি, ইউরিয়া সার খাওয়াই।

আমাদের বিজ্ঞাপণে কি দেখায় আর কি বলে, ৯৯% মানুষ লক্ষ্য করেনা। এক সময় বলা হতো, “লেমন ডিউ সাবানে রয়েছে প্রকৃতিক উপাদান অয়েল-অফ-কেট।” যার বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায় Oil-of-Cat, তার মানে লেমন ডিউ সাবানে বিড়ালের চর্বি রয়েছে এবং সেটা প্রাকৃতিক। হাঃ হাঃ হাঃ

যাই হোক, আমরা অনেকে বুঝলেও কিন্তু প্রকাশ করতে পারি না। আমি বুঝেছি, আমার এই লেখার পাঠকেরা বুঝেছে, কিন্তু বলবে কাকে? আমাদের কথা শুনবে কে। এই লেখাও পেছনের পাতায় হারিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতের নতুন পাঠকেরা জানবেও না যে এরকম একটা লেখা ছিলো। আমরা কোনোদিন কিছুই করতে পারবো না এরকম বিষয়গুলি নিয়ে।

তাহলে একটা গল্প বলে শেষ করি। বাসের এক সিটে দুই জন যাত্রী বসে আছেন। একজন এমনি বসে আছেন এবং আরেকজন সিগারেট টানছেন। অপর যাত্রী সিগারেটখোরকে বাসের ভেতরের একটি সতর্কবার্তা লেখা দেখিয়ে দিয়ে বললেন, “ভাই দেখেন না, লেখা আছে, ধূমপান নিষেধ?” সেটা শুনে সিগারেটখোর আরেকটি সতর্কবার্তা লেখা দেখিয়ে দিয়ে বললেন, “আপনার কোনো অভিযোগ থাকলে চালককে বলুন।” সেটা দেখে অপর যাত্রী চালকের কাছে গিয়ে বলছে, “চালক ভাই, আমার পাশের সিটের ঐ ভদ্রলোক ধূমপান করছেন এবং আমার সমস্যা হচ্ছে, আপনি একটু বিষয়টা দেখবেন।” তাই শুনে চালক বাসের ভেতরের আরেকটি সতর্কবার্তা লেখা দেখিয়ে দিয়ে বললেন, “চলন্ত গাড়ীতে চালকের সাথে কথা বলবেন না।”

দি সিটি ব্যাংক – Making No Sense of Money

14 রবিবার সেপ্টে. 2008

Posted by Omi Azad in মন্তব্য

≈ 19 Comments

Tags

ATM, Bank, Business, এটিএম, ব্যবসা, ব্যাংক

দি সিটি ব্যাংকের এটিএম মেশিনঅনেকদিন থেকেই ভাবছিলাম যে এদের সেবা নিয়ে কিছু বলা দরকার। আমি আমার জীবনে অনেক ব্যাংক ব্যবহার করেছি। এই “দি সিটি ব্যাংক” তাদের মধ্যে একজন। বাংলাদেশের প্রথম প্রাইভেট ব্যাংক না-কি এরা। কিন্তু সেবার মান সরকারী ব্যাংকের থেকেও খারাপ। নেই এমন কোনো সেবা নেই এদের কিন্তু হায়! সেবার যদি কোনো মান থাকে।

প্রথমে আসি এদের এসএমএস ব্যাংকিং সেবা নিয়ে। একাউন্ট থাকলে আপনি এসএমএস ব্যাংকিং সেবা নিতে পারবেন, তবে যে মোবাইল নম্বর দিয়ে একবার সেবা নিবেন, সেটা আর পরিবর্তন করতে পারবেন না। আমি আমার মোবাইল নম্বরটি বদলানোর জন্য অন্তত মোট ২০ বার আবেদন করেছি এবং অভিযোগ করেছি। হেড অফিসের আইটি বিভাগ থেকে আমাকে এবং আমার শাখাকে জানানো হয় যে হয়ে গ্যাছে, কিন্তু মোবাইল দিয়ে ম্যাসেজ পাঠালে বলে “You are not authorized to use this services” কিন্তু আগের নম্বর দিয়ে ম্যাসেজ পাঠালে আবার ঠিকই কাজ করে।

এর পরে আসি এদের এটিএম সেবায়। প্রথমে সেবার মান ভালো ছিলো। আমরা যারা পুরাতন একাউন্ট হোল্ডার, তাদের কার্ড খুব দ্রুত দিয়ে দিয়েছিলো এরা। কিন্তু এখন একাউন্ট খোলার পর মাসের পর মাস কার্ডের অপেক্ষায় থাকতে হয়। এই কার্ড এখন ডুমুরের ফুলের মতন।

ঠিক এমনটি হয় এদের কার্ড দিয়ে টাকা তুলতে গেলে। ঢাকা শহরে হাতে গোনা ১০ টার মতন এটিএম মেশিন আছে আর বাংলাদেশে আছে মনে হয় ১৬ টা মেশিন। সেখানে টাকা তুলতে যেতে হবে ব্যাংকিং আওয়ারে। অন্য সময় টাকা না বের হলে অভিযোগ করবেন কোথায়। একবার পিন নম্বর দিয়ে ১০-১৫ মিনিট লাগে লেনদেন সম্পন্ন করতে। বেশীরভাগ সময় টাকা বের হয় না। কিন্তু স্লিপ দিয়ে দেয় যে টাকা দিয়ে দিয়েছে।

আপনার একাউন্ট খোলার দরকার নাই। আপনি একবার এদের একটা শাখায় গিয়ে আধা ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকবেন। দেখবেন যে কত জনের কত সমস্যা। কখনো ইন্টারনেটের লাইন নাই, কখনো মেশিনে বিদ্যুৎ নাই। কার্ড ঢোকনো মাত্র মেশিন বন্ধ হয়ে গ্যাছে। আরও কত কি!

আমার এক বন্ধুর কার্ড মেশিনে আটকা পড়লো। ও একটু তাড়া হুড়ুর মধ্যে ছিলো তাই G4S এর যেই গার্ড দড়জায় পাহারা দিচ্ছিলো, তাকে বলে গেলো যে বিদ্যুৎ এলে আমার কার্ডটা নিয়ে রেখেন। বন্ধু এসে দেখে ডিউটি পরিবর্তন হয়েছে। এবং আর কোনো সময়ই ঐ গার্ডকে পাওয়া গেলো না। ম্যানেজারকে উক্ত বিষয়ে অভিযোগ করলে বলে, “আপনি কার্ডে জন্য অপেক্ষা করতে পারেন নাই?” সেই বন্ধ কার্ড হারিয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করে প্রায় ২ মাস অপেক্ষা করছে, নতুন কার্ড পায়নি।

ওদের মেশিন থেকে টাকা যদি বের না হয়, ওদের কাস্টমার কেয়ারে ফোন করলে বলে পাশের ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার করতে। সেখানে গিয়েও টাকা বের হয়না। আবার ফোন দেয়ার পরে সর্বমোট ৩০ মিনিট অপেক্ষায় থাকার পরে বলে সুইচে সমস্যা ছিলো, এখন দেখেন। এদের কার্ড দিয়ে যদি ডাচ্ বাংলার এটিএম মেশিন ব্যবহার করে টাকা তুলতে হয়, তাহলে এদের সেবা ব্যবহার করবো কোন দুঃখে?

কার্ড শুধু না, চেক দিয়ে টাকা তুলতে গেলে বলে একটু অপেক্ষা করেন, ইন্টারনেট নাই। এই কথা মনেহয় আপনাকে দিনে ১০০ বার শুনতে হবে। আমার ধারণা ওদের আইটি বিভাগ বা* ছিঁড়ে বসে বসে।

সেদিন ওদের এটিএম মেশিনের সামনে গিয়ে দেখি উইন্ডোজের ডেস্কটপ এসে বসে আছে। কোনো কাজ হচ্ছে না। আমি চট্ করে উপরের ছবিটা নিয়ে রাখলাম এবং অনেক্ষণ অপেক্ষা করে চলে এলাম।

আপনারাই বলেন এরকম ব্যাংকে কেউ একাউন্ট রাখবে?

সিটিসেলের গ্রাহক নেই সেটা দেখানোর কি দরকার ছিলো!

08 শুক্রবার আগস্ট 2008

Posted by Omi Azad in টেলিকম, মন্তব্য

≈ 21 Comments

Tags

Citycell, Mobile, মোবাইল অপারেটর, সিটিসেল

সিটিসেল বিজ্ঞাপন

সিটিসেলের এই নতুন বিজ্ঞাপণটা আমরা বেশ কিছুদিন থেকেই দেখছি। আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম যে ওরা বিজ্ঞাপণের মধ্যে নিজেদের অজান্তে একটা সত্য দেখিয়ে ফেলেছে। আর সেটা হলো, ওদের গ্রাহক নাই।

বিজ্ঞাপনে দেখা যায় দু’টো স্কুল ফেরা ছেলে খেলনা মোবাইল দিয়ে কথা বলে এবং এর মধ্যে একটি ছেলে সিটিসেলের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে যায় এবং সেবাদাতা ভদ্রলোক তাকে মোবাইল দেখায়; ভালো থিম। কিন্তু এই থিমের মধ্যেই সেই সত্যটি লুকিয়ে আছে। ছেলেটি ঐ গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে ঢোকা থেকে বের হয়ে যাওয়া পর্যন্ত ঐ কেন্দ্রে ৩য় কোনো প্রাণী নেই। অর্থাৎ তাদের কেন্দ্রের লোকেরা সারাদিন মাছি মারছে, যেহেতু তাদের কোনো কাজ নেই এবং যে বা যারা আসছে তাদেরকেই সময় দিচ্ছে।

উপরে যেই ছবিটি আমি দিয়েছি, সেটা ওদের ওয়েব সাইট থেকে নেয়া। সেখানেও একটা ভুল আছে। ওরা লিখেছে “No customer’s need is too small for us…” না আমরা কেউই ভুল পড়ছি না। আমরা যখন মোবাই/ইন্টারনেট ইত্যাদির গ্রাহক হই, তখন কিন্তু আমরা ক্রেতা না, গ্রাহক। তাহলে Customer এবং Subscriber দু’টো শব্দের মধ্যে পার্থক্য আছে। সেটা কি তারা বুঝতে পারেনি! আমার ভুল হতে পারে, তবে কথাটা এরকম হতে পারতো, “No subscriber’s need is too small for us… Even those who are not our subscriber yet.” এছাড়াও আরেকটা খটকা লাগছে এই TOO শব্দটা। No customer’s need is too small for us, which means some needs are small for them. অনেক শিক্ষিত লোক নিয়ে এরা কাজ করে, কিন্তু এরকম কথা লিখে কেনো যেটার অর্থ বিপরীত হয়।

এর আগেও একটা বিজ্ঞাপণে বলছিলো পাহাড়ের গায়ের সব কথা না-কি বসে বসে শুনবে। তাহলে কি আর কেউ তাদের সেবা নিতে চাইবে? কে যেচে ব্যক্তিগত কথা আরকজনকে শুনতে দিতে চাইবে বলুন।

মোদ্যা কথা সিটিসেলের অবস্থা ১৯৯৫ সালে যা ছিলো আজও তাই আছে। আর এর জন্য দায়ী হচ্ছে তাদের ওভার স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট, যারা মানুষকে মানুষ মনে করেনা। ওদের ধারণা মানুষ তাদের সেবা নেবেই! আরে ভাই, তোর এমন কি আহামরি সুবিধা আছে যে তোর সেবা মানুষ গ্রহণ করবেই? আমি নিজে অনেকদিন ওদের গ্রাহক ছিলাম, শেষে কিছু ফালতু সমস্যার জন্য সেবা বাদ দিয়ে দিলাম। বিদেশে এসএমএস পাঠালে সেটা যায় ইউকে’র নম্বর হয়ে আর তার ভেতরে আমার নম্বর দেয়া থাকে। এমনকি বেশিরভাগ বিদেশী অপারেটর থেকেই কোনো এসএমএস সিটিসেলে আসেনা। ইন্টারন্যাশনাল কল ঠিকমতো আসে না। আমি নিজে স্কাইপি দিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি। তারপরে ফেলে দিয়ে অন্য অপারেটরে সুইচ করেছি এবং ভালো আছি।

এখন বিষয় হলো ওদের এই উপলব্ধিটা হওয়া উচিৎ যে ১৭ বছর ব্যবসা করেও যাদের গ্রাহকের পরিমান যাদের ব্যবসার ২য় বছর চলছে তাদের থেকে কম হয়, তাহলে তাদের সেবা কি নেয়া ঠিক হবে? যে কোম্পানী ঐ ১৭ বছরে ৪ বার নাম পরিবর্তন করেছে (সূত্র) এই কোম্পানিতো ভাই যে-কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

← Older posts
Newer posts →

Categories

  • অ্যানড্রোয়েড
  • আইটি বিশ্ব
  • ই-কমার্স
  • উদ্ভট
  • ওপেন সোর্স
  • গল্প টল্প
  • গান বাজনা
  • গুগল্
  • গ্যাজেট
  • টিউটোরিয়াল
  • টেলিকম
  • বাংলা কম্পিউটিং
  • বাংলাদেশ
  • ব্যক্তিগত
  • মন্তব্য
  • মাইক্রোসফট
  • রিভিউ
  • সফটওয়্যার রিভিউ

Recent Posts

  • ডাক্তার শায়লা শামিম ও মনোয়ারা হাসপাতালের অভিজ্ঞতা
  • ই-কমার্স – বাংলাদেশ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ!
  • Install Google Apps and Play Store on Nokia X, X+ and XL
  • মাইক্রোসফটের কাছে পাওয়া শেষ চেক্!
  • Root Walton Walpad 8b, Walpad 8w, Walpad 8 and Walpad 7

Proudly powered by WordPress Theme: Chateau by Ignacio Ricci.