পত্রপত্রিকায় দেখছি সরকার যানজোট কমানোর জন্য অফিস আদালত এবং স্কুল কলেজের সময়সূচী পরিবর্তনের বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করছেন। আমার কাছে বিষয়টা অযৌক্তিক মনে হচ্ছে। এভাবে যানজোট কমবে কি-না, তবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে বেশী।
আমার কাছে মনে হয় বেসরকারী স্কুলগুলি ঢাকা শহরে যানজোট সৃষ্টি করার পেছনে একটা বিশাল ভুমিকা পালন করছে। বিশেষ করে ইংরেজী মাধ্যমের স্কুলগুলি। ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলিতে অপেক্ষাকৃত উচ্চবিত্তদের সন্তানেরা লেখাপড়া করে। লেখাপড়া করুক এতে সমস্যা নাই, বাবা-মা অর্থ উপার্জন করেই সন্তানদের ভালো ভবিষ্যত তৈরী করার জন্য, ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করে যদি ভবিষ্যত উজ্জ্বল হয় তাহলে সমস্যা কি।
কিন্তু ঝামেলা অন্যখানে। যারা ঢাকা শহরে ইংরেজি মাধ্যমে সন্তানদের লেখাপড়া করান, তারা অন্য অবিভাবকদের যার যার টাকার পরিমান দেখানোর চেষ্টায় ব্যস্ত থাকেন। তার একটি পন্থা হলো দামী গাড়ী প্রদর্শন। কে কি গাড়ী চালান, সেটা দেখানোর কিন্তু তেমন কোনো উপায় নেই। তাই তারা দামী গাড়ী নিয়ে স্কুলে সন্তানদের রাখতে এবং নিতে যান। বিশাল এক হামার গাড়ী নিয়ে নার্সারি শ্রেণীতে পড়া ৫ বছর বয়সের সন্তানকে স্কুলে দিতে বা নিতে যাচ্ছেন অবিভাবকেরা। অনেকে আবার দিতে যান এক গাড়ীতে আবার নিতে যান অন্যটিতে।
একটা স্কুলে যদি ৫০০ ছাত্র/ছাত্রী থাকে, তাহলে তার সামনে এবং আশ পাশের রাস্তায় ৫০০টি গাড়ী বিরাজ করে। আবার ধরা যাক সকালের শিফটের শেষ আর দিনের শিফট শুরু, তাহলে ৫০০+৫০০=১০০০ গাড়ী ঐ এলাকায় বিরাজ করছে। আমার কথা পর্যবেক্ষণ করতে চাইলে ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরার ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল পাড়ায় স্কুল শুরু/শেষ হবার সময় একবার ঘুরে আসুন।
কিন্তু এই স্কুলগুলিতে যদি গাড়ী নিষিদ্ধ করে দেয়া হয় আর তার পরিবর্তে স্কুল বাস চালু করা হয়, তাহলেই কিন্তু ল্যাটা চুকে যায়। বাধ্যতামূলক ছাত্র/ছাত্রী/শিক্ষক/শিক্ষিকাদের স্কুলের বাসে ভ্রমণ করতে হবে। স্কুল বাসের জন্য যদি কিছু টাকা বেশীও দিতে হয় তা কিন্তু জ্যামে বসে গাড়ীর তেল/গ্যাস পুড়ার খরচের চাইতে অনেক কম হবে।
কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনে করলে আশাকরি জ্বালানি সংরক্ষণ সহ ৩০-৪০% যানজোট নিরাসন করা সম্ভব হবে। শুধু স্কুলেই না, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যায়গুলিতেও একই আইন কার্যকর করা উচিৎ।
আমাদের দেশে এখন ছয়টি মোবাইল অপারেটর সফলভাবে কার্যক্রকম চালিয়ে যাচ্ছে। প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিঃ, গ্রামীণফোন লিঃ, টিএম ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ লিঃ, ওরাসকম টেলিকম বাংলাদেশ লিঃ, টেলিটক বাংলাদেশ লিঃ এবং ওয়ারিদ টেলিকম ইন্টারন্যাশনাল লিঃ। এদের মধ্যে কারও কারও দেশব্যাপি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কাভারেজ রয়েছে আবার এখনো কারও কারও নেটওয়ার্ক দুর্বল। আবার এখনো এমন দেখা যায় যে অনেক স্থানে কোনো কোম্পানীর নেটওয়ার্ক কাভারেজ আছে আবার অনেক স্থানে নেই। শুধু দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেই না, খোদ ঢাকার অনেক বহুতল ভবনে ঢুকলে দেখা যায় এই মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকরা নেটওয়ার্ক পাচ্ছে আবার ঐ অপারেটরের গ্রাহকরা নেটওয়ার্ক পাচ্ছেন না। কারণ অনেক অপারেটররা ঐ ভবনগুলিতে ইনডোর মাইক্রো বিটিএস লাগিয়ে গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছে।
এখন যদি আমাদের দেশে আভ্যন্তরীণ রোমিং সুবিধা থাকতো, তাহলে আমি দিব্বি ঐ তিনটি অপারেটরের একটিকে নির্বাচন করে নিয়ে আমার মোবাইল ব্যবহার করতে পারতাম সেই সাময়িক সময়ের জন্য। অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য আমাক হয়তো ইনকামিং বা আউডগোইং উভয় ক্ষেত্রে মিনিট প্রতি অতিরিক্ত ০.০৫ টাকা বিল দিতে হতো। আর আমি যেই অপারেটরকে নির্বাচন করেছি রোমিং কারার জন্য, এই ০.০৫ টাকা ঐ অপারেটর পেতো।
শাকিলা জাফর আর তপন চৌধুরী কে নিয়ে গানের অনুরোধের আসর চলছে, বিজ্ঞাপণ বিরতির পরে অনুষ্ঠানের ফিরে আসার সাথে সাথে পরিচালক উপস্থাপিকার চুলের নীচে লুকানো এয়ারফোনের মধ্যে ৬ বছর পুর্তির ঘোষণা দেবার নির্দেশ দিলেন। ঘোষণা শেষ হলো, শাকিলা জাফর আর তপন চৌধুরী Happy Birth Day গান করলেন এবং তার পরে একটা এনিমেশন এলো ৬ বছর পুর্তি উপলক্ষ্যে।
একটা কোম্পানি কত বাটপার হতে পারে তা সিটিসেলকে দেখলে বোঝা যায়। এই সপ্তাহে ওরা একটা নতুন হ্যান্ডসেট বাজারে ছেড়েছে যার নাম স্যামসং এবসোলিউট। সেটটির বর্তমান মূল্য ১০,৪৫০ টাকা আর ব্লুটুথ হেডফোন সহ এর দাম ১১,৮৫০ টাকা। ফকির মিসকিন ছাড়া ভালো মানুষের কথাও মনেহয় এরা এখন নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে! কারণ কিছুদিন আগে আমার বৌকে সিটিসেলের ZTE C332 সেটটা দিতে চাইলে আমাকে বলে, ইবানের স্কুলের সামনে এক মহিলা পুঁথির মালা বিক্রি করতে আসে, সে এই সেট চালায় আমি কিভাবে এটা চালাবো।” এই তো সিটিসেলের অবস্থা!
এরপরে লক্ষ্য করলাম এক আজিব জিনিস সেটটার হেডফোনের কন্ট্রোলে মিরর ইমেজে Samsung লেখা এবং হেডফোনের জ্যাকেও Made in China মিরর ইমেজে লেখা। নিজের চোখে দেখার জন্য এখানে ক্লিক্ করুন।