সাগরের করাল গ্রাসে পড়েছে কক্সবাজার সৈকত সংলগ্ন কলাতলী গ্রাম। এ বর্ষায় সাগর এমন আগ্রাসী রূপ নিয়েছে যে, সাগরে গ্রামের ১৫টি ঘর বিলীন হয়ে গেছে। মারাত্মক ভাঙনের মুখে পড়েছে কক্সবাজারের সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগস্থল। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে ওই এলাকার বেশ কয়েকটি হোটেল, মোটেল, হ্যাচারি ও আবাসিক মানুষের ঘরবাড়ি। পরিত্যক্ত মেরিন ড্রাইভ সড়কের ভাঙন এলাকা দিয়ে এখন সাগরের জোয়ারের পানি ঢুকে প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে কলাতলী গ্রামের বিরাট এলাকা। কলাতলী সমাজ পরিচালনা কমিটি সমুদ্রের করালগ্রাস থেকে গ্রাম রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের যোগাযোগ উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন দফতরে আবেদন জানিয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ পয়েন্টে ভাঙন দেখতে গতকাল শনিবার বাংলাদেশ টিঅ্যান্ডটি বোর্ডের একটি বিশেষজ্ঞ দল কক্সবাজার এসেছেলো। টিমের সদস্যরা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জরুরি বৈঠক করেন।

ঘুরে দেখা গেছে, প্রবল বর্ষণের সাথে সাগরের বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে কলাতলী সৈকতে। একই সাথে ওপর থেকে বর্ষণের পানিও গড়িয়ে পড়ছে। এতে এক এক করে ভেঙে যাচ্ছে এলাকার বিভিন্ন অংশ। বিশেষ করে পরিত্যক্ত মেরিন ড্রাইভের দেড় কিলোমিটার এলাকার ভাঙন দিয়ে সমুদ্রের জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে এলাকার মানুষের বাড়িঘর। এ ছাড়া পাহাড় থেকে বর্ষণের পানি নেমে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হচ্ছে। বর্তমানে ভাঙনের মুখে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে আছে আবাসিক হোটেল সি-ক্রাউন। হোটেলের উদ্যোগে জিওটেক্সটাইলের বালির বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। কলাতলী সমুদ্র সৈকতটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বলে এলাকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কলাতলী গ্রামের পূর্ব পাশে বিশাল পাহাড়ের সাথে রয়েছে টেলিভিশন উপকেন্দ্র ও টিঅ্যান্ডটি টাওয়ার, গ্রাম সংলগ্ন উত্তর পাশে হোটেল মোটেল জোন, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের সংযোগ কেন্দ্র, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সৈকত বালি আহরণ কেন্দ্র, গ্রামের দক্ষিণে হ্যাচারি জোন, পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর।

সাগরের অব্যাহত ভাঙনের ফলে কক্সবাজার সাব মেরিন ক্যাবলের সংযোগস্থল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ২০ হাজার কিমি দৈর্ঘ্য সাবমেরিন ক্যাবলের কক্সবাজার সংযোগ পয়েন্টের সুড়ঙ্গটি এখানেই স্থাপন করা হয়েছে। গভীর সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে আসা ক্যাবলের সংযোগ কলাতলী সৈকতের এ সুড়ঙ্গ থেকে নেয়া হয়েছে সাড়ে ৪ কিমি দূরে স্থাপিত ঝিলংজা সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনে।

ক্সবাজারের এই স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংযোগ দেয়া হয়েছে। সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে সুড়ঙ্গের বালি সরে গিয়ে ক্যাবল আলগা হয়ে গেছে। আর এই ক্যাবলে রয়েছে হাই ভোল্টেজ বিদ্যুৎ। এ কারণে এটি আরো বেশি বিপজ্জনক রূপ দিয়েছে। তবে পরিদর্শক টিমের সদস্যরা এটিকে খুব বেশি বিপদ বলে মানতে নারাজ। তাদের মতে, বালি সরে গেলেও ভয়ের কিছু নেই। কারণ সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই ক্যাবল খুবই মজবুত ও টেকসই! বাংলাদেশ টিএন্ডটি বোর্ডের বিশেষজ্ঞ টিম গতকাল কলাতলীতে স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরে জেলা কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে এটি রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।