বহুদিন ধরেই আলী ভাই আমাদের দাওয়াত দিয়ে আসছিলেন যাতে একবার গিয়ে তাদের ছোট্ট পল্লীটি ঘুরে দেখি। আমার নিজেরও খুব ইচ্ছা ছিলো গিয়ে শিশুদের জীবনধারা দেখে আসার; কিন্তু কাজের ফাঁকে সময় করে উঠতে পারছিলাম না।
গত বুধবারে ইমরান ভাই আর আমি প্ল্যান করে ফেললাম যে বৃহষ্পতিবারে দুপুরের মধ্যে সমস্থ মিটিং শেষ করে ওখানে বেড়াতে যাবো।
ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বগুড়ার এস ও ওস শিশু পল্লী’র সামনে দিয়ে যাবার সময় ওদেরকে জানার একটা আগ্রহ কাজ করতো; এত সুন্দর পরিপাটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যের নেপথ্যে আসলে কি থাকতে পারে!
প্রথম যেদিন আলী ভাইয়ের সাথে দেখা হয়, সেদিন তিনি ধারনা দেন তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে, মা-বাবা হারা, বা শুধু মা হারা, অথবা শুধু বাবা হারা শিশুদের একটি পরিবারের মধ্যে রেখে, শিশুদের ভবিষ্যত গড়ে তোলে এস ও ওস শিশু পল্লী বা SOS Children’s Village. অনেকে এস ও ওস শিশু পল্লীকে এতিমখানা ভেবে ভুল করতে পারেন, আমি শুরুতেই বলে রাখি যে, এস ও ওস শিশু পল্লী আর দশটা গতানুগতির এতিমখানা না।
ভেতরে ঢুকেই আমি একটু হতভম্ব হয়ে গেলাম এর বিশালত্ব দেখে। আমরা গিয়েছিলাম ঢাকাস্থ শ্যামলী শাখায়। খেলার মাঠ, মসজিদ, বাচ্চাদের খেলার আলাদা আলাদা জায়গা, সব কিছু এত গোছানো যে চোখে না দেখলে বিশ্বাস হয়না। আমাদের শহুরে বাচ্চারাই এতকিছু কল্পনাই করতে পারেনা।
একটি পল্লীর ভেতরে তারা কয়েকটি বাড়ি নিয়ে তারা আলাদা আলাদা গ্রাম তৈরী করেছে। প্রতিটি বাড়ী ডুপ্লেক্স, যার উপর তলায় শিশুরা থাকে এবং নীচে থাকে তাদের মা। একটি বাড়িতে সর্বোচ্চ ১২ জন শিশু নিয়ে তৈরী পরিবার। একটি পরিবারে মা থাকেন, যিনি বাচ্চাদের দেখাশোনা এবং পরিচর্যা করেন, আর মা’কে সাহায্য করেন খালাম্মা। ছোট্ট সোনামনির যত্নের দরকার হলে বড় ভাই-বোনেরারও পিছিয়ে থাকেনা, যেমনটি হয় একটি স্বাভাবিক পরিবারে। অসাধারণ পারিবারিক কনসেপ্ট নিয়ে সেই ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করে যাচ্ছে এই সংস্থাটি।
একটি সাধারণ পরিবারের শিশু যেভাবে তার পরিবারে বেড়ে ওঠে এই পল্লীতেও শিশুরা ঠিক সেভাবেই বেড়ে ওঠে। লেখাপড়া, খেলাধুলা, বিনোদন, কোনোকিছুতেই ফাঁকি দেবার কোনো সুযোগ নেই। আর দশটা মানুষের মতন এই শিশুরা বড় হয়, নিজেদের পায়ে দাঁড়ায় এবং জীবন সংগ্রামে যোগ দিতে চলে যায় পল্লী ছেড়ে। ইচ্ছে হলে বেড়াতে আসতে পারে নিজের বেড়ে ওঠা বাড়িতে, সাথে নিয়ে আসতে পারে জীবনসঙ্গীকে 🙂
ঘুরতে ঘুরতে আমরা একটি বাড়িতে ঢুকলাম তাদের অবস্থা দেখার জন্য, তাদেরকে জানার জন্য। কথা হলো মা আর বড় মেয়ের সাথে; মেয়ে সদ্য লালমাটিয়া কলেজে ভর্তি হয়েছে। মা মেয়ে মিলে অনেক পদের নাশ্তা বানিয়ে খাওয়ালো আমাদের। মেয়ের চাঞ্চল্য ও আধুনিকতা দেখে বোঝাই যায় এই মেয়ে বহমান সমাজের স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে নিতে পারবে। ১৯৭২ সালে তৈরী হলেও বাড়ীগুলির প্ল্যানিং সত্যই প্রশংসনীয়। অসম্ভব গোছানো, একসময় মনে হচ্ছিলো, এত গোছানো কেন!
সত্যি বলতে এটা ছিলো এক স্বর্গীয় অভিজ্ঞতা। আমরা যারা যান্ত্রিক জীবনের ঘাতের মধ্যে আটকে পড়েছি, তাদের আমি এরকম পল্লী একবার ঘুরে আসার পরামর্শ দেবো। আশাকরি খারাপ লাগবেনা।

Ebne Sayeed Imtiaz said:
thanks for sharing..pri shamoly sos er samne dia jai..ichha kore kintu dhuka hoi na…valo laglo..vitor ta dekhar ichha ta aro probol holo…accha omi bhai puding ta test kemon silo..:)
Rakibul Karim said:
সুন্দর
Rahik Tamim said:
valo laglo onek.
Irfan Ahmed Rizvi said:
nice posts! willing to go there!
Mohammad Ali said:
অমি ভাই, আপনার মূল্যবান লেখার জন্য ধন্যবাদ সবচেয়ে বেশী ধন্যবাদ আমাদের কার্যক্রমকে আত্নস্ত করার জন্য। আপনাদের শুভকামনা আমাদেরকে নিশ্চয়ই অনুপ্রাণিত করবে।.
Please make small correction in Hyper Link. Supose for Dhaka….
http://www.sos-bangladesh.org/dhaka.aspx (will work).
http://sos-bangladesh.org/dhaka.aspx (not working).
Omi Azad said:
Ali ভাই
All the URLs are working perfectly from my end. Can you please check from another network? It could be your DNS issue…
Mohammad Ali said:
Omi Azad ভাই, Thanks, it’s working in other network. It’s only making trouble in our domain…
Helly Tanjil said:
ভাল লাগলো এরকম ফলপ্রসূ কাজ দেখে……… 🙂