Reality Bites

~ by Omi Azad

  • Home
  • About Me!
  • My Movies
  • English

Category Archives: মন্তব্য

Personal Comments

doPDF contains a VIRUS?

04 রবিবার মে 2008

Posted by Omi Azad in মন্তব্য, সফটওয়্যার রিভিউ

≈ 5 Comments

doPDF and Bitdefender

I’m using doPDF from a long time now and I was thinking to recommend it to my blog readers by writing a blog on it.

It’s a good software for creating PDF files without any hassle and from any application of Windows that ables to print. Some days ago I downloaded the new version 6 from their site. Now when I went to install this, just after executing the installer, my Bitdefender alerted me saying a virus on my computer is blocked.

Well I tried the same on 2 of my computers and the same thing is happening. As soon as I execute the installer, Bitdefender says there was some virus and that has been blocked.

Now I’m thinking if I don’t have Bitdefender installed, this doPDF would pissed me off. How many people are being attacked by this free software?

Well think again before you use the (possibly) killer application.

ফ্যান্টাসি কিংডমে জীবনে প্রথম – ওরা যেভাবে আমাদের ছিল দিয়ে দিলো

19 শনিবার এপ্রিল 2008

Posted by Omi Azad in মন্তব্য

≈ 17 Comments

Tags

Fantasy, Kingdom, Water, ওয়াটার, কিংডম, ফ্যান্টাসি

সকালে ঘুমের মধ্যে বৌ এসে মোবাইল হাতে দিয়ে বললো, “হাসিন ভাই’র ফোন, বলে জরুরী।” আমি মোবাইল নিতেই হাসিন বললো, “চলো একসাথে ফ্যান্টাসি কিংডমে যাই, মজা হবে।” আমি রাজি হয়ে গেলাম এবং ফ্রেশ হয়ে নাশ্তা করে দুই বন্ধু মিলে রওনা হলাম ফ্যান্টাসি কিংডমের উদ্দেশ্যে।

আমি এর আগে কখনো ফ্যান্টাসি কিংডমে যাই নাই। আমাদের উদ্দেশ্য হলো ওয়াটার কিংডমে যাওয়া। ফ্যান্টাসি কিংডমের গেটে পৌছে টিকেট কাউন্টারে মেজাজ গরম হয়ে গেলো। ওয়াটার কিংডমে যেতে হলে আমাদের ফ্যান্টাসি কিংডমের টিকেট করতে হবে। কিন্তু কেনো!!! কাউন্টারের মেয়েটি অতি বিনয়ের সাথে জানালো আমরা যদি ফ্যান্টাসি কিংডমে না প্রবেশ করি, তাহলে ওয়াটার কিংডম বা হ্যারিটেজ ওয়ার্ল্ডে যাবো কেমন করে। অগত্যা ডবল টিকেট কিনতে হলো।

এখানে একটা খবর না দিলেই নয়, রেডিওতে এবং পত্রিকায় কিছুদিন থেকে ফ্যান্টাসি কিংডমের নববর্ষ অফারের বিজ্ঞাপণ দিচ্ছে। ১০০ টাকায় প্রবেশ করলে সব রাইড ফ্রি। কিন্তু কাউন্টারের মেয়েটি এই ভুলটিও ভেঙ্গে দিলো। আমাদেরকে ১০০ টাকায় সব রাইড দেয়া হবে ঠিকই, কিন্তু আমাদের প্রবেশের মূল্য আলাদা দিতে হবে। আমি বেশ বিরক্ত হলাম।

আজ শনিবার হওয়ার সত্ত্বেও কোনো মানুষ নাই। প্রায় ফাঁকা পরিবেশ। ফ্যান্টাসি কিংডমের সীমানা পার হয়ে ঢুকলাম ওয়াটার কিংডমে। সেখানকার প্রথম বিরক্তিকর বিষয়টি হলো ওদের ফ্লোর সিমেন্টের এবং রোদের কারণে চরম গরম হয়ে আছে এবং একটু হাঁটতেই পায়ে ফোসা পড়ে যাবার উপক্রম। পানিতে লাফালাফি করার পরে আমরা গেলাম রাইডগুলিতে চড়তে। হায় আল্লাহ্! রাইডে ওঠার সিড়ি লোহার পাটাতন, ওটা দিয়ে উঠতে পা শিক কাবাব হয়ে যাবার উপক্রম। হেঁটে হেঁটে ৫০ ফিট উপরে উঠলাম টিউব নিয়ে। স্লিপার টানেল দিয়ে নামতে বেশ মজা হলো, কিন্তু নীচে এসে যেই হাউজে পড়লাম, সেটার পানিও গরম। উল্লেখ্য যে এরা কখনো পানি বদল করে না, পানির জীবাণু (যার মধ্যে অনেকের মূত্র মিশ্রিত আছে বলে আমার মনে হয়) মারার জন্য ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করে এবং সেটারও উগ্র গন্ধ।

একটা হাউজ আছে যেখানে কৃত্তিম উপায়ে সমুদ্রের মতন ঢেউ তৈরী করা হয়, সেটা চালু হচ্ছে না। ১টার আগে না-কি চালু হয় না। ঐ হাউজে প্রেমিক প্রেমিকারা গলা পর্যন্ত ডুবে হাতে দিয়ে সেক্সের একটা অংশ সেরে নিচ্ছে, তাই ওদের বিরক্ত না করে অগত্যা অন্যখানে সময় অপচয় করলাম। এরই মধ্যে মাইকে বলা হলো সেই ঢেউ কিছুক্ষণের মধ্যে চালু হতে যাচ্ছে। আমরা সেখানে গিয়ে হাজির হলাম, বড় সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজিয়ে সমূদ্র তৈরী করা হচ্ছে, ভালোই, সেক্সি মেয়েরা নাচছে, আমরা ভাসছি।

কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের অবাক করা দিয়ে ঢেউ বন্ধ হয়ে গেলো এবং পাশে ঝর্ণা চালু হলো। আমি বুঝলাম এদের সিস্টেম হচ্ছে ওরা যেখানে চাইবে, পাবলিক সেখানে গেজাবে। ঝর্ণার পাশে একটা রকিং জোন আছে যেখানে শিরশির করে পানি পড়ছে আর জোরে গান বাজছে। সেখানে ছেলেরা এবং সেক্সি মেয়েরা নাচছে। সুন্দর লাগছে, কিন্তু আমরা আগ্রহ পেলাম না। চললাম খাবারের সন্ধানে।

সে-কি! ভারী খাবারের মাত্র ২টা ম্যানু এবং চড়া দাম। খেলে খাবেন না খেলে জাহান্নামে যান। হালকা খাবারের ম্যানু থেকে নান আর গ্রিল চিকেন খেলাম, একই খাওয়া ঢাকায় যে-কোনো স্থানে খেলা ৩০০ টাকা বিল হতো ম্যাক্সিমাম, সেখানে প্রায় ৭০০ টাকা দিয়ে খেলাম সেগুলি। কিছু করার নেই, আপনি বাহির থেকে খাবার আনতে পারবেন না। এমন কি সিগারেডও আনতে পারবেন না (যদিও অনেকে চুরি করে এনে খাচ্ছেন)।

খাবার শেষে একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার রাইডগুলির দিকে ফিরে গেলাম, সে-কি! এখন তো পানি সিদ্ধ হওয়ার মতন গরম। খুবই বাজে অবস্থা।

এখানে ঢোকার আগে অবশ্য হাসিন একবার বলছিলো নন্দনে যেতে, আমি যেহেতু এখানে আগে আসি নাই, তাই এখানে এলাম। ভীষণ বাজে পরিবেশে এক গাদা টাকা নষ্ট করে এলাম। এরা বিজ্ঞাপণে বলে এক কথা, আর বাস্তবে আরেক! এখানে আসার আগে অবশ্যই দুই বার ভাববেন এবং একগাদা টাকা বেশী নিয়ে আসবেন।

কলসেন্টারের নামে কেউ যেন প্রতারিত না হন?

13 রবিবার এপ্রিল 2008

Posted by Omi Azad in টেলিকম, বাংলাদেশ, মন্তব্য

≈ 10 Comments

Tags

Bangladesh, Call, Center, India, UK, USA, আমেরিকা, ইন্ডিয়া, কল, বাংলাদেশ, ব্যবসা, ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সেন্টার

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে মাঝেমধ্যে যেমন হইহই পড়ে যায়, একইভাবে প্রযুক্তি খাতেও মাঝেমধ্যে রইরই পড়ে যায়। আর সেই সুযোগে ঘোলা পানিতে কেউ কেউ আমাদের অসহায় মানুষগুলোকে ঠকিয়ে প্রচুর টাকা বানিয়ে সটকে পড়েন। বর্তমান সময়ে আবার তেমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকার বাংলাদেশে কলসেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য লাইসেন্স প্রদান করতে যাচ্ছে; এবং বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হচ্ছে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ শত কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে সক্ষম হবে। এমনও বলা হচ্ছে, এটি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে ছাড়িয়ে যাবে। এ ধরনের কথা প্রচারিত হওয়ার পর, অনেকেই ই-মেইল ও ফোন করে জানতে চেয়েছেন, কীভাবে তাঁরা এই শত কোটি ডলারের ভাগিদার হতে পারেন। তাঁদের জন্য এই কলসেন্টার ব্যবসার কিছু দিক তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির ইতিহাস বেশি দিনের ইতিহাস নয়। আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে কম্পিউটার জনপ্রিয় হতে শুরু করে। আর নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকেই দেশে একটি হুলস্থুল পড়ে যায় এই বলে যে, বাংলাদেশ ডাটা এন্ট্রি কাজ করে কোটি কোটি ডলার উপার্জন করতে পারে। সেই হইহই মিছিলে আমরা অনেকেই যোগ দিয়েছিলাম। দীর্ঘ এক দশক ধরে সেটা চলল। তখন বলা হলো, দেশে সাবমেরিন কেব্ল নেই। তাই এই ব্যবসাটি ঠিকমতো হচ্ছে না। অনেকে বললেন, যদি ভিস্যাট উন্নুক্ত করে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা সেই ব্যবসা করতে পারব। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে ভিস্যাট উন্নুক্ত করে দেওয়া হলো। কিন্তু আমাদের সেই ডাটা এন্ট্রি ব্যবসার কিছুই হলো না। অনেকেই ভিওআইপির (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট) ব্যবসা শুরু করে দিলাম। দেশ কোটি কোটি ডলার উপার্জনের বদলে হাজার কোটি ডলার হারিয়ে ফেলল।

ডাটা এন্ট্রির স্বপ্ন শেষ হওয়ার পর শুরু হলো মেডিকেল ট্রান্সক্রিপ্টের ব্যবসা। আমেরিকার ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র ক্যাসেট থেকে শুনে শুনে কম্পিউটারে এন্ট্রি করার কাজ হলো এটি। আমরা সেটাও করতে পারিনি। কিন্তু এই ডাটা এন্ট্রির কাজে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে, এই কথা বলে হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলো। বেশ কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি পার্টনার নিয়ে সেই লুটপাটে অংশ নিল।

তারপর এই শতকের শুরুতে শুরু হলো সফটওয়্যার রপ্তানির ব্যবসা। কিছু কিছু লোক বাজারে প্রচার করতে শুরু করল, বাংলাদেশ সফটওয়্যার রপ্তানি করে ভারতের মতো শত কোটি ডলার উপার্জন করতে পারে। পুরো জাতি তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ল। কয়েকটি ভারতীয় প্রশিক্ষন কেন্দ্র বাংলাদেশে এসে পাড়ায় পাড়ায় দোকান খুলে বসল। তারপর আমাদের হাজার হাজার মানুষকে ঠকিয়ে তারা কোটি কোটি টাকা নিয়ে এই দেশ থেকে চলে গেছে।
এখন কলসেন্টারের নামে আবারও শত কোটি ডলারের স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে দেশের মানুষকে। কয়েকটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে ঘোরাঘুরি শুরু করেছে। যাঁরা ভাবছেন কয়েকটি টেলিফোন লাইন আর ইন্টারনেট নিয়ে কিছু স্নার্ট ছেলেমেয়েকে বসিয়ে দিলেই একটি কলসেন্টার করা যাবে, তাঁরা একটি মূর্খ গন্ডির ভেতর বাস করছেন। বর্তমান সময়ের কলসেন্টারকে আর কলসেন্টার বলা হয় না, বলা হয় কনটাক্ট সেন্টার। আর এগুলো এখন হয়ে গেছে আরো পরিশীলিত। এখন আর শুধু কথা বলে কলসেন্টার হয় না, সেখানে যোগ হয়েছে ডাটা, ভিডিও, চ্যাট, পুশ টু টক, কল-ব্যাক, প্রেজেন্স ইত্যাদি। বাংলাদেশে কনটাক্ট সেন্টার ব্যবসার বড় চ্যালেঞ্জগুলো উল্লেখ করছি।

  • প্রথম সমস্যা হলো সময়। আমরা এই ব্যবসায় অনেক দেরিতে নামতে যাচ্ছি। এই ব্যবসায় ভারত, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ইত্যাদি দেশ অনেক দুরে চলে গেছে। ওই সব দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন নতুন করে ব্যবসায় নামতে গেলে প্রচন্ড প্রতিযোগিতায় পড়তে হবে। সেই প্রতিযোগিতায় থেকে কোনো ক্রেতা জোগাড় করা খুবই কঠিন হবে।
  • দ্বিতীয় সমস্যা হলো, রাজনৈতিক। কলসেন্টার হলো একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা। ওখানে সেবা গ্রহণকারীর সমস্যা তখনই সমাধান করে দিতে হবে। কোনো একটি কলসেন্টার যদি রাজনৈতিক ডামাডোলের কারণে কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকে, তাহলে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কলসেন্টার রাখবে না। কলসেন্টার প্রতিষ্ঠার আগেই এগুলো পরীক্ষা করা হবে। আর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ব্যাপারে আমাদের মোটেও সুনাম নেই।
  • তৃতীয় সমস্যা হলো, টেলি-যোগাযোগ। বর্তমানে বাংলাদেশে যে অপটিক্যাল ফাইবার আছে, সেটা প্রায়শই কাটা পড়ে। আর সেটা ঠিক করতে অনেক সময় এক দিন লেগে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কলসেন্টার ভারত কিংবা বাংলাদেশে হলেও, ‘ডাটা সেন্টার’ কিন্তু আমেরিকাতেই থাকবে। তখন দ্রুত গতির ইন্টারনেট না থাকলে কলসেন্টারগুলো ব্যর্থ হবে। যতদিন এই যোগাযোগব্যবস্থা ১০০ ভাগ নিশ্চিত না হচ্ছে, ততদিন এই ব্যবসা সফলতা লাভ করবে না।
  • চতুর্থ সমস্যা হলো, ভালো ইংরেজি জানা লোকবল। ভারতের একটি বড় সুবিধা হলো, তাদের ইংরেজি জানা বিশাল জনগোষ্ঠি। ভারতের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, যোগাযোগব্যবস্থা আর ইংরেজি জানা ছেলেমেয়ের প্রতুলতার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনোভাবেই তুলনা করা যাবে না। কলসেন্টারগুলো এশিয়াতে যায় মূলত আমেরিকা, ইউরোপ আর অস্ট্রেলিয়া থেকে। আমেরিকার ইংরেজি আমরা অনেকটা বুঝলেও, ব্রিটিশ আর অস্ট্রেলিয়ার ইংরেজি বোঝা এবং একই তালে কথা বলাটা তিন মাসের ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে সম্ভব নয়। তাই যাঁরা এই ব্যবসায় নামছেন, তাঁদের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকতে হবে।
  • পঞ্চম সমস্যা হলো, বিদ্যুৎ। যদি জেনারেটরের তেল পুড়িয়ে কলসেন্টার চালাতে হয়, তবে খরচ বেড়ে যাবে। আবার যদি সাবমেরিন কেবলের পাশাপাশি ভিস্যাট রাখতে হয়, তাহলেও সেটা ব্যয়সাপেক্ষ হবে। যদি ভিস্যাট দিয়ে কেউ কলসেন্টার চালাতে পারত, তাহলে এতদিনে বাংলাদেশে কলসেন্টার চলে আসত।
  • ষষ্ঠ সমস্যাটি হলো, আকার। এই ব্যবসাটি কিন্তু আকারের ওপর নির্ভরশীল। এখানে ১০-১৫ জন মানুষ খাটিয়ে খুব একটা সুবিধা হবে না। আমেরিকাতে একেকটি কলসেন্টারে তিন-চার হাজার লোক কাজ করে। বাংলাদেশে তত বড় না হলেও, দুই-তিন’শ লোকের ব্যবস্থা না হলে, সেটা ব্যবসায়িকভাবে সফল হবে বলে মনে হয় না।
  • সপ্তম সমস্যাটি হলো, সেবার মনোভাব। সেবা যে একটি পণ্য, এই ধারণাটিই আমাদের ভেতর এখনো ভালোভাবে জন্ন নেয়নি। তার ওপর আছে সরকারি খবরদারি আর চাঁদাবাজি (সরকারি ও বেসরকারি)। এমন ধরনের পরিবেশে সেবাশিল্প প্রসার হয় না।

দেশে যদি সত্যি সত্যি তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে সুবিধা নিতে হয়, তাহলে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। আর সেই পরিকল্পনাকে সবাই মিলে বাস্তবায়ন করতে হবে। সকল সরকারকে সেটার পেছনে সমর্থন দিতে হবে। এমন একটি জোরালো প্রতিজ্ঞা না থাকলে, বারবার এমন হুজুগ তৈরি হবে, আর কিছু তস্কর এসে আমাদের নিরীহ মানুষগুলোকে লোভ দেখিয়ে পকেট খালি করে নিয়ে যাবে।

তবে অসম্ভব বলে তো কিছু নেই। আমি শুধু বলতে চাইলাম, কাজটি খুবই কঠিন। আর এই হুজুগে পড়ে কেউ যেন প্রতারিত না হন। চাকরির ট্রেনিং, ব্যবসার ট্রেনিং কিংবা যেকোনো কিছু করার আগে, একটু বুঝেশুনে নেবেন। আর কেউ এটাকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে প্রতারিত করছে কি না সেটা সরকারের পক্ষ থেকে একটু খেয়াল রাখতে পারলে ভালো।

জাকারিয়া স্বপন: তথ্য প্রযুক্তিবিদ
সিলিকন ভ্যালি, যুক্তরাষ্ট্র
zs [এট] zswapan.com

অবশেষে সিবিট দর্শন

19 বুধবার মার্চ 2008

Posted by Omi Azad in মন্তব্য, রিভিউ

≈ 3 Comments

Tags

cebit, fair, Germany, Hannover, জার্মানি, মেলা, সিবিট, হ্যানোভার

 শুরুতেই অবাক করেছিল এর বিশালতা। মেলা প্রাঙ্গণের একটি প্যাভেলিয়ন থেকে অপরটিতে যেতে প্রয়োজন পড়েছিল বাস কিংবা কারের। বিশ্বের ৭৭টি দেশ থেকে অংশ নিয়েছে ৫৮৪৫টি প্রতিষ্ঠান। আর তাই নামের সাথে এর বিশেষণটা বেশ যায়, সেটি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তথ্য প্রযুক্তি মেলা। নাম তার সিবিট। ১৯৮৬ সাল থেকে জার্মানির হ্যানোভারে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই মেলা। এবারের ৬ দিনের এই প্রযুক্তি উৎসব শুরু হয়েছিল ৪ মার্চ, চলেছে ৯ মার্চ পর্যন্ত।

পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি
পৃথিবীতে বাড়ছে মানুষ। কমছে প্রাকৃতিক সম্পদ। ধ্বংস হচ্ছে গাছপালা তথা সবুজ পরিবেশ। আর এসবের বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মানুষের জীবনযাপনের ওপর। তাহলে উপায় কি? মানুষকেতো অবশ্যই বাঁচতে হবে, আর ঠিক সে জন্যই বাঁচতে হবে প্রকৃতিকে। জার্মানির সিবিট মেলাতেও গুরুত্ব পেয়েছিল বিষয়টি। এ জন্য মেলার থিম ছিল না আইটি, সহজ করে বলতে গেলে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি।

পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি তৈরি করতে গিয়ে উদ্ভাবকরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দিকে। আর তাই সিবিটের গ্রীন আইটি ভিলেজে গিয়ে দেখা মিললো নতুন এক মনিটরের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যেটা হয় ব্যবহারকারীরা কম্পিউটার বন্ধ করলেও মনিটরটি বন্ধ করতে ভুলে যায়। অথচ মনিটরও কিন্তু কম বিদ্যুৎ খায় না। নতুন উদ্ভাবিত মনিটরটি সেক্ষেত্রে বেশ স্মার্ট। কম্পিউটার বন্ধ করার সঙ্গে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে মনিটরটি। ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে অনেক। ইউরোপীয়ান প্রতিষ্ঠান ফুজিৎসু-সিমেন্স যৌথভাবে তৈরি করছে এই মনিটর। কথা হচ্ছিল ঐ প্রতিষ্ঠানের ইভেন্ট ম্যানেজার মার্ক ওয়েসকেম্প এর সঙ্গে। তিনি বললেন, আমরা এমন ধরনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে চাচ্ছি যেটা বিদ্যুৎও সাশ্রয় করবে। পরিবেশ বাঁচানো অবশ্যই জরুরি তবে ব্যবসার দিকটাও দেখতে হবে। সুতরাং আমাদের শ্লোগান হচ্ছে ভালো বিশ্বের জন্য ব্যবসা। নতুন উদ্ভাবিত পণ্যগুলো কিছুটা দামি। তবে যে কেউ বছরখানেকের মধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করবে। এই মনিটর কিন্তু সহসাই পাওয়া যাবে না এশিয়া’র বাজারে। অপেক্ষা করতে হবে অন্তত বছর দু’য়েক।

গ্রিন আইটি ভিলেজে দেখা মিললো ক্লাইমেট সেভারস নামক একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। ইন্টেল, গুগল, মাইক্রোসফট, এইচপি’র মতো নামজাদা প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় তৈরি হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি তৈরিতে পরস্পরকে সহায়তা করা। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি ক্লাইমেট সেভারস এর কমিউনিকেশন ম্যানেজার বারবারা গ্রিমস এর সঙ্গে। তিনি বললেন, ক্লাইমেট সেভারস হচ্ছে একটি উদ্যোগ যেটাতে পরিবেশকে বাঁচাতে নামকরা তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, এনজিও ইত্যাদিকে একত্রিক করা হয়েছে। আমরা প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য চেষ্টা করছি।

গ্রিন আইটি ভিলেজ সিসকো, বিটকমসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। সবারই লক্ষ্য একটি, পরিবেশ বাঁচাতে হবে, সঙ্গে ব্যবসাও। তবে গ্রিন আইটি ভিলেজের এসব আয়োজন কেন যেন পছন্দ হচ্ছিল না মার্কো মাসিক এর। জার্মানির মিউনিখ এর এই ব্যবসায়ী বললেন, আমি এখানে এসেছি শুধুমাত্র গ্রিন আইটি দেখার জন্য। কারণ মিডিয়া বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করছে। কিন্তু আমি এখানে এসে খুবই দুর্বল কয়েকটি প্রকল্প দেখলাম। ফলে কিছুটা হতাশ হয়েছি। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। আমার মনে হয় এটা নতুন একধরনের ব্যবসা। তবে বিদ্যুৎ বা শক্তি সংরক্ষণের কিছু উপায় বের হলে মন্দ কি।

তার মতো আরো কয়েকজন গ্রিন আইটি ভিলেজ সম্পর্কে কিছুটা বিরূপ মনোভাব পোষণ করলেন। এটা কি আসলেই পরিবেশ বাঁচানো নাকি নতুন কোনো ব্যবসার ফন্দি তা নিয়ে চিন্তিত অনেকে। তবে সমালোচনা যাই থাক, সিবিট এর মাধ্যমে গ্রিন আইটি নামে যে উদ্যোগটা শুরু হলো তা পরিবেশ বাঁচাতে কিছুটা ভূমিকা রাখবে বৈকি।

ক্রেজ কিন্তু মোবাইল ফোন
বিশ্বজুড়ে এখন তারুণ্যের ক্রেজ মোবাইল ফোন সেট। আর সেটাই জানান দিল সিবিটের মোবাইল প্যাভেলিয়ন। ব্ল্যাকবেরি, সনি এরিকসন, টি মোবাইল এর মতো বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানগুলো জড়ো হয়েছে মোবাইল প্যাভেলিয়নে। সনি এরিকসন গুরুত্ব দিচ্ছে তাদের নতুন মিউজিক সিরিজের মোবাইল ফোনসেটগুলোর ওপর। আর তাই তাদের স্টলে শুধু মিউজিক আর মিউজিক। টি মোবাইল অবশ্য মার্কেটিং করেছে আইফোন এর। আর ব্ল্যাকবেরি ব্যস্ত নতুন সফটওয়্যার নিয়ে।

আগামী’র প্রযুক্তি
মেলায় ঘুরতে ঘুরতেই দেখা গেল নরওয়ের প্রতিষ্ঠান টেলেনরকে। বাংলাদেশে টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের ৬২ শতাংশ শেয়ারের মালিক এই প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এক টেকনোলজি নিয়ে মোলায় হাজির তারা। মেশিন টু মেশিন কমিউনিকেশন, মানে যন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করবে আরেক যন্ত্রের সঙ্গে। আরেকটু সহজ করে দেই। ধরুন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোনো এক জায়গায় দুর্ঘটনায় পড়লো একটি গাড়ি। টেলেনরের এই প্রযুক্তি যুক্ত থাকলে গাড়িটি নিজে থেকেই যোগাযোগ করবে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং হাসপাতালের সঙ্গে। ফলে উদ্ধার কাজ করা যাবে বেশ দ্রুত। বিষয়টি নিয়ে টেলিনরের এক মুখপাত্র ডয়চে ভেলেকে জানালেন, আজকে সবার কাছে মোবাইল ফোন আছে। কিন্তু ভবিষ্যতে মেশিনকেও যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করতে হবে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে মেশিন টু মেশিন যোগাযোগও সহজলভ্য হয়ে যাবে। মেলায় আরেকটি আকর্ষণ ছিল ব্রেইন চালিত কম্পিউটার। মাথায় একগাদা তার পেঁচিয়ে বসে থাকতে দেখা গেলো একজনকে। সে কিছুক্ষণ পর পর মনিটরের দিকে তাকাচ্ছিলো আর তাতেই কম্পিউটার বুঝতে পারছিল ব্যক্তিটির আকাঙ্খা। তবে এই ব্রেইন চালিত কম্পিউটার এখনো রিসার্চ পর্যায়ে আছে। পুরোমাত্রায় কাজ করতে সক্ষম হতে সময় লাগবে নাকি আরো পাঁচ বছর।

চীনদের জয়জয়কার
মেলায় ঢুকে প্রথমেই একটু থমকে যেতে পারেন আপনি। যেদিকে যাবেন সেদিকেই চীনা নাগরিক। প্যাভেলিয়নগুলোতে চীনাদের স্টল। হবেই না বা কেন? এবারের সিবিটে শুধু চীন থেকে অংশ নিয়েছে ৫০০টি প্রতিষ্ঠান, এককভাবে কোনো দেশের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ এটি। আর তাই সিবিট প্রাঙ্গন এখন ছোটখাট এক চীনা শহরে রূপ নিয়েছে। অবশ্য সিবিট মেলায় এবারের থিম কান্ট্রি ছিল ফ্রান্স। তবে তাদের ছাপিয়ে চীন নিয়েই মাতামাতি বেশি ছিল।

সিবিটে বাংলাদেশ
সিবিট মেলা কেমন লাগছে? জানতে চেয়েছিলাম বাংলাদেশী ব্যবসায়ী মোরছালিন জুয়েল এর কাছে। তিনি বললেন, খুব ভালো লাগছে। জুয়েলের এই এক কথার জবাবের সঙ্গে একমত নয় বাংলাদেশ থেকে আসা অপর ব্যবসায়ী এম মঞ্জুরুর রহমান। জানালেন, সিবিটে আমি পর পর তিনবার এসেছি। গতবারের তুলনায় এবার তেমন কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে সিবিট একটি নির্দিষ্ট ছকের মধ্যে আটকে গেছে।

তবে বাংলাদেশ কেন জানি তথ্য প্রযুক্তি খাতে এগুতে পারছে না কোনোভাবেই। আর তার প্রভাব পড়েছে সিবিট মেলাতেও। প্রতি বছর সংকুচিত হচ্ছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ। এ বছর এসেছে মাত্র দু’টি প্রতিষ্ঠান। তাও আবার সরাসরি নয়, সুইস প্রতিষ্ঠান সিপ্রো’র ব্যানারে। কথা হচ্ছিলো বাংলাদেশ থেকে আসা লিডস সফট এর সহকারী মার্কেটিং ম্যানেজার আনিসুর রহমান খান এর সঙ্গে। তিনি জানালেন, সিবিট মেলা জার্মানিতে হয়। এখানে খরচের একটি ব্যাপার আছে। আর তাই এককভাবে একটি বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই মেলায় যোগ দেওয়া বেশ কঠিন। বাংলাদেশ সরকার এবং সফটওয়্যারের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বেসিস যৌথভাবে উদ্যোগ নিলে সিবিটে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানো যাবে।

তবে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হলেও ভারত কিন্তু বেশ অগ্রসর ছিল সিবিটে। প্রথম দিনেই খোঁজ মিললো অন্তত গোটা পঁচিশেক ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের। ভারতের নানান রাজ্য থেকে এসেছে তারা। তাদের সবারই নজর নতুন ক্রেতার দিকে। ইউরোপের বাজারে ভারতের তথ্য প্রযুক্তি পণ্য আরো ঢুকাতে বদ্ধপরিকর তারা। কথা হচ্ছিল তাদেরই একজন, ওয়েব ওয়ার্কস এর ম্যানেজার নিশাত রতি’র সঙ্গে। তিনি জানালেন, দক্ষ জনশক্তি আর ইংরেজিতে দক্ষতা আমাদেরকে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছে।

পুরো হ্যানোভার জুড়ে ছিল সিবিটের আমেজ। হোটেল-মোটেল কিংবা গেস্ট হাউজ- সবই কানায় কানায় পূর্ণ। আর তাই থাকার জায়গা না পাওয়ায় বিশ্বের নানান প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের একটি বড় অংশ এখন রাত কাটিয়েছে হ্যানোভারের স্থায়ী বাসিন্দাদের সঙ্গে, একই বাড়িতে। তবে অবশ্যই টাকার বিনিময়ে। হ্যানোভারের বাসিন্দাদের বাড়তি উপার্জনের একটি ভালো রাস্তা এটি। হ্যানোভারের পরিবেশও কিন্তু বেশ রহস্যময়। কখনো প্রখর রোদ্দুর, কখনো তুষারপাত। সঙ্গে কনকনে ঠান্ডা বাসাত। তবে এরই মধ্যে জমে উঠেছিল সিবিট। মাইক্রোসফট, ইয়াহু আর গুগলের মধ্যকার ঠান্ডা যুদ্ধের রেশ পাওয়া যাচ্ছিলো প্রথম দিন থেকেই। ঘুরতে ফিরতেই দেখা মিলেছে বিশ্বের নামজাদা সব তথ্য প্রযুক্তিবিদের সঙ্গে। এবারের সিবিটে সব মিলিয়ে ভিজিটরের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ। আগামী বছর সিবিট মেলা শুরু হবে ৩ মার্চ, আর চলবে ৮ মার্চ পর্যন্ত।

দৈনিক ইত্তেফাকের জন্য-
আরাফাতুল ইসলাম, হ্যানোভার (জার্মানি) থেকে

টাটা ন্যানো – সবচেয়ে সস্তা গাড়ি

01 শনিবার মার্চ 2008

Posted by Omi Azad in মন্তব্য

≈ 1 Comment

Tata Nanoদামের ভয়ে যারা এখনো গাড়ি কেনেন নি, তাদের জন্য সুখবর। বিখ্যাত টাটা মটরস্‌ বাজারে এনেছে তাদের সর্বশেষ মডেল টাটা ন্যানো। ‘জনগনের গাড়ি’ নামে পরিচিত এ গাড়িটির রোড ট্যাক্স এবং ডেলিভারি সহ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১২০,০০০ রুপি অথবা ২৫০০ মার্কিন ডলার। সম্প্রতি ‘২০০১: একটি স্পেস অডিসি’ থিমের ভিত্তিতে নিউ দিল্লী অটো এক্সপোতে প্রদর্শিত হয়েছে এ গাড়িটি।

বাজার জরিপে দামের দিক থেকে এর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করছে মারুতি ৮০০, যার দাম টাটা ন্যানোর প্রায় দ্বিগুণ। এই গাড়ির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান রতন টাটা বলেন, “আমি কিছু পরিবারকে লক্ষ্য করতাম যারা মটর-সাইকেল চালাতেন। চালকের আসনে বাবা বসে, তাঁর সামনে বসাতেন বড় বাচ্চাটিকে। আর পেছনের সীটে হয়তো তাঁর স্ত্রী আরেকটি ছোট বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বসে থাকতেন। আমি মূলত তাদের জন্যেই একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং সব পরিবেশে উপযোগী একটি বাহন তৈরীর চেষ্টা করেছি।”

তো আসুন জেনে নেয়া যাক, এ গাড়ির বিস্তারিত খবরাখবর। চার দরজা বিশিষ্ট ন্যানো দৈর্ঘ্যে ১০ ফিট এবং প্রস্থে ৫ ফিট। শক্তি সরবরাহের জন্য পাঁচ আসন বিশিষ্ট এই গাড়িতে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৩ বিএইচপি, ৬২৩ সিসি দুই সিলিন্ডার-বিশিষ্ট ইঞ্জিন, যা শুধুমাত্র দামের দিক থেকেই নয়, তেল খরচের ক্ষেত্রেও বেশ সাশ্রয়ী। এতে ১০০ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করতে খরচ হবে মাত্র ৫ লিটার তেল। ৩৩ অশ্ব শক্তির টাটা ন্যানো ঘন্টায় ৬৫ মাইল পাড়ি দিতে সক্ষম। উন্নত হ্যান্ডেলিং এর জন্য এতে সংযোজিত হয়েছে ছোট ছোট চারটি চাকা। দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে ছোট হলেও মালামাল রাখার জন্যে এতে একটি ছোট ট্রাঙ্কও রয়েছে যাতে অনায়াসে একটি ভ্রমণোপযোগী ব্যাগ রাখা যাবে।

রতন টাটা এ গাড়ি সম্পর্কে আরও বলেন, “ভারতের বাজারে এই জনগণের গাড়ি বের করতে পেরে আমরা খুব আনন্দিত। আশা করি, অনেক পরিবার যাদের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা প্রয়োজন, তাঁদের কাছে এটি গাড়ি কেনার আনন্দ এবং গর্ব বয়ে আনবে।”

তবে পরিবেশবাদীরা এটাকে খুব ভাল চোখে দেখছেন না। তারা জানান, এ গাড়িতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ভারতের অন্যতম প্রধান সমস্যা পরিবেশ দূষণের জন্য বেশ ক্ষতিকর।

এই বছরের শেষ দিকে এটি ভারতের বাজারে ছাড়া হবে। প্রথম দিকে বছরে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার গাড়ি উৎপাদন দিয়েই শুরু করা হবে। তবে, আগামী বছর চারেকের মধ্যে এটি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা, এবং আফ্রিকার সস্তা বাজারে ঢোকার পরিকল্পনা করছে।

সূত্র: বিডিনিউজটুয়েন্টিফোর

← Older posts
Newer posts →

Categories

  • অ্যানড্রোয়েড
  • আইটি বিশ্ব
  • ই-কমার্স
  • উদ্ভট
  • ওপেন সোর্স
  • গল্প টল্প
  • গান বাজনা
  • গুগল্
  • গ্যাজেট
  • টিউটোরিয়াল
  • টেলিকম
  • বাংলা কম্পিউটিং
  • বাংলাদেশ
  • ব্যক্তিগত
  • মন্তব্য
  • মাইক্রোসফট
  • রিভিউ
  • সফটওয়্যার রিভিউ

Recent Posts

  • ডাক্তার শায়লা শামিম ও মনোয়ারা হাসপাতালের অভিজ্ঞতা
  • ই-কমার্স – বাংলাদেশ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ!
  • Install Google Apps and Play Store on Nokia X, X+ and XL
  • মাইক্রোসফটের কাছে পাওয়া শেষ চেক্!
  • Root Walton Walpad 8b, Walpad 8w, Walpad 8 and Walpad 7

Proudly powered by WordPress Theme: Chateau by Ignacio Ricci.