Reality Bites

~ by Omi Azad

  • Home
  • About Me!
  • My Movies
  • English

Category Archives: বাংলাদেশ

জাগরণের গান – ৭১টি দেশের গান নিয়ে একটি সংকলন

19 শনিবার ডিসে. 2009

Posted by Omi Azad in গান বাজনা, বাংলাদেশ, রিভিউ

≈ 31 Comments

Tags

৭১, fight, Freedom, Music, Song, আন্দোলন, একাত্তুর, গান, জাগরণের, দেশাত্ববোধক, বাংলা, ভাষা, মুক্তিযুদ্ধ, সংকলন

অনেকেই জানেননা যে আমার ক্যরিয়ার (টাকা কামাই করার) শুরু করেছিলাম আমার শহরের ক্যাসেটের একটি দোকানে কাজ করে। যখন আমাদের বিশেষ দিনগুলি আসতো, (যেমন ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর) তখন অনেকেই দেশাত্ববোধক গান খোঁজ করতেন এবং কিনতেন। তখন (কিছুদিন আগ পর্যন্ত) একটাই ক্যাসেট বাজারে পাওয়া যেতো। অনেক পুরাতন রেকোর্ডিং, সেটাকে কপি করতে করতে আরও খারাপ অবস্থা। সেগুলি মাইকে বাজানোর জন্য ঠিক আছে, কিন্তু কালেকশন করে রাখার মতন অবস্থায় নাই। বিশ্বাস করতে খারাপ লাগে, কিন্তু আমাদের জাতীয় সঙ্গীতেরই কোনো ভালো রেকোর্ডিং সংগ্রহে ছিলো না।

এই জাগরণের গান এলবামটি বাংলাদেশী সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য সত্যই চরম ভালো একটি উদ্দ্যোগ হয়েছে। লোম দাঁড় করানো এই দেশের গানগুলি এভাবে পেয়ে যে আমি কত খুশি হয়েছি তা বলে বোঝাতে পারবো না। বাংলার জন্য, দেশের জন্য একটি দুটি নয়, ৭১টি গানের সংকলন নিয়ে তৈরী এই এলবামটি।

পরীক্ষামূলক শোনার জন্য মাত্র 96kbps-এ গানগুলি এখানে দিলাম, আমি আশা করবো গানগুলি ভালো লাগলে অবশ্যই ছয় সিডির এই এলবামটি কিনে শুনবেন এবং কোনো অবৈধ উৎস থেকে ডাউনলোড করে শুনবেন না।
…

Continue reading »

যানজোট কমাতে স্কুলের সময় পরিবর্তন না করে স্কুলবাস বাধ্যতামূলক করলে কাজ বেশী হতে পারে

05 শনিবার সেপ্টে. 2009

Posted by omiazad in বাংলাদেশ, মন্তব্য

≈ 10 Comments

Tags

কলেজ, ঢাকা, বাস, বিশ্ববিদ্যালয়, যানজোট, স্কুল

পত্রপত্রিকায় দেখছি সরকার যানজোট কমানোর জন্য অফিস আদালত এবং স্কুল কলেজের সময়সূচী পরিবর্তনের বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করছেন। আমার কাছে বিষয়টা অযৌক্তিক মনে হচ্ছে। এভাবে যানজোট কমবে কি-না, তবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে বেশী।

আমার কাছে মনে হয় বেসরকারী স্কুলগুলি ঢাকা শহরে যানজোট সৃষ্টি করার পেছনে একটা বিশাল ভুমিকা পালন করছে। বিশেষ করে ইংরেজী মাধ্যমের স্কুলগুলি। ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলিতে অপেক্ষাকৃত উচ্চবিত্তদের সন্তানেরা লেখাপড়া করে। লেখাপড়া করুক এতে সমস্যা নাই, বাবা-মা অর্থ উপার্জন করেই সন্তানদের ভালো ভবিষ্যত তৈরী করার জন্য, ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করে যদি ভবিষ্যত উজ্জ্বল হয় তাহলে সমস্যা কি।

কিন্তু ঝামেলা অন্যখানে। যারা ঢাকা শহরে ইংরেজি মাধ্যমে সন্তানদের লেখাপড়া করান, তারা অন্য অবিভাবকদের যার যার টাকার পরিমান দেখানোর চেষ্টায় ব্যস্ত থাকেন। তার একটি পন্থা হলো দামী গাড়ী প্রদর্শন। কে কি গাড়ী চালান, সেটা দেখানোর কিন্তু তেমন কোনো উপায় নেই। তাই তারা দামী গাড়ী নিয়ে স্কুলে সন্তানদের রাখতে এবং নিতে যান। বিশাল এক হামার গাড়ী নিয়ে নার্সারি শ্রেণীতে পড়া ৫ বছর বয়সের সন্তানকে স্কুলে দিতে বা নিতে যাচ্ছেন অবিভাবকেরা। অনেকে আবার দিতে যান এক গাড়ীতে আবার নিতে যান অন্যটিতে।

একটা স্কুলে যদি ৫০০ ছাত্র/ছাত্রী থাকে, তাহলে তার সামনে এবং আশ পাশের রাস্তায় ৫০০টি গাড়ী বিরাজ করে। আবার ধরা যাক সকালের শিফটের শেষ আর দিনের শিফট শুরু, তাহলে ৫০০+৫০০=১০০০ গাড়ী ঐ এলাকায় বিরাজ করছে। আমার কথা পর্যবেক্ষণ করতে চাইলে ধানমন্ডি, গুলশান, উত্তরার ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল পাড়ায় স্কুল শুরু/শেষ হবার সময় একবার ঘুরে আসুন।

কিন্তু এই স্কুলগুলিতে যদি গাড়ী নিষিদ্ধ করে দেয়া হয় আর তার পরিবর্তে স্কুল বাস চালু করা হয়, তাহলেই কিন্তু ল্যাটা চুকে যায়। বাধ্যতামূলক ছাত্র/ছাত্রী/শিক্ষক/শিক্ষিকাদের স্কুলের বাসে ভ্রমণ করতে হবে। স্কুল বাসের জন্য যদি কিছু টাকা বেশীও দিতে হয় তা কিন্তু জ্যামে বসে গাড়ীর তেল/গ্যাস পুড়ার খরচের চাইতে অনেক কম হবে।

কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনে করলে আশাকরি জ্বালানি সংরক্ষণ সহ ৩০-৪০% যানজোট নিরাসন করা সম্ভব হবে। শুধু স্কুলেই না, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যায়গুলিতেও একই আইন কার্যকর করা উচিৎ।

নতুন সময়ের সাথে উইন্ডোসের সময় নিজে থেকে পরিবর্তন হবে

18 বৃহস্পতিবার জুন 2009

Posted by Omi Azad in টিউটোরিয়াল, বাংলাদেশ, মাইক্রোসফট

≈ 13 Comments

Tags

2003, 2008, Daylight, Saving, Server, Time, vista, windows, XP, উইন্ডোজ, এক্সপি, টাইম, ডেলইট, ভিস্তা, সময়, সার্ভার

দিনের আলো সংরক্ষণ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য কাল ১৯ জনু মধ্যরাত থেকে দেশে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ১৯ জুন যখন রাত ১১টা বাজবে ঘড়িতে, তখন আমরা ঘড়িকে এক ঘন্টা এগিয়ে নিয়ে যাবো, অর্থাৎ ১১টা সময় রাত বারোটা করে ফেলতে হবে।

নতুন সময়সূচির সঙ্গে মাইক্রসফটের কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমে ব্যবহৃত ঘড়ির সময়ও ঠিক করে নিতে হবে। এ জন্য সমাধান দিয়েছে মাইক্রোসফট। মাইক্রোসফট বাংলাদেশের সহযোগিতায় এই সমাধানটি প্রদান করছে মাইক্রোসফট। যেই কম্পিউটারে উইন্ডোজ ভিসতা, উইন্ডোজ এক্সপি, উইন্ডোজ সার্ভার ২০০৮ এবং উইন্ডোজ সার্ভার ২০০৩ ব্যবহৃত হচ্ছে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে, সেসব কম্পিউটারে এ সমাধানটি কাজে লাগাবে।

সময়-সংক্রান্ত সমাধানটি পেতে এই ঠিকানা থেকে ইনস্টলারটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে হবে। এবার কন্ট্রোল প্যানেলে ডেট অ্যান্ড টাইম অপশনে গিয়ে Time Zone Settings-এ গিয়ে (GMT + 06.00) Astana, Dhaka-এর পরিবর্তে (GMT + 06.00) Dhaka নির্বাচন করতে হবে। দিনের আলো সংরক্ষিত সময় (DST) কার্যকর করতে Automatically adjust clock for Daylight Saving Time ঘরে টিক্ দিন। ফলে ১৯ জুন রাত ১১টা থেকে সময় আপনা আপনি পরিবর্তিত হয়ে এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখে আবার আগের অবস্থানে ঘড়ির সময় ফিরে যাবে।

আলো আসবেই!

10 মঙ্গলবার মার্চ 2009

Posted by Omi Azad in উদ্ভট, বাংলাদেশ

≈ 46 Comments

Tags

আলো, ইন্টারনেট, গ্রামীণফোন, বাংলাদেশ, বিদ্যুৎ

অনেকেই শিরোনাম দেখে বলবে, “অমি আজাদ কি আবোল তাবোল বলে, ঠিক নাই। আলো আবার কি আসবে।” আর গ্রামীণফোন যখন বলে তখন কিন্তু কিছু হয়না। 🙂

বেশ কিছুদিন থেকেই ভাবছিলাম এই পোস্ট লেখার ব্যাপারে। আমাদের দেশে এখন চলছে বিদ্যুৎ ক্রাইসিস। টেলিভিশনে বলে দিলো সর্বনিম্ন ৪ ঘন্টা থেকে সর্বোচ্চ ১০ ঘন্টা লোড শেডিং হবে। নানা জনে নানা মত দিচ্ছে এই কথা শুনে। সরকারকে দোষারোপ করছে। সম্পুর্ণ গ্রীষ্মকাল ঠিকমতন না আসতেই এই অবস্থা, দুই মাস পারে যে কি হবে! অনেকেই বলছে সরকার বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আনার নামে টাকা চুরি করবে দেখে কৃত্তিমভাবে এই অবস্থা তৈরী করে রেখেছে। সাধারণ মানুষ কিন্তু সত্যই কিছু জানে না, শুধুই অপেক্ষা করতে জানে আর ভুলতে জানে। কাল সব ঠিক হয়ে গেলে সবাই ভুলে যাবে যে সরকার টাকা চুরি করলো, না সব ঠিক হয়ে গেলো।

তবে সব সমস্যার সমাধান নিয়ে এসেছে গ্রামীণফোন, তাদের নতুন ইন্টারনেট পণ্য “আলো আসবেই” নাম নিয়ে। পত্রপত্রিকায় বা রাস্তার বিলবোর্ডে এরই মধ্যে সবাই দেখেছেন যে জানালা ভেদ করে আলো চলে আসছে। গ্রামীণফোন ইন্টারনেট থাকতে কিন্তু আমাদের আর কোনো টেনশন নাই। ডেসা/ডেসকো/পিডিবি/পল্লী বিদ্যুৎ কাউকেই আর লাগবে না আমাদের। রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে আমাদের পাশে থাকবে গ্রামীণফোন ইন্টারনেট, আলো আনবেই,
শালার আলো যাবে কোথায়!

সুতরাং আমরা বিদ্যুৎহীন অন্ধকার অবস্থা কাটানোর জন্য জেনারেটর বা আইপিএস-এর পেছনে অযৌক্তিক টাকা নষ্ট না করে গ্রামীণফোন ইন্টারনেট নিয়ে নেই! আর কিভাবে কি করতে হবে সেটা জানার জন্য যে কোনো গ্রামীণফোন থেকে ১২১ নম্বরে ফোন করলেই হবে।

আলোতে থাকুন, আমি এখনো পারি নাই, হয়তো আপনারা পারবেন। পারলে অনুগ্রহ করে মন্তব্যে জানান।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ২০০৮

05 সোমবার জানু. 2009

Posted by Omi Azad in বাংলাদেশ

≈ 2 Comments

Tags

ইন্টারনেট, তথ্যপ্রযুক্তি, নীতিমালা, বাংলাদেশ, সফটওয়্যার

২০০৮ সালে বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) ব্যবহার কেমন ছিল, এ খাতের উন্নয়ন ও অগ্রগতি কেমন হলো−এসব হিসাব-নিকাশ করার সময় এখন। নানা ঘটনা ঘটেছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও দেখা গেছে তথ্যপ্রযুক্তির নানা রকম ব্যবহার। আবার অনেক কিছুই প্রত্যাশা অনুযায়ী পূরণ হয়নি গত বছর। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির অবস্থা কেমন গেল ২০০৮ সালে তাই বলেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী

তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা
২০০৮ সালে তথ্যপ্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মধ্যে আছে তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা। ২০০২ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) যে নীতিমালা তৈরি করা হয়েছিল সেটাকে হালনাগাদ করার জন্য সরকার একটি কমিটি গঠন করে।সে কমিটি প্রায় তিন মাস কাজ করে একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করে। যদিও সরকার আশা করেছিল আগের নীতিমালায় কী কী পরিবর্তন প্রয়োজন তা ঠিক করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু নীতিমালা প্রণীত হওয়ার পর প্রযুক্তি এতটাই এগিয়ে গেছে যে কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় নতুন একটি নীতিমালা করার জন্য। এটা করে সরকারের হাতে দেওয়া হয়েছে প্রায় দুই মাস আগে। ২০০২ সালের নীতিমালার সঙ্গে এ নীতিমালার একটি মৌলিক পার্থক্য হলো এখানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের লক্ষ্যমাত্রা ও করণীয়গুলো আরও সুনির্দিষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে। দেখা গেছে, এতে সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে প্রায় ৩০০টি বিষয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে। বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা এখানে স্বল্প মেয়াদি, মাঝারি, দীর্ঘ ইত্যাদি ভাগে ভাগ করে দিয়েছি। সময়ের উল্লেখ ছাড়াও এখানে বলে দেওয়া আছে, এর বাস্তবায়নে ঠিক কার কী করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আমার মনে হয়েছে, তারা এটা করে যেতে চাচ্ছিল। কিন্তু আর তো সময় নেই তাদের। এখানে কিছু সমস্যাও ছিল। কোনো নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা এ সরকারের ছিল কি না সে বিষয়েও সন্দেহ করে অনেকে।

নির্বাচিত সরকার এলে আমি আশা করব, তারা এটা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করে খুব তাড়াতাড়ি গ্রহণ করে নেবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যে মহাজোট সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিষ্ককারভাবে বলা আছে, ২০২১ সালের মধ্যে তারা তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ দেখতে চায়। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি।

দুর্ভাগ্যবশত গত দুই বছরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে গুরুত্ব দেওয়ার কথা ছিল তার প্রতিফলন আমরা দেখিনি। এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে বিশেষ সহকারী ছিলেন একজন, তাঁর আগে দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টার অনেক দায়িত্বের মধ্যে ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।

ইন্টারনেটের দাম কমেছে
গত কিছুদিনে আমাদের অর্জনের মধ্যে একটা হলো যে ইন্টারনেট ব্যবহার তথা ব্যান্ডউইডথের দাম কমেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ইন্টারনেট সহজলভ্য হচ্ছে। গত বছর তারহীন যোগাযোগ প্রযুক্তি ওয়াই-ম্যাক্সের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে এর সুফলও পাওয়ার কথা। এ ছাড়া ইন্টারনেট টেলিফোনি বা ভিওআইপির লাইসেন্সও দেওয়া হয়েছে। এর ব্যবহার পুরোপুরি শুরু হলে আন্তর্জাতিক যোগাযোগে আমাদের বেশ উন্নতি হবে।

নির্বাচনের বছরে তথ্যপ্রযুক্তি
২০০৮ সালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এখানে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়টিকে এনেছে। যদিও এর মধ্যে কমবেশি ছিল। অনেক দল দায়সারাভাবে অনেকটা না বুঝে এ বিষয়টি এনেছে। আমার ধারণা, আমাদের তরুণ প্রজন্ন তাদের সমর্থন দিতে তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়টিকেও বিবেচনায় এনেছে। আরেকটা বড় কাজ হয়েছে। আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে গত বছর, এর কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। আমরা একটা সমৃদ্ধ তথ্যভান্ডার পেয়েছি এর মাধ্যমে। ছবিসহ ভোটার তালিকার কাজটিও হয়েছে বেশ ভালোভাবে। তবে আমার মনে হয়, জাতীয় পরিচয়পত্রে যে ধরনের নিরাপত্তা বিষয় ও তথ্যধারণের কথা ছিল বা ছবির যে গুণগত মান থাকা উচিত ছিল তা এ স্বল্পমূল্যের প্রযুক্তি দিয়ে সম্ভব হয়নি অনেকটাই। এ জন্যই হয়তো বেশির ভাগ লোকেরই এ নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ আছে। এটাকে জাতীয় পরিচয়পত্র করতে হলে আরও কিছু কাজ করতে হবে।তবে তথ্যভান্ডারটা অনেক কার্যকর একটা বিষয়। এ বিষয়টি দেখভালের জন্য আলাদা একটা বিভাগও করেছে সরকার। তথ্যভান্ডারের এমন কাজ বিশ্বের অনেক উন্নত দেশও করতে পারেনি। আমরা স্বল্প খরচে কম সময়ে এটা করতে পেরেছি। ভোটার তালিকা থেকে যে এক কোটির ওপরে ভুয়া ভোটারের নাম বাদ গেল, এটা সম্ভব হয়েছে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলেই। এখানে আরেকটি বিষয় হলো, বাংলাদেশের আট কোটির বেশি ভোটার এ উপলক্ষে প্রত্যেকেই একবার হলেও কম্পিউটারের সামনে গিয়েছেন। এই যে অনেকেই কম্পিউটার দেখলেন এবং কম্পিউটারের ক্ষমতা জানলেন, এটা কম্পিউটার সম্পর্কে সচেতনতা ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে কাজ করবে, বিশেষ করে ভবিষ্যতে আমরা যখন এ প্রযুক্তিকে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব। এ বছর তথ্যপ্রযুক্তির মেলাগুলোও বেশ বড় পরিসরে হয়েছে।

শিক্ষায় নেই অগ্রগতি
গত বছর তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। কম্পিউটার বিজ্ঞান, কম্পিউটার প্রকৌশল ইত্যাদি বিষয়ে একসময় শিক্ষার্থীদের যে প্রবল আগ্রহ দেখা যেত, এখন তা দেখা যায় না। কম্পিউটার শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ যে ক্রমাগত কমছে, আমার ধারণা, গত বছরও তা অব্যাহত ছিল। এ জায়গাটায় বড় ধরনের পরিবর্তন হওয়া দরকার। তথ্যপ্রযুক্তির বিরাট সুযোগ কাজে লাগাতে এ খাতে একটা বড় জনশক্তি লাগবে আমাদের। তবে ইদানীং টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। এটা হয়তো বাংলাদেশে চলমান চাকরির বাজারের জন্যই।

ই-গভর্নেন্সে অগ্রগতি
ই-গভর্নেন্সে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এ বছর। এখন বাংলাদেশের গেজেটগুলো ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। এটা হয়েছে রেগুলেটরি রিফর্ম কমিশনের সুপারিশে, যদিও আইসিটি টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে আমরা এটা অনেক আগেই সুপারিশ করেছিলাম। সরকারি বিভিন্ন নীতিমালা, ফরম ও তথ্য এখন ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে যত আইন প্রণীত হয়েছে, সবই এখন ওয়েবে পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আইনজীবীদের খুব কাজে আসবে এটি। হয়তো ভবিষ্যতে বিভিন্ন মামলার বিস্তারিত তথ্যও তুলে দেওয়া সম্ভব হবে। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটও আগের চেয়ে অনেক তথ্যবহুল হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কিংবা বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইটের চেহারা এখন বেশ দেখার মতো হয়েছে।

সফটওয়্যার রপ্তানিতে গতি দ্রুত নয়
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসা খাতে সফটওয়্যার রপ্তানি হয়তো কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু সেটা যথেষ্ট দ্রুতগতিতে হচ্ছে না। এখানে আশানুরূপ সফলতা পাচ্ছি না। কিছুদিনের মধ্যে হয়তো কলসেন্টারের সুযোগটা আমরা ধরতে পারব। এ জন্যও প্রস্তুতি দরকার এখন থেকেই। তবে ইউরোপীয় কিছু প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কাজ দিচ্ছে।

ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যবসা ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এটা অনেকটা বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতেই। মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিল পরিশোধসহ বেশ কিছু সেবা খাতে কিছুটা অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে।

প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই
আমাদের প্রত্যাশা, নতুন বছর নতুন সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবে। এর মধ্যে সবার আগে তারা হাইটেক পার্কের কথা ভাবতে পারে। যেহেতু ২০০১ সালে এর পরিকল্পনার সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম, আমার খুবই খারাপ লাগে যখন দেখি যে এর কোনো অগ্রগতি হয় না। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর এর কাজও থেমে গেছে। এ সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে হাইটেক পার্ককে বিবেচনায় আনবে বলে আমার বিশ্বাস। আর তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা খাতে সরকারের বরাদ্দ আরও বাড়ানো উচিত। আরেকটি বিষয় সরকার বিবেচনা করতে পারে, যেটি আমার কাছে অনেক সময় জগাখিচুড়ি বলে মনে হয়। আগে ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। সেটাকে হঠাৎ নাম বদলে করা হলো বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এটাকে আমি বলি “কসমেটিক চেঞ্জ”। এখানে স্বভাবতই প্রশ্ন আসে, অন্য প্রযুক্তি গেল কোথায়? সে জন্য আমার মনে হয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মতো বিস্তৃত এ বিষয়টিকে আলাদা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে বেশিগুরুত্ব দেওয়া দরকার এখনই।

লিখেছেন জাবেদ সুলতান পিয়াস, ২ জানুয়ারি ২০০৮ এর দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায়

← Older posts
Newer posts →

Categories

  • অ্যানড্রোয়েড
  • আইটি বিশ্ব
  • ই-কমার্স
  • উদ্ভট
  • ওপেন সোর্স
  • গল্প টল্প
  • গান বাজনা
  • গুগল্
  • গ্যাজেট
  • টিউটোরিয়াল
  • টেলিকম
  • বাংলা কম্পিউটিং
  • বাংলাদেশ
  • ব্যক্তিগত
  • মন্তব্য
  • মাইক্রোসফট
  • রিভিউ
  • সফটওয়্যার রিভিউ

Recent Posts

  • ডাক্তার শায়লা শামিম ও মনোয়ারা হাসপাতালের অভিজ্ঞতা
  • ই-কমার্স – বাংলাদেশ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ!
  • Install Google Apps and Play Store on Nokia X, X+ and XL
  • মাইক্রোসফটের কাছে পাওয়া শেষ চেক্!
  • Root Walton Walpad 8b, Walpad 8w, Walpad 8 and Walpad 7

Proudly powered by WordPress Theme: Chateau by Ignacio Ricci.