Reality Bites

~ by Omi Azad

  • Home
  • About Me!
  • My Movies
  • English

Category Archives: বাংলাদেশ

বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন – পাগলে কি-না বলে, ছাগলে কি-না খায়!

01 শনিবার নভে. 2008

Posted by Omi Azad in উদ্ভট, বাংলাদেশ, মন্তব্য

≈ 28 Comments

Tags

horlicks, বিজ্ঞাপণ, হরলিকস্

আসলেই, আমাদের দেশের বিজ্ঞাপনের এই দশা (!) এখন। এক মোবাইল কোম্পানি বলে “কাছে থাকুন” আবার ঐ কোম্পানিই আরেকটি বিজ্ঞাপনে বলে “হারিয়ে যাও।” তাহলে কি বলা ভুল হলো “পাগলে কি-না বলে, ছাগলে কি-না খায়!”

ঘটনার শুরু লন্ডনে। সেখানকার এক টেলিভিশন চ্যানেল ভুল করে একটা বিজ্ঞাপন প্রচার করে হরলিকস্ নামের একটি পণ্যের। সেখানে দেখানো হয় যে হরলিকস্ খেলে আপনার বাচ্চারা হয়ে উঠবে আরও লম্বা, আরও কঠিন এবং আরও ধুর্ত। ওরে বাবা! আর বাকি থাকলো কি!!!

এই বিজ্ঞাপন প্রচারের সাথে সাথে ওখানে একটা হাঙ্গামা হয়ে গেলো, সাধারণ জনগনের একটাই প্রশ্ন যে এরকম কিভাবে হয়। এবং এই প্রশ্নের জবাবে হরলিকস নির্মাতা জানায় যে ঐ বিজ্ঞাপনটি বাংলাদেশের জন্য তৈরী করা হয়েছে এবং ভুল করে ওখানে প্রচারিত হয়ে গিয়েছে। আমার এক বন্ধু আমাকে লন্ডন থেকে দৈনিক মেট্রোতে প্রকাশিত একটি সংবাদের ছবি পাঠায়, যেটা আপনারা দেখতে পাবেন এখান থেকে।

আমি সেদিন উইকিপিডিয়াতে গিয়ে হরলিকস্ সম্পর্কে পড়ে তো অবাক হলাম এবং সত্যই তো, আমি যখন ছোট ছিলাম, হরলিকসের বিজ্ঞাপনে তাই বলা হতো, যে এটা ঘুমের সময় পান করলে ভালো ঘুম হয় এবং শরীরকে রাখে চাঙ্গা। ভারতে যখন হরলিক উৎপাদন শুরু হলো, তখন বলা হতো পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটায় হরলিকস্। আমি একটা জিনিসই বুঝলাম না, মল্ট যা কি-না গমের মতই একটা দানা এবং সাধারণত বিয়ার তৈরীতে ব্যবহৃত হয়, এটা দিয়ে তৈরী পানীয় আবার পরিবারের কি পুষ্টি যোগাবে!!!

যাই হোক, এর পরে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রক সংস্থা – অ্যাডভারটাইজিং স্ট্যান্ডার্ড এজেন্সি (এএসএ) সেদেশে স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ব্যাপারে ‘প্রমাণিত নয়’ এমন দাবি করায় হরলিকসের বিজ্ঞাপনে প্রচার বন্ধ করেছে। আজকেও টেলিভিশনে দেখলাম যে আমাদের দেশে ঐ স্লোগান নিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে এবং বিজ্ঞাপনেই দেখাচ্ছে একই স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের উপর গবেষণা করে না-কি ঐ ফল পাওয়া গিয়েছে। তাহলে কি হরলিকস্ ইয়াবা’র মতই একটা ড্রাগ! যেটা তৈরী কারা হয়েছে আমাদের বাচ্চাদের মোটা তাজা করার জন্য!!

মোটা তাজার কথা বলতে গিয়ে মনে পড়ে গেলো যে আমাদের গ্রামে বেশ কয়েকটি Beef Fattening (গরু মোটাতাজা করণ) প্রকল্প রয়েছে। সেখানে ছয় থেকে সাত মাস বয়সের বাচ্চা গরু কেনা হয় এবং এক থেকে দেড় বছর ধরে যত্ন নেয়া হয়, ভালো ভালো খাবার দেয়া হয় এবং খাবারে মেশানো হয় ইউরিয়া সার। যারা ইউরিয়া সার সম্পর্কে জানেননা, তাদের একটু সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেই। এটি একটি খুব শক্তিশালী সার। আমি যতদুর জানি, মাটিতে এই সারের প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ/ফসল দ্রুত বেড়ে উঠে আর তাই এই সার ব্যপকহারে এই উপমহাদেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। একটা বাঁধাকপি বা একটা টমেটো গাছের জীবনে ৩/৪টা ইউরিয়া সারের দানাই যথেষ্ট। তো ঐ গরু মোটাতাজা করণ প্রকল্পের খাবারে একটি গরুকে সপ্তাহে ২টি দানা খাওয়ানো হয়, এবং সেটাই না-কি ভীষণ কাজ করে গরুর বেড়ে এবং শক্তিশালী হয়ে ওঠায়!

উপরের বিশ্লেষণটি দেবার কারণ এই যে, যদি হরলিকস্ খাইয়েই বাচ্চাকে লম্বা, কঠিন এবং ধুর্ত করতে হবে, তাহলে এত টাকা দিয়ে হরলিকস কেনার দরকার কি, ইউরিয়া সার খাওয়াই।

আমাদের বিজ্ঞাপণে কি দেখায় আর কি বলে, ৯৯% মানুষ লক্ষ্য করেনা। এক সময় বলা হতো, “লেমন ডিউ সাবানে রয়েছে প্রকৃতিক উপাদান অয়েল-অফ-কেট।” যার বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায় Oil-of-Cat, তার মানে লেমন ডিউ সাবানে বিড়ালের চর্বি রয়েছে এবং সেটা প্রাকৃতিক। হাঃ হাঃ হাঃ

যাই হোক, আমরা অনেকে বুঝলেও কিন্তু প্রকাশ করতে পারি না। আমি বুঝেছি, আমার এই লেখার পাঠকেরা বুঝেছে, কিন্তু বলবে কাকে? আমাদের কথা শুনবে কে। এই লেখাও পেছনের পাতায় হারিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতের নতুন পাঠকেরা জানবেও না যে এরকম একটা লেখা ছিলো। আমরা কোনোদিন কিছুই করতে পারবো না এরকম বিষয়গুলি নিয়ে।

তাহলে একটা গল্প বলে শেষ করি। বাসের এক সিটে দুই জন যাত্রী বসে আছেন। একজন এমনি বসে আছেন এবং আরেকজন সিগারেট টানছেন। অপর যাত্রী সিগারেটখোরকে বাসের ভেতরের একটি সতর্কবার্তা লেখা দেখিয়ে দিয়ে বললেন, “ভাই দেখেন না, লেখা আছে, ধূমপান নিষেধ?” সেটা শুনে সিগারেটখোর আরেকটি সতর্কবার্তা লেখা দেখিয়ে দিয়ে বললেন, “আপনার কোনো অভিযোগ থাকলে চালককে বলুন।” সেটা দেখে অপর যাত্রী চালকের কাছে গিয়ে বলছে, “চালক ভাই, আমার পাশের সিটের ঐ ভদ্রলোক ধূমপান করছেন এবং আমার সমস্যা হচ্ছে, আপনি একটু বিষয়টা দেখবেন।” তাই শুনে চালক বাসের ভেতরের আরেকটি সতর্কবার্তা লেখা দেখিয়ে দিয়ে বললেন, “চলন্ত গাড়ীতে চালকের সাথে কথা বলবেন না।”

কলসেন্টারের নামে কেউ যেন প্রতারিত না হন?

13 রবিবার এপ্রিল 2008

Posted by Omi Azad in টেলিকম, বাংলাদেশ, মন্তব্য

≈ 10 Comments

Tags

Bangladesh, Call, Center, India, UK, USA, আমেরিকা, ইন্ডিয়া, কল, বাংলাদেশ, ব্যবসা, ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সেন্টার

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে মাঝেমধ্যে যেমন হইহই পড়ে যায়, একইভাবে প্রযুক্তি খাতেও মাঝেমধ্যে রইরই পড়ে যায়। আর সেই সুযোগে ঘোলা পানিতে কেউ কেউ আমাদের অসহায় মানুষগুলোকে ঠকিয়ে প্রচুর টাকা বানিয়ে সটকে পড়েন। বর্তমান সময়ে আবার তেমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকার বাংলাদেশে কলসেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য লাইসেন্স প্রদান করতে যাচ্ছে; এবং বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হচ্ছে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ শত কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে সক্ষম হবে। এমনও বলা হচ্ছে, এটি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে ছাড়িয়ে যাবে। এ ধরনের কথা প্রচারিত হওয়ার পর, অনেকেই ই-মেইল ও ফোন করে জানতে চেয়েছেন, কীভাবে তাঁরা এই শত কোটি ডলারের ভাগিদার হতে পারেন। তাঁদের জন্য এই কলসেন্টার ব্যবসার কিছু দিক তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির ইতিহাস বেশি দিনের ইতিহাস নয়। আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে কম্পিউটার জনপ্রিয় হতে শুরু করে। আর নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকেই দেশে একটি হুলস্থুল পড়ে যায় এই বলে যে, বাংলাদেশ ডাটা এন্ট্রি কাজ করে কোটি কোটি ডলার উপার্জন করতে পারে। সেই হইহই মিছিলে আমরা অনেকেই যোগ দিয়েছিলাম। দীর্ঘ এক দশক ধরে সেটা চলল। তখন বলা হলো, দেশে সাবমেরিন কেব্ল নেই। তাই এই ব্যবসাটি ঠিকমতো হচ্ছে না। অনেকে বললেন, যদি ভিস্যাট উন্নুক্ত করে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা সেই ব্যবসা করতে পারব। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে ভিস্যাট উন্নুক্ত করে দেওয়া হলো। কিন্তু আমাদের সেই ডাটা এন্ট্রি ব্যবসার কিছুই হলো না। অনেকেই ভিওআইপির (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট) ব্যবসা শুরু করে দিলাম। দেশ কোটি কোটি ডলার উপার্জনের বদলে হাজার কোটি ডলার হারিয়ে ফেলল।

ডাটা এন্ট্রির স্বপ্ন শেষ হওয়ার পর শুরু হলো মেডিকেল ট্রান্সক্রিপ্টের ব্যবসা। আমেরিকার ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্র ক্যাসেট থেকে শুনে শুনে কম্পিউটারে এন্ট্রি করার কাজ হলো এটি। আমরা সেটাও করতে পারিনি। কিন্তু এই ডাটা এন্ট্রির কাজে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে, এই কথা বলে হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলো। বেশ কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি পার্টনার নিয়ে সেই লুটপাটে অংশ নিল।

তারপর এই শতকের শুরুতে শুরু হলো সফটওয়্যার রপ্তানির ব্যবসা। কিছু কিছু লোক বাজারে প্রচার করতে শুরু করল, বাংলাদেশ সফটওয়্যার রপ্তানি করে ভারতের মতো শত কোটি ডলার উপার্জন করতে পারে। পুরো জাতি তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ল। কয়েকটি ভারতীয় প্রশিক্ষন কেন্দ্র বাংলাদেশে এসে পাড়ায় পাড়ায় দোকান খুলে বসল। তারপর আমাদের হাজার হাজার মানুষকে ঠকিয়ে তারা কোটি কোটি টাকা নিয়ে এই দেশ থেকে চলে গেছে।
এখন কলসেন্টারের নামে আবারও শত কোটি ডলারের স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে দেশের মানুষকে। কয়েকটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে ঘোরাঘুরি শুরু করেছে। যাঁরা ভাবছেন কয়েকটি টেলিফোন লাইন আর ইন্টারনেট নিয়ে কিছু স্নার্ট ছেলেমেয়েকে বসিয়ে দিলেই একটি কলসেন্টার করা যাবে, তাঁরা একটি মূর্খ গন্ডির ভেতর বাস করছেন। বর্তমান সময়ের কলসেন্টারকে আর কলসেন্টার বলা হয় না, বলা হয় কনটাক্ট সেন্টার। আর এগুলো এখন হয়ে গেছে আরো পরিশীলিত। এখন আর শুধু কথা বলে কলসেন্টার হয় না, সেখানে যোগ হয়েছে ডাটা, ভিডিও, চ্যাট, পুশ টু টক, কল-ব্যাক, প্রেজেন্স ইত্যাদি। বাংলাদেশে কনটাক্ট সেন্টার ব্যবসার বড় চ্যালেঞ্জগুলো উল্লেখ করছি।

  • প্রথম সমস্যা হলো সময়। আমরা এই ব্যবসায় অনেক দেরিতে নামতে যাচ্ছি। এই ব্যবসায় ভারত, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ইত্যাদি দেশ অনেক দুরে চলে গেছে। ওই সব দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন নতুন করে ব্যবসায় নামতে গেলে প্রচন্ড প্রতিযোগিতায় পড়তে হবে। সেই প্রতিযোগিতায় থেকে কোনো ক্রেতা জোগাড় করা খুবই কঠিন হবে।
  • দ্বিতীয় সমস্যা হলো, রাজনৈতিক। কলসেন্টার হলো একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা। ওখানে সেবা গ্রহণকারীর সমস্যা তখনই সমাধান করে দিতে হবে। কোনো একটি কলসেন্টার যদি রাজনৈতিক ডামাডোলের কারণে কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকে, তাহলে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কলসেন্টার রাখবে না। কলসেন্টার প্রতিষ্ঠার আগেই এগুলো পরীক্ষা করা হবে। আর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ব্যাপারে আমাদের মোটেও সুনাম নেই।
  • তৃতীয় সমস্যা হলো, টেলি-যোগাযোগ। বর্তমানে বাংলাদেশে যে অপটিক্যাল ফাইবার আছে, সেটা প্রায়শই কাটা পড়ে। আর সেটা ঠিক করতে অনেক সময় এক দিন লেগে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কলসেন্টার ভারত কিংবা বাংলাদেশে হলেও, ‘ডাটা সেন্টার’ কিন্তু আমেরিকাতেই থাকবে। তখন দ্রুত গতির ইন্টারনেট না থাকলে কলসেন্টারগুলো ব্যর্থ হবে। যতদিন এই যোগাযোগব্যবস্থা ১০০ ভাগ নিশ্চিত না হচ্ছে, ততদিন এই ব্যবসা সফলতা লাভ করবে না।
  • চতুর্থ সমস্যা হলো, ভালো ইংরেজি জানা লোকবল। ভারতের একটি বড় সুবিধা হলো, তাদের ইংরেজি জানা বিশাল জনগোষ্ঠি। ভারতের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, যোগাযোগব্যবস্থা আর ইংরেজি জানা ছেলেমেয়ের প্রতুলতার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনোভাবেই তুলনা করা যাবে না। কলসেন্টারগুলো এশিয়াতে যায় মূলত আমেরিকা, ইউরোপ আর অস্ট্রেলিয়া থেকে। আমেরিকার ইংরেজি আমরা অনেকটা বুঝলেও, ব্রিটিশ আর অস্ট্রেলিয়ার ইংরেজি বোঝা এবং একই তালে কথা বলাটা তিন মাসের ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে সম্ভব নয়। তাই যাঁরা এই ব্যবসায় নামছেন, তাঁদের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকতে হবে।
  • পঞ্চম সমস্যা হলো, বিদ্যুৎ। যদি জেনারেটরের তেল পুড়িয়ে কলসেন্টার চালাতে হয়, তবে খরচ বেড়ে যাবে। আবার যদি সাবমেরিন কেবলের পাশাপাশি ভিস্যাট রাখতে হয়, তাহলেও সেটা ব্যয়সাপেক্ষ হবে। যদি ভিস্যাট দিয়ে কেউ কলসেন্টার চালাতে পারত, তাহলে এতদিনে বাংলাদেশে কলসেন্টার চলে আসত।
  • ষষ্ঠ সমস্যাটি হলো, আকার। এই ব্যবসাটি কিন্তু আকারের ওপর নির্ভরশীল। এখানে ১০-১৫ জন মানুষ খাটিয়ে খুব একটা সুবিধা হবে না। আমেরিকাতে একেকটি কলসেন্টারে তিন-চার হাজার লোক কাজ করে। বাংলাদেশে তত বড় না হলেও, দুই-তিন’শ লোকের ব্যবস্থা না হলে, সেটা ব্যবসায়িকভাবে সফল হবে বলে মনে হয় না।
  • সপ্তম সমস্যাটি হলো, সেবার মনোভাব। সেবা যে একটি পণ্য, এই ধারণাটিই আমাদের ভেতর এখনো ভালোভাবে জন্ন নেয়নি। তার ওপর আছে সরকারি খবরদারি আর চাঁদাবাজি (সরকারি ও বেসরকারি)। এমন ধরনের পরিবেশে সেবাশিল্প প্রসার হয় না।

দেশে যদি সত্যি সত্যি তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে সুবিধা নিতে হয়, তাহলে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। আর সেই পরিকল্পনাকে সবাই মিলে বাস্তবায়ন করতে হবে। সকল সরকারকে সেটার পেছনে সমর্থন দিতে হবে। এমন একটি জোরালো প্রতিজ্ঞা না থাকলে, বারবার এমন হুজুগ তৈরি হবে, আর কিছু তস্কর এসে আমাদের নিরীহ মানুষগুলোকে লোভ দেখিয়ে পকেট খালি করে নিয়ে যাবে।

তবে অসম্ভব বলে তো কিছু নেই। আমি শুধু বলতে চাইলাম, কাজটি খুবই কঠিন। আর এই হুজুগে পড়ে কেউ যেন প্রতারিত না হন। চাকরির ট্রেনিং, ব্যবসার ট্রেনিং কিংবা যেকোনো কিছু করার আগে, একটু বুঝেশুনে নেবেন। আর কেউ এটাকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে প্রতারিত করছে কি না সেটা সরকারের পক্ষ থেকে একটু খেয়াল রাখতে পারলে ভালো।

জাকারিয়া স্বপন: তথ্য প্রযুক্তিবিদ
সিলিকন ভ্যালি, যুক্তরাষ্ট্র
zs [এট] zswapan.com

পৃথিবীর মানুষ ভোলেনি আমাদের ভাষাকে

21 বৃহস্পতিবার ফেব্রু. 2008

Posted by Omi Azad in বাংলাদেশ

≈ 1 Comment

Tags

21 February, Bangla, Bangladesh, Bengali, International Mother Language Day

আজকে একুশে ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলা ভাষাকে বাংলাদেশের বাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে দাবি জানিয়েছিলেন আমাদেরই ভাইরা এবং রক্তের বন্যা বয়ে গিয়েছিলো সেই দিনে। আমরা বাংলা ভাষা পাই এবং পরে এই দিনটিকে বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয় উইনেসকো। বিস্তারিত জানা যাবে এখানে।

আজে উইকিপিডিয়ার প্রথম পাতায় গিয়ে আমার ভালো লাগে যে তারা সত্যই আমাদের এই ত্যাগের মর্যাদা আছে। সত্যই আজকে আমরা গর্বিত এই ভাষায় কথা বলতে পেরে, আমরা গর্বিত এই ভাষার দেশে জন্ম নিয়ে।

Wikipedia

শহীদ ভাইরা তোমাদের সালাম জানাই….

অপটিক্যাল ফাইবার নিয়ে এই ষড়যন্ত্র কিসের?

08 শুক্রবার ফেব্রু. 2008

Posted by Omi Azad in টেলিকম, বাংলাদেশ, মন্তব্য

≈ 7 Comments

বেশ কিছুদিন হলো আমাদের ইন্টারনেট সংযোগের মেরুদন্ড SE-ME-WE-4 নামের ফাইবার অপটিকটি কাটা পড়েছে। এরই মধ্যে পত্রপত্রিকার মাধ্যমে সবাই সেই খবর জানে। প্রথমে জানা গেলো যে সেটা একটি নোঙ্গরের আঘাতে কেটেছে, মিশরের কাছাকাছি সমুদ্রে। পরে সেটা ঠিক করতে গিয়ে আবার আরেক স্থানে কাটা পড়লো। এবারও ঠিক করা হলো সংযোগ, আবার কাটা পড়লো এবং ক্ষত স্থান খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিলো না।

কিছুক্ষণ আগে আমার ইন্টারনেটের গতি ভালো হয়ে গেলে আমি Google.Com কে ping করে দেখি জবাব আসার সময় 303ms যেটা তার আগে ছিলো 3000ms এর চাইতে বেশী। আবার google.com কে Trace Route করে দেখি SingTel দিয়ে ঘুরে ট্রাফিক যাচ্ছে না, সুতরাং আমাদের লিঙ্কের সমস্যা মিটে গেছে মনে হলো। কিন্তু আধা ঘন্টা যেতে না যেতে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসলো। তাহলে কি আবার ফাইবার কাটা পড়লো?

তৃতীয়বারের মতন এই সংযোগ ঠিক করার সাথে সাথে আবার চতুর্থবারের মতন কাটা পড়লো এই মহামূল্যবান যোগাযোগের মাধ্যম। তাহলে এসব কি হচ্ছে! ওদিকে মিশরের যোগাযোগ মন্ত্রী বলেছেন যে যখন এই মাধ্যম জাহাজের নোঙ্গরের আঘাতে কাটা পড়ে, তখন তার জানা মতে উক্ত এলাকায় কোনো জাহাজ ছিলো না (!)
প্রথমবার এই মাধ্যম কাটা পড়লে আমি এই খবরটি পাই, এবং আমার ব্লগে প্রকাশ করি। বাকী কথায় যাবার আগে এই মাত্র বিডিনিউজটুয়েন্টিফোরে আসা একটি খবর শেয়ার করতে চাই। Continue reading »

ওয়েবে ভোটার তালিকা তথ্য সংশোধনের সুযোগ

25 শুক্রবার জানু. 2008

Posted by Omi Azad in টিউটোরিয়াল, বাংলাদেশ

≈ 50 Comments

তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে চলছে। এ কথা বোঝা যায় ওয়েবসাইটে ভোটার তালিকা প্রকাশ ও সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ইন্টারনেট, অনলাইন ও ওয়েবসাইটের ব্যবহার আমাদের দেশে দিন দিন বাড়ছে। একজন ভোটার এখন www.voterlist.gov.bd ঠিকানার ওয়েবসাইটে ঢুকে তাঁকে দেওয়া পিন বা ব্যক্তিগত পরিচিতি নম্বর, জন্ন তারিখ এবং ওয়েব পাতায় থাকা নিরীক্ষা সংকেত লিখে তার নিজের ভোটারসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে দেখতে পারবেন। আর তথ্য-সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের ত্রুটি সংশোধনের জন্য তিনি ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই অনুরোধ করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন একটি শুদ্ধ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির লক্ষ্যে এই ওয়েবসাইটটি প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটি বিডি ডট কম যৌথভাবে এ সাইটটি তৈরি করেছে।

এই সাইটে জন্নতারিখ কীভাবে লিখতে হবে তার একটি নমুনা দেওয়া থাকলেও পিন কীভাবে লিখতে হবে তার কোনো নির্দেশনা নেই। অর্থাৎ ১৭ সংখ্যার এই নম্বর কি একটানা লিখতে হবে নাকি যেভাবে কাগজে ফাঁক দিয়ে দিয়ে নম্বর সরবরাহ করা হয়েছে, সেভাবে লিখতে হবে তার কোনো নির্দেশনা নেই। তবে সাইটটিতে ঢুকে দেখা গেছে একটানা এই নম্বর লিখেই ভোটারের তথ্য পাওয়া যায়। এ প্রতিবেদক লেখার সময় (২৩ জানুয়ারি) এই সাইটে ঢাকা মহানগরীর উত্তরা, উত্তরখান, ক্যান্টনমেন্ট, কোতোয়ালী, তেজগাঁও, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, শাহবাগ, সুত্রাপুর ও হাজারীবাগ থানার ভোটার দের তথ্য পাওয়া গেছে।

নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট রয়েছে। সেই ওয়েবসাইটটি সবার পরিচিতও বটে। গুগলে বা অন্য কোনো সার্চ ইঞ্জিনে ‘ইলেকশন কমিশন বাংলাদেশ’ লিখে তথ্য খুঁজলে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটটি পাওয়া যায়। কিন্তু ভোটার তালিকা সংশোধনের ওয়েবসাইটটির ঠিকানা সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে বের করতে না পেরে, খবরের কাগজ থেকে ঠিকানাটি সংগ্রহ করতে হয়েছে। অন্ততপক্ষে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ভোটার তালিকা সংশোধন-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের একটি সংযুক্তি (লিঙ্ক) থাকা দরকার। এটি কিন্তু স্বাভাবিক নিয়মেই থাকার কথা, যেহেতু ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা নির্বাচন কমিশনের একটি কাজ। যত দিন ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলবে, তত দিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের প্রথম পাতায় দৃষ্টিগোচর করে ভোটার তালিকা সংশোধনের ওয়েবসাইটের ঠিকানাটি এখন থেকেই থাকা দরকার।

পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ভোটার তালিকার জন্য ছবি তোলা, আঙ্গুলের ছাপ দেওয়ার কমবেশি ১৫দিন পর ওয়েবে ভোটারের তথ্য পাওয়া যাবে। ওয়েবে প্রকাশের পর ১৫ দিন পর্যন্ত ভোটার অনলাইনে তাঁর তথ্য সংশোধনের সুযোগ পাবেন।
ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেল, তাঁদের কেউ কেউ পত্রিকায় খবরটি পড়েছেন, আবার অনেকেই পড়েননি। এ অবস্থায় যাঁরা পত্রিকা পড়েন না, তাঁদের জন্য বেতার এবং টেলিভিশনে যেমন ভোটার তালিকা ওয়েবে সংশোধনের বিজ্ঞপ্তিটি প্রচার হওয়া দরকার, তেমনি একজন থেকে অন্যজনের মুখে মুখে তথ্যটি ছড়িয়ে পড়ার জন্য হলেও কিছুটা সময় দেওয়া দরকার। তা ছাড়া কেউ যদি হ্যাক করতেই চায়, তার জন্য ২৪ ঘণ্টাই যথেষ্ট, ১৫ দিন নয়।

ওয়েবে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই সুযোগ আপাতত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ভোটারদের জন্য উন্নুক্ত করা হলেও এটি পর্যায়ক্রমে সকল জেলা ও উপজেলার জন্য চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। একজন ভোটার যদি দেখেন যে প্রকাশিত তথ্যে কোনো ধরনের ভুলত্রুটি রয়েছে, তবে তিনি শুদ্ধ তথ্যসহ ভুলের বিষয়টি মন্তব্যের ঘরে উল্লেখ করতে পারবেন। তবে তিনি নিজ হাতে মূল তথ্যভান্ডার (ডেটাবেইস) কোনো তথ্যই সংশোধন করতে পারবেন না। তিনি ভুলগুলো উল্লেখ করে দেওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন কমিশন সেই ভুলগুলো সংশোধন করে তাঁর জন্য নির্ধারিত ওয়েব পাতাটি হালনাগাদ করবে। সর্বশেষ হালানাগাদ সম্পর্কে একজন ভোটার জানতে পারবেন কি না সে সম্পর্কে কোনো কিছু ওয়েবসাইটে বলা নেই।

এই ওয়েবসাইটটি বাংলা ভাষায় প্রস্তুত করা হয়েছে, যা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। আর যে কাজের জন্য সাইটটি, অর্থাৎ ভোটারের তথ্য জানা সে কাজটি খুব দ্রুত হয় এতে।
উৎস: দৈনিক প্রথম আলো
লেখক: মোহাম্মদ গোলাম নবী
লেখকের সাথে যোগাযোগ ই-মেইল: gnabi1969@yahoo.com

আপডেট: আমি একটা নুতন ওয়েব সাইটের সন্ধান পেলাম, সেখানে না-কি ভোটারের তথ্য পাওয়া যায়। আরও জানতে দেখুন: http://www.becvoterlist.com/

← Older posts
Newer posts →

Categories

  • অ্যানড্রোয়েড
  • আইটি বিশ্ব
  • ই-কমার্স
  • উদ্ভট
  • ওপেন সোর্স
  • গল্প টল্প
  • গান বাজনা
  • গুগল্
  • গ্যাজেট
  • টিউটোরিয়াল
  • টেলিকম
  • বাংলা কম্পিউটিং
  • বাংলাদেশ
  • ব্যক্তিগত
  • মন্তব্য
  • মাইক্রোসফট
  • রিভিউ
  • সফটওয়্যার রিভিউ

Recent Posts

  • ডাক্তার শায়লা শামিম ও মনোয়ারা হাসপাতালের অভিজ্ঞতা
  • ই-কমার্স – বাংলাদেশ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ!
  • Install Google Apps and Play Store on Nokia X, X+ and XL
  • মাইক্রোসফটের কাছে পাওয়া শেষ চেক্!
  • Root Walton Walpad 8b, Walpad 8w, Walpad 8 and Walpad 7

Proudly powered by WordPress Theme: Chateau by Ignacio Ricci.