রবি নিজেই জ্বলতে পারছেনা আপন শক্তিতে

Tags

, , , , , ,

না রবি (সুর্য)-এর কথা বলছিনা। বলছি আমাদের মোবাইল কোম্পানি রবি আজিয়াটা বাংলাদেশ-এর কথা। এই বছর দু’টো মোবাইল অপারেটর তাদের নাম সহ নানান পরিকল্পনা পরিবর্তন করে নতুনভাবে গ্রাহকদের কাছে উপস্থিত হয়েছে। একটেল হয়েছে রবি আর ওয়ারিদ হলো এয়ারটেল।

একটেলের অনেকেই আমি চিনি, তাদের নাম বা ব্র্যান্ড পরিবর্তনের পেছনে যুক্তি ছিলো, একটেলের কোনো ব্র্যান্ড স্লোগান ছিলোনা, ছিলোনা ব্র্যান্ডের সত্ত্বা বা পরিচয়। যেমন সিটিসেলের আছে Because We Care বা গ্রামীণফোনের আছে, কাছে থাকুন ইত্যাদী। একটেলের কিছু না থাকায় তারা না-কি নতুন করে তাদের ব্র্যান্ডকে ঢেলে সাজালো। রবি নাম দিয়ে তাদের ব্র্যান্ডের স্লোগান হয়েছে জ্বলে উঠুন আপন শক্তিতে।

আমি গত কয়েকদিন থেকে পত্রিকায় লাল বা টেলিভশনের কোনায় লাল রঙ দেখে বুঝছিলাম যে এয়ারটেল আসছে। কি মনে করে রাত বারোটার পরে আমার বৌ-এর মোবাইলটা বন্ধ করে চালু করতেই দেখি airtel হয়ে গ্যাছে। সাথে সাথে আমারটাও বন্ধ করে চালু করলাম, সেটাও airtel হয়ে গ্যাছে। শুধু অপারেটর লোগো না, ভেতরে যে ওয়ারিদ মেন্যু ছিলো, সেটা airtel Live হয়ে গ্যাছে।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো একটেল ২৮ মার্চ ২০১০ তারিখে রবি হয়েছে, আজ পর্যন্ত তাদের নাম মোবাইলে আসলোনা, মানে মোবাইলে রবি জ্বললো না! সেবা টেলিকম যখন বাংলালিঙ্ক হলো, তখনো দু-তিন মাস সেবা লেখা ছিলো, কিন্তু পরে তা ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু রবি’র রবি জ্বলবে কবে? যে নিজেই জ্বলতে পারলোনা, সে অন্যদের কি জ্বালাবে!

২০১০ কুরবানী ঈদ যাত্রা, এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা!

আমার GPS অনুযায়ী আমার উত্তরার (ঢাকা) বাসা থেকে দিনাজপুরের বাড়ীর দূরত্ব ৩২৩.২ কিঃমিঃ, এবার ঈদে আসতে মোট সময় লেগেছে ৯:০৪ ঘন্টা, আমার গাড়ীর সর্বোচ্চ গতি ছিলো ১২০.০ কিঃমিঃ/ঘন্টা এবং এই যাত্রায় আমার গতি ছিলো গড়ে ৩৫.৯ কিঃমি/ঘন্টা। যদিও ঢাকা থেকে বগুড়া আসতেই লেগেছে ৬ ঘন্টার মতো আর গতি ছিলো গড়ে ২০.০ কিঃমিঃ/ঘন্টা।

এবারের যাত্রাটা একটু অন্যরকম আমার জন্য। আমি প্রথম গাড়ী নিয়ে বাড়ীতে ঈদ করতে আসলাম। তাছাড়া আমি প্রথম ঈদে যাত্রা দিনের বেলায় করলাম। মাঝখানে একদিন হরতাল হওয়ায় রাস্তায় যানবাহনের চাপ একটু বেশী হবে বলে মনে করেছিলাম কিন্তু আমি সেরকম একটা সমস্যায় পড়িনি।

দিনের বেলায় যাত্রা করার জন্য যে অভিজ্ঞতাটা হলো, সেটাই সবার সাথে শেয়ার করতে এই ব্লগ লেখা। আমরা গাজীপুর বাইপাসে ঢুকলাম প্রায় সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে। ঐ সাত সকালে রাস্তার বাম দিকে শত শত নারী, পুরুষ, শিশু অপেক্ষায় রয়েছে যদি একটা বাহন পাওয়া যায় ঈদের গন্তব্যে পৌছাবার জন্য। কিছুদূর পার হতে আমার উপলব্ধি হলো আমরা রাস্তায় তেমন কোনো বাস দেখিনি, শুধু দেখেছি ট্রাক ভর্তি মানুষ। বুঝলাম এই ট্রাকগুলি গরু নিয়ে এসেছিলো ঢাকায় এবং এখন মানুষ নিয়ে ফিরে যাচ্ছে। উপরের ছবিটা তোলা হয়েছিলো যমুনা থুক্কু বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে। আমরা সেতু পার হতেই আর চলার অবস্থা রইলো না, জ্যামের মধ্যে বিশাল ট্রাকের বহর, মানুষ ভর্তি ট্রাক আর ট্রাক।

হরতালের কারণে এক দিন যান চলাচল না করায় এই মানুষগুলি ঘরে ফেরার জন্য আর কোনো স্বাভাবিক বাহন না পেয়ে গরুর ট্রাকে ভর করেছে সম্ভবত আগেরদিন রাতে। পুরুষের পাশাপাশি আছে শিশু এবং নারী। আমি জাতের কোনো ক্যামেরা সাথে নিয়ে না যাওয়ায় ঠিক মতো ছবি তুলতে পরিনাই মানুষের দূর্ভোগের। প্রায় ৭-৮ কিঃমিঃ জুড়ে ট্রাক আর ট্রাক ভর্তি মানুষ, ট্রাকের উপরে মাল, মালের উপরে মানুষ।

আমার বিশ্বাস এসি রুমে বসে থাকা আমাদের নেত্রী-নেতারা এই সব দৃশ্য দেখতে চাননা। তাই ঈদের মতন একটা সময়ে বিরোধী দল হরতাল দিয়ে বসে থাকেন, আর সরকারী দল একটু সবুর করতে পারেননা প্রতিশোষ নেবার। আমার ভাষা নাই এদের বা এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করার!

সিটিসেল কি মনে করে পাবলিক ঘাস খায়?

Tags

, , , , ,

আমার ধারণা সিটিসেল এখনো মনে করে পাবলিক ঘাস খায় এবং কিছুই বোঝেনা। অনেকদিন আগে বিষয়টা লক্ষ্য করেছিলাম, কিন্তু শেয়ার করা হয়নি। আজকে ফেইসবুকে সিটিসেলের বিজ্ঞাপণ দেখে আবার বিষয়টা মনে পড়ে গেলো, তাই শেয়ার না করে পারলাম না।

আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন যে সিটিসেল এখন একসাথে দুটো ডাটা সেবা চালিয়ে যাচ্ছে একটা হলো যুম, অন্যটা যুম আল্ট্রা। সিটিসেলের এই রোগ অনেক পুরাতন, তারা যখন সিডিএমএ প্রযুক্তিতে যায়, তখন একসাথে সিডিএমএ এবং এম্পস্ দুটোই চালাতো। যাই হোক, এবার আসল কথায় আসি। যুমের গতি 150 kb/s সর্বোচ্চ এবং যুম আল্ট্রার গতি 512 kb/s সর্বোচ্চ। কিন্তু আপনি চাইলেই যুম আল্ট্রা ব্যবহার করতে পারবেন না। প্রথমত আপনার ভৌগলিক অবস্থান আপনাকে বাঁধা দেবে (কারণ বাংলাদেশের সিমীত কিছু স্থানে আল্ট্রার সেবা আছে), দ্বিতীয়ত যুম আল্ট্রার প্যাকেজগুলি গতির উপরে ভিত্তি করে বিভিন্ন দামের হয়ে থাকে যা যুম থেকে বেশী।

গতি বেশী দিলে টাকা বেশী দিতে আমার ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা নাই, তাহলে সমস্যা কোথায়? সমস্যা হলো একই গতি নিয়ে আপনি শুধু নামের জন্য বেশী টাকা দেবেন। আর এজন্যই দেবেন, কারণ আপনি ঘাস খান! একটু বিশ্লেষণ করে দেই-

  • সিটিসেল যুম প্রিপেইডে তিনটি প্যাকেজ দিয়েছিলো, পে-পার মিনিট, 300MB বান্ডেল ও 1GB বান্ডেল। এই 1GB বান্ডেলের দাম মূল্য সংযোজন কর সহ হয় 316.25 টাকা, গতি 150 kb/s সর্বোচ্চ।
  • সিটিসেল যুম আল্ট্রা প্রিপেইডে বেশ কিছু প্যাকেজ আছে, এর মধ্যে একটি হলো Ultra 1 যার গতি 150 kb/s সর্বোচ্চ এবং ডাটা ট্রান্সফার লিমিট 800MB, মূল্য সংযোজন কর যুক্ত করার পরে যার দাম দাঁড়ায় 316.25 টাকা।

এখন আপনি যদি ঘাস না খেয়ে থাকেন, তাহলে বলুন যে একই টাকায়, একই গতিতে শ্রেফ নামের জন্য কেনো আপনি কম ডাটা নিবেন?

প্রাণ (চমৎকার একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত)

Tags

, , , ,

একটা জটিল রবীন্দ্রসঙ্গীত শেয়ার না করে পারলাম না। গ্যারি চিমেন নতুন এই সুর দিয়েছেন আর “প্রাণ” শির্ষক গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশী মেয়ে পলবাসা সিদ্দিক আর গানটি কিনতে পাওয়া যাচ্ছে আমাজনে। আসুন আগে গানটা শুনি।
[audio: http://omi.net.bd/files/media/GarrySchyman-Praan.mp3]

গানটির কথা:

ভুলবো না আর সহজেতে
সেই প্রাণে মন উঠবে মেতে
মৃত্যু মাঝে ঢাকা আছে
যে অন্তহীন প্রাণ
বজ্রে তোমার বাজে বাঁশি
সেকি সহজ গান
সেই সুরেতে জাগবো আমি

সেই ঝড় যেন সই আনন্দে
চিত্তবীণার তারে
সপ্তসিন্ধু দশ দিগন্ত
নাচাও যে ঝঙ্কারে
বজ্রে তোমার বাজে বাঁশি
সেকি সহজ গান
সেই সুরেতে জাগবো আমি

এই গানটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতাঞ্জলিতে লিখেছিলেন।

গানটির একটা ভিডিও আছে, যেটা দিয়ে আমি এই গানটির সাথে পরিচাত হয়েছিলাম, আপনারা ভিডিওটিও একবার দেখুন:

ম্যাট হারডিং, ৩৩ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক। ২০০৩ সালে অস্টেলিয়ায় একজন ভিডিও গেম ডিজাইনার হিসাবে কাজ করছিলেন। হঠাৎ চাকরী ছেড়ে দিয়ে নিজের জমানো টাকা নিয়ে এশিয়া ভ্রমনের জন্য বেড়িয়ে পরেন। পরিবারের এবং বন্ধুদের কাছে নিজের বর্তমান অবস্থান জানানোর জন্য নিজের ওয়েব সাইটে দিতে থাকেন ভ্রমনের সকল আপডেট তথ্য এবং ঘুরতে থাকেন এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। ভিয়েতনাম গিয়ে নিজের সাইটে আপলোড করেন, নিজের হাত-পা ছোড়াছুড়ি করা এক মজার নৃত্যের ভিডিও। ওয়েবে সেই অদ্ভুত মজার ভিডিও এক হাত, দুই হাত করে ছড়িয়ে পরে অনেক অনেক হাতে। এক সময় তা Stride gum এর নজর কাড়ে। বিজ্ঞাপনের কথা চিন্তা করে Stride gum থেকে তাকে সারা পৃথিবী ভ্রমন করে নুতন আরো ভিডিও তৈরীর প্রস্তাব দেয়া হয়। এই লোভনীয় প্রস্তাব ম্যাট গ্রহন করেন এবং শুরু করেন তার নুতন কাজ। ২০০৬ সালে ম্যাট ছয় মাসে সকল মহাদেশের ৩৯টি দেশ ভ্রমন করেন এবং তৈরী করেন Where The Hell Is Matt? নামের দুইটি ভিডিও। এই ভিডিওগুলোতে সে পৃথিবীর বিভিন্ন লোকেশনে একাই নেচেছেন। এগুলো ইউটিউবে প্রকাশিত হলে সে মোটামুটি খ্যাতি অর্জন করেন। এরপরে, ম্যাট আবার নুতন প্রস্তাব নিয়ে Stride gum এর কাছে যান। নুতন ভিডিওতে তিনি স্থানীয় জনগনকেও সম্পৃক্ত করতে চান। তার প্রস্তাবে সাড়াও মিলে যায়। এরপর আবার বেরিয়ে পরেন। ১৪ মাসে ৪২ টি দেশের স্থানীয় জনগনের সাথে নেচে তৈরী করেন Where The Hell Is Matt? (2008)। এটা ইউটিউবে প্রকাশিত প্রবল জনপ্রিয় একটি ভিডিও। আজ পর্যন্ত প্রায় পৌনে দুই কোটি বার এই ভিডিও দেখা হয়েছে। এই ভিডিওটি তারই সিকুয়্যাল।

ডাউনলোডকৃত ফাইলের চেকসাম পরীক্ষা করার টুল

Tags

, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

বিভিন্ন প্রয়োজনে আমরা ইন্টারনেট থেকে অনেক বড় বড় জিনিস ডাউনলোড করি। যেমন: সিডি/ডিভিডি/ব্লু-রে ডিস্ক ইমেজ বা বড় বড় জিপ/ড়ার ফাইল। অনেক সময় দেখা যায় ডাউনলোড করার পরে ডেটা রিড করা যায়না, বা এক্সট্রাক্ট করা যায়না, এরকম বিভিন্ন সমস্যা হয়। আমি একটা ডিভিডি’র ইমেজ ডাউনলোড করলাম, করে ডিভিডিতে বার্ণ করে দেখি ডাটা নষ্ট।

এই অসুবিধা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য বের হয়েছে চেকসাম পরীক্ষার টুল। ধরুন আপনি উবুন্টু লিনাক্সের একটি ডিভিডি ডাউনলোড করছেন, ডাউনলোডের ওখানেই দেখবেন SHA2, SHA1, MD5 নামের চেকসাম ফাইল দেয়া আছে। আপনি ডিভিডি ডাউনলোড করার পরে যদি চেকসাম মিলিয়ে দেখেন ডেটা ঠিক আছে কি-না, তাহলে আপনার ডিস্ক নষ্ট হবেনা।

কিন্তু লিনাক্সে কমান্ডলাইনে চেকসাম পরীক্ষা করা গেলেও উইন্ডোসে সহজ কোনো টুল নাই। কিছুদিন আগে মাইক্রোসফট চেকসাম পরীক্ষা করার একটা টুল দিলেও সেটা বন্ধুসুলভ না। উইন্ডোস ব্যবহারকারীরা গ্রাফিক্যাল জিনিসপত্র ব্যবহার করে অভস্ত, লিখে কি আর কাজ করা যায়!

আর সেরকম সুবিধা নিয়েই ফাইলের চেকসাম দেখার টুল Febooti fileTweak Hash & CRC, এটা ইনস্টল করে ফাইলের প্রোপার্টিজে গেলেই চেকসাম হিসাব করা যায়। আমার মতন আপনাদেরো টুলটা ভালো লাগবে।