প্রয় সাত বছর ধরে নোকিয়া ফোন ব্যবহার করছি। আর প্রায় ২.৫ বছর ধরে ব্যবহার করছি নোকিয়া E63. এর মাঝে আবার উইন্ডোস মোবাইল, আইফোন ব্যবহার করেছি, কিন্তু বেশীদিন ধরে রাখতে পারিনি। তা একরকম একঘেয়েমী চলে এসেছিলো নোকিয়া ব্যবহার করতে করতে।

আইফোনের আকার ভালো লাগেনি আর উইন্ডোস মোবাইল আর যেহেতু মাইক্রোসফট আর উন্নয়ন করবেনা, তাই ভাবলাম একটু এন্ড্রোয়েড ব্যবহার করে দেখি। কিনলাম Sony Ericsson X 10. চমৎকার সেট, দারুন ক্যামেরা। কিন্তু ঝামেলা হলো আসল ব্যবহারে। আপনি যদি জিমেইল ব্যবহার করেন, তাহলে ঠিক আছে, যদি অন্য কিছু ব্যবহার করেন তাহলেই ঝামেলা। আমার জন্য এক্সচেঞ্জ ছিলো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটার জন্য আবার থার্ড পার্টি এপ্লিকেশন ব্যবহার করতে হয়। এন্ড্রোয়েড অপারেটিং সিস্টেম এক্সপ্লোর করার জন্য ভালো, কিন্তু প্রফেশনালদের জন্য না। সবচাইতে করুণ হলো, এই জিনিসের কোনো সাপোর্ট নাই। X 10 এন্ড্রোয়েড ২.১ দিয়ে আসে এবং সনি বলে দিয়েছে যে তারা এটাতে ২.২ বা নতুন আপগ্রেড দেবে না। কি বিরক্তিকর!
QWERTY লে-আউটের প্রতি যেহেতু একটা দুর্বলতা ছিলোকিনলাম মটোরোলা চার্ম, মনেহয় জীবনে সবচাইতে বড় ভূল করেছিলাম এটা কিনে। ভাই একটা ফোনের যে কত সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে না এই ফোন না চালালে বোঝা যাবে না। আমার কাছে মনে হয়েছে এন্ড্রোয়েড ভালো, তবে যতটা বলে ততটা এখনো হয়ে ওঠেনি। সোজা কথা এটা নিয়ে খেলনা হিসেবে আপাতত ব্যবহার করা যায়, তবে এটা প্রফেশনাল কাজ করা যায় না।
এবার আসি উইন্ডোস ফোনের কথায়। পেশাগত কারনে বাভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে উইন্ডোস ফোন ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা আমার ভালো না। পরে আমি একটা ফোন উপহার হিসেবে পাই আমার ভার্টিক্যাল ম্যানেজারের কাছ থেকে। প্রথম কিছুদিন ব্যবহার করি নাই, যেই ফোনে নম্বর কপি/পেস্ট করা যায়না, সেটা ব্যবহার করার কোনো কারণ নাই!
হঠাৎ একদিন ফোন চালু করে দেখি দু’টো আপডেট এসেছে, এটাই সেই কপি-পেস্ট আপডেট + অনেক পারফরমেন্স ইম্প্রুভমেন্ট রয়েছে এই আপডেটে। আপডেট দুটি করার পরে আমি ব্যবহার করতে শুরু করলাম এবং আমার মোটামুটি মুগ্ধ।
প্রোফেশনালি একটা ফোন ব্যবহার করতে যা যা লাগে, এখান সব আছে। তবে হ্যাঁ অনেক কিছু আবার নাই! যেমন, মাইক্রোসফট অফিস আছে, কিন্তু কম্পিউটার থেকে একটা ফাইল নিয়ে যে কাজ করবো, সেই উপায় নাই! মেইলে আসা ফাইল বা শেয়ারপয়েন্টের ফাইল নিয়ে কাজ করা যায়। সবকিছু যেহেতু ক্লাউডে যাবে, সেহেতু এই কনসেপ্ট, কিন্তু আমরা যারা এখনো সেরকম ইনফ্রাস্ট্রাকচারে যাই নাই (বেশীরভাগ এন্ড ইউজারই যায়নি), তাই এটা একটা ঝামেলা বলে মনে হয়েছে আমার কাছে।
যাই হোক, আগে যেগুলি ভালো লেগেছে সেগুলি শেয়ার করি। দুর্দান্ত পারফরমেন্স, দারুন গ্রাফিক্স এবং গেইমের পারফরমেন্স। কিছু কিছু গেইম একই সাথে এক্সবক্স এবং ফোনে খেলা যায়। ফেইসবুকের সাথে ইন্টিগ্রশনটা জটিল, অন্য ফোনে এরকম এর আগে/এখন পর্যন্ত হয়নি। সোশাল নেটওয়ার্কিং এবং ইমেইলের সাথে সুন্দর কাজ করে। আমার দারুন লেগেছে।
যুন প্লেয়ার দিয়ে গান শোনার এক্সপিরিয়েন্স অসাধারণ। মিউজিম লাইব্রেরী যারা ঠিকমতন মেইনটেইন করেন, তারা মজা পাবে, আর যারা এলোপাথারি ইন্টারনেট থেকে গান ডাউনলোড করে শোনে, তাদের একটু ঝামেলাই মনে হবে 🙂
চার্জ মাত্র একদিন থাকে আর মার্কেটপ্লেস এখনো তেমন ফুলে ফেঁপে ওঠেনি। এছাড়া আমি খারাপ কিছু এখন পর্যন্ত দেখিনি। ডেভলপারদের জন্য প্রতি নিয়ত নতুন নতুন সুবিধা দিচ্ছে মাইক্রোসফট, যেমন আইফোনের এপ্লিকেশন কিভাবে উইন্ডোস ফোনে পোর্ট করবেন বা এন্ড্রোয়েড প্লাটফর্মের এপ্লিকেশন কিভাবে উইন্ডোস ফোনে পোর্ট করবেন ইত্যাদী নিয়ে কাজ করেই যাচ্ছে মাইক্রোসফট উইন্ডোস ফোন টিম। এই বছরের শেষের দিকে অসাধারণ সব ফিচার নিয়ে ম্যাঙ্গো আপডেট আসার কথা। ফোনের ডেভলপার এবং ব্যবহারকারী সবাই অধীর আগ্রহে ঐ আপডেটের জন্য অপেক্ষায় আছে!
এন্ড্রোয়েডের মতন উইন্ডোস ফোন অনেক ভেন্ডর তৈরী করে। কিন্তু সুবিধা একটাই, যে মাইক্রোসফট মিনিমাম কিছু প্রয়োজন বেঁধে দিয়েছে, এর বাহিরে কোনো ভেন্ডর যেতে পারবেনা। তাই একটা মিনিমাম কোয়ালিটি বজায় থাকছে। এন্ড্রোয়েডের সমস্যা হলে যে যার মত বানাচ্ছে এবং সাপোর্ট দিচ্ছে বা ইচ্ছা হলে দিচ্ছে না। এপল আই ফোনের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা নাই!
আমি এই পোস্টটি লিখেছি শুধু মাত্র নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য। তবে একটা মন্তব্য করতে চাই। একটা ফোন থেকে যদি সব পাওয়ার আগ্রহ থাকে, উইন্ডোস ফোন এখনো সেই পর্যায় যায়নি। খেলনা ফোন হিসেবে এন্ড্রোয়েড ব্যবহার করা যায়, তবে সবকিছু পেতে হলে আইফোনের বিকল্প আপাতত দেখছিনা। 🙂
আপাতত ৩টার কোনটাই কেনার টাকা নাই
আশাকরি ২-৪ বছর পরে নিজেই কিনতে পারবো, তখন ব্যবহার করে রিভিউ দিবো 🙂
lol nice talk. me has the same problem.
অমি ভাই ভাল লিখেছেন, যদিও অনেকের গালি খাবেন 🙂 আমি জানি আপনি সেইটার ধার ধারেন না এবং জেনে শুনেই লিখেছেন 😀
গালি খবো কি জন্য? এন্ড্রোয়েড নিয়ে লিখার জন্য না উইন্ডোস ফোন নিয়ে? উইন্ডোস ফোন এখনো তৈরী না, আর এন্ড্রোয়েড নিয়ে গুগল্ একটু হলেও হতাশ! যে পরিমাণ টাকা লগ্নি করেছে, তা থেকে লাভের মুখ আর দেখা যাচ্ছে না! 🙂
আইফোন তো আর কিনতে পারবো না, টাকায় গা কামড়াচ্ছে না আপাতত। WP7 ট্রাই করে দেখার ইচ্ছে আছে একবার। 6.1ভালো লাগে নাই। আপাতত স্যামসাং এর একটা এন্ড্রয়েড নেয়ার ইচ্ছে আছে।
Before buying the Androind phone, make sure the phone is running Android 2.3. Cause most of the vendors are not providing any update, say your phone is running Android 2.1, you will not be able to update to 2.3, which is pathetic 🙂
কি কারনে যেন এইটাতে আর চোখ পড়েনি। বলাও হয় নি।
শেষ মেষ Samsung Galaxy Ace (GT-S5830) কিনেছিলাম।
লুকটা একটু আইফোনিশ, কিন্তু কাজ করার জন্য মোটামুটি সবকিছুই আছে।
রিলিজ থেকে এটাতে ২.২ দেয়া থাকে, আমি যখন কিনি তখন ২.৩.৩ সহ পেয়েছি। এখন ২.৩.৫ চলছে। রিসেন্টলি খবর পেয়েছি এটাতে ICS (android 4.0) আপডেটও দেয়া হবে।
যেসব সুবিধা এখন পর্যন্ত পেয়েছিঃ
১) বাংলা চমৎকার সাপোর্ট। কিছু করতে হয় নি, ফন্ট এমনিতেই দেয়া আছে।
২) ব্যাটারী নিয়ে শান্তি, ২-৩ দিন চলে যায়।
৩) এক্সচেঞ্জ সার্ভার দেয়া আছে বিল্টইন।
৪) ক্যামেরা/ফ্ল্যাশ দুটাই ভাল।
রিসেন্টলি এটাকে আমি আমার ল্যাপটপের ওয়্যারলেস মাউস বানিয়ে নিয়েছি।
ল্যাপটপ চালু করতে পারা ছাড়া বাকি সব কাজই ওয়্যারলেসলি করা যায়। বিশেষ করে মিডিয়া কন্ট্রোল এবং মাউস কন্ট্রোল দুটাই চমৎকার।
আপনার ঐ totto পেয়ে অনেক ভাল lagse
মেহেদী ভাই গ্যালাক্সি এস আমিও কিনতে চাচ্ছিলাম, দাম কত পরছে? ওয়ারেন্টি ছাড়া কেনা কি ঠিক?কিনলে ২১০০০ পরে বোধ হয়। আর ১টা পরামর্শ দেন, galaxy tabকি laptoperমত কাজ করে? তাহলে android সেট + ল্যাপ্টপ আলাদা ভাবে না কিনে ১টা ট্যাব ১০.১ বা ৭ ” কিনতাম । সেটা কি ঠিক হবে? ট্যাব এ কি modem, pendrive , movie {dvd}থেকে, এগুলা use করা যায় ? যদি একটু idea দিতেন ভাল হত।
গ্যালাক্সি এস (Galaxy S) এবং গ্যালাক্সী এইস (Galaxy Ace) দুইটা ভিন্ন ফোন। কাজেই ঠিকভাবে না লিখলে কনফিউশন তৈরী হবে। আপনি যদি এইস কিনতে চান তাহলে কিনতে পারেন। ওয়ারেন্টি দরকার হবে কি হবে না সেটা আপনার ব্যাবহারের উপর নির্ভর করে। forum.projanmo.com এর এটা নিয়ে বেশ কয়েকটি আলোচনা ভিত্তিক টপিক রয়েছে, সেখানে দেখতে পারেন।
ওয়ারেন্টি সহ কিনতে সম্ভবত ২৮হাজারের মত লাগে। এক বছর পর্যন্ত এমনিতেই চলে যায়, তারপর ওই ওয়ারেন্টি ঠিক কি কাজে আসে আমি নিজেও বুঝি না।
আর ট্যাব আর ল্যাপটপ ভিন্ন জিনিস বিশেষ করে যদি এন্ড্রয়েড হয়।
গ্যালাক্সী ট্যাবে সম্ভবত ইউএসবি পোর্ট নেই, মডেম চালানোর কথা কেমনে বললেন বুঝি নাই। মুভি চালানো যাবে, কিন্তু ফরম্যাট কনভার্শন দরকার হতে পারে। এন্ড্রয়েডের সফটয়্যার গুলো ভিন্ন, অন্তত হুবহু এক নয়। যেহেতু এটা উইন্ডোজ নয়, কাজেই সেভাবে চিন্তা করলে হবে না। তবে বেসিক কিছু কাজের জন্য ট্যাব যথেষ্ঠ।
অনেক thanks । ভাই Galaxy Ace এর কথাই বলছিলাম। forum.projanmo.com এ দেখেছি। :] কিন্তু কোন নতুন পোস্ট লিখতে পারছিনা। কিছু নতুন গালাক্সী ট্যাব ১ এগুলোর জিএসএম,জিপিআরএস,এজ,৩জি কিছুই নাই। এগুলো কি ওয়াইমাক্স দিয়ে ব্যবহার করার জন্য? তাই মডেমের কথা বলেছি। [যেমন পিসি তে qubee] ব্যবহার করি তেমন করা যাবে কিনা ট্যাব এ? মোবাইল সিম দিয়ে ব্রাউজ একদম ভাল হয়না তাই ।
ভাইয়া যদি একটু বলতেন ট্যাব হিসেবে গালাক্সি ৭’কি ভাল হবে? আর দাম কেমন পরতে পারে?
check this : http://www.gsmarena.com/samsung_p6200_galaxy_tab_7_0_plus-4208.php
it has voice+3G+wifi.
Sajid Muhaimin Choudhury said:
I am using Nokia 710 (UK Firmware). It shows boxes instead of showing Bangla script. Is the Windows Phone 7 Bangla incompatible? If so, then it would be a terrible dissapointment, as Iphone and Android 4.0 support bangla display seamlessly.