কি বাজে একটা ইভেন্ট হতে পারে ভাবতে পারেন? আমি জানি যখন আপনারা এই লেখা পড়ছেন, মিডিয়াগুলি সফটএক্সপো’র গুণকীর্তন করতে করতে মানুষের মাথা নষ্ট করে রেখেছে। আমার মনেহয় শুরু থেকে শুরু করা উচিৎ যাতে সবাই বাস্তবের একটা ভালো ধারণা পায়।

স্থান – চীন মৈত্রী সন্মেলন কেন্দ্র: মেলা একটা ছাদের নীচে হলেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রনের বিন্দুমাত্র ব্যবস্থা নেই। তবে বেসিস বা তার সাথে জড়িত লোকজন যখন সেমিনার বা গোল টেবিল বৈঠক করবে, তখন সেই কক্ষগুলিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা আছে। তার মানে প্রদর্শনকারী এবং পরিদর্শক চুলোয় যাক, কিছু যায় আসে না। এই গরমের মধ্যে পাঁচদিন যে কিভাবে কেটেছে সেটা যারা গিয়েছে তারাই জানে। এক পর্যায় আমি বেসিসের একজনকে প্রশ্ন করলে উনি বলেন যে এই ইভেন্টট শীতের দিকে হবার কথা ছিলো এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক জটিলতার জন্য সময় গড়িয়ে গৃষ্মে চলে আসে, আর তাই তখন উনারা যে চুক্তি করেছিলো সেটাই বহাল আছে এবং সেজন্য শীত বা তাপ নিয়ন্ত্রনের কোনো ব্যবস্থা নেই। কি একটা lame excuse দেখালো! শুনলে লোম খাড়া হয়ে যায়।

এই স্থানটির আরও একটি বাজে দিক আছে, আর সেটা হচ্ছে বাহন। আপনি ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে সহজে আসতে পারবেন না। আপনাকে ফার্মগেটে নেমে অন্য ব্যবস্থা করতে হবে, যেটা খুবই বাজে একটা ব্যাপার। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল যখন মেলা করে, তখন ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ইভেন্টের স্থানে যাবার জন্য বাহনের ব্যবস্থা করে। আই এস পি এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ একবার মওলানা ভাসানী নভো থিয়েটারে মেলা করলো, তখন তারা ফার্মগেট থেকে বিশেষ গাড়ীর ব্যবস্থা রেখেছিলো। সফটওয়্যার বড়লোকদের বিষয় বলে হয়তো বেসিস এটা করেনি। 🙂

সম্ভাবনার মেলা: আমার প্রতিষ্ঠান সহ বাংলাদেশের [বাংলাদেশ এজন্য বললাম, যে আমরা বাংলাদেশ বলতে শুধু ঢাকা বুঝি, ঢাকা ঠিক তো গোটা বাংলাদেশ ঠিক 🙂 বাকীটা চুলায় যাক 😉 ] প্রায় সবগুলি সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এখানে অংশগ্রহণ করেছিল। আশা একটাই, ব্যবসা যদি পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবটা কিছুটা অন্যরকম। মানুষ এসে সফটওয়্যারের অনুসন্ধান করেছে ঠিকই, কিন্তু কতজন এগুলি কিনবে সেটা দেখার বিষয়। আমার কোম্পানীকে প্রায় ১০০ জন ব্যক্তি বা কোম্পানী অনুসন্ধান করেছে, এখন দেখি কতটুকু কাজ পায়।

মেলায় প্রতিটি সেমিনারেই সম্ভাবনার অনেক কথা বলা হয়েছিলো। অনেকগুলি শুনে আমাদের মনে হতে পারে যে আমরা এই মুহূর্তে সিলিকন ভ্যালি-তে আছি। আর বাংলাদেশে নেই।

আমরা নিজেই বুঝিনা আমাদের কি প্রয়োজন, একটা নাম শিখে গিয়ে সফটওয়্যার কিনতে চাই। একটা উদাহরণ দেই, গ্রামীণফোন ই আর পি সফটওয়্যার ব্যবহার করে, সেই সফটওয়্যার কি পপুলার গার্মেন্টস ব্যবহার করতে পারবে? তাহলে ই আর পি’র একটা স্টেন্ডার্ড হয় কিভাবে?

প্রয়োজনের চাইতে অপ্রয়োজনীয় লোকের সমাগম ছিল মেলায় সবচাইতে বেশী। মেলায় অনেক লোক, কিন্তু স্টলগুলিতে কেউ নেই। একজনের একটা মন্তব্য আমার বেশ ভালো লেগেছে, “হুজুগ আর কত!” 🙂 মানে সফটওয়্যার নামটার যে একটা হুজুগ সেটা মানুষ বুঝতে পেরেছে এবং অপ্রয়োজনে সময় নষ্ট করতে রাজি না কেউ। 🙂

আমাদের দেশে না-কি সফটওয়্যারের অনেক সম্ভাবনা। আমার মনে হয়না। এখনো এটা একটি শ্রেণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিদেশে রপ্তানীর মাধ্যমে অবশ্য একটা ভালো বানিজ্য হবার আশা সবাই করছে, কিন্তু এরকম মেলা দিয়ে সেটা সম্ভব না। আরাম প্রিয় বিদেশীরা যে মেলাতে এসে ঘেমে যায়, তারা এদেশে কাজ করাতে পারেনা। বিষয়গুলি আসলে ভাবা দরকার।