একটা মজার ঘটনা শেয়ার করা দরকার মনে করছি। আমার এক বন্ধু দিনের বেশীরভাগ সময় অফিসে কাটায়। আমি একবার বললাম যে বন্ধু এভাবে কাজ করলেতো মারা যাবে। জবাবে আমাকে বেশ গম্ভীরভাবে বললো, “Friend, it’s money what makes me work like this.” বোঝই যায় অনেক টাকা বেতন পায়, তাই নাক মুখ ডুবিয়ে কাজ করে অফিসে। কিন্তু আমি মাঝে মাঝে ভাবি, এত কাজ যে করে, তার যত বেতনই হোক না কেনো, এত কাজ কি করা উচিৎ! আমার মনেহয় না। হ্যাঁ নিজের কোম্পানী হলে আলাদা কথা, কোম্পানীর মালিকেরা সাধারণত এরকম কাজ করে থাকে।

এই বন্ধু যে অফিসের জন্য এত effort দিচ্ছে এসে একদিন জানালো যে ওর বস্ ওকে অফিসে মোবাইল চার্জ করতে নিষেধ করেছে, এতে না-কি অফিসের ইলেকট্রিক বিল বেশী আসছে! আমার কাছে বিষয়টি wired মনে হয়েছে। যে কোম্পানীর জন্য এত পরিশ্রম করছে, তার সামান্য মোবাইল চার্জের বিষয়টা তার বস্ এভাবে দেখলো! সে বাসায় থাকার সময় পায় কম, আর যেটুকু পায় সেটা বিশ্রাম নিতেই চলে যায়, তাই অফিসে মোবাইল চার্জ করে। এতে আমি দোষের কিছু দেখিনা।

আমিও কিন্তু কম যাই না। বন্ধুকে একটা জব্বর পরামর্শ দিলাম। বললাম একটা টেবিল ল্যাম্প কিনবা, বসকে বলবা যে চোখে সমস্যা হয়েছে তাই কী-বোর্ডের উপরে বেশী আলো দরকার। যে কোম্পানীর জন্য এত কিছু করছে, তার জন্য এই excuse কিছুনা। এরপর একটা solar মোবাইল চার্জার কিনবা। এবার টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে তার নিচে solar চার্জারটা রেখে মোবাইল চার্জে দিবা। Solar চার্জার যেহেতু বস্ আগে দেখেনি, তাই দেখে চিনতে পারবে না, আর খুব বেশী হলে বই বা সিডি মনে করতে পারে। তাতে সমস্যা নেই।

যেমন কথা তেমনি কাজ। ওর টেবিলে আগে থেকেই টেবিল ল্যাম্প ছিলো, তাই এই খরচ বেঁচে গেলো। আর কিনলো একটা solar panel মোবাইল চার্জার। এবার সারাদিন টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে তার নিচে solar চার্জার রেখে মোবাইল চার্জ দিচ্ছে। এখন বসের খরচ চোখে পড়ছেনা!!

বসরা মনে রাখবেন, কর্মচারীদের সামান্য বিষয়গুলি নিয়ে ঘাঁটা ঘাঁটি করবেন না। আপনি হয়তো সামনে দিয়ে পিপিলিকা যেতে দিতে চাইছেন না, কিন্তু পেছন দিয়ে কিন্তু আপনার কর্মচারীরা হাতী নিয়ে যাবে, আপনি টেরও পাবেন না। তাই কে মোবাইল চার্জ করছে, কে কাজ ফেলে মোবাইলে কথা বলছে, কে অফিসের ফোনে বেশী কথা বলছে, জাতীয় বিষয়গুলি চোখে পড়লেও এড়িয়ে যান। এতেই কোম্পানীর মঙ্গল 🙂