Reality Bites

~ by Omi Azad

  • Home
  • About Me!
  • My Movies
  • English

Category Archives: মন্তব্য

Personal Comments

হাত ধরে কাজ করলে আরও উন্নত হতে পারে আমাদের আইটি!

27 মঙ্গলবার ডিসে. 2011

Posted by Omi Azad in মন্তব্য

≈ 10 Comments

বহুবছর থেকে একটা জিনিস লক্ষ্য করে আসছি, আজকে ভাবলাম এটা নিয়ে লেখা দরকার। ২০০১ থেকে একটা চেষ্টার মধ্যে আছি, কমিউনিটির জন্য কিছু করার। বিভিন্ন কাজ করার চেষ্টা করেছি যাতে অন্যদের কাজে লাগে, বিভিন্ন গ্রুপের সাথে মিশেছি, অনেকে এক হয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় যা কিছু করেছি কারও ক্ষতি হয়নি তাতে বরং লাভ হয়েছে। যত কাজ করেছি, তত নতুন জিনিস শিখেছি, নেটওয়ার্ক বড় হয়েছে, সর্বোপরি অভিজ্ঞতা বেড়েছে।

কমিউনিটির জন্য প্রথম কাজ করি লোকালাইজেশন নিয়ে। নিজের ভাষায় সবকিছু হবে, সবাই নিজের ভাষায় সব ব্যবহার করতে পারবো। ভাবতেই ভালো লাগতো। ছোট্ট একটা আইএসপি চালাতাম আর বসে বসে অনুবাদের কাজ করতাম, ফন্ট তৈরীর কাজ করতাম। এই কাজ করতে পরিচিত হয়েছি অসাধারণ কিছু মানুষের সাথে। ম্যাক ভাই, জামিল ভাই, সুজন, আলমগীর সহ অনেকে; ভারতেরও দুই একজনের সাথে কাজ করা হতো, চমৎকার সিংক্রোনাইজেশন ছিলো আমাদের মধ্যে। কেউ সরাসরি হয়তো কাজ করতনা, কিন্তু পাশে থেকে ব্যপক সহযোগীতা দিয়েছে, যেমন ইরু ভাই, মোজাহেদুল ভাই, রাসেল ভাই, মুনির ভাই, সহ অনেক অনেক মানুষের। আর কাজের পথেই বন্ধু হিসেবে পেয়েছি হাসিন হায়দারের মতন মানুষকে।

প্রথম থেকে ওপেনসোর্সের প্রতি একটা ঝোঁক ছিলো, ধারণা ছিলো সব কিছু নিজের মতন করে ঢেলে সাজানো যাবে, আর তাই লিনাক্সের এডভোকেসি করেছি প্রচুর। সঙ্গে থেকেছি অঙ্কুর, বিডিলাগ ও বিডিলুয়ার মত সংগঠনের, প্রতিষ্ঠায় উৎসাহ দিয়েছি বিডিওএসএন-এর।

কিন্তু সেই শুরু থেকে একটা জিনিস লক্ষ করেছি যে আমাদের কমিউনিটিতে কিছু মানুষ আছে যারা সাহায্য করার নাম করে আসে, অনেক উঁচা লম্বা কথা বলে এবং পরে কুলশিত করে ফেলে কমিউনিটিকে। ক্ষতিগ্রস্থ হয় ফ্রেশাররা, হরিয়ে ফেলে দিক নির্দেশনা। একসময় লিনাক্সের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফোরামগুলিতে কথা হতো, এখন কি হয়েছে জানিনা! চমৎকার অনেকগুলি ফোরম এখন মৃত, এখন আলোচনা কোথায় হয় আমার জানা নাই! আবার আরেক ধরণের মানুষ আছে, যারা “কমিউনিটির জন্য কিছু করছি” বলে কিছু মেনে নিতে পারেনা। একটা ফোরাম করলে সেটার মালিক হয়ে থাকতে চায়; পরে মালিক হিসেবে স্বিকৃতী না দিলে, রাগ করে সব বন্ধ করে দেয়। আরও একদল মানুষ আছে যারা সবসময় উশখুশ করতে থাকে, ও না জানি কি বললো, এ নাজানি কি বলবে এবং না বুঝে মন্তব্য করে, এরকম কথা বলে ফেলে যেটা আরেকজনের বিরুদ্ধে যায় এবং কমিউনিটিতে ঝামেলা লেগে যায়!

এগুলি ছিলো শুরু থেকে, এখন দেখাযায় অনলাইন/অফলাইন মিডিয়াতে কাদা ছেটানো, কে কাকে কত কাদা ছেটাতে পারে। মোস্তফা জব্বার এবং অভ্র’র ঝগড়াটা মনে থাকবে অনেকদিন। অযথা একটা ঝামেলা এতদূর গিয়েছিলো। প্রথমেই যদি মোস্তফা জব্বার রাগ না করে বিষয়টা মেটানোর চেষ্টা করতেন আমার মনেহয় বেশী ঝামেলা হতোনা। এখন অনলাইন মাধ্যমগুলিতে বিভিন্ন বিষয়নিয়ে অনেক নোংরা নোংরা কথা হচ্ছে, কেউ কাজ করছে কমাউনিটি ডেভলাপ করার, কারও গা জ্বলছে অকারণে; শুরু হচ্ছে কাদা ছোঁড়া ছুঁড়ি! কেউ কারও বিরুদ্ধে কথা বললেই যেনো বীর আর কেউ গালি দিয়ে বীর!

একটা ছোট্ট উদাহরণ দি, আমরা শত শত শব্দ অনুবাদ করেছি লিনাক্স, মোজিলা, গুগল্-এর জন্য। এখন গুগল্ ওয়েবদুনিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে টাকা দিয়ে অনুবাদের কাজগুলি করায়!  আমরা যারা প্রথমদিকে গুগল্-এর বিভিন্ন সেবার অনুবাদ করেছি, তারা কি আজকে গুগল্-কে গিয়ে প্রশ্ন করছি যে আমাদের কাজের টাকা না দিয়ে কেন এখন টাকা দিয়ে ওয়েবদুনিয়ার কাছ থেকে অনুবাদ করাচ্ছে! ঠান্ডা মাথায় বসে বসে অনেক কিছু বিলুপ্ত হয়ে যেতে দেখেছি। ভুল করেছি, বকা খেয়েছি, তবে কমিউনিটির ক্ষতি হয়ে এরকম কিছু করিনি।

আমি আরেকটা জিনিস লক্ষ্য করি যে টোট্‌কা ফোট্‌কা আইটি প্রফেশনালরা একে অন্য প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কথা বলছে। ওপেনসোর্স নিয়ে যারা কাজ করছে তারা ক্লোজ্‌ড সোর্স প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছে কোনো কারণ ছাড়া; আবার উল্টোটাও হচ্ছে। আবারও কনফিউজ হচ্ছে ফ্রেশাররা। আমি যদি ওপেনসোর্সের সাকসেস নিয়ে কথা বলি, এক হাজারটা কথা বলতে পারবো, আবার ক্লোজ্‌ড সোর্স প্ল্যাটফর্মে নিয়ে বলতে পারবো হয়তো তারও বেশী। ফায়ারফক্স দিয়ে যেমন কনজিউমার ওয়েব ব্রাউজিং ভালো হয়, সেরকম এন্টারপ্রাইজ এপ্লিকেশন দিনের পর দিন চালাতে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার লাগে। কিন্তু দরকার টা কি এভাবে একটা, আরেকটার সাথে তুলনা করার? যে যার স্থানে শ্রেষ্ঠ!

আইটি নিয়ে আমাদের দেশে ব্যপক সম্ভাবনা, এটা নতুন কিছু না। আমাদের উচিৎ হবে আমারা যে যেখানে আছি, সেই পরিধীর মধ্যে থেকে আমাদের অভিজ্ঞতা নতুনদের সাথে শেয়ার করা, তাদের উৎসাহিত করা। উৎসাহিত করা সবকিছু এক্সপ্লোর করে দেখার জন্য। আমাদের কখনই উচিৎ হবেনা নিজেদের মধ্যে কে কি করলো, কে কি বললো এসব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানো। আমরা যারা কমিউনিটির উন্নয়ন করার চেষ্টা করি বা করছি, তারা একটু পরচর্চায় কান না দিলে কিন্তু অনেক প্রডাক্টিভ হতে পারি। আর যারা কিছু করতে পরিনা, তারা পরনিন্দা বা পরচর্চাটা উপেক্ষা করে সেই সময়টা কিছু শেখার জন্য কাজে লাগাতে পারি। সেদিন কাকে যেনো বলছিলাম যে দু’লক্ষ টাকা প্রতিমাসে বেতন দিতে চায়, এরকম কোম্পানী ঘুরে বেড়াচ্ছে কিন্তু লোক পাচ্ছে না শেয়ারপয়েন্টের। কারণ আমরা কখনো এটা নিয়ে আলাপ করিনি, কেউ জানেনা এরকম একটা বাজার আছে। ভাই যেমনই হোক, একটা কর্মশালা বা আলোচনা সভা করলে মানুষ নামটাতো জানতে পারবে; উপস্থিত ২০০ জনের মধ্য থেকে ২০ জন তো এক্সপ্লোর করবে। ২০ জনের মধ্যে থেকে ২ জন এই প্ল্যাটফর্মকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেবে। এটাইতো আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ; আর উপস্থিতদের মধ্যে একটা দল নানারকম মন্তব্য করবে, কিছু মন্তব্য থেকে অনেক কিছু শেখা যায়; সেগুলিকে পজেটিভ ভাবে নিলেই কিন্তু পরেরবার ঝামেলা হয়না। আর আমরা এই চেষ্টাগুলি করি নতুনদের জন্য। যারা জানে, তাদের জন্য এই আয়োজনগুলি হয়না, তাই চেষ্টা করা উচিৎ নতুনদের ফিডব্যাক নেয়ার।

আমি মনে করি আইটি প্রফেশনে যারা আছে, সে একটা কম্পিউটারের দোকানের বিক্রতা হতে পারে আবার গ্রামীণফোনের সিইও হতে পারে, এদের বুদ্ধিমত্তা সাধারণ মানুষের থেকে অনেক বেশী। আমরা কেন আমাদের বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার না করে বোকার মতন নোঙরা কাজ করবো! কেনো আমরা কারও কথা না ভেবে, কিছু চিন্তা না করে একটা পদক্ষেপ নেবো বা একটা মন্তব্য করবো!

শেষে একটা কথা বলতে চাই নতুনদের জন্য। পৃথিবীতে অপশন সবসময় থাকবে, এসকিউএল সার্ভার জেনেছি দেখে ওরাকল জানা যাবেনা, এই ধারণা রাখা ঠিক না। নিজের জ্ঞানের পরিধী যত থাকবে কর্মক্ষেত্রে অপশন তত বেশী হবে। পিএইচপি শিখলে যে উইন্ডোসে কাজ করা যাবেনা এরকম ধারণা নিয়ে বেশীদূরে যাওয়া যায়না। নিজেকে সবসময় ওপেন রাখতে হবে অপশনের জন্য আর হাতের কাছে যা পাওয়া যায় একটু ঘাঁটাঘাঁটি করলেই অনেক কিছু শেখা যায়। তথ্য-প্রযুক্তিকে ক্যরিয়ার হিসেবে নিতে যে পিএইচডি ডিগ্রি নিতে হবে, এমন কথা নেই। আশে পাশে দেখা শীর্ষ তথ্য-প্রযুক্তিবিদরা বেশীরভাগই কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে লেখাপাড় করেননি। আর যেহেতু আমরা রাজনীতিবিদ নই, আসুননা একে অপরের হাত ধরে, এক কমিউনিটি অন্য কমিউনিটির সাথে মিশে একত্রিত হয়ে নিজেদের উন্নত করি!

🙂

You are FUPed! (ন্যায্য ব্যবহার নীতিমালার কথা বলছি)

14 শুক্রবার অক্টো. 2011

Posted by Omi Azad in টেলিকম, মন্তব্য

≈ 3 Comments

Tags

ISP

অনেকদিন থেকেই ভাবছি এই ইস্যুটা নিয়ে লেখা দরকার, কিন্তু সময়ের অভাবে লেখা হয়ে ওঠেনি।

বিষয়টা হলো আমাদের ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বা আইএসপি-গুলিকে নিয়ে। বেশ কিছুদিন হয়ে গেলো আমাদের আইএসপি-গুলি ফেয়ার ইউজ পলেসি বা ন্যায্য ব্যবহার নীতিমালা আরম্ভ করেছে; বিশেষ করে মোবাইল ইন্টারনেট কোম্পানিগুলি। সরকারী লাইসেন্সধারী কোনো কোম্পানি কি ধুম করে একটা নীতিমালা আরম্ভ করে দিতে পারে? আমার মনেহয় তাদের পারার কথা না, লাইসেন্সে সবসময় শর্ত দেয়া থাকে, সেই শর্তে কিছু উল্লেখ করা না থাকলে সেটার জন্য লিখিত সম্মতি নিতে হয়। মোবাইল ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলি বা তাদেরকে যারা লাইসেন্স দিয়েছে সেই বাংলাদেশ টেলিকম রেগুলেটারি কমিশন (বিটিআরসি) কি সেভাবে কাজ করেছে?

আমার কাছে সবসময় মনে হয় সরকার চলছে সরকারের মতন আর কোম্পানি চলছে তাদের মতন। লাইসেন্স দিয়েই সরকারের কাজ শেষ!  ফেয়ার ইউজ পলেসি আরম্ভ করার পরে আমার খুব জানতে ইচ্ছে হয়, এই পলেসি বা নীতিমালায় কি বিটিআরসির অনুমোদন আছে! একটা নীতিমালা পাশ হয়ে গেলো, দেশের জনগনের উপরে  সেটা চাপিয়ে দেয়া হবে, সেটা থেকে কার কতটুকু লাভ হবে, কতটুকু ক্ষতি হবে সেটা কি অনুমোদন দেবার আগে কেউ খতিয়ে দেখেছে? অন্তত বিটিআরসির কাছ থেকে আমি এটা আশা করিনা।

আমার ধারণা বিটিআরসি আমাদের ভালো মন্দ বোঝে এবং ধরে নিচ্ছি নীতিমালার অনুমোদন তারা দিয়েছে। এবার একটু নীতিমালাগুলি জানি-

  • গ্রামীণফোন – ৫ গিগা ট্রান্সফারের পরে ন্যায্য ব্যবহার নীতিমালা প্রয়োগ করা হবে পরবর্তি বিলের তারিখ পর্যন্ত।
  • বাংলালিংক – এক সপ্তাহে ৩ গিগা ট্রান্সফারের পরে ন্যায্য ব্যবহার নীতিমালা প্রয়োগ করে “পে এজ ইউ গো” করে দেয়া হবে পরবর্তি বিলের তারিখ পর্যন্ত।
  • সিটিসেল – ৭ গিগা ট্রান্সফারের পরে ন্যায্য ব্যবহার নীতিমালা প্রয়োগ করা হবে পরবর্তি বিলের তারিখ পর্যন্ত।
  • কিউবি – ৩০ গিগা ট্রান্সফারের পরে ন্যায্য ব্যবহার নীতিমালা প্রয়োগ করা হবে পরবর্তি বিলের তারিখ পর্যন্ত।
  • এরকম অনেক নীতিমালা আছে।

নীতিমালার ধরণ দেখে কিন্তু মনে হয়না যে বিটিআরসি এরকম উদ্ভট  নীতিমালার অনুমোদন দিতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে আমার কিন্তু এই নীতিমালা নিয়ে কোনো সমস্যা নাই, সমস্যা হলো অন্যখানে। একটা আইএসপি বলছে তারা সর্বোচ্চ XX কেবিপিএস বা YY এমবিপিএস গতির সংযোগ দেবে; তারা কিন্তু এটা বলছেনা যে সর্বনিম্ন কত গতি থাকবে। আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্কে যা ঢুকে তাতে আমি বুঝি আমাদের সেবার মানের নিশ্চিত করার কাজ বিটিআরসির। উদ্ভট নীতিমালায় অনুমোদন বা এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যবসা করার অনুমতি দেবার সময় তারা কি একবারও ভাবেনা যে গ্রাহকদের অবস্থানটা কোথায় থাকবে! অনেক টাকায় লাইসেন্স দিয়ে দিলেই হলো, না লাইসেন্সে উল্লেখ করতে হবে যে সেবার বিস্তৃতি কিরকম হবে, খরচ কত হবে, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মাপ কত ইত্যদি! একটা পাগল তার নিজের ভালো মন্দ বোঝে, বিটিআরসি যখন বিদেশী কোম্পানিগুলির কাছে লাইসেন্সের জন্য ফাটাফাটি রকমের অর্থ চার্জ করে, তখন টাকা গ্রহণ করার পাশাপাশি সুদুরপ্রসারী চিন্তা করে দেখা উচিৎ বলে আমি মনে করি।

যে কোনো সেবা গ্রহণের ক্ষেত্র নিজেকে মাঝে মাঝে এত অসহায় মনে হয়! কি করে আমাদের জন্য আমাদের সরকার!

ওল্লো – চলেন গিনিপিগ হয়ে যাই…

13 বৃহস্পতিবার অক্টো. 2011

Posted by Omi Azad in টেলিকম, মন্তব্য

≈ 34 Comments

Tags

Bangladesh, Broadband, BTRC, Internet, Telecom, Wimax, Wireless, ইন্টারনেট, ওয়াইম্যাক্স, ওয়্যারলেস

বেশ কিছু কোম্পানি নতুন করে ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সংযোগ দেবার লাইসন্স পেয়েছে বলে জেনেছি। এদের মধ্যে পরীক্ষামূলক সেবা প্রদান করা শুরু করেছে ওল্লো ওয়্যারলেস ইন্টারনেট।

এরই মধ্যে ফেইসবুকের কিছু বন্ধু ওদের পেইজে লাইক দেয়া শুরু করায় ভাবলাম একবার দেখা দরকার এরা কি করছে; ফোন দিলাম ওদের কল সেন্টারে। প্যাকেজের কথা শুনে তো আমি ধপাস করে পড়ার অবস্থা। ওদের একটাই পণ্য, সেটাও আবার ঠিকমত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি যে কিভাবে বা কোন পরিকল্পনার মাধ্যমে বিতরণ করবে।

একটু বুঝিয়ে দেই। ওদের একটাই USB ডঙ্গল আছে ZTE AX326 এটা একটা WiMax রিসিভার সেটা ইন্টারনেটে ঘাঁটা ঘাঁটি করে বের করলাম। সংযোগ সহ এই ডঙ্গলের দাম ২৪৭৫ টাকা। আর যদি ঠিকমতন নেটওয়ার্ক না পায়, তাহলে এর সাথে একটা ZTE SX361 Wireless Cradle নামক একটা খুঁটি লাগাতে হয় যেটা ভালো সিগন্যাল গ্রহণ করতে সাহায্য করে; আর এর জন্য অতিরিক্ত ৭৫০ টাকা দিতে হবে।

এখন এটা নাহয় কিনলাম কিন্তু সাখে কি পাবো সেটা নিয়ে আলোচনা করি। মডেমের সাথে আমরা পাবো ৫১২ কেবিপিএস গতির একটি ইন্টারনেট সংযোগ যেটা দিয়ে আমরা ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪০ গিগাবাইট ডাটা ট্রান্সফার করতে পারবো। ৪০ গিগা শেষ হয়ে গেলে! এজেন্ট জানালেন ওল্লো’র ওয়েব সাইটে গিয়ে অনুরোধ করলে আরও ১০ গিগা বাড়িয়ে দেয়া যেতে পারে। তবে এরপরে কি হবে সেটা জানাতে পারলেননা কল সেন্টারের এক্সিকিউটিভ।

আমি এটাই বুঝলামনা যে এত টাকা পয়সা খরচ করে একটা কোম্পানি কিভাবে সুদুর পরিকল্পনা না নিয়ে ব্যবসা করতে নেমেছে। আর আমরাই বা কেনো টাকা দিয়ে গিনিপিগ হয়ে অনিশ্চিত একটা সেবা ব্যবহার করতে যাবো; তাদের সেবার মান উন্নয়নের জন্য!

বাংলাদেশের অনেক সম্ভবনা দেখে অনেকে ব্যবসা করতে আসে। শর্ত দেয়া হয় “সারা বাংলাদেশে সেবা পৌছে দিতে হবে।” স্রেফ ঢাকাতে সেবার মান বজায় রাখতেই গোপণাঙ্গ দিয়ে রশ বের হয়ে যায়, ঢাকার বাহিরে বিস্তার করার তো প্রশ্নই আসেনা। দুই বছরের বেশী হলো অন্য দু’টি ওয়াইম্যাক্স কোম্পানি ব্যবসা করছে, কিন্তু দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো যেতে পারেনি। এরা কি করে সেটা দেখার আগ্রহ আছে।

শেষ কথা হলো আমার শখ নাই টাকা দিয়ে আপাতত গিনিপিগ হওয়ার। আমার বাসায় ৮-৯টার মত ডিভাইস আছে যেগুলিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়। এই জঙ্গল ডঙ্গল আমার জন্য না!

BTCL ADSL – কুত্তার লেজ সোজা হয়না

19 মঙ্গলবার এপ্রিল 2011

Posted by omiazad in টেলিকম, মন্তব্য

≈ 26 Comments

Tags

ADSL, Bangladesh, BTCL, এডিএসএল, বাংলাদেশ, বিটিসিএল

বেশ আগ্রহ নিয়ে গতমাসের ২৯ তারিখে বন্ধুদের জানালাম যে বিটিসিএল থেকে লোক এসে তাদের ADSL সংযোগ দেবার বিষয়ে যাবতীয় কাজ করে নিয়ে গিয়েছে। অনেকেই অনেক মন্তব্য করলো, আমি ভাবলাম একবার দেখিনা এই রাষ্ট্রীয় সেবা কেমন হয়। আমার মাথায় একটা জিনিস ছিলোনা যে কুত্তার লেজ কখনো সোজা হয়না।

কাজী মাকসুদ (মোবাইল: ০১৭১৫৩২৫৩৪৩) নামের যে ভদ্রলোক সংযোগ দিতে এসেছিলেন উনি বলে গেলেন সাত দিনের মধ্যে আমি সংযোগ পাবো। আমি এই মাসের ৭ তারিখ শনিবারে উনাকে ফোন দিলাম, ভাই সংযোগ এর খবর কি? উনি বেশ অনুরোধ করে বললেন একটা দিন দেখতে, সংযোগ হয়ে যাবে। আমি অবশ্য আর ফালতু অপেক্ষা করতে চাইছিলাম না, কারণ আমি ফেইসবুকের মন্তব্যগুলিতে বেশ বিরক্ত। তবে উনার অনুরেধের ঢেকি গিললাম এবং সত্যি সত্যি ৮ তারিখে আমার সংযোগ চালু হয়ে গেলো!

উনি আমাকে টেলিফোন করেই বলে দিলেন কি কি করতে হবে এবং কোনো সমস্যা হলে যাতে কালাম সাহেবকে ০১৯২৩৩৭০১৫৩ নম্বরে ফোন দেই। আমি সংযোগ স্থাপন করতে ব্যার্থ হলে কালাম সাহেবকে ফোন দেই, উনার নম্বর দেয়া হয়েছে বলে উনি বেশ বিরক্ত কারণ উনি জ্বরে ভুগছেন এবং কিছুদিন বিশ্রাম করে কাটাতে চান। তারপরেও উনাকে অনুরোধ করলে উনি ফোনে সাহায্য করেন এবং আমি সংযোগ স্থাপনে সক্ষম হই।

এখন হলো সবচাইতে কষ্টের বিষয়, সংযোগ নিয়েছি 1024kbps কিন্তু আমি পাচ্ছি 128kbps এর নীচে। মানে আমার ডাউনলোডে গতি সর্বোচ্চ 128Kbps থাকা উচিৎ, কিন্তু থাকছে 12-20Kbps সর্বোচ্চ। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে মাকসুদ সাহেবকে ফোন দিলাম, উনি বেশ কিছুক্ষণ আমার মাখা চাটলেন এবং কালাম সাহেবের সাথে যোগাযোগ করতে বললেন। অগত্যা জ্বরের মানুষটাকে ফোন দিতে হলো, উনি বললেন এই মুহুর্তে কিছু করা সম্ভব না উনার পক্ষে, উনি জ্বর থেকে ভালো হয়ে সব ঠিক করে দেবেন এবং আমি দুর্দান্ত গতি পাবো।

গত পরশু, অর্থাৎ ১৭ তারিখে আমি কালাম সাহেবকে আবার ফোন দিলে উনি জানান উনি লাইন ম্যান নিয়ে অনেক কিছু করেছেন এবং আমার পোল পর্যন্ত কোনো সমস্যা নাই, উনি কালকে অর্খাৎ ১৮ তারিখে সব পরীক্ষা করে আমাকে ফাইনাল জানাবেন। আমি গতকালকে উনাকে আবার ফোন দিলে উনি বলেন উনার লাইনম্যান আসেনি, আসলেই হয়ে যাবে। রাতে আমি ফোন দিলে উনি আর ফোন ধরেন না। এরকম অবস্তা দেখে আমি আবার মাকসুদ সাহেবকে ফোন দেই। মাকসুদ সাহেব আমাকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন কিন্তু Morning shows the day, যার শুরু এরকম এটা নিয়ে ভবিষ্যতে আর কি হবে সেটা এখনি বোঝা যাচ্ছে। তাই আমি তাকে আমার মডেম ফেরৎ নেবার জন্য অনুরোধ করি।

এই তিক্ত অভিজ্ঞতার এখানেই শেষ না, আরও আছে। আমার লাইনে ADSL কেমন কাজ করবে বা আদৌ করবে কি-না সেটা দেখা BTCL এর দায়িত্ব না। আপনি টাকা দিয়ে সংযোগ নেবেন এবং তার পরে তাদের ইচ্ছা হলে পরীক্ষা করবে এবং এর পরে আপনি সংযোগ ১ দিন ব্যবহার করেন আর সংযোগ নিয়ে পরীক্ষা করেন, আপনাকে সম্পুর্ণ মাসের বিল দিতে হবে। সংযোগ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আপনি মডেম ফেরৎ দিতে পারবেন, সেটা একটা ভালো বিষয়, নাই মামার চাইতে কানা মামা ভালো।

বিটিসিএল এর শেখা উচিৎ –

  • বড় কথা বলতে হয়না, কিন্তু আপনাদের মধ্যে থেকে কেউ যদি এই মুহূর্তে ফোন দেয়, ঢাকা শহরের প্রায় ৫টা আইএসপি এসে বাসার দড়জায় দাঁড়িয়ে থাকবে সংযোগ দেবার জন্য।
  • আইএসপি যত ছোটই হোক্, এক কালামের উপর নির্ভর করে চলে না।
  • প্রটোকল দেখিয়ে ব্যবসা করার দিন শেষ, লাইনম্যান, সুইচম্যান কি করলো ব্যবহারকারীর কিছু যায় আসেনা। আসলে আজকে বিটিসিএল-এর ব্যবহারকারী সবচাইতে বেশী হতো।
  • মাকসুদ তার সাধ্য মতন চেষ্ট করেছে, বিটিসিএল-এর উচিৎ অকর্মাদের বাদ দিয়ে মাকসুদের মতন লোককে কাজে লাগানো।

এখানে হয়তো অনেকেই বলবে যে এখানে শুধু বিটিসিএল একা কাজ করেনা। এখানে এমএম সিস্টেমস নামের একটা কোম্পানী রয়েছে যারা অন্যান্য কাজ করছে। আমার কথা আবারও একই, প্রটোকল দেখার সময় নাই ভাই, আমি এমন কোম্পানীর সংযোগ নেবো যারা আরেক কোম্পানীর উপরে নির্ভর করেনা।

রবি নিজেই জ্বলতে পারছেনা আপন শক্তিতে

21 মঙ্গলবার ডিসে. 2010

Posted by Omi Azad in টেলিকম, মন্তব্য

≈ 10 Comments

Tags

একটেল, এয়ারটেল, ওয়ারিদ টেলিকম, গ্রামীণফোন, পরিবর্তন, মোবাইল, রবি

না রবি (সুর্য)-এর কথা বলছিনা। বলছি আমাদের মোবাইল কোম্পানি রবি আজিয়াটা বাংলাদেশ-এর কথা। এই বছর দু’টো মোবাইল অপারেটর তাদের নাম সহ নানান পরিকল্পনা পরিবর্তন করে নতুনভাবে গ্রাহকদের কাছে উপস্থিত হয়েছে। একটেল হয়েছে রবি আর ওয়ারিদ হলো এয়ারটেল।

একটেলের অনেকেই আমি চিনি, তাদের নাম বা ব্র্যান্ড পরিবর্তনের পেছনে যুক্তি ছিলো, একটেলের কোনো ব্র্যান্ড স্লোগান ছিলোনা, ছিলোনা ব্র্যান্ডের সত্ত্বা বা পরিচয়। যেমন সিটিসেলের আছে Because We Care বা গ্রামীণফোনের আছে, কাছে থাকুন ইত্যাদী। একটেলের কিছু না থাকায় তারা না-কি নতুন করে তাদের ব্র্যান্ডকে ঢেলে সাজালো। রবি নাম দিয়ে তাদের ব্র্যান্ডের স্লোগান হয়েছে জ্বলে উঠুন আপন শক্তিতে।

আমি গত কয়েকদিন থেকে পত্রিকায় লাল বা টেলিভশনের কোনায় লাল রঙ দেখে বুঝছিলাম যে এয়ারটেল আসছে। কি মনে করে রাত বারোটার পরে আমার বৌ-এর মোবাইলটা বন্ধ করে চালু করতেই দেখি airtel হয়ে গ্যাছে। সাথে সাথে আমারটাও বন্ধ করে চালু করলাম, সেটাও airtel হয়ে গ্যাছে। শুধু অপারেটর লোগো না, ভেতরে যে ওয়ারিদ মেন্যু ছিলো, সেটা airtel Live হয়ে গ্যাছে।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো একটেল ২৮ মার্চ ২০১০ তারিখে রবি হয়েছে, আজ পর্যন্ত তাদের নাম মোবাইলে আসলোনা, মানে মোবাইলে রবি জ্বললো না! সেবা টেলিকম যখন বাংলালিঙ্ক হলো, তখনো দু-তিন মাস সেবা লেখা ছিলো, কিন্তু পরে তা ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু রবি’র রবি জ্বলবে কবে? যে নিজেই জ্বলতে পারলোনা, সে অন্যদের কি জ্বালাবে!

← Older posts
Newer posts →

Categories

  • অ্যানড্রোয়েড
  • আইটি বিশ্ব
  • ই-কমার্স
  • উদ্ভট
  • ওপেন সোর্স
  • গল্প টল্প
  • গান বাজনা
  • গুগল্
  • গ্যাজেট
  • টিউটোরিয়াল
  • টেলিকম
  • বাংলা কম্পিউটিং
  • বাংলাদেশ
  • ব্যক্তিগত
  • মন্তব্য
  • মাইক্রোসফট
  • রিভিউ
  • সফটওয়্যার রিভিউ

Recent Posts

  • ডাক্তার শায়লা শামিম ও মনোয়ারা হাসপাতালের অভিজ্ঞতা
  • ই-কমার্স – বাংলাদেশ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ!
  • Install Google Apps and Play Store on Nokia X, X+ and XL
  • মাইক্রোসফটের কাছে পাওয়া শেষ চেক্!
  • Root Walton Walpad 8b, Walpad 8w, Walpad 8 and Walpad 7

Proudly powered by WordPress Theme: Chateau by Ignacio Ricci.