নববর্ষে অনেকেই অনেক কিছু উপহার দিয়ে থাকে। আমি এই নতুন বছরে আমার কম্পিউটারকে দিলাম উইন্ডোজ ভিস্তা লাইট ভার্সন। আপনারা হয়তো ভাবছেন ভিস্তা’র আবার এটা কোন সংস্করণ! আসলেই, এই সংস্করণটা মাইক্রসফট বাজারে ছাড়েনি। এটা ছেড়েছে হ্যাকাররা। একটু বুঝিয়ে বলি…

Windows Vista About Box

মাইক্রসফট গতমাসে কর্পোরেট ব্যবহারকারীদের কাছে ভিস্তার সর্বশেষ সংষ্করণ “আরটিএম” পৌছে দিয়েছে, আর ওৎ পেতে থাকা হ্যাকারের দল বিভিন্ন পন্থা বের করছিলো যে কিভাবে এই ভিস্তা সকলের কাছে ব্যবহার উপযোগী করে দেয়া যায়। কাজ শুরু হলো এবং শেষ করা পরে বাজারে আসলো উইন্ডোজ ভিস্তা লাইট ভার্সন।

কি আছে এই ভার্সনটিতে…
যারা স্বাভাবিক এক্সপি চালান, তারা অনেয়াসে এই ভার্সনটি বা সংস্করণটি ব্যবহার করতে পারবেন। মাইক্রসফট এতদিন গবেষণা (!) করে কি বা* বাহির করলো সেটাই বুঝলাম না আমি। এর চাইতে ভালো কাজ করেছে এই হ্যাকাররা (একটা জিনিস মনে রাখবেন যে হ্যাকররা আছে বলে আজকে উইন্ডোজ ব্যবহার করতে পারছেন)। এই ভার্সনটিতে কিছু যোগ করা হয়নি, হ্যাকাররা যেটা করেছে সেটা হলো অপ্রয়োজনীয় এবং ফালতু জিনিসগুলি বাদ দিয়ে দিয়েছে ভিস্তা থেকে। যেমন: বাদ দেয়া হয়েছে অপ্রয়োজনীয় সিকিউরিটি সার্ভিস, বাদ দেয়া হয়েছে প্রচন্ড ধীর গতির মিডিয়া প্লেয়ার থেকে সমস্ত কোডেক, বাদ দেয়া হয়েছে ঈসা-খাঁ’র আমলের গেমগুলি। এমনি অনেক কিছু বাদ দিয়ে ভিস্তাকে করা হয়েছে যুগ উপযোগী।

Windows Vista Look

তাহলে থাকলো কি…. 🙂
যারা অপারেটিং সিস্টেমের ফ্লেভার বদলাতে চান, তারা ব্যবহার করবেন ভিস্তা লাইট। পকেটে পয়সা থাকলে কিনে ব্যবহার করুন, নাহলে পর্যাপ্ত উপায়ে ডাউনলোড করে নিন এই লাইট ভার্সনটি। তবে এখানে আমার একটা মতামত আছে। মাইক্রসফটের কাজ হলো কিছুদিন পর পর পুরনো সমর্থন বন্ধ করে দেয়া। যেমন: আপনারা সকলেই জানেন যে মাইক্রসফট উইন্ডোজ ২০০০ (সকল সংস্করণ) এবং ২০০৩ সার্ভারের জন্য কখনই ইন্টারনট এক্সপ্লোরার ৭ ছাড়বে না। কোনদিন আবার উইন্ডোজ এনটি, ৯৮ বা মিলেনিয়াম এডিশনের মতো এক্সপি’র জন্য বলে দেবে, “তোদের আর কোনো সেবা দেবো না” এবং পাশাপাশি সবাইকে এক্সপি বা পুরনো উইন্ডোজের এ্যপ্লিকেশন বানানো থেকে বিরত করে দেবে। তাই এই ভিস্তা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না 🙁

কি পেলাম, কি হারালাম….
আপনারা যারা এটা এখনো ব্যবহার করেননি, তারা কিছু হারাননি। আর যারা এটা ব্যবহার করবেন, তারাও কিছু হারাবেন না। তবে এই সংস্করণটির অনেক ভালো দিক আছে যার মধ্যে কিছু আমি তুলে ধরছি।

  • মাইক্রসফট ভিস্তায় কিছু অপ্রয়োজনীয় জিনিস যোগ করেছিলো। যেমন: কোনো এ্যপ্লিকেশন ইনস্টল করতে গেলে অনুমতি দেয়া। আপনার জন্য বরাদ্দকৃত ফোল্ডার বাদে বাহিরে ফাইল কপি করতে বা মুছতে গেলে অনুমতি দেয়া, ইত্যাদী। আপনাদের কাছে হয়তো শুনতে ভালো লাগছে বা অনেকে হয়তো বুঝতেই পারলেন না, কিন্তু আমি যেহেতু সেই লংহর্ণের আমল থেকে ভিস্তা চালাচ্ছি, আমি বিষয়টা বোধ করতে পারি যে এটা কত বিরক্তিকর। এই সংস্করনে সেটা ফেলে দেয়া হয়েছে। 🙂
  • আপনাকে প্রটেকশন বা নিরাপত্তার (!) জন্য এমন কিছু সার্ভিস যোগ করা হয়েছিলো যা একাই ২৫৬ মেগাবাইটের বেশী মেমরী খেয়ে আপনাকে নিরাপত্তা দিতো। এর পরও আপনর ভাইরাস গার্ড, স্পাইওয়্যার প্রটেকশন ইত্যাদী সফটওয়্যার আলাদাভাবে ব্যবহার করতে হতো। তাই যদি করতে হবে, তাহলে ২৫৬ মেগাবাইট মেমরী কি গাছে ধরে! হ্যাকরা বন্ধুরা এটা বুঝতে পেরে এই সার্ভিসগুলি ফেলে দিয়েছে। আমার পক্ষ থেকে তাঁদের ধন্যবাদ। আমার কম্পিউটারের মেমরী ফ্রি থাকলে আমি সেটা অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারবো। অপারেটিং সিস্টেমই যদি সব খেয়ে নেবে তাহলে আমি খাবো কি? 🙂
  • উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার ১১ হচ্ছে পৃথিবীর সবচাইতে ফালতু মিডিয়া প্লেয়ার। কেনো? কারন খালি হাড়ি বাজে বেশি। এক্সপিতেও যদি একবার ইনস্টল করেন, তাহলে বলবেন, “ছাড়ে দে মা কান্দে বাঁচি।” ভিস্তায় মিডিয়া প্লেয়ার আছে, তবে এর সব কোডেক (বিভিন্ন ফাইল চালানোর জন্য কিছু সমর্থক ইঞ্জিন) ফেলে দেয়া হয়েছে। আপনার যে ফাইল চালাতে মন চায়, বা অন্য যে মিডিয়া প্লেয়ার ভালো লাগে, সেটা ইনস্টল করে নিয়েন। 🙂
  • বিরক্তিকর গেমসের জগতে উইন্ডোজের ইন বিল্ড গেমগুলো সেরা। আর তাই আমাদের শুভচিন্তক হ্যাকার ভাইরা এগুলো ফেলে দিয়েছে।

এরকম অনেক অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার বাতিল করে উইন্ডোজ ভিস্তার ৬ গিগা ইনস্টলারকে কমিয়ে আনা হয়েছে দু’টি সিডিতে। যে-কেউ চাইলে ইনস্টল করে দেখতে পারেন।

উইন্ডোজ à¦à¦¿à¦¸à§à¦¤à¦¾

পরিশেষে…
এই ভার্সনটিকে পাইরেটেড কিন্তু বলা যাবে না। কারন এই ভার্সনটি ইনস্টল করতে আপনার একটি জেনুইন প্রডাক্ট কি লাগবে। তবে সেটা যে আরটিএম ভার্সনের হতে হবে এমন কথা নেই। হ্যাকাররা আবার এটা একটা কারিশমা করে রেখেছে। আপনি ভিস্তার বেটা প্রোডাক্ট কী গুলি ব্যবহার করে এটি ইনস্টল এবং ব্যবহার করতে পারবেন। আমার কাছে উইন্ডোজ লংহর্ণ থেকে ভিস্তা পর্যন্ত সবকটি ভর্সনের প্রোডাক্টকী থাকায় আমি একটা ব্যবহার করে এ্যক্টিভেট করিয়ে নিয়েছি। আর তাই আমার ডেস্কটপে দেখাচ্ছে ইভেল্যুয়েশন কপি। আমার এতে আপত্তি নাই। 🙂