Reality Bites

~ by Omi Azad

  • Home
  • About Me!
  • My Movies
  • English

Category Archives: টেলিকম

Telecom

ওয়াইম্যাক্স – আশায় গুড়েবালি!

14 শনিবার নভে. 2009

Posted by Omi Azad in টেলিকম, মন্তব্য

≈ 28 Comments

Tags

ইন্টারনেট, ওয়াইম্যাক্স

অনেক হৈ চৈ পড়েছিলো দেশে যে ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তি আসছে! আগা মাথা না বুঝেই লাফা লাফি শুরু হলো পাবলিকের (যেটা হয় সবসময়)। সবার ধারণা হলো, গরীব এই দেশে অল্প টাকায় অনেক দ্রুত গতির ইন্টারনেট পাবার এটাই একটা উপায়! কেউ এটা বুঝলো না যে ব্যান্ডউইড্‌থ নামে একটা জিনিস এই সেবার সাখে জড়িত, যা আমাদের দেশে এখনো অনেক মূল্যবান এবং ওয়াইম্যাক্সের মাধ্যমে সেটাই গ্রহণ করতে হবে। তাই সেটার দাম বেশী থাকলে কখনো কম দামে সেবা পাওয়া যাবে না।

ঐ যে বললাম, আগা মাথা কোনো জ্ঞান নাই, আজাইরা লাফা লাফি। আমাদের সরকার আবার প্রায় দুইশত পনেরো কোটি টাকার নিয়ে লাইসেন্স নিলাম করে একে অপরের পিঠ চাপড়ায় নিজেদেরকে বাঘের বাচ্চা মনে করে। এটা একবারও মাথায় আসলোনা যে এই টাকা কোম্পানী ব্যবসা শুরু করে সাধারণ মানুষদের চিপা দিয়ে বের করে নিবে। অনেকে কথাটা বলেছিলো শুরুতে, আমাদের দেশে কে কার কখা শোনে!

শুরুতে তিনটা কোম্পানী লাইসেন্স নিলেও এখন টিকে আছে দু’টা। এই বছর শুরুর দিকে বাংলা লায়ন (সাইটটিতে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৬ দিয়ে যাবেন না, ভাইরাস আছে) অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন শুরু করে, কিন্তু অপারেশনে আসার খবর নাই। কয়েকজন এরই মধ্যে বাংলা লায়নের পরীক্ষামূলক সংযোগ পেয়াছে। এদের সেবার মান সত্যই সবার জন্য হতাশা জনক। এই লাইন থাকার চাইতে না থাকা ভালো। ল্যাপটপে ইউএসবি ডঙ্গল লাগিয়ে রাস্তায় চলমান অবস্থায় নেটওয়ার্ক থাকে না যেসব এলাকায় নেটওয়ার্ক আছে। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে নেটওয়ার্ক আসে। কি হাস্যকর!

পরে অওগের নামের একটি কোম্পানী কিউবি ব্র্যান্ড নাম নিয়ে ব্যবসা আরম্ভ করে। এরাও ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলে দাবি করে। একবার যদি আমরা ওয়াইম্যাক্স নিয়ে লেখাপড়া করি তাহলে বুঝতে পারবো এই প্রযুক্তি আসলে কি। ওয়াইম্যাক্স অর্থ হলো, আপনি উচ্চ গতির ইন্টারনেট বা ডেটা ব্যবহার করতে পারবেন চলমান অবস্থায়। কিউবি সেখানে প্রথমবার হতাশ করলো। তাদের বিশাল সাইজের মোডেম নাকি জানালার কাছে রাখতে হবে, নাইলে কাজ করেনা। ইন্টেল যখন আইইইই-এর একটি কনফারেন্সে ওয়াইম্যাক্স বর্ণনা করছিলো, তখন বলেছিলো, যত বাঁধাই থাকুক, ওয়াইম্যাক্স দেবে লাস্ট মাইল পারফরমেন্স। তাহলে জানালায় কেনো!

আবার ট্যারিফ দেখলে মাথা নষ্ট! লাইন নিতেই দিতে হবে সাত হাজার টাকা। পারে মাসে মাসে সস্তা কোনো প্যাকেজ নাই, নাই আনলিমিটেড প্যাকেজ। আসলে ওদেরও তেমন কোনো দোষ নেই। একে তো চড়া দামে লাইসেন্স কিনেছে, তার উপরে এক মেগা ব্যান্ডউইড্‌থের দাম প্রায় একুশ হাজার টাকা। ওরাই বা কি করবে, কতই বা গতি দেবে, কতই বা টাকা কম নেবে। ব্যবসা করে তো চলতে হবে।

আমাদের দেশেই ইন্টারনেটের অবস্থা শোচনীয়। সেদিন আমার এক বন্ধু বললো, “বাংলাদেশে ইন্টারনেট এখনো বড়লোকদের বিলাসিতা।” কথাটা মাঝে মাঝে খুবই সত্য মনে হয়। আমি বলছিনা আমাকে ট্রান্সফার লিমিট ছাড়া পাঁচশত টাকায় এক মেগা লাইন দিক। কিন্তু সেবার একটা ন্যুনতম মান থাকা দরকার। আজকে কিন্তু আমরা যে কেবল টিভি দেখি, সেটারও একটা মান আছে, একটা নীতিমালা আছে। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো ইন্টারনেটের ন্যুনতম কোনো নীতিমালা নেই। যে যেমন চাইছে তেমন লাইন দিচ্ছে, অনেক টাকা দিয়ে সংযোগ নিলেও সেবা পাওয়া যায় না, ঝামেলার শেষ নাই। সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও কেউ মানে, কেউ মানে না।

আইটি লাইনের সবাই অনেক আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছে যে এটার একটা সমাধান আসবে, আমরাও একসময় আলো’র মুখ দেখবো।

সম্ভাবনাময় কলসেন্টার শিল্প সংকটে

08 মঙ্গলবার সেপ্টে. 2009

Posted by omiazad in টেলিকম, মন্তব্য

≈ 4 Comments

Tags

কল, বিটিআরসি, সেন্টার

দ্রুত পরিবর্তনশীল তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান ধীরে ধীরে সুসংহত অবস্থায় উপনীত হলেও অবকাঠামোগত দূর্বলতা এবং যথাযথ প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানের অভাবে সম্ভাবনাময় কলসেন্টার শিল্পে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান আশাপ্রদ নয়। ব্যাপক আগ্রহ এবং ঢাকঢোল পিটিয়ে কলসেন্টার শিল্পে বাংলাদেশের প্রবেশ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অতিবাহিত হলেও কলসেন্টার শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে খুবই স্বল্প পরিসরে। উন্নত বিশ্বের পাশাপাশি উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশসমূহে কলসেন্টার শিল্পে যখন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে তখন বাংলাদেশের কলসেন্টার শিল্পে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়। অনেক দেরি হলেও বাংলাদেশ কলসেন্টার শিল্পে প্রবেশ করায় বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেছিলেন কলসেন্টার শিল্পে অচিরেই বাংলাদেশের অবস্থান সন্তোষজনক অবস্থায় উপনীত হবে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে কলসেন্টার প্রতিষ্ঠা করা বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষিতে কতটা কার্যকর এই বিষয়ে এখনও তেমন সুস্পষ্ট ধারণা অর্জন করতে পারেনি আগ্রহী অনেক ব্যক্তি।

এই কলসেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে জোরগলায় বলা হলেও আমাদের দেশের দুর্বল প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এই ব্যবসার ক্ষেত্রে কতটুকু সহায়ক এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত দেশের তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি। কেননা গত বছর লাইসেন্স প্রদান করা হলেও তিনটি ক্যাটাগরিতে প্রাপ্ত লাইসেন্সের শর্তানুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ছয় মাসের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করতে শর্ত প্রদান করা হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানই পরবর্তী পর্যায়ে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে। কলসেন্টার লাইসেন্স গ্রহণকারী অনেক প্রতিষ্ঠানেরই কলসেন্টার শিল্পসংশ্লিষ্ট বিশদ জ্ঞান না থাকায় প্রাথমিকভাবেই বিপর্যয়ের সম্মুখীন। সেই সাথে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ইন্টারনেট ভিত্তিক দুর্বল অবকাঠামো বিষয়টিকে করে তুলেছে জটিল অবস্থায়। কেননা, উচ্চমূল্যের বিনিময়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে যে পরিমাণ ইন্টারনেটের গতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয় তা নিরবিচ্ছিন্ন নয়। বিশেষ করে বিদেশের ক্লায়েন্ট নির্ভর এই কলসেন্টার শিল্পে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। সেই সাথে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি বর্তমানে কলসেন্টার স্থাপনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেননা, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যতিত কলসেন্টার বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন কলসেন্টার শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। জেনারেটর ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে গ্রহণ করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানী তেলের উচ্চমূল্য বিষয়টি করে তুলেছে ব্যয়বহুল। Continue reading »

দেশের ভেতর আভ্যন্তরীণ রোমিং সুবিধা হতে পারে মোবাইল অপারেটরদের জন্য নতুন ব্যবসার ও গ্রাহকদের জন্য নতুন সেবার সম্ভাবনা

15 বুধবার জুলাই 2009

Posted by Omi Azad in টেলিকম, মন্তব্য

≈ 14 Comments

Tags

একটেল, ওয়ারিদ টেলিকম, গ্রামীণফোন, টেলিটক, বাংলাদেশ, বাংলালিঙ্ক, মোবাইল অপারেটর, রোমিং, সিটিসেল

আমাদের দেশে এখন ছয়টি মোবাইল অপারেটর সফলভাবে কার্যক্রকম চালিয়ে যাচ্ছে। প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিঃ, গ্রামীণফোন লিঃ, টিএম ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ লিঃ, ওরাসকম টেলিকম বাংলাদেশ লিঃ, টেলিটক বাংলাদেশ লিঃ এবং ওয়ারিদ টেলিকম ইন্টারন্যাশনাল লিঃ। এদের মধ্যে কারও কারও দেশব্যাপি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কাভারেজ রয়েছে আবার এখনো কারও কারও নেটওয়ার্ক দুর্বল। আবার এখনো এমন দেখা যায় যে অনেক স্থানে কোনো কোম্পানীর নেটওয়ার্ক কাভারেজ আছে আবার অনেক স্থানে নেই। শুধু দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেই না, খোদ ঢাকার অনেক বহুতল ভবনে ঢুকলে দেখা যায় এই মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকরা নেটওয়ার্ক পাচ্ছে আবার ঐ অপারেটরের গ্রাহকরা নেটওয়ার্ক পাচ্ছেন না। কারণ অনেক অপারেটররা ঐ ভবনগুলিতে ইনডোর মাইক্রো বিটিএস লাগিয়ে গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছে।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশে কিন্তু দেশের ভেতরে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা দিয়ে থাকে। ভারতের কথা ধরা যাক, সেখানে আইডিয়া নামের অপারেটর শুধু দুই থেকে তিনটা রাজ্যে সেবা প্রদান করে থাকে। এর অর্থ এই না যে আপনা আইডিয়ার গ্রাহক হলে আইডিয়ার প্রদেশগুলির বাহিরে অন্য প্রদেশে গিয়ে নেটওয়ার্ক পাবেন না। অন্য প্রদেশের অপারেটরের নেটওয়ার্কে আপনি রোমিং করতে পারবেন এবং এরজন্য হয়তো মূল কল চার্জের সাথে সামান্য কিছু পয়সা বেশী দিতে হবে আপনাকে।

ঠিক সেভাবেই ধরা যাক আমি টেলিটকের গ্রাহক, দিলকুশার জীবন বীমা ভবনে অবস্থিত বোর্ড অফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসে একটা কাজে গিয়েছি, সেখানে দেখি আমার মোবাইলে নেটওয়ার্ক নাই। কিন্তু ওয়ারিদ বা বাংলালিঙ্ক গ্রাহকরা দিব্বি মোবাইল ব্যবহার করছেন। খোঁজ নিয়ে জানলাম একটেল, ওয়ারিদ ও বাংলালিঙ্ক ঐ ভবনের ভেতরে ইনডোর মাইক্রো বিটিএস স্থাপন করেছে সেবা প্রদানের জন্য।

এখন যদি আমাদের দেশে আভ্যন্তরীণ রোমিং সুবিধা থাকতো, তাহলে আমি দিব্বি ঐ তিনটি অপারেটরের একটিকে নির্বাচন করে নিয়ে আমার মোবাইল ব্যবহার করতে পারতাম সেই সাময়িক সময়ের জন্য। অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য আমাক হয়তো ইনকামিং বা আউডগোইং উভয় ক্ষেত্রে মিনিট প্রতি অতিরিক্ত ০.০৫ টাকা বিল দিতে হতো। আর আমি যেই অপারেটরকে নির্বাচন করেছি রোমিং কারার জন্য, এই ০.০৫ টাকা ঐ অপারেটর পেতো।

এভাবেই ধরুণ আমি একটা গ্রামে গেলাম, যেখানে টেলিটকের নেটওয়ার্ক নেই, কিন্তু গ্রামীণফোনের আছে। আভ্যন্তরীণ রোমিং সুবিধা থাকলে আমি ঐ নেটওয়ার্ক নির্বাচন করে আমার মোবাইল ব্যবহার করতে পারতাম। এই ক্ষেত্রে হয়তো কল করার জন্য আমার কল চার্জের সাথে মিনিটপ্রতি ০.০৫ টাকা অতিরিক্ত এবং কল গ্রহণ করার জন্য মিনিটপ্রতি ০.০৫ টাকা হারে চার্জ দিতে হতো। এই অতিরিক্ত চার্জটা কিন্তু পেতো গ্রামীণফোন।

এই যে গ্রামীণফোন কত রকমের প্রচার করছে যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের নেটওয়ার্ক আছে ইত্যাদি ইত্যাদি, কিন্তু বিল বেশী হওয়ায় অনেকেই ওদের সেবা নিতে আগ্রহী না। কিন্তু যদি আজকে আভ্যন্তরীণ রোমিং সুবিধা থাকতো, তাহলে গ্রামীণফোন খুব সুন্দর রোমিং নেটওয়ার্ক ভাড়া বাবদ অনেক টাকা উপার্জন করতে পারতো।

যাই হোক, আমাদের আশা ভালো সেবা পাওয়া। আমার কাছে মনে হয়েছে এই সুবিধা থাকলে আমাদের উপকার হতো এবং সেই সাথে মোবাইল অপারেটরদেরও একটা নতুন ব্যবসার দুয়ার উন্মোচিত হতো। এখন দেখা যাক কি হয়। দেশ যতই ছোটো হোক, ১০০% নেটওয়ার্ক কাভারেজ কিন্তু এখনো কোনো অপারেটর দিতে পারেনি।

ভাওতাবাজির চরমে সিটিসেল (ShittyCell)

26 মঙ্গলবার মে 2009

Posted by Omi Azad in টেলিকম, মন্তব্য

≈ 50 Comments

Tags

Citycell, Mobile, Samsung, মোবাইল অপারেটর, সিটিসেল, স্যামসং

একটা কোম্পানি কত বাটপার হতে পারে তা সিটিসেলকে দেখলে বোঝা যায়। এই সপ্তাহে ওরা একটা নতুন হ্যান্ডসেট বাজারে ছেড়েছে যার নাম স্যামসং এবসোলিউট। সেটটির বর্তমান মূল্য ১০,৪৫০ টাকা আর ব্লুটুথ হেডফোন সহ এর দাম ১১,৮৫০ টাকা। ফকির মিসকিন ছাড়া ভালো মানুষের কথাও মনেহয় এরা এখন নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে! কারণ কিছুদিন আগে আমার বৌকে সিটিসেলের ZTE C332 সেটটা দিতে চাইলে আমাকে বলে, ইবানের স্কুলের সামনে এক মহিলা পুঁথির মালা বিক্রি করতে আসে, সে এই সেট চালায় আমি কিভাবে এটা চালাবো।” এই তো সিটিসেলের অবস্থা!

যে কারণে এই পোস্টটি লিখছি সেটাতে আসি। আমার ধারণা সিটিসেল এই সেটটা তাদের অফিসে বসে বানিয়েছে বা দেশের কোথাও কারখানা ভাড়া করে সেখানে বানাচ্ছে। কারণ সেটটা সম্পর্কে অনেক ধরণের কীওয়ার্ড ব্যবহার করে গুগলে খোঁজাখুঁজি করলাম, কিন্তু কোনো লাভ হলো না। গুগল্ এটা চেনে না। ভাবলাম এক্কেবারে নতুন সেট তাই গুগল্ এটা চেনে না। তাই এই সেটের পেছনে দেয়া ইউআরএল samsungmobile.com-এ গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আমি এই সেটের কোনো হদিস পেলাম না। তার পরেও আমি ভারতের CDMA সেবা প্রদানকারী কোম্পানিদের ওয়েব সাইটে গিয়ে এই ফোন বের করার চেষ্টা করলাম, কোনো লাভ হলো না। সুতরাং আসলেই এই নামে পৃথিবীতে কোনো সেট নাই।

এরপরে লক্ষ্য করলাম এক আজিব জিনিস সেটটার হেডফোনের কন্ট্রোলে মিরর ইমেজে Samsung লেখা এবং হেডফোনের জ্যাকেও Made in China মিরর ইমেজে লেখা। নিজের চোখে দেখার জন্য এখানে ক্লিক্ করুন।

ব্যাস আমার ধারণাই সত্য হয়ে গেলো। প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড স্যামসং এবসোলিউট নামে যে মোবাইলটি বাজারে বিক্রি করছে সেটার সাথে স্যামসং কোম্পানির আদৌ কোনো সম্পর্ক নাই। এরা কোনো চাইনিজ কোম্পানিকে দিয়ে এটা বানিয়ে নিয়ে ঐ নামে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে প্রতারণা করছে যার সম্পর্কে আমরা অনেকেই অবগত না।

এরকম ব্যবসা আজ থেকে ৫/১০ বছর আগে করলে একটা কথা ছিলো, কিন্তু এখন আমরা অনেক সচেতন। যোগাযোগ আজকে উন্মুক্ত চাইলেই এই বাটপারদের ধাপ্পাবাজী থেকে আমরা অবগত
থাকতে পারি।

সুতরাং আপনার যতই প্রয়োজন থাক, আগে সত্যতা যাচাই করুণ এবং তারপরে এই তৃতীয় শ্রেণীর সেটটি কিনবেন কি-না ভাবুন।

সিটিসেলের গ্রাহক নেই সেটা দেখানোর কি দরকার ছিলো!

08 শুক্রবার আগস্ট 2008

Posted by Omi Azad in টেলিকম, মন্তব্য

≈ 21 Comments

Tags

Citycell, Mobile, মোবাইল অপারেটর, সিটিসেল

সিটিসেল বিজ্ঞাপন

সিটিসেলের এই নতুন বিজ্ঞাপণটা আমরা বেশ কিছুদিন থেকেই দেখছি। আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম যে ওরা বিজ্ঞাপণের মধ্যে নিজেদের অজান্তে একটা সত্য দেখিয়ে ফেলেছে। আর সেটা হলো, ওদের গ্রাহক নাই।

বিজ্ঞাপনে দেখা যায় দু’টো স্কুল ফেরা ছেলে খেলনা মোবাইল দিয়ে কথা বলে এবং এর মধ্যে একটি ছেলে সিটিসেলের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে যায় এবং সেবাদাতা ভদ্রলোক তাকে মোবাইল দেখায়; ভালো থিম। কিন্তু এই থিমের মধ্যেই সেই সত্যটি লুকিয়ে আছে। ছেলেটি ঐ গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে ঢোকা থেকে বের হয়ে যাওয়া পর্যন্ত ঐ কেন্দ্রে ৩য় কোনো প্রাণী নেই। অর্থাৎ তাদের কেন্দ্রের লোকেরা সারাদিন মাছি মারছে, যেহেতু তাদের কোনো কাজ নেই এবং যে বা যারা আসছে তাদেরকেই সময় দিচ্ছে।

উপরে যেই ছবিটি আমি দিয়েছি, সেটা ওদের ওয়েব সাইট থেকে নেয়া। সেখানেও একটা ভুল আছে। ওরা লিখেছে “No customer’s need is too small for us…” না আমরা কেউই ভুল পড়ছি না। আমরা যখন মোবাই/ইন্টারনেট ইত্যাদির গ্রাহক হই, তখন কিন্তু আমরা ক্রেতা না, গ্রাহক। তাহলে Customer এবং Subscriber দু’টো শব্দের মধ্যে পার্থক্য আছে। সেটা কি তারা বুঝতে পারেনি! আমার ভুল হতে পারে, তবে কথাটা এরকম হতে পারতো, “No subscriber’s need is too small for us… Even those who are not our subscriber yet.” এছাড়াও আরেকটা খটকা লাগছে এই TOO শব্দটা। No customer’s need is too small for us, which means some needs are small for them. অনেক শিক্ষিত লোক নিয়ে এরা কাজ করে, কিন্তু এরকম কথা লিখে কেনো যেটার অর্থ বিপরীত হয়।

এর আগেও একটা বিজ্ঞাপণে বলছিলো পাহাড়ের গায়ের সব কথা না-কি বসে বসে শুনবে। তাহলে কি আর কেউ তাদের সেবা নিতে চাইবে? কে যেচে ব্যক্তিগত কথা আরকজনকে শুনতে দিতে চাইবে বলুন।

মোদ্যা কথা সিটিসেলের অবস্থা ১৯৯৫ সালে যা ছিলো আজও তাই আছে। আর এর জন্য দায়ী হচ্ছে তাদের ওভার স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট, যারা মানুষকে মানুষ মনে করেনা। ওদের ধারণা মানুষ তাদের সেবা নেবেই! আরে ভাই, তোর এমন কি আহামরি সুবিধা আছে যে তোর সেবা মানুষ গ্রহণ করবেই? আমি নিজে অনেকদিন ওদের গ্রাহক ছিলাম, শেষে কিছু ফালতু সমস্যার জন্য সেবা বাদ দিয়ে দিলাম। বিদেশে এসএমএস পাঠালে সেটা যায় ইউকে’র নম্বর হয়ে আর তার ভেতরে আমার নম্বর দেয়া থাকে। এমনকি বেশিরভাগ বিদেশী অপারেটর থেকেই কোনো এসএমএস সিটিসেলে আসেনা। ইন্টারন্যাশনাল কল ঠিকমতো আসে না। আমি নিজে স্কাইপি দিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি। তারপরে ফেলে দিয়ে অন্য অপারেটরে সুইচ করেছি এবং ভালো আছি।

এখন বিষয় হলো ওদের এই উপলব্ধিটা হওয়া উচিৎ যে ১৭ বছর ব্যবসা করেও যাদের গ্রাহকের পরিমান যাদের ব্যবসার ২য় বছর চলছে তাদের থেকে কম হয়, তাহলে তাদের সেবা কি নেয়া ঠিক হবে? যে কোম্পানী ঐ ১৭ বছরে ৪ বার নাম পরিবর্তন করেছে (সূত্র) এই কোম্পানিতো ভাই যে-কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

← Older posts
Newer posts →

Categories

  • অ্যানড্রোয়েড
  • আইটি বিশ্ব
  • ই-কমার্স
  • উদ্ভট
  • ওপেন সোর্স
  • গল্প টল্প
  • গান বাজনা
  • গুগল্
  • গ্যাজেট
  • টিউটোরিয়াল
  • টেলিকম
  • বাংলা কম্পিউটিং
  • বাংলাদেশ
  • ব্যক্তিগত
  • মন্তব্য
  • মাইক্রোসফট
  • রিভিউ
  • সফটওয়্যার রিভিউ

Recent Posts

  • ডাক্তার শায়লা শামিম ও মনোয়ারা হাসপাতালের অভিজ্ঞতা
  • ই-কমার্স – বাংলাদেশ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ!
  • Install Google Apps and Play Store on Nokia X, X+ and XL
  • মাইক্রোসফটের কাছে পাওয়া শেষ চেক্!
  • Root Walton Walpad 8b, Walpad 8w, Walpad 8 and Walpad 7

Proudly powered by WordPress Theme: Chateau by Ignacio Ricci.