আমার বোন স্কুলে পড়ে। আগে ওর জন্য আমাদের ল্যান্ডফোনে বিরক্তিকর ফোন আসতো, কিন্তু ইদানিং দেখি বাসার সামনেও ছেলে পেলে দাঁড়িয়ে থাকে ওর স্কুলে যাওয়ার বা আসার সময়। বিষয়টা খতিয়ে দেখতে একদিন এক ছেলের কাছ থেকে তথ্য নিলাম এবং জানতে পারলাম যে এরা আর কেউ না, এরা সেই ছেলে যারা ফোনে বিরক্ত করতো। ফোনের বিষয়টা মেনে নেয়া যায়, অনেকে কাজ কাম না থাকলে বসে বসে ফোন ঘুরায় (আর ফোন যদি নিজের না হয়, তাহলে তো কথাই নেই), যদি ভুল করে কোনো মেয়ে ফোন ধরে ফেলে, তাহলে সেই নম্বর টুকে নিয়ে বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়।
ফোন পর্যন্ত ঠিক আছে, তাহলে এরা বাসার ঠিকানা পেলো কিভাবে!! আর আজকে বাসায় আসছে, কালকে অন্য কিছুও করতে পারে। ঘটনা কি!
ঘটনা কিছুই না, গত অক্টোবর মাস থেকে বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড অনলাইনে বিল দেখার সিস্টেম বের করেছে। বড়ই জটিল উদ্ভাবন (!), যা দিয়ে আপনার ফোন নম্বর ধরে আপনার নাম ঠিকানার মতন স্পর্শকাতর তথ্য বের করে ফেলা যাবে এবং এটা যে-কেউ করতে পারবে। প্রথমত আপনাকে http://203.112.222.42/ ঠিকানায় যেতে হবে (হায় রে, একটা ডোমেইন নেম যোগাড় করতে পারেনি!), সেখানে গিয়ে ব্যবহারকারীর নাম হিসেবে আপনার এরিয়া কোড সহ ফোন নম্বর (যেমন ঢাকা হলে ০২০০০০০০০) দিতে হবে এবং সেটাই পাসওয়ার্ড হিসেবে দিতে হবে। ব্যাস আপনি ভিতরে ঢুকে গেলেন এবং চাইলে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করেও দিতে পারেন। এবার চলে যান মাসের বিল দেখার লিঙ্কে এবং বিল থেকে বের করে নিন আপনার কাঙ্খিত ঠিকানা।
এখন থেকে আপনার ফোন নম্বর ধরে যে-কেউ আপনার ঠিকানা বের করে ফেলতে পারবে। ধন্যবাদ বিটিটিবিকে এরকম উদ্ভট একটা আইডিয়া বের করার জন্য! 🙂
কথা শুরু করার আগে বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর থেকে নেয়া দু’টি খবর শেয়ার করি:
এ দেশে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার মূল হোতা বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর ‘সিটিসেল’। অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া ছাড়াও ভিওআইপি যন্ত্রপাতি আমদানি করে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীদের কাছে বাজারজাত করেছে তারা। তাছাড়া ভিওআইপি যন্ত্রপাতি আমদানির নামে শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে কোম্পানিটি। এ ব্যাপারে বিটিআরসির পক্ষ থেকে মামলা করা হলেও এখন মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নানা ফন্দিফিকির চালিয়ে যাচ্ছে সিটিসেল কর্তৃপক্ষ। প্রশ্ন উঠেছে, এভাবেই কি পার পেয়ে যাবে সিটিসেল?
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৬-এর আগে যারা মোবাইল ফোন সংযোগ কিনেছেন, বাংলাদেশ টেলিফোন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) নির্দেশে গত ১৬ অগস্ট থেকে সেসব গ্রাহকের ব্যবহৃত সিমকার্ডের বিনামূল্যে আবার রেজিস্ট্রেশনের কাজ শুরু হয়েছে। এ রেজিস্ট্রেশনের জন্য মোবাইল সিমকার্ডের গ্রাহককে তার মোবাইল ফোন অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার সার্ভিস, কাস্টমার সেন্টার অথবা কাস্টমার পয়েন্ট থেকে রেজিস্ট্রেশন ফরমটি সংগ্রহ করে তা সঠিকভাবে পূরণ করে দুই কপি সত্যায়িত পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ব্যবহৃত সিমকার্ড ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যে কোনো ফটো পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ (ড্রাইভিং লাইসেন্স, বন্দুকের লাইসেন্স, আইডি কার্ড, ট্রেড লাইসেন্স, পাসপোর্ট ইত্যাদি) জমা দিতে হবে। যদি কারো কোনো ফটো আইডেনটিটি কার্ড না থাকে, তাহলে মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছ থেকে বিটিআরসি অনুমোদিত প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি (উপজেলা/ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কমিশনার) বা ফার্স্ট ক্লাস গেজেটেড অফিসারের কাছ থেকে সত্যায়িত করেও আবার রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। ১৬ অক্টোবর-২০০৭ পর্যন্ত আবার রেজিস্ট্রেশনের আওতায় প্রত্যেক গ্রাহক বিনামূল্যে ছবি ও নাম-ঠিকানা পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন। ফলে সিমকার্ডের কোনো কাগজপত্র না থাকলে কিংবা মালিকানা পরিবর্তন হলেও কোনো সমস্যা হবে না।
নতুন করে শুরু হয়েছে পুরনো মোবাইল ফোন গ্রাহকদের রেজিস্ট্রেশন। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) নির্ধারিত ফর্মে নতুন নিয়মে কোনো গ্রাহক রেজিস্ট্রেশন না করলে তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ের পরে কেউ রেজিস্ট্রেশনহীন মোবাইল সিম ব্যবহার করে ধরা পড়লে সংশ্নিষ্ট অপারেটরকে ১০ ডলার জরিমানা করা হবে। আমি এটাই বুঝলাম না যে বাংলাদেশের অপারেটর কেনো ডলারে জরিমানা দিবে। এই টাকা কি সিআইএ বা এফবিআই জাতীয় সংস্থাকে দেয়া হবে?